মৌলভীবাজার

ঝরনার নিচে এক সকাল

প্রকাশ : 02 মার্চ 2011, বুধবার, সময় : 11:29, পঠিত 5146 বার

মো. মেহেদী হাসান
আমাদের জানা ছিল না কিভাবে মাধবকুণ্ড যেতে হয়। শুধু এইটুকু জানতাম কুলাউড়া নামলে একটা ব্যবস্থা হবে। খোঁজ-খবর নিয়ে একটু আলো ফুটতেই আমরা বেরিয়ে পড়লাম। জীবনের সবচেয়ে সুন্দর সকাল যেকয়টা পেয়েছি, তার মধ্যে ওই সকালটাও চিরদিন মনে থাকবে। মফস্বল বাজার, দোকান-পাট সব বন্ধ, আলো-আঁধারির মাঝে আমরা তিনজন হাঁটছি। অজানা-অচেনা জায়গা, চারদিকে কোন জনমানব নেই। সেই অনুভূতি লিখে বোঝানো যাবে না। আমি জীবনে ওই মুহূর্তগুলো বেশি এনজয় করেছি যেখানে ভীতিকর কোন উপাদান থাকে। যা হোক, আমরা আমাদের অনুভূতি নিয়ে একটা নির্দিষ্ট স্থানে দাঁড়ালাম, জানতাম এখান থেকেই বাস পাওয়া যাবে এবং অল্প সময়ে বাসও পেয়ে গেলাম।
ঘুম ভাঙলো কন্ডাক্টরের ধাক্কাধাক্কিতে। উঠে দেখি বাসটা একটা বাজারে দাঁড়িয়ে আছে। আসলে বাসে উঠেই আমরা ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। আমাদের নামিয়েই বাসটা চলে গেল। বাজারের নামটা ছিল সম্ভবত কাঁঠালিয়া। বাজারটা পুরো দমে গ্রাম্য। বিশাল একটা বট গাছকে কেন্দ্র করেই গড়ে উঠেছিল। এখন বেশকিছু দোকান-পাট হয়েছে, যার অধিকাংশই টিন বা ছাপড়ার। আমাদের আবার নীতি হল, যেখানে রাত, সেখানে কাৎ। তাই একটা ছাপড়া হোটেলে হাত-মুখ ধুয়ে নাশতা করতে করতে খবর নিচ্ছিলাম এখান থেকে বাকি পথ কিভাবে যাব? জানতে পারলাম এখান থেকে ৬-৭ কি.মি. দূরেই ঝরনা। যাওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে রিকশা। সুতরাং নাশতা শেষ করে একটা রিকশা ঠিক করে উঠে পড়লাম। গ্রাম্য রাস্তাটা কিছু অংশ পাকা, আবার কিছু অংশ কাঁচা। রাস্তার দুধারে ঘর-বাড়ি খুব একটা নেই। কিছু ঝোপ-ঝাড়, ছোট ছোট টিলা। এই দেখতে দেখতে একসময় একটা গেটের সামনে রিকশা থেমে গেল। গেটটা মাধবকুণ্ড ঝরনার প্রধান গেট। আমরা রিকশা থেকে নেমে ভাড়া পরিশোধ করতে রিকশাওয়ালা জানালো আরও ঘণ্টা দেড়েক পর গেট খুলবে। গেটের নির্মাণ কাজ তখনও শেষ হয়নি। আমরা দেরি না করে ঢুকে গেলাম। রিকশাওয়ালা আগেই বলেছিল, প্রায় ১ কি.মি. পর ঝরনা। আমরা ইটের রাস্তা ধরে হাঁটা শুরু করলাম। বাম পাশে ছোট একটা পাহাড়, তার উপর পর্যটকদের জন্য কিছু নির্মাণাধীন ছিল। ডান পাশে খাদ, খাদ দিয়ে বইছে ঝরনা পানি।
তারপর কিছু আদিবাসীর ঐতিহ্যবাহী ঘর, তার পেছনে মাঝারি আকারের একটা পাহাড়। একটা মোড় পার হতেই ঝরনাটা চোখে পড়ল। অনেকগুলো সিঁড়ি ভেঙে নিচে নেমে ঝরনার সামনে এসে দাঁড়ালাম। মুগ্ধ চোখে দীর্ঘ সময় ধরে চেয়ে ছিলাম ওই ঝরনাটার দিকে। জীবনে এই প্রথম এত কাছ থেকে এত বড় ঝরনা দেখছি। তখন সকাল সাড়ে সাতটা কি পৌনে আটটা বাজে। চারদিকে আমরা তিনজন ছাড়া আর কেউ নেই। হাফ প্যান্ট পরে ক্যামেরা হাতে নেমে গেলাম পানিতে। তিনজন বিভিন্নভাবে ছবি তুলতে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম, পানিতে ঝাঁপাঝাঁপি শুরু করলাম।

একজনকে অনুরোধ করে আমাদের ছবি তুলে নিলাম। অবশেষে চলে যাওয়ার সময় এলো। শেষবারের মতো চোখ ভরে দেখে নিলাম ঝরনাটা। কিছু জিনিস থাকে যা বেশি দেখলে ভালো লাগা কমে যায়। মাধবকুণ্ড ঝরনাকেও আমার সেরকম মনে হয়। বিশেষ করে ওই সকালের স্মৃতিগুলো। যা হোক, গেটে দেখলাম সবাই টিকিট কেটে প্রবেশ করছে। আর তাই আমরা টিকিট কেটে প্রস্থান করলাম।




সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology