মৌলভীবাজার

গা ভেজানো হল না মাধবকুণ্ড ঝরনার জলে

প্রকাশ : 26 এপ্রিল 2011, মঙ্গলবার, সময় : 11:20, পঠিত 2913 বার

ইবনে আবদুর রহমান
দেশের প্রত্যেক অঞ্চল ভ্রমণ করা আমার মজ্জাগত হলেও ইতিপূর্বে কখনও সিলেট যাওয়া হয়ে ওঠেনি। মনের মধ্যে অনেকদিন ধরেই আশা ছিল সিলেটের পুণ্যভূমি ঘুরে আসার। কিন্তু সুযোগ হয়ে উঠছিল না। হঠাৎ বন্ধু সাদীদ বলল, ভাইয়া চলেন কোথা থেকে ঘুরে আসি। আমি অর্থব্যয়ের ভাবনায় কিছুটা ইতস্তত করলে সাদীদই অভয় দিল, আমরা না হয় গরিবানা হালে বেড়িয়ে এলাম কোন ভালো দর্শনীয় স্থান। আমি ওকে স্থান ও তারিখ ঠিক করতে বলে টাকা গোছাতে লেগে গেলাম। অক্টোবরের শেষ দিকে মঙ্গলবার বেলা দুইটার জয়ন্তিকা উপবন ট্রেনে চড়ে বসলাম সিলেটের উদ্দেশে, টিকিট আগেই কাটা ছিল। সাদীদের প্রথম ট্রেন ভ্রমণ এবং আমারও বলা চলে প্রথমই। কারণ এর আগে আমি মাত্র দুবার ট্রেনে চড়েছি। তো চরম পুলকিত শিহরণে ট্রেনে উঠলাম; না জানি কোনখানে না কোনখানে সিট পড়ে। কিন্তু না ভাগ্য ভালোই ট্রেনের ঠিক মাঝ বরাবর টেবিলযুক্ত সিট পেয়ে গেলাম। একই সঙ্গে সম্মুখ দৃষ্টিযুক্ত। আমরা দেখতে দেখতে চলতে থাকলাম। ট্রেনে শ্রীমঙ্গল পার হতেই সন্ধ্যা নেমে এলো। কুলাউড়া পেরিয়ে আরেকটি ঘাট তারপরই সিলেট। পৌঁছালাম রাত ১০টায়।
সিলেটে বন্ধু-বান্ধব, পরিচিত ছোট ভাই কয়েকজন থাকলেও কাউকেই আগেভাগে জানাইনি অযথা অন্যকে বিরক্ত করার ভয়ে। তাই প্লাটফর্ম থেকে নেমেই রেলওয়ে ভবনেই আবাসিক হোটেল পেয়ে থেকে যাই। হোটেলের মান মোটামুটি ভালো। পরদিন সকাল সকাল উঠে আমার একটি এলাকার ছোট ভাইকে ফোন দিলাম। ওর ঠিকানা বলে রিকশা নিয়ে ওর ওখানে চলে যেতে বলল চা খেতে। আমরা তাই করলাম। চা খেয়ে সিলেটে বেড়ানোর সংক্ষিপ্ত ছক এঁকে বিমানবন্দর ও চা বাগান দেখতে চলে গেলাম। তবে দুপুরে ওর বাসায় লাঞ্চের দাওয়াত নিতে ভুল হয়নি।

চা বাগানে
বিমানবন্দর ও আশপাশের টিলা ঘুরে ঘুরে একটি রিকশা নিয়ে চলে এলাম চা বাগানে। একটি টিলার চা বাগানে কয়েকজন নারী-পুরুষ পাতা কাটায় ব্যস্ত। সঙ্গে ছোট ছোট ছেলেমেয়েও আছে। আমাদের দেখেই নড়েচড়ে বসল। বিভিন্ন প্রশ্ন ও কথামালার মাঝে সাদীদের ক্যামেরা মোবাইল ্যাপ নিয়ে চলল। আমি একজন শ্রমিক ও তার সহকারীকে নিয়ে ছবি তুলতে যাব এমন সময় দেখি পাশে একটি বারো তেরো বছরের মেয়ে।
আমরা ওকেও ছবির এরিয়ার মধ্যে আসতে বললে ও আবার ছুবি তুলা লাগে নাকি বলে দূরে চলে গেল।

আকাক্সিক্ষত খাদ্য বিশেষ
ছোটবেলা থেকে বই পড়ে, পত্রিকার ভ্রমণ কাহিনী পড়ে কমলালেবু, আনারস ও চায়ের কথা বিশেষভাবে জেনেছি। তাই সিলেট গিয়ে এগুলো বেশি বেশি খেতে আগ্রহী হওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু যতই দেখেশুনে বেছে বেছে কমলালেবু অথবা আনারস খেলাম সবই হয়তোবা বেজায় টক অথবা একদম পানি পানি। তবে সিলেটের পানিফলগুলো বড়ই সুস্বাদু। একই সঙ্গে চায়ের স্বাদও কেমন যেন পানসে লাগল।

অসম্পূর্ণ মাধবকুণ্ড দর্শন
সিলেট শহর দেখতে দেখতে দুটি দিন লেগে গেল। পরদিন মাধবকুণ্ড দেখতে রওয়ানা দিলাম। পৌঁছলাম বিকেল ৪টায়। ঝরনা ও পাশে টিলার কিয়দংশ দেখতে দেখতেই সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো। টিকিট কাটার সময়ই জেনে গিয়েছি সন্ধ্যার সঙ্গে সঙ্গে গেইট বন্ধ করে দেয়া হবে। তাছাড়া সিলেটে আমাদের হোটেল বুক করা সুতরাং একরাশ অপূর্ণতা নিয়ে ঝরনার পানিতে না নেমেই চলে আসতে হয়েছে ওখান থেকে। তবে কোন ফাঁকে যেন সাদীদ ঠিকই ডুবিয়ে চুবিয়ে ওর আসা পূরণ করেছে; ওর মাথা ভেজা না দেখলে আমি তা বুঝতে পারতাম না।

শেষ কথা
সিলেট ভ্রমণ মূলত দুএকদিনের করা ঠিক না। অন্তত দশদিন সময় নিয়ে গেলে পাহাড়ি অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে নিজেকে মাখামাখি করা সম্ভব। অন্যথায় বুকভরা ব্যথা নিয়েই ফিরতে হবে ডেরায়।




সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology