চীন

সাংহাই হোয়াংপু রিভার ক্রুজ

প্রকাশ : 23 ফেব্রুয়ারি 2011, বুধবার, সময় : 12:11, পঠিত 3311 বার

কাজী শফিকুল আযম
২০১০ সালের শেষ দিকে ৫ দিনের এক প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নেয়ার জন্য চীনের শিল্পনগরী, বন্দর ও কেনাকাটার স্বর্গ হিসেবে পরিচিত সাংহাইতে যাই। এই সফরের অনেক অভিজ্ঞতার মধ্যে অন্যতম ছিল হোয়াংপু নদীতে ভ্রমণ বা রিভার ক্রুজ। সে এক চমৎকার নদী ভ্রমণের অভিজ্ঞতা।
গত অক্টোবর মোট ১৮টি দেশের প্রতিনিধিদের নিয়ে প্রশিক্ষণের আয়োজকরা সাংহাইকে বিভক্তকারী নদী হোয়াংপুতে আমাদের বেড়ানোর জন্য নিয়ে যায়। সাংহাইয়ের ইতিহাস ও উন্নতির সাক্ষী এই হোয়াংপু নদী। ইয়াংজি নদীর নিুশাখা হল হোয়াংপু নদী যা পূর্ব চীন সাগরে মিলিত হয়েছে। হোয়াংপু নদী ১১৪ কিলোমিটার দীর্ঘ, ৪০০ মিটার প্রস্থ ও গড় গভীরতা ৯ মিটার। এই নদী সাংহাইকে দুভাগে ভাগ করেছে পূর্ব পাশ পুডং ও পশ্চিম পাশ পুক্সি নামে পরিচিত।
আগে থেকেই মাঝারি আকারের একটি জাহাজ আমাদের জন্য ঠিক করে রাখা হয়েছিল। জাহাজে উঠে নদীর দুই পাড়ের দৃশ্য দেখে আমাদের মন ভরে যায়। কি সুন্দর পরিবেশ, কত চমৎকার সব ব্যবস্থা। নদীর পাশের মনোরম পরিবেশ না দেখলে বিশ্বাস হয় না নদী ভ্রমণ কত সুন্দর হতে পারে। নদীর দুই তীরই খুব সুন্দর করে শান বাঁধানো নেই কোন নোংরা পানি বা পরিবেশ দূষণ। বেড়ানোর জন্য নদীর দুই পাশেই আছে সুন্দর সুন্দর পার্ক। অদূরেই আকাশ ছোঁয়া দালান, কাচের টাওয়ার সত্যিই দেখার মতো। বাংলাদেশের নদীগুলোর কথা ভেবে দুঃখ হয়।  দখলের প্রতিযোগিতা আর দূষণে সব নদী এখন মরে যাচ্ছে, ওখানে বেড়ানোর তো প্রশ্নই ওঠে না।
হোয়াংপু নদী সাংহাইবাসীর বিভিন্ন উপকারে আসে যেমন পানি সরবরাহ, মাছ শিকার, পরিবহন, বন্যার পানি নিষ্কাশন, পর্যটনে ভূমিকা রাখা ইত্যাদি। এই নদীর পাড়েই বিখ্যাত সাংহাই বন্দর অবস্থিত যা চীনের তথা পৃথিবীর বৃহত্তর বন্দর হিসেবে গড়ে উঠেছে। হোয়াংপু নদীকে ঘিরে পর্যটনের বিশাল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। সাংহাইতে পর্যটকদের জন্য হোয়াংপু নদী ভ্রমণ অন্যতম প্রধান আকর্ষণ। এই নদী ভ্রমণ দিনেরাতে সমান আকর্ষণীয়। রোজই ভ্রমণের আয়োজন থাকে। সংক্ষিপ্ত প্যাকেজ ইয়াংপু সেতু থেকে নানপু সেতু পর্যন্ত দীর্ঘ ভ্রমণ যা সোনালি পথে পূর্বগামী ৬০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। বান্ড এলাকা থেকে এই নদী ভ্রমণে প্রবল জোয়ারের সময় হোয়াংপু নদী, ইয়াংজি নদী ও পূর্ব চীন সাগরের মিলনস্থলে অপূর্ব দৃশ্যের অবতারণা হয়, এই সৌন্দর্য দেখার মতো।
নদীপথে বেড়ানোর সময় পূর্ব ও পশ্চিম পাশের আর্কিটেকচারের মধ্যে পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। পশ্চিম পাশে পুরনো আমলের বাড়িঘর, অন্যদিকে পূর্ব পাশে আকাশচুম্বী সুরম্য অট্টালিকা আধুনিক সব সুবিধাসহ গড়ে উঠেছে। সাংহাইয়ের আবাসিক, সাংস্কৃতিক ও বিনোদন কেন্দ্র, জাতীয় বীরদের মূর্তি ও হোয়াংপু পার্ক পশ্চিম পাড়ে অবস্থিত। নদীর পূর্বপাড় যা পুডং নামে পরিচিত সাংহাইয়ের নতুন শহর হিসেবে গড়ে উঠেছে যেখানে আর্থিক, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠান অত্যাধুনিক গ্লাস ও ইস্পাত কাঠামোতে গড়ে উঠেছে। ওরিয়েন্টাল পার্ল টিভি টাওয়ার, জিনমাও টাওয়ার, স্কাই স্ক্যাপার হোটেল ইত্যাদি এপাড়ে অবস্থিত।
এই নদীর পাশের দৃশ্যগুলো অপূর্ব। এর প্রধান আকর্ষণ হল নদীর উপরে দুটি সাসপেনসন সেতু সূর্যাস্তের সময় হোয়াংপু নদীর অপূর্ব দৃশ্য সবাইকে মুগ্ধ করবে। চাঁদনী রাতে হোয়াংপু নদীতে ভ্রমণের সময় এর নীরবতা ও সৌন্দর্য মনে রাখার মতো। হোয়াংপু নদীতে ভ্রমণ সাংহাই ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ ও অবিচ্ছেদ্য অংশ। নদীর বুকে বেড়ানোর জন্য অল্প খরচে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধাসহ জাহাজ ভাড়া পাওয়া যায়। প্রতিজনের ভাড়া ৫০-১০০ ইউয়ান।
এলাকাবাসী এই নদীকে মা হিসেবে ডাকে। নদীতে কোন রকম দূষণ নেই, মানুষ ও মাছের জন্য নিরাপদ এই নদী। নদীতে বেড়ানোর জন্য অনেক রকম প্যাকেজ থাকে। বিভিন্ন কোম্পানির প্যাকেজ ট্যুরের মধ্যে অন্যতম হল সাংহাই হোয়াংপু রিভার ক্রুজ কোম্পানি।
বাংলাদেশের মতো এখানে কেউ নদীতে ময়লা-আবর্জনা নিক্ষেপ করে না। আমাদের দেশের সঙ্গে তুলনা করলে মনটা খারাপ হয়ে যায়। আমরা যদি আমাদের বুড়িগঙ্গা, শীতলক্ষ্যা, সুরমা নদী এভাবে সুন্দর করে সাজিয়ে রাখতে পারতাম! নদীর পানি এত দূষিত, মাছ বা মানুষ কারও জন্যই বুড়িগঙ্গা বা অন্য কোন নদী আর নিরাপদ নয়।
তাই হতাশা নিয়ে অন্যদের নদীর মুগ্ধতা নিয়ে থাকতে হয়।
সাংহাই গেলে হোয়াংপু রিভার ক্রুজ ভ্রমণ করতে ভুলবেন না।


সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology