নেদারল্যান্ড

আমস্টারডামের ক্যানাল ক্রুজ

প্রকাশ : 31 মে 2011, মঙ্গলবার, সময় : 09:34, পঠিত 3512 বার

কাজী শফিকুল আযম
পৃথিবীতে সবচেয়ে বেশি পানির শহর কোনটি? উত্তর হল আমস্টারডাম। এর চার ভাগের এক ভাগ নদী, নালা, খাল-বিলে ভরা। ক্যানাল বা নৌপথ এ শহরের সবচেয়ে বড় সৌন্দর্য ও সম্পদ। ১২৫০ খ্রিস্টাব্দে শহরের বুকে অ্যামস্টেল নদীতে বিশাল এক বাঁক বা ড্যাম বানানো হয়। বানানো এ ড্যাম থেকে শহরের নাম হয় আমস্টারডাম। আমস্টারডাম ১০০ কি.মি. এর বেশি ক্যানাল এবং ১ হাজার ৫০০ এর মতো ব্রিজ আছে। এত বেশি ক্যানাল ও ব্রিজের জন্য আমস্টারডামকে উত্তরের ভেনিস বলা হয়ে থাকে। ১২ শতকের একটি মাছধরা গ্রাম থেকে ১৭ শতকে ডাচ সোনালি যুগে এ শহর পৃথিবীর প্রধান বন্দরের মর্যাদা লাভ করে। বর্তমানে পৃথিবীর প্রধান ৫০০টি কোম্পানির মধ্যে ৭টির সদর দফতর এ আমস্টারডামে, যেমন বিশ্ব বিখ্যাত ফিলিপস, আইএনজি ইত্যাদির সদর দফতর আমস্টারডামে। উল্লেখ্য, পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীনতম স্টক একচেঞ্জ হল, আমস্টারডাম স্টক একচেঞ্জ।
১৭ শতকের ডাচ সোনালি যুগে আমস্টারডামের প্রধান তিনটি ক্যানাল যথা হেরেনগ্রাচাট বা ভদ্রলোকের ক্যানাল, প্রিনসেনগ্রাচাট বা রাজকুমার ক্যানাল, এবং কেইনজারসগ্রাচাট বা সম্রাটদের ক্যানাল খনন করা হয়। নগর পরিকল্পনার সফল বাস্তবায়ন হল নগরের এ ক্যানাল। ১৭ শতকের আমস্টারডাম ক্যানাল ২০১০ এর জুলাই মাসে ইউনেসকো বিশ্ব ঐতিহ্যের অন্তর্ভুক্ত হয়। এ শহরে-দেশে এলে একজন পর্যটক অবশ্যই নৌ-বিহারে যান। কোন সম্মানিত অতিথি রাষ্ট্রীয় সফরে এলে তাকে নিয়ে নৌ-ভ্রমণে যাওয়া এ দেশের ঐতিহ্য। এটি চালু হয় ১৬২১ খ্রিস্টাব্দে। বহেমিয়ার রানী এলিজাবেথ স্টুয়ার্টের আগমণ উপলক্ষে অত্যন্ত ধুমধামের সঙ্গে আমস্টারডামে প্রথম নদী পথে সফরের আয়োজন করা হয়। রানীর নৌ-সফরকে কেন্দ্র করে শহরে বিশাল উৎসবের আয়োজন করা হয়। হাজারো মানুষ সেতুর ওপর ও ক্যানালের পাশে দাঁড়িয়ে উল্লাস প্রকাশ করে। সেই যে শুরু হল, এখনও তা পুরো ঐতিহ্য ও আধুনিক সুযোগ-সুবিধাসহ বজায় আছে। কোন ব্যক্তি তা সে বিখ্যাত গায়ক, নায়ক বা রাষ্ট্রপ্রধান বা রাজনীতিবিদ হোন না কেন, তার সম্মানে অত্যন্ত রাজকীয়ভাবে, অত্যাধুনি সুবিধাসহ নৌযানে করে পুরো শহরটি ঘুরিয়ে দেখানোর ব্যবস্থা করা হয়। বিংশ শতাব্দীর শুরুতে ডাক্তার, আইনজীবী ও অন্য পেশাজীবীরা নৌকায় চড়ে রোগী ও মক্কেলদের সঙ্গে দেখা করতে যেতেন।
সরকারি এক সফরে এ শহরে যাওয়ার সুযোগ পেয়ে আমিও এ সুযোগ হাতছাড়া করিনি। গত ২১ নভেম্বর ২০১০ তারিখে চমৎকার এক শীতের সকালে বেরিয়ে পড়ি ইউরোপীয়ান এ শহরের ঐতিহ্যবাহী ক্যানাল ক্রুজ বা নৌ-পথে ভ্রমণে। আমস্টারডামে গেলে ভ্যানগগের মিউজিয়াম পরিদর্শন না করলে যেমন ভ্রমণ অসম্পূর্ণ থাকে তেমনি এখানে ক্যানাল ক্রুজ না করলেও ভ্রমণ অসম্পূর্ণ থাকে।

ভ্রমণের খরচ ও অন্যান্য
বিভিন্ন ধরনের ফাইবার গ্লাসে ঘেরা দৃষ্টিনন্দন নৌকা-জাহাজে এক ঘণ্টা থেকে শুরু করে আরও বেশি সময় নৌ-পথে ঘুরে বেড়ানোর সুযোগ আছে। সময় ও সুযোগ সুবিধার ওপর ভাড়া নির্ভর করে। যেমন লার্ভার ক্যানাল ক্রুজ সংস্থা বিভিন্ন ধরনের ভ্রমণের আয়োজন করে যার মধ্যে আছে ডে-নাইট ক্যানাল ক্রুজ, ডিনার ক্রুজ, রেড লাইট ক্যানডেল লাইট ক্রুজ, মিউজিয়াম লাইন ইত্যাদি। সাধারণত এক ঘণ্টার ভ্রমণে ১২ ইউরো ভাড়া লাগে। আমস্টারডাম কেন্দ্রীয় স্টেশনের পাশ থেকে সাধারণত এ ক্যানাল ক্রুজ শুরু হয়। নৌযানগুলো ফাইবার গ্লাসে ঘেরা থাকায় প্রচণ্ড শীতের মধ্যেও ভ্রমণ আরামদায়ক থাকে।
আমস্টারডাম শহরটা কিভাবে জালের মতো ক্যানাল দিয়ে ভরা তা বোঝা যায় এ ভ্রমণকালে। ভ্রমণকালের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হল আনা ফ্রাঙ্ক হাউস, গোল্ডেন বেন্ড, স্কিনিং ব্রিজ, পুরাতন বন্দর এলাকা ইত্যাদি। এ ক্যানাল ক্রুজকে বলা হয়ে থাকে যে, দি বেস্ট ওয়ে টু সি আমস্টারডাম। আসলেও তাই মনে হয়েছে। ভ্রমণকালে ক্যানালের দুই পাড়ের ভবনগুলোর ইউরোপিয়ান স্থাপত্যের অপরূপ সৌন্দর্যের নিদর্শন সবাইকে মুগ্ধ করবে। ক্যানালগুলো কমপক্ষে ২০ ধরনের মাছ ও কাঁকড়া আছে। এছাড়া বিভিন্ন পাখি যেমন হেরন, হাঁস, কুটস ও সামুদ্রিক পাখি শঙ্খচিল পানিতে ভেসে বেড়ায় যা পর্যটকদের জন্য এক বাড়তি আকর্ষণ।

আপনার পছন্দের আরও কিছু লেখা


সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology