আরব আমিরাত

সাগরপারের স্বপ্ননগরী

প্রকাশ : 06 অক্টোবর 2011, বৃহস্পতিবার, সময় : 08:56, পঠিত 3892 বার

জুয়েল সরকার
একটা লাফ মারলেই দুবাই। লাফটা অবশ্য মারতে হবে পারস্য উপসাগরের ওপর দিয়ে, বিমানে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের অন্যতম বাণিজ্য ও পর্যটন শহর দুবাই। দিন কয়েকের ছুটিতেই ঘুরে আসতে পারেন...
ঢাকা থেকে দুবাই প্রায় ৩০০০ মাইল। বিমানে উড়ে যেতে সময় লাগে প্রায় পাঁচ ঘণ্টা। বিমানবন্দরে নামার আগেই উপর থেকে দেখা গেল আরব সাগরের অনন্ত জলরাশি। এরপর পাখির চোখে দেখা ধূধূ মরুভূমি। পরে নিচে নেমে অবাক হলাম, এ মরুর বুকেও কী অসম্ভব সবুজায়ন। ছোট্ট দেশ। সুন্দর রাস্তাঘাট। বাড়িগুলোও চেয়ে দেখার মতো। আশপাশ অসম্ভব পরিচ্ছন্ন। রাস্তার পাশেই টালিতে বাঁধানো ফুটপাথ। গাছের গোড়া গুল্ম দিয়ে সাজানো। আমরা দেখলাম বুর্জ-আল আরব। বুর্জ মানে হোটেল। আর আল মানে ইংরেজির দি। এটি নাকি বিশ্বের একমাত্র সাততারা হোটেল। এর আদল অনেকটা নৌকোর পালের মতো। ডাঙা থেকে প্রায় আড়াইশ কিলোমিটার দূরে সাগরে একটা দ্বীপ নির্মাণের পর তৈরি করা হয় হোটেলটি। এর উচ্চতা ২৬১ মিটার। রুম ভাড়া প্রতি রাত কম করে ২২০০ দিরহাম। উপরের তিনটি তলার এক-একটি রয়্যাল স্যুটের ভাড়া এর প্রায় পাঁচ গুণ। এসব স্যুট নিলে বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে চড়িয়ে সোজা উড়িয়ে আনা হবে হোটেলে। হোটেলটি সাজাতে ব্যবহার করা হয়েছে প্রায় ৪০০ কিলোগ্রাম সোনা। সমুদ্রের নিচে তৈরি হয়েছে দেড় কিলোমিটার দীর্ঘ সুড়ঙ্গ। গাড়িতে সে সুড়ঙ্গ ধরে যাওয়া। দুপাশের দেওয়াল রং-বেরংয়ের টাইলস দিয়ে সাজানো। ২৪ ঘণ্টা আলো ঝলমল করছে। এটা দিয়ে যাওয়া যাবে পাম জুমেরিয়ায়।
এটি অদ্ভুত এক উপনিবেশ। সমুদ্রে ছোট ছোট দ্বীপ তৈরি করে পৃথিবীর ভিন্ন দেশের আদল। আর সেখানে তৈরি হচ্ছে বিলাসবহুল বাংলো। পৃথিবীর নানা দেশের বিত্তবানদের অনেকের সাত ঘরের একটা বাংলো কিনতে খরচ পড়ছে প্রায় ৫০ লাখ মার্কিন ডলার। হেলিকপ্টার থেকে দেখতে লাগে খেজুর গাছের মতো। নাম তাই পাম জুমেরিয়া। সাগরতীরে জুমেরিয়া বিচ হোটেল যেন বিশাল একটা ঢেউ। পেল্লাই আর একটা হোটেল অ্যাট ল্যান্ডাস। এসব দেখে, হরেক ছবি তুলে আমরা গেলাম সউক মদিনাত জুমেরিয়ায়। সউক মানে বাজার। মদিনাত মানে পুরনো আর জুমেরিয়া কথাটির অর্থ মত্স্যজীবী। তিন দশক আগে ওই তল্লাট নাকি ছিল মত্স্যজীবীদের বাজার।
সাগরতীরে সারিবদ্ধ বেশ কিছু আবাসন। সে সবে আধুনিক স্থাপত্যের ছাপ। এ রকমই একটি দুবাই মারিনা। পাঁচ বছরে তৈরি হয়েছে একগাদা বহুতল। ফ্ল্যাটের ভাড়া খুব চড়া। সাজানো ফ্ল্যাট নিতে গেলে মাসে ভাড়া গুণতে হবে অন্তত সাড়ে তিন হাজার দিরহাম। একবারে এক বছরের ভাড়া। উপমহাদেশের লোক এখানে প্রচুর। এদের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ বাংলাদেশ থেকে আসা। দুবাইতে ছোটখাটো কাজ করে কোনোক্রমে দিন গুজরান করতে আসা শ্রমিকদের কাছে অবশ্য এসব ভাবাই বিলাসিতা। তারা বেড স্পেস ভাড়া নিতে বাধ্য হন। রাস্তার পাশে বা যেখানে-সেখানে মাথা গোঁজার চেষ্টা করলে সোজা শ্রীঘরে। দুবাইয়ের ডেজার্ট সাফারির একটা আলাদা আকর্ষণ রয়েছে। মরুভূমি সংরক্ষণের জন্য এখানে নানা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। প্রকল্পের শীর্ষে স্বয়ং রাজা শেখ আহমেদ বিন সইদ আল মাকতুম। দুবাই কনজারভেশন বোর্ড ২২৫ বর্গকিলোমিটার অংশে মরুভূমির প্রাণিকুল এবং জীবজগত্ রক্ষা করছে।
এ ন্যাশনাল পার্কের মাঝে আছে আল মহা ডেজার্ট রিসোর্ট অ্যান্ড স্পা। বড় বড় হোটেল, হরেক প্রতিষ্ঠানের বর্জ্য লাগে চাষের কাজে। দুবাইতে জলের টানাটানি ব্যাপক। পাশের প্রদেশ ফুজারা থেকে ১০ কিলোমিটার দূরে মাসাফি এগুলো উপকূলবর্তী অঞ্চল। এসব অঞ্চলের পাহাড় থেকে পাওয়া যায় পানীয় জল। রাস্তার ধারে রয়েছে প্রচুর খেজুর গাছ। দুবাই মানেই কেনাকাটা। আমাদের বলার আগেই গাইড নিয়ে গেলেন এখানকার সবচেয়ে বড় শপিং মল দুবাই মলে। এ রকম বিভাগীয় বিপণি নাকি বিশ্বে আর একটাও নেই। প্রায় ২২ হাজার শোরুম। এর মধ্যে চালু হয়েছে প্রায় অর্ধেক। কয়েক হাজার এসকালেটর, লিফট, চোখ ধাঁধানো স্থাপত্য। পরিচ্ছন্নতায় যেন শতভাগ। একটা বিশাল অ্যাকুরিয়াম দেখে আশ্চর্য হয়ে গেলাম। এটি লম্বায় ১৫০ ফুট, চওড়ায় প্রায় ৩০ ফুট, নীল জল টলটল করছে। তাতে রয়েছে হাঙরের মতো বিশালাকার সব মাছ।
দুবাই মলের সামনে একটা বাঁধানো জলাশয়। আশপাশের সাজানো চত্বরটাকে বলে ওয়াটারফ্রন্ট প্রমোনাডে। এ জলে ডান্সিং ফাউন্টেন সত্যিই দেখার মতো। সংগীতের মূর্ছনার তালে তালে ফোয়ারার নাচ। সন্ধ্যার পর এতে লাগে রংয়ের ছোঁয়া। মালিকানা আর তত্ত্বাবধানে দুবাই সরকার।
প্রমোনাডের এক পাশে বুর্জ খালিফা। ২০১০-এ উদ্বোধন হয়েছে বিশ্বের উচ্চতম এ ভবনের। এর উচ্চতা ৮২০ মিটার। ১৬০ তলা। স্থপতি নিউ জার্সির আড্রিয়ান স্মিথ। ১২ হাজার শ্রমিক চার বছর ধরে কাজ করেছেন। ইস্পাত আর কাচের অনন্য সৃষ্টি। নিচ থেকে মাঝে না থেমে উপর পর্যন্ত লিফটে যেতে সময় লাগে মাত্র ৫৫ সেকেন্ড। আর এক পাশে বহুতল হোটেল অ্যাড্রেস। স্যান্ডবোর্ডিং, ক্যামেল ট্রেকস, ডেজার্ট ওয়াকস, হর্স রাইডিং, সান্ধ্যবাসরে বেলিডান্সিং অন্য অভিজ্ঞতা বা আমোদের হরেক সুযোগ রয়েছে দুবাইয়ে। শপিং ক্যাপিটাল অব মিডল ইস্ট দুবাইতে মল রয়েছে ৭৫টি। কেউ কেউ একে বলেন সিটি অব গোল্ড।
কীভাবে যাবেন
ঢাকা থেকে এমিরেটসসহ অন্যান্য এয়ারলাইনসে সরাসরি দুবাই যাওয়া যায়। পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগে।
কোথায় থাকবেন
বিভিন্ন ধরনের থাকার হোটেল রয়েছে। তবে বার-দুবাই অঞ্চলে কম ভাড়ার হোটেল পাবেন।
সঙ্গে রাখবেন
পাসপোর্ট ও ভিসা অবশ্যই সঙ্গে নেবেন। তা ছাড়া কিছু পরিমাণ বিদেশি মদ্রা, হালকা পোশাক ও বাইনোকুলার নেবেন।


সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology