পটুয়াখালি

সারাদিন কুয়াকাটায়

প্রকাশ : 20 অক্টোবর 2010, বুধবার, সময় : 07:52, পঠিত 4521 বার

তপু রায়হান
জাগতিক কর্মব্যস্ত জীবনে ভ্রমণের স্বাদ আহরণের যথোপযুক্ত সময় পাওয়াই দুষ্কর। সাধারণত দুটো ঈদই কিঞ্চিৎ এই সুযোগের সমারোহ ঘটায়। এই ঈদুল ফিতরের অবসরেও ভাবনা ছিল কোথায় যাওয়া যায়। ঝিনাইদহ থেকে কক্সবাজার অনেক দূর। সীমিত সময় নিয়ে ভ্রমণে রপ্ত হয়ে ফিরে আসা সম্ভব নয়। কিন্তু মন কেবলই কোন এক সমুদ্রের চোখাচোখি হওয়ার জন্য ছিল ব্যাকুল। শেষ পর্যন্ত হাত মেলে দিল পটুয়াখালীর কুয়াকাটা। রাতে রওনা দিয়ে সকালে কুয়াকাটা পৌঁছে আবার কুয়াকাটা হতে সন্ধ্যায় রওনা দিয়ে তারপর প্রভাতে ঝিনাইদহে ফিরে আসা সম্ভব। সুতরাং আর দেরি নয়। বন্ধু-বান্ধব-চেনা পরিচিতজনের আয়োজনে শামিল হয়ে রাতে একটা আনন্দমুখর অনুভূতি বুকের ভেতরে লালন করে খুব ভোরে সূর্য জ নেয়ার প্রাক্কালেই দেখা মিলল সমুদ্র শরীরের। সারারাত্রির আধো ঘুম আর আধো স্বপ্নের ক্লান্তি উবে গেল কয়েক মুহূর্তেই। উদার সমুদ্র তার সবটুকু প্রেমের জ্যোতি দিয়ে চুষে নিল মনের অবসন্নতা। কুয়াকাটাই একমাত্র উপকূল যেখান থেকে এক স্থানে দাঁড়িয়েই প্রভাতের সূর্য জ আর সন্ধ্যার সূর্য-মৃত্য দর্শনের সৌভাগ্য লাভ করা যায়। চোখের সামনে যখন সমুদ্রের নোনতা জলের সিন্দুক ভেদ করে কুসুম আকৃতির সুর্যটা বের হয়ে আমাদের মুখোমুখি হল মনে হল এ যেন দেখছি অন্য সূর্যকে। যে সূর্যকে চিনে এসেছি এত কাল এ সে নয়। সমুদ্রের গর্ভে দীর্ঘকাল লালিত হয়ে এ সূর্য হয়ে গেছে পবিত্র আর কোমল। কুয়াকাটার জলে নামতেই ঢেউগুলো আপন করে নিতে খুব বেশি দেরি করল না। যেন আমাদের প্রতীক্ষাতেই কেটেছে ওদের কতকাল! ঢেউয়ের সঙ্গে বয়ে আসা লবণাক্ত জল মুখের ভেতর অবাধ্য প্রবেশ করে না চাইতেও নিয়ে এলো অন্য স্বাদ। নৈসর্গের কাছে না ভিড়লে স্রষ্টার সৃষ্টি নিদর্শনের অপরূপতা যে টের পাওয়া যায় না সেটা বুঝে গেলাম তখুনি। চারপাশ দিয়ে অগণন নৌকা ভেসে যাচ্ছে তার মতো, ভ্রমণকারী সর্ব বয়সী মানুষগুলো জলের কোলে নেমে যেন শিশুর আবেগ ধারণ করে ছোটাছুটি করছে। সত্যিই, বিশালতার কোলে সবাই শিশু! কূলের উপরিভাগে যদ্দূর চোখ যায়, শৃংখলভাবে দাঁড়ানো নারিকেল গাছগুলোয় বাতাসের দোল খাওয়া মনের ভেতরেও আনন্দের প্রবহমানতা সৃষ্টিতে ছিল মগ্ন। তবে দুবছর আগের সিডরের দাপুটে ক্ষত চিহ্ন এখনও পাওয়া যায় গাছগুলোর শরীর অনুসন্ধানে। বেদনাই জাগায় এই নির্মমতা। এছাড়া আর সবই ঠিক। সমুদ্রের কূলে বয়ে আসা ঝিনুক কুড়াতেও অসীম আনন্দ। তীরে ছাউনিতে বসে ঢেউয়ের নামতা পড়ার আনন্দও অনেক। অধিক আনন্দ হয় বিকালে। মানুষের ঢল নামে। যারা এসেছিল সমুদ্র দর্শনে সবাই শেষবারের মতো সমুদ্রকন্যার মুখোমুখি হয়ে জীবনের অনেক রহস্য খুঁজে ফেরে।  ভর সন্ধ্যায় কুয়াকাটার মায়া ত্যাগে তাই মনোবিষন্নতায় ঢেকেছিল কেন জানি।
হয়তো আবার কবে আসা হবে এই ভেবে। তবে সমুদ্র কন্যা সেদিন যে প্রেম দিয়েছে তা বুকের সমুদ্রে ধারণ করেই কেটে যাবে একটা জীবন।

কীভাবে যাবেন কোথায় থাকবেন :
গাবতলী থেকে কুয়াকাটায় সাকুরাসহ অন্যান্য বাস ছাড়ে প্রতিদিন। এ ছাড়া সদরঘাট থেকে লঞ্চে পটুয়াখালীতে গিয়ে তারপর লোকাল বাসে চেপে কুয়াকাটায় যাওয়া যাবে। বাস যেখানে নামিয়ে দেবে, তার ডানে-বাঁয়েই দেখা যাবে অসংখ্য গেস্ট হাউস এবং হোটেল। আগে থেকেই বুকিং দিয়ে যাওয়াটা সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ। কুয়াকাটায় ভালো থাকার জায়গার মধ্যে আছে পর্যটন মোটেল, সাগরকন্যা রিসোর্ট, গোল্ডেন প্যালেস, কুয়াকাটা ইন। এসব জায়গার ঘরভাড়া দিনপ্রতি ১২০০-২০০০ টাকা।



আপনার পছন্দের আরও কিছু লেখা


সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology