সিলেট

সবুজ অরণ্যের সমাহার খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান

প্রকাশ : 06 অক্টোবর 2011, বৃহস্পতিবার, সময় : 09:34, পঠিত 6573 বার

শ্যামল দেব বর্মা
সিলেট শহর থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে তামাবিল-জাফলং রোডে খাদিমনগর জাতীয় উদ্যান। বাম পাশের পিচঢালা রাস্তা দিয়ে খাদিম চা বাগানের পথে কিছু দূর এগুলে চা বাগান ও কারখানা। আমাদের উদ্দেশ্যে বনে গিয়ে  প্রকৃতির ভেতরে হেঁটে ভ্রমণ করার। তাই চা কারখানার পাশে না থেমে রওনা হলাম উদ্যানের দিকে আঁকা-বাঁকা রাস্তায়। চারদিকে উঁচু-নিচু টিলা আর ছায়া বৃক্ষগুলোর নিচে সবুজ গালিচার মতো নয়নাভিরাম চা বাগান। চা বাগানের আঁকা-বাঁকা পথ পেরিয়ে বনে প্রবেশ করার সময় রাস্তার বাম পাশে গাড়ি থেকে দেখতে পেলাম দুটি মথুরা। গাড়ি থামিয়ে আমরা সবাই দূর হতে কিছুক্ষণ মথুরা দুটি উপভোগ করলাম। যেতে যেতে কালীবাড়ির ডান পাশে ৪৫ মিনিটের এবং বন বিট কার্যালয়ের পাশে দুই ঘণ্টা হাঁটার পর সাইনবোর্ড মানচিত্র ও বর্ণনাসহ দেখতে পেয়ে আমাদের আরও হাইকিং করার জন্য আগ্রহ বাড়ল। নিবিড় প্রকৃতি তার সৌন্দর্যের মধ্যে আমাদের সবাইকে মোহিত করল। সহজেই  বানরের দেখা মিলল গাছের ডালে ডালে লাফিয়ে বেড়াচ্ছে। খাদিমনগর সংরক্ষিত বনকে সরকার ২০০৬ সালে সংরক্ষিত বন বা জাতীয় উদ্যান হিসেবে ঘোষণা করে। এর আয়তন  ৬৭৯ হেক্টর বা ১৬৭৭.১৩ একর। জাতীয় উদ্যানের চারপাশে চা বাগান যা এক মনোরম পরিবেশ সৃষ্টি করেছে অকল্পনীয় সবুজের সাহায্যে। এছাড়াও  এই অরণ্যে বিভিন্ন প্রজাতির গাছ রয়েছে যা ভ্রমণপ্রিয় মানুষের আনন্দের যোগান দিতে পারে। যেসব উদ্ভিদ এই অরণ্যে রয়েছে তাহল চম্পা, চন্দন, সেগুন, জারুল, মেহগনি, চিকরাশি, আকাশমণি, চাপালিশ ইত্যাদি। বাঁশের  নাম : জাই, কালি, মিটিংগা, পেঁচা ইত্যাদি এছাড়াও বিভিন্ন প্রজাতির বেত গাছ রয়েছে। এ উদ্যানটি একটি  ট্রোর্পিকেল রেইন ফরেস্ট বা মিশ্র চিরসবুজ ও  উষ্ণ মণ্ডলীয় বন। এ উদ্যানে বসবাসকারী বন্য প্রাণীদের মধ্যে রয়েছে ২৬ প্রজাতির  স্তন্যপায়ী, ৯ প্রজাতির উভচর, ২০ প্রজাতির সরীসৃপ এবং ২৫ প্রজাতির পাখি। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য বনমোরগ, মথুরা, শ্যামা, ময়না, বানর, মুখপোড়া হনুমান এবং অজগর ইত্যাদি। বনের হাইকিং ট্রেইলে প্রকৃতির  ভেতরে যেতে যেতে দেখা মিলল অর্কিডসহ বিচিত্রময় নাম না জানা অচেনা বনফুল ও বনলতা। বনভ্রমণ করতে হলে সকালেই ভালো। তাই আমরাও সকালেই বনে হাজির হলাম। কারণ, বন্যপ্রাণীদের সকালে সহজেই দেখা যায়। পাখির বৈচিত্র্যময় কলরব আমাদের সবার মনকে উদ্ভবাসিত করে। আর আমাদের সঙ্গে খাদিমনগর জাতীয় উদ্যানের প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ইকোট্যুর গাইড আছে, যার কারণে আমাদের সহজেই পথ ভুলে যাওয়ার কোন কারণ নেই। হাইকিংয়ের সময় নজরে পড়বে পাহাড়ি ছড়া। ছড়াগুলোর পরিষ্কার ও স্বচ্ছ পানি মনকে আনন্দে ভরে তুলবে। ছড়াগুলোর মাঝে মাঝে প্রাচীন ফসিল বা হাজারো বছর আগের গাছের টুকরা পাথরের খণ্ড হয়ে পড়ে আছে, যা এক অবাক বিস্ময়। বর্ষাকালে হাইকিং ট্রেইলে লাল কাঁকড়ার দেখা মিলে। বনের গহীন অরণ্যের মধ্যে হাঁটতে হাঁটতে সেগুন গাছের ডালে মুখপোড়া হনুমানের দেখা মেলে। পাহাড়ের উপরে ওঠা সহজ, কিন্তু নিচে নামা কঠিন তাই সাবধানে নামতে হয়েছে আমাদের। পাহাড়ের উপর হতে মনোরম প্রকৃতির ভরপুর অপূর্ব সৌন্দর্য যেন মনে হয় নীল আকাশ আর সবুজ অরণ্যের সমাহার। সারাদিন হাইকিং করে কষ্ট হলেও প্রকৃতির অভাবনীয় রূপবৈচিত্র্যের আবরণে আমরা নিজেদের কিছুক্ষণের জন্য হারিয়ে ফেলেছি। হাইকিং শেষ করে আমরা ফিরে এলাম সিলেট শহরে। এ যেন এক সবুজ স্বর্গের ভ্রমণ।


সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology