তুর্কি

মানুষ হারিয়ে যায় যে গুহায়

প্রকাশ : 15 অক্টোবর 2011, শনিবার, সময় : 08:50, পঠিত 4211 বার

আদিত্য নুর
আমাদের এই বিশ্ব জগতে কত কিছু যে আছে তার কোন হিসাব নেই। আশ্চর্য, বিচিত্র, ভয়াবহ, ব্যতিক্রমী, রোমাঞ্চিত নানা ধরনের উপাদানে ভরপুর আমাদের এই পৃথিবী। যার মধ্যে একটি উপাদান আছে ভয়াবহ বা ভয়। ভয়, শব্দটি শুনলে যেন ভয় হয়। কারও ভয় সাগরে, কারও ভয় পাহাড়ে, কারও ভয় ভূতে। আবার আমরা বাঘ, ভাল্লুক, সাপ, কুকুর, বানর ইত্যাদি দেখেও ভয় পাই। আবার আমরা প্রচণ্ড ভয় পাই যদি মানুষখেকো কোন জন্তু-জানোয়ারের কথা শুনি।
যেমন, মানুষখেকো গাছ, মাছ, প্রেতাা ইত্যাদি। এতদিন হয়তো আপনারা মানুষখেকো গাছ, মাছ, ভূত, ড্রাকুলা ইত্যাদির কথা শুনেছেন। কিন্তু কখনো কি মানুষখেকো গুহার কথা শুনেছেন।
হ্যাঁ, অবিশ্বাস্য বা আশ্চর্যজনক হলেও সত্যি যে, আমাদের এই পৃথিবীতে এমনই একটি গুহা আছে যেটি মানুষখেকো গুহা নামে পরিচিত। গুহা কি মানুষ খেতে পারে? হয়তো পারে আবার পারে না। কিন্তু আমরা যে গুহার কথা বলছি সেটাতে শুধু মানুষ কেন, কোন জীব ঢুকলেই আর জীবিত বেরিয়ে আসতে পারে না। তাহলে এবার জানা যাক সেই ভয়ানক মানুষখেকো গুহাটি সম্পর্কে।
গ্রিক ভূগোলবিদ স্ট্রাবোর মতে প্রাচীন গ্রিক শহর হিয়ারাপোলিসে ছিল এপোলো দেবতার একটি মন্দির। এটি এক সময় নানা কারণে রহস্যময় মন্দির হিসেবে পরিচিতি পায়। এই মন্দিরের পাশেই ছিল একটি গুহা। এই গুহাটির বৈশিষ্ট্য ছিল, গুহার ভেতরে কোন জন্তু-জানোয়ার ছুড়ে দিলে তা আর ফিরে আসত না। এমনকি কোন মানুষও যদি এই গুহার প্রবেশ মুখ সামান্যও অতিক্রম করত তাহলে সেও আর ফিরে আসত না। তবে আশ্চর্যের ব্যাপার এই যে, পুরোহিতরা এই গুহার ভেতরে নিরাপদে ঢুকতে পারত আবার বের হয়েও আসতে পারত। তবে পুরোহিতরা যখন বেরিয়ে আসত তখন তাদের মুখমণ্ডল ফুলে যেত এবং রক্তাক্ত হয়ে যেত। প্রাচীন গ্রিকবাসীর বিশ্বাস ছিল এই গুহাটি হল পরলোকে যাওয়ার পথ এবং সেখানে রাজত্ব করে অপদেবতারা। সাধারণ মানুষ বা জীব-জানোয়ারেরা সেখানে গেলে অপদেবতারা তাদের মেরে ফেলে আর দেবতারা গেলে তাদের ঐশ্বরিক ক্ষমতাবলে অপদেবতাদের সঙ্গে লড়াই করে ফিরে আসতে পারে।
 স্ট্রাবো এই তথ্যটি তার পুঁথিতে লিখেছিলেন ২০০০ বছর আগে। অবশ্য বর্তমানে আধুনিক বিশ্বের মানুষ ভূত, প্রেত, দেবতা বা অপদেবতা বিশ্বাস করে না। বিজ্ঞানেও এদের কোন বাস্তবতা নেই। তাহলে কি সেখানে কোন অপদেবতা ছিল না? আবার না থাকলেই বা সেখানে মানুষ, জীব-জন্তুদের মেরে ফেলত কারা? তাহলে কি ওই গুহাটি নিজেই মানুষখেকো গুহা! জানা যাক পরবর্তী ঘটনা।
স্ট্রাবোর পুঁথির সূত্র ধরে আমেরিকার নিউইয়র্ক কলেজের অধ্যাপক শেলডেন এই বিষয়ে নির্ভরযোগ্য নতুন তথ্য প্রকাশ করেছেন। তিনি মত প্রকাশ করেছেন, ওই গুহার নিচ থেকে প্রাকৃতিকভাবে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস নির্গত হতো। ফলে কোন মানুষ বা জীবজন্তু গুহার ভিতরে প্রবেশ করলে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাসের প্রভাবে শ্বাসকষ্টে মারা যেত। তা হলে এখন প্রশ্ন দেবতারা ভেতরে ঢুকলে মারা যেত না কেন? এ ব্যাপারে শেলডেন বলেন, দেবতারা বিষয়টা পূর্ব থেকেই জানত সেজন্য তারা এই গুহার ভেতরে ঢুকে দম বন্ধ করে থাকত এবং বাইরে এসে তাদের শক্তি ও ক্ষমতার মহিমা প্রচার করত। তবে তারা যখন গুহার বাইরে আসত তখন তাদের মুখমণ্ডল গ্যাসের চাপে ফোলা ও রক্তাক্ত থাকত।
এই প্রাচীন গ্রিক শহরটি বর্তমানে পশ্চিম তুর্কির পাযুক্কাল শহরে অবস্থিত। সরেজমিন সেখানে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে আছে প্রচুর উষ্ণ প্রসরণ। তার মধ্যে আছে অধিক পরিমাণ ক্যালসিয়াম কার্বনেট। এসিডের সঙ্গে বিক্রিয়ার ফলে এ থেকে উৎপন্ন হয় প্রচুর কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাস। বাষ্প এবং কার্বন-ডাই-অক্সাইড কোন ফাটল দিয়ে ঢুকে যায় গুহার ভেতর। আর তাই ভেতরে কয়েক পা গেলেই নিশ্চিত মৃত্যু। এপোলোর মন্দিরের সেই রহস্যময় গুহাটি আজও আছে। কয়েক বছর আগে একদল অস্ট্রেলীয় ছাত্র অনুসন্ধিৎসাবশত ওই গুহার ভেতরে ঢুকেছিল পরীক্ষার জন্য। দুর্ভাগ্য হলেও সত্য এটাই যে, তারা আর ফিরে আসেনি। এরপর থেকে তুর্কি সরকার গুহামুখে লোহার পাত বসিয়ে দিয়েছে । যাতে আর কেউ ভেতরে প্রবেশ না করতে পারে।

আপনার পছন্দের আরও কিছু লেখা


সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology