চীন

ক্যাবল কারে চীনের গ্রেটওয়াল ভ্রমণ

প্রকাশ : 06 অক্টোবর 2011, বৃহস্পতিবার, সময় : 11:10, পঠিত 3991 বার

কাজী শফিকুল আযম
বলা হয়ে থাকে যদি তুমি গ্রেটওয়ালে না ওঠ তবে তুমি চীন ভ্রমণ করনি। আরও বলা হয়, যে গ্রেটওয়ালে উঠবে সে হিরো হিসেবে গণ্য হবে।
ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়,
এই গ্রেটওয়াল বা মহাপ্রাচীর বানানো শুরু হয় ২৭০০ বছরের আগে যখন চীনের বিভিন্ন রাজ্য তাদের নিজেদের প্রতিরক্ষা দেয়াল তৈরি করে। খ্রিস্টপূর্ব ২২০ অব্দে সম্রাট কুইন সি হুয়ান এসব প্রতিরক্ষা দেয়াল একত্র করে একক প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করেন। পরে মিং রাজবংশের সম্রাটরা এই দেয়ালের দৈর্ঘ্য আরও বৃদ্ধি করেন। মূলত তৎকালীন মধ্য এশিয়ার যুদ্ধবাজ ও উপজাতিদের হাত থেকে সাম্রাজ্যকে বাঁচাতে গড়ে উঠেছিল এই স্থাপত্য বিস্ময়। কোন বিশেষ একজন সম্রাট এই ওয়াল বা প্রাচীর গড়ে তোলেননি। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এক সম্রাট থেকে আর এক সম্রাট, এক রাজবংশ থেকে আর এক রাজবংশ একে গড়ে তুলেছেন।
৮৮৫১ কি.মি. দীর্ঘ চীনের পূর্ব ও পশ্চিমে বিস্তৃত এই প্রাচীর। এই প্রাচীরে একের পর এক পর্যবেক্ষণ টাওয়ার রয়েছে। অতীতে এখান থেকেই নজর রাখতেন সীমান্ত রক্ষীরা। উত্তর দিক থেকে কোন শত্রপক্ষীয় সৈন্যদল এগিয়ে আসতে দেখলে তারা মশাল জ্বেলে সংকেত পাঠাতেন পরবর্তী মিনাররক্ষীদের কাছে মুহূর্তের মধ্যে এলাকাজুড়ে শত্র আক্রমণের সংবাদ ছড়িয়ে পড়ত।
মশাল ও গোলার সংখ্যার ভিত্তিতে শত্রদের সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট সামরিক তথ্য প্রদান করা হতো যেমন একটি মশাল ও একটি গোলার শব্দ অর্থ ১০০ শত্র সৈন্য, দুটি মশাল ও দুটি গোলার শব্দ অর্থ ৫০০ শত্রসৈন্য, তিনটি মশাল ও তিনটি গোলার শব্দ অর্থ ১০০০-এর বেশি শত্রসৈন্য।
বেইজিংয়ে গ্রেটওয়ালের দৈর্ঘ্য ৬২৯ কি.মি.-র মতো, যার ৭টি প্রধান অংশ আছে। এর মধ্যে মিউটিয়ানু, বাদালিং, সিমাটাই, জিনসাংলিং গ্রেটওয়াল সবচেয়ে বিখ্যাত ও রক্ষণাবেক্ষণের দিক দিয়ে ভালো।
সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এ অংশের গড় উচ্চতা ৬০০ মিটারের বেশি। মিউটিয়ানু গ্রেটওয়াল বেইজিং থেকে ৭০ কি.মি. অদূরে হুয়ারিও কাউন্টিতে অবস্থিত। বেইজিং থেকে ৯১৬ বা ৯৩৬ নং বাসে যেতে দেড় ঘণ্টার মতো সময় লাগে। এই অংশে ২২টি পর্যবেক্ষণ টাওয়ার আছে। এই অংশের সুন্দর সব দৃশ্য দর্শক আকর্ষণের প্রধান কারণ। এখানে মৌসুম ভেদে দৃশ্য বদলায়। এই গ্রেটওয়ালের পাদদেশে গড়ে উঠেছে বিভিন্ন খাদ্যপল্লী তথা বিভিন্ন ফল ও ফসলের চাষ। সেখানে পর্যটকদের থাকার জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাও গড়ে উঠেছে। এখানে ভ্রমণের সবচেয়ে সুবিধাজনক সময় হল বছরের মে থেকে অক্টোবর মাস পর্যন্ত, বিশেষ করে অক্টোবর মাসে পর্যটকদের ভিড় বেশি হয়। কারণ এ সময় বিভিন্ন গাছের পাকা ফল আহরণ করা হয়।
মিউটিয়ানু গ্রেটওয়াল ও বাদালিং গ্রেটওয়ালে ওঠার জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক জায়গায় ক্যাবল কার চালু আছে। যার মাধ্যমে ৫ মিনিটের মধ্যে আপনি গ্রেটওয়ালে উঠে যেতে পারবেন। এমনিতে গ্রেটওয়ালে ওঠা অনেক কষ্টকর ও শ্রমসাধ্য।
মিউটিয়ানু গ্রেটওয়াল ক্যাবল কারে যাওয়া-আসার ভাড়া পড়ে বাংলাদেশী ৬৫০ টাকার মতো। অস্ট্রেলিয়া-চায়না যৌথ উদ্যোগে বেইজিং মিউটিয়ানু গ্রেটওয়াল ক্যাবল কার কোঃ ১৯৮৭ সালে চালু হয়। এই ক্যাবল কারে চড়ে ৭২৩ মিটার দূরত্ব পার হওয়া যায়।
প্রতি ক্যাবল কারে ৬ জন যাত্রী হিসেবে ঘণ্টায় ১৮০০ জন যাওয়া-আসা করতে পারে। এর পরিচালনা সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় বলে ভ্রমণ অত্যন্ত আরামদায়ক, দ্রুত ও নিরাপদ।
এই ব্যবস্থা চালু হওয়ায় গ্রেটওয়ালে ওঠার কষ্ট লাঘব হয়েছে। তাছাড়া মূল্যবান সময় বেঁচে যাওয়ায় আপনি বেশিক্ষণ মহাপ্রাচীরে অবস্থান করে উপভোগ করতে পারেন। বিভিন্ন চড়াই-উৎরাই পার হয়ে হেঁটে হেঁটে আপনি উঠতে পারবেন এখানকার সর্বোচ্চ শিখরে, যা হবে এক অনন্য অভিজ্ঞতা, নিজেকে মনে হবে ইতিহাসের অংশ হিসেবে।
এ বছর ১৯ মার্চ বাংলাদেশ থেকে আমরা কয়েকজন প্রশিক্ষণার্থী মহাপ্রাচীরে উঠে হিরো হয়েছি, আপনিও আমাদের দলে যোগ দিন।


সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology