ভুটান

দ্রুক অথবা থান্ডার ড্রাগনের দেশে

প্রকাশ : 15 জানুয়ারি 2012, রবিবার, সময় : 08:58, পঠিত 3931 বার

ইশতিয়াক আহমেদ
গত বছরের আগের বছর নেপাল ট্যুরে বিমান ভ্রমণের অভিজ্ঞতা হওয়ার পর গত বছর বিমান ভ্রমণের আনন্দ প্রায় শূন্যের কোঠায় চলে এসেছে। ভাবখানা এমন বিমানে চড়তে আর ভাল্লাগেনা।
আচ্ছা, ভুটানে কী রিকশায় চড়ে যাওয়া যাবে না?
ছয় সদস্যের হারাধনের পুত্রসম দল নিয়ে এয়ারপোর্টে যখন বোর্ডিং পাস নিতে এসেছি তখন আমার এক আীয়কে অকৃতকার্য ঘোষণা করে দিল বিমান কর্তৃপক্ষ। তিনি যেতে পারবে না। তার পাসপোর্টের মেয়াদ পর্যাপ্ত নেই। দ্রুক এয়ারের কবীর ভাই অনেক চেষ্টা করেছেন কিছু একটা করার জন্য। কিন্তু যে বিপদে আমরা আটকে ছিলাম তা কাটিয়ে দেয়ার ক্ষমতাটা তার হাতে ছিল না। তাকে ধন্যবাদ জানাতেই হয়।
এমন একটা সময়ে ঘটনা ঘটল যখন মন খারাপ করার মতো পর্যাপ্ত সময়ও আমাদের হাতে ছিল না।
এক প্রকার অমীংমাসিত বিদায় আমাদের মধ্যে হল। আমি পাসপোর্ট আগে খেয়াল করিনি। হারাধনের একজন কমে যাওয়ার পর বাকিরাই বিষন্নতা নিয়ে বিমানে গিয়ে উঠলাম।  
বিমানে ওঠার পর থেকে মন খারাপের সূচনা হল এবং দীর্ঘক্ষণ অবস্থান নিল। সবারই মন খারাপ।
আমার মন খারাপটা কিছুক্ষণের মধ্যে মেজাজ খারাপে রূপ নিল। কারণ আমার পাশে থাকা দুই বিদেশী। এশিয়ার অনেকগুলো দেশের চক্ষু মোবারক দৃশ্যমানের চেয়ে বেশি ছোট হওয়ায় ঠিক আন্দাজ করা যায় না তারা কোন দেশের? এমনকি এটা আন্দাজ করা যায় না কে কোনটা?
তাদের ব্যাপারে ধারণার ওপর চলতে হয়। আমিও করলাম। যেহেতু এরা ট্রানজিট যাত্রী ব্যাংকক থেকে এসেছে তাই ধরে নিলাম তারা থাই স্যুপের দেশ থাইল্যান্ডের অধিবাসী।
থাই স্যুপ যত প্রিয় এরা ততই বিরক্তিকর ছিল। কিছুক্ষণ পর পর দাঁত কেলিয়ে হাসে আর ভাষার সুবিধা নিয়ে কি যেন বলে। আমি বুঝি না বলেই বোধহয় বেশি কথা বলে।
আমি তাদের হাসাহাসির ক্রসফায়ার থেকে বাঁচতে ঘুমানোর সিদ্ধান্ত নিতেই জানলাম আমরা এসে গেছি।
মাত্র ৫০ মিনিটেই ভুটান। কিংডম অব রয়েল ভুটান।
২.
আমরা দ্রুক এয়ারওয়েজের একটি বিমানে করে নামলাম পারো এয়ারপোর্টে। পারো তাদের একটি শহরের নাম। জানা মতে, এটা পৃথিবীর ছোট এয়ারপোর্টগুলোর অন্যতম। এখানে রানওয়ের  দৈর্ঘ্য অনেক কম। বিশেষ ট্রেনিংপ্রাপ্ত বৈমানিকরাই এই বিমানে চাকরি করেন। যাই হোক প্রতিদিনের মতো তাদের কারসাজিতে এবার আমরাও নিরাপদে নামলাম।
নেমেই চারদিকে তাকাতে যে শব্দ মুখ থেকে বেরিয়ে এলো, অসাধারণ।
মনে হল ধনীর বাড়ির গোছানো ড্রইংরুম। যার উপরের দিকে আকাশের একটা অসামান্য চিত্রকর্ম ঝুলছে। আকাশ এত যে সুন্দর হতে পারে তা এই প্রথম জানা হল। আমাদের শরতের আকাশ দেখে আমরা এত মুগ্ধতায় আবিষ্ট যে থাকি তার চেয়ে কয়েকগুণ অসাধারণ আকাশ সেটা বলতে দ্বিধা নেই।
প্রকৃতির যত নিলে প্রকৃতি যে তার নিজের ভালো চেহারাটাই দেখায় ভুটান তার বড় প্রমাণ।
আমরা বিমানবন্দরে নেমেই দেখলাম রাজারা দাঁড়িয়ে। পুরুষানুক্রমে দাঁড়িয়ে আছেন। তবে বাস্তবে নয় বিলবোর্ডে। এরা হচ্ছেন, উগিয়েন ওয়াংচুক, জিগমে ওয়াংচুক, জিগমে দর্জি ওয়াংচুক, জিগমে সিঙ্গে ওয়াংচুক শেষ জন বর্তমান ক্ষমতায় থাকা এবং সম্প্রতি বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া রাজা জিগমে খেচার নাগেয়াল ওয়াংচুক। বিগত ১০৪ বছর  ধরে যারা এই দেশকে ক্রমে শান্তির দেশে পরিণত করে গেছেন।
তাদের সবার প্রতি শ্রদ্ধা ভালোবাসা প্রদর্শনপূর্বক আমরা ইমিগ্রেশনে ঢুকলাম।
ভুটানের প্রকৃতির সঙ্গে সঙ্গে একটা বিষয় বারবার দৃষ্টিতে চলে আসছিল তাদের পোশাক। সবাই একই পোশাক পরে ঘুরছে। কে পুলিশ, কে কাস্টমকর্মকর্তা, কে কুলি,  কে মজুর কিছুই বুঝি না। সব এক পোশাক। যে কারণে কুলিকে পুলিশ ভেবে ভুল করে ফেলার কাছাকাছি চলে গিয়েছিলাম একবার।
যাই হোক আমরা বিমানবন্দরে সব চেকআপ সেরে মূল ভুটানে পা রাখার জন্য ক্রমশ ব্যাকুল হয়ে উঠছিলাম।
৩.
আমি সাধারনত কেনা জামাকাপড়ই পরি। বানানো পড়ি কম। তাই দেশে খুব একটা পরিচিত দর্জি আমার নেই। বিদেশেও ছিল না। ভুটান যাওয়ার আগ পর্যন্ত। ভুটানের মূল মাটিতে পা রাখতেই এক দর্জির সঙ্গে পরিচয় হয়। নাম, সেতেন দর্জি। অসম্ভব বিনয়ী নম্র-ভদ্র এক চরিত্র। যার সঙ্গেই পরের কয়েকদিন আমার গড়ে ওঠেছিল অসম্ভব সখ্য। সে আমাদের গাইড। ট্যুর অপারেটর।
দর্জির সঙ্গে নিয়ে আসা গাড়িতে করে আমরা প্রথমেই হোটেলে যেতে পারলাম না। আমাদের আজকের হোটেল এই পারো শহরে নেই। আমাদের হোটেল বুক করা থিম্পুতে। পারোতে আমাদের দুপুরের খাওয়া-দাওয়া শেষে এখানে দেখে যেতে হবে তাদের ন্যাশনাল মিউজিয়াম।
প্রথমে আমরা খেতে গেলাম। পারোর একটা হোটেলে আমাদের খাবার ব্যবস্থা। খাবার ইন্ডিয়ান ঘরানার। খাবার-দাবার নিয়ে আমার সমস্যা পুরনো। খেতে পারি না। তাই কোন মতে মাছের জায়গায় আলু, ঝোলের জায়গায় ঢাল দিয়ে খাওয়া সারলাম। বাইরে গেলে মাংস খেতে সবচেয়ে সমস্যা হয়। তাই মাংস অধরাই রয়ে গেল।
খাওয়া-দাওয়া শেষে আমরা গেলাম ন্যাশনাল মিউজিয়ামে। যাওয়ার যে পথ, তা সুন্দর কোন কবিতার মতো। যেখানে যেমন হওয়ার কথা তেমনই। পুরোটাই পাহাড়ি পথ। উঁচু-নিচু। হঠাৎ বাঁক। আর পথের পাশজুড়ে ছোট নদী। ভুটানজুড়েই নদী। দর্জি এই নদী নিয়ে বেশ বাহাদুরি ঝাড়তে চেয়েছিল। বলল, ভুটানজুড়ে প্রায় শতাধিক নদী আছে।
আমি দর্জির অহংকারকে পাহাড়ের চূড়া থেকে ফেলে দিলাম। বললাম, আমাদের দেশে হাজার বারোশ নদী। এবং একেকটা সমুদ্রের মতো বিশাল।
দর্জি চুপশে গেল। আমিও ভয়েছিলাম, ভাবছিলাম দর্জি যদি জিজ্ঞাসা করে বসে তোমাদের নদীর পানি কী এতইটাই স্বচ্ছ?
আমি কী করে অস্বীকার করতাম যে আমাদের কালো পানি না।
আমরা নদীর স্রোতের মতোই গাড়িতে ভেসে ভেসে চলে এলাম ন্যাশনাল মিউজিয়ামে। ছোট্ট একটা মিউজিয়াম। পুরোটাই ঠাসা তাদের কৃষ্টি আর ঐতিহ্যের দ্রব্য সামগ্রীতে। দেখে দেখে কোথাও অবাক। কোথাও মুগ্ধও হলাম। জানলাম তাদের পোশাকের রহস্য। রাজা থেকে পিয়ন পর্যন্ত একই ড্রেস পরলেও পার্থক্য তাদের কাপড়ের রঙে।
সব দেখে এবার রওনা হলাম থিম্পুর দিকে। ঘণ্টা তিনেকের পথ। পুরো ভুটানটাই পাহাড়ের মাঝে। আমাদের হোটেল অপেক্ষা করছে সেখানে। আবার আমরা গাড়িতে। পাশাপাশি দুটো মাইক্রোবাস দর্জির তত্ত্বাবধানে চলছে একই সঙ্গে। মসৃণ রাস্তায় গাড়িগুলো থেকে তেমন কোন ইঞ্জিনের শব্দ না এলেও কিছুক্ষণ পর শুধু শব্দ আসছিল, বাহ বাহ।
বুঝলাম, ভুটানে মুগ্ধ বাঙালি সমাজ।
৪.
হোটেলে ঢুকে ফ্রেশ হয়ে ভাবলাম ঘুম দিতে হবে। কিন্তু মজার বিষয় সে খাতা শূন্য। এত সুন্দর নাতিশীতোষ্ণ আবহাওয়া ক্লান্তির রেশও নেই শরীরে। বিকেলটা কাটল কিছুক্ষণ জানালা দিয়ে থিম্পু দেখে, বাকিটা দর্জির সঙ্গে আড্ডা দিয়ে। দর্জির কাছে জানলাম তাদের ভুটান সম্পর্কে। রাজার প্রতি নিগূঢ় আনুগত্য এবং অগাধ দেশপ্রেম যাদের প্রায় স্বর্গে রেখেছে। অপরাধের বালাই নেই। ক্রাইম রেট জিরো পার্সেন্ট। সে কথার প্রাথমিক সত্যতা পেলাম ঘরবাড়ির দিকে খেয়াল করে, কোন ঘরে এমনকি কোন হোটেলেও দরজা নেই। ভয় নেই চোর-ডাকাতের। কারণ সেসব তাদের দেশে নেই।
পরদিন আমরা গেলাম, এক স্তুপাতে। নাম, দচুলা পাস।  ১০৮টি স্তুপার সমন্বয়ে তৈরি। ১০৮ কে এখানে সৌভাগ্যের নম্বর ধরা হয়। নির্মাণশৈলীর কারণে এই স্তুপা দেখার মতো। দেখার মতো অনেক উঁচুতে স্তুপার নিচে মেঘের খেলা। অন্ধকার বানিয়ে দিয়েছিল স্তুপার চারপাশ। অনেককে ট্রাই করতে দেখলাম মেঘ ধরার। এক দম্পতির দিকে তাকিয়ে দেখলাম স্বামী হাতে করে মেঘ এনে দিচ্ছে স্ত্রীকে। ভেতরে কিছু না থাকলেও স্ত্রী স্বামীর মেঘকে কার্যকর প্রমাণ করতে সে মেঘ মুখে মাখার অভিনয় করল। আমার মতো পাশ থেকে আরেক বাঙালি লক্ষ্য করছিল বিষয়টা। তিনি বলে উঠলেন, হুদাই।

স্তুপা থেকে আঁকাবাঁকা পথ বেয়ে আমরা গেলাম একটা ক্যাফেটেরিয়ায়। অনেক দামে বিক্রি হয় সব। ভুটানে সব কিছুরই দাম মূলত বেশি। তাদের টাকার মান ইন্ডিয়ার মতো হওয়ায় খরচটা আরেকটু বেশি গায়ে লাগল। ক্যাফেটেরিয়া থেকে আমরা গেলাম বৃহত্তম বৌদ্ধ মূর্তি দেখতে। পথিমধ্যে সম্প্রতি উদ্বোধন হওয়া  ভুটানের সর্ব বৃহৎ মর্কেটে কেনাকাটা করতে।
কেনাকাটা শেষ করে গেলাম বিশালায়তন গৌতমের মূর্তির কাছে। এত বড় মূর্তি! চোখ ছানাবড়া অবস্থা। এত বড় মূর্তি হয় নাকি? সম্পূর্ণ ব্রোঞ্জে নির্মিত এই গৌতম বৌদ্ধকে থিম্পু শহরের সব প্রান্ত থেকে দেখা যায়। বুদ্ধকে দেখা শেষে আমাদের গন্তব্য ভুটানের জাতীয় প্রাণী টাকিন দেখার জন্য। মিশ্র গড়নের এই প্রাণী দেখার আগ্রহ ছিল সবারই। কারণ এর মুখটা ছাগলের মতো এবং দেহ গরুর মতো।
টাকিনের পর আমরা চলে গেলাম সর্ববৃহৎ কাঁচাবাজার দেখতে। সেখানে কাঁচাবাজার দেখার সঙ্গে সঙ্গে আরেকটা বোনাস পেলাম। সেখানে পেলাম রিয়েলিটি শো দ্রুক সুপারস্টার বিজয়ী, উলাপ লেকি। দর্জি আমাকে দেখালেন।
বাজারের একপাশে আমরা যেখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম সেখানেই গাড়ি পার্ক করালেন দ্রুক সুপারস্টার। আগ বাড়িয়ে ডাক দিলাম। অত্যন্ত ভদ্রলোক। এগিয়ে এলেন। তিনি উপভোগ করছেন, তার প্রতি মানুষের আকর্ষণ। মেয়েরা তাকাচ্ছে। আশপাশের মানুষও দেখছে। আমার সঙ্গে মিনিট তিনেক কথা বলে চলে গেলেন উলাপ। উলাপ যাওয়ার পর দর্জিকে জিজ্ঞাসা করলাম এত মানুষ এখানে তাকে দেখলো কেউ কাছে এলো না কেন?
দর্জি জানাল, এখানে সবাই সমান। সেলিব্রেটিকে তার সম্মান দেয়া হয়। কিন্তু তাকে নিয়ে হৈচৈ করা হয় না। রাস্তায় তাকে নিয়ে এমন কিছু করা হয় না যাতে অন্যদের সমস্যা তৈরি হয়।
আমি শুনে বোকা বনে গেলাম। হাতে থাকা চকোলেটের প্যাকেটটা আনমনে ফেলে দিয়ে দর্জির দিকে তাকিয়ে রইলাম। এতক্ষণ চুপ থাকা দর্জি কেন হঠাৎ হেসে উঠল। তার হাসির রহস্য বুঝলাম না। হঠাৎ দেখলাম সে নিচু হয়ে আমার ফেলে দেয়া চকোলেটের কাগজটা তুলল। এবং জানালো, আমাদের দেশে এগুলোও হয় না।
আমি আগের ঘটনায় অবাক হলেও এবার লজ্জা পেলাম।
থিম্পু ঘুরে আরেকটা যে জিনিস খুব চোখে পড়ল ভুটান সাজছে। দর্জিকে জিজ্ঞাসা করতেই জানাল রাজার বিয়ে।
জানাল বিয়ের পরদিন তিনি আমাদের সকার গ্রাউন্ডে আসবেন। মানুষের শুভেচ্ছা নিতে।
আমি দর্জির কাছ থেকে একটি দাওয়াত চেয়ে নিয়েছিলাম। তাদের রাজা জিগমে খেসার নামগিয়েল ওয়াংচুকের বিয়েতে আমি আসব। অক্টোবরের ১৫ তারিখ। সেদিন থিম্পুর ফুটবল স্টেডিয়ামে জনগণের সামনে আসবেন রাজা এবং তার নবপরিণীতা বধূ জেটসান পেমা।
দর্জি আমাকে সেই স্টেডিয়াম এবং সেখানে অনুষ্ঠিত হবে এমন সম্ভাব্য সব বিষয়-আশয় জানিয়েছে খুঁটিয়ে খুঁটিয়ে। আমরা ১৫ তারিখ আগে আগে ঢুকে স্টেডিয়ামের কোনদিকে বসব এবং কোথা থেকে ভালোভাবে দেখা যাবে সব ঠিক করে রেখেছিলাম।
কিন্তু আর যওয়া হয়নি। তবে দোয়া ছিল এই গণমানুষের রাজার প্রতি।
আমি গাড়িতে উঠলাম হোটেলে যাব। কাল সকালে আমাদের যেতে হবে পারোতে।
৫.
আবার সেই পুরনো মুগ্ধ পথ বেয়ে সকালেই চলে এলাম পারোতে। এখানে থাকব একদিন। কাল চলে যাব। পারোটা খুব সুন্দর একটা শহর। ভুটানের মুখ। থিম্পসু নদীর পাশ ঘেঁষে আমরা চলে এসেছি এখানে। এখানে আমাদের একাধিক জিনিস দেখতে যেতে হবে। টাইগার নেস্ট। ফস্ট্রেচ অব ভিক্টরি। এবং ভুটানের সবচেয় বড় বৌদ্ধ মন্দির। সবগুলোই একে একে দেখতে হল। টাইগার নেস্ট অনেক দূর থেকে দেখতে হল কারণ এটা উঠতে লাগে তিন ঘণ্টা। নামতে দুই। শেষ রাত তাহলে ওখানেই কাটাতে হতো। যাই হোক ঘুরে-ফিরে ভুটানের দিনগুলো শেষদিকে চলে এলো। রাতে দীর্ঘক্ষণ দর্জির সঙ্গে আড্ডা মেরে ঘুমাতে গেলাম, মনটা কেন জানি বিষন্ন হয়ে উঠছে।
এই ভালো মানুষের দেশ ছেড়ে যেতে হবে। ৭ লাখ মানুষের দেশ। কি গোছানো। কী সুন্দর মানসিকতায়পূর্ণ। এক দর্জিই তার উৎকৃষ্ট প্রমাণ। অভাব হয়তো আছে তাদের। কিন্তু অভিযোগ নেই। নিজের প্রেমিকার মতো ভালোবাসে তাদের রাজাকে। নিরীহ আর শান্ত  মেজাজের এই মানুষগুলোর প্রতি একধরনের শ্রদ্ধায় মাথা নত হয়ে এলো।
আর সারা দিনের  ক্লান্তিতে নত হয়ে এলো চোখ।
৬.
পারো এয়ারপোর্টে এসে শেষবারের মতো দর্জির সঙ্গে কথা বললাম। বিদায় জানালাম দর্জিকে। ভুটানকে। অবাক করা নীতির এক দেশকে। যাদের অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির চেয়ে জাতীয় সুখই মূল বিষয়।
এই তিন-চারদিনের সুখ শেষে আবারও বিমানে উঠলাম। বিমান যতই ভুটানের সীমানা ছাড় ছিল আমার ভেতর থেকে কী যেন ততই কমে যাচ্ছিল। কি সেটা বুঝতে পারছিলাম না।
না বুঝলেও অনুমান করলাম, হয়তো সুখ।

আপনার পছন্দের আরও কিছু লেখা


সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology