সিঙ্গাপুর

নববর্ষে-প্রাণের উচ্ছ্বাসে-মেরিনা বে

প্রকাশ : 23 ফেব্রুয়ারি 2011, বুধবার, সময় : 12:43, পঠিত 3677 বার

পৃথ্বা রায়
হুমায়ূন আহমেদের দারুচিনি দ্বীপ-এ পড়েছিলাম, সাধারণত হাইলি রোমান্টিক পরিকল্পনা মিডল ক্লাস ফ্যামিলির ছেলেমেয়েদের মাথায় আসে। এই নিয়ে মাসের পর মাস তারা আলোচনা করে। প্ল্যান-প্রোগ্রাম হয়, তারপর এক সময় সব ভেস্তে যায়। হ্যাঁ, পরিকল্পনাটা আমাদের বেশ বড়সড়ই ছিল। দেশের বাইরে কোথাও বেড়াতে গেলে ওইখানকার কোন উৎসব ধরে যাওয়াই ভালো। আর বলাই বাহুল্য, বড়দিন, এবং থার্টিফার্স্ট যে কোন পর্যটন নগরীতে পালিত হয় উৎসবমুখর আমেজে। এটাই ট্যুরিজমের পিক সিজন। যদিও প্রথমে চিন্তা ছিল শুধু সিঙ্গাপুরেই যাব কিন্তু আমাদের ট্রাভেল এজেন্ট ভালো একটা আইডিয়া দিল। সিঙ্গাপুরে ডাবল এন্ট্রি আর মালয়েশিয়ায় সিঙ্গেল এন্ট্রি ভিসা নিয়ে সহজেই নাকি দুজায়গায় ঘুরে আসা যায়। পরিকল্পনা মনে ধরল। ব্যবস্থাও হল পরিকল্পনামতো। দারুচিনি দ্বীপের অভিযাত্রীদের মতো আমরাও শেষ পর্যন্ত বেরিয়ে পড়লাম।
সে বছর বড়দিনের ঠিক আগের রাতে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্সে করে আমরা যখন সিঙ্গাপুর চেঙ্গাই এয়ারপোর্টে পৌঁছলাম ভোর তখন চারটা পনের। এয়ারপোর্টজুড়ে বড়দিনের আমেজ। ক্রিসমাস-ট্রি আর বর্ণিল সাজে সজ্জিত চেঙ্গাই আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের বিশালাকার সব লাউঞ্জ। এখান থেকে বেরোতেই ভোরের ঠাণ্ডা বাতাস, পাখির কিচিরমিচির আর বড়দিনের সূর্যটা যেন আমাদের স্বাগত জানাল। ইচ্ছে ছিল, কুয়ালালামপুরে বড়দিন কাটানোর। তাই এয়ারপোর্ট থেকে ট্যাক্সি করে সোজা চলে এলাম বিচ রোডের গোল্ডেন মাইল  কমপ্লেক্সে। কিন্তু বাদ সাধল বাসের টিকিট। জানলাম, বড়দিন কাটাতে সিঙ্গাপুরিয়ানরা যায় কুয়ালালামপুরে আর কুয়ালালামপুর থেকে মালয়েশিয়ানরা আসে সিঙ্গাপুরে। ওদিকে কুয়ালালামপুর সিটিটেল এক্সপ্রেস হোটেলে আমাদের রুম বুক করা আজ রাত থেকে। শেষপর্যন্ত টিকিট পেলাম বিকাল তিনটায়। হাতে অনেকটা সময়। কি করা যায়! ব্যাগ-পেটরা বাস কাউন্টারে রেখেই বেরিয়ে পড়লাম। রাস্তার ওপারেই ফুড সেন্টার। সেখানেই নাশতা সারলাম। এয়ারপোর্ট থেকে আগেই সিঙ্গাপুর শহরের ট্যুরিস্ট ম্যাপ জোগাড় করেছিলাম, ওটা দেখে হেঁটেই শুরু করলাম আমাদের যাত্রা।
পরিচ্ছন্ন, শান্ত শহর। আরব স্ট্রিটের পাশে সুলতান মসজিদের পাশ দিয়ে যাওয়ার সময় এক ঝাঁক কবুতর আমার হাতের ইশারায় উড়ে গেল। সে এক অপূর্ব অনুভূতি, যেন বড়দিনের খুশির ছোঁয়া ওদেরও মনে। খানিকটা এগুতেই দূরে চোখে পড়ল ছবিতে সুপরিচিত সিঙ্গাপুর ফ্লায়ার। ফ্লায়ারটা বন্ধ। কারণ সেটাতে সংস্কার কাজ চলছে। অর্থাৎ ফ্লায়ারটাতে ওঠা এবং সে আনন্দ উপভোগ করার সুযোগটা আমাদের হবে না। প্রশস্ত রাস্তা, সবুজের সমারোহ আর খানিকটা পরপর রোডসাইড ম্যাপ ও রাস্তা নির্দেশ দেখে অচেনা সিঙ্গাপুরের পথ চিনে নিতে আমাদের মোটেই সমস্যা হচ্ছিল না। পাবলিক বাসে করে র‌্যাফেল্স এভিনিউ দিয়ে পৌঁছে গেলাম মেরিনা বেতে। বলা যেতে পারে, সিঙ্গাপুরের সবচেয়ে আধুনিক পাবলিক প্লেস এই মেরিনা বে। এটা সিঙ্গাপুরের দক্ষিণ ভাগের ঠিক কেন্দ্রে অবস্থিত। তিলোক আয়ার অববাহিকাকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলে কৃত্রিম উপায়ে জ হয় মেরিনা বের। সিঙ্গাপুর নদীর জল সাগরে পড়ার পরিবর্তে মেরিনা বেতে  এসে পড়ে। ২০০৮ সালে একটি বাঁধ তৈরির মাধ্যমে মেরিনা বেকে সুপেয় পানির আধারে পরিণত করা হয়। এ কারণেই মেরিনা বে সবসময়ই শান্ত, সাগরের ঢেউয়ের উাদনা তাকে ছোঁয় না। এই শান্ত পানিতেই  আয়োজিত হয় বিভিন্ন ওয়াটার  ইভেন্ট্সের।  আমরাও দেখলাম সাদা বেলুনের গায়ে সবাই তাদের নববর্ষের ইচ্ছেগুলো লিখে পানিতে ভাসিয়ে দিচ্ছে। মেরিনা বের টলমলে স্বচ্ছ শান্ত পানিতে অসংখ্য ইচ্ছে বেলুন যেন এক ভিস্যুয়াল আর্ট ইন্সটলেশন তৈরি করেছে।
এই মেরিনা বেকে কেন্দ্র করেই সিঙ্গাপুরের দর্শনীয় স্থাপনাগুলো নির্মিত হয়েছে এবং এখনও হচ্ছে। যার মধ্যে রয়েছে, থিয়েটার-অন-দি-বে, এস্প্লানেড ড্রাইভ ব্রিজ, সিঙ্গাপুর ফ্লায়ার আর বিখ্যাত মারলায়ন পার্ক। এ পার্কেই ৮.৬ মিটার উঁচু আর ৭০ টন ওজনের বিশাল অবয়ব নিয়ে এখানকার মারলায়ন যেন দাঁড়িয়ে রয়েছে সিঙ্গাপুরে আগত সব পর্যটককে স্বাগত জানাতে। মারলায়নের মুখ থেকে অনর্গল পানি নির্গত হচ্ছে মেরিনা বেতে। ১৯৭২ সালে নির্মিত মারলায়নের আদি অবস্থান ছিল সিঙ্গাপুর নদীর মোহনায় কিন্তু পরে একে বর্তমান অবস্থানে আনা হয়। এটি তৈরি করেন লিম নাং সেং নামের এদেশীয় এক শিল্পী । মূল মারলায়নটি সিমেন্টের তৈরি, পোর্সেলিনের প্লেট দিয়ে আবৃত আর চোখ দুটি লাল ছোট টি-কাপের তৈরি। মারলায়নের ইতিহাস সিঙ্গাপুরের অতীত সময়ের, যখন সিঙ্গাপুরের নাম ছিল Temasek যার অর্থ Sea Town। একজন জাভান রাজপুত্র এখানে বেড়াতে এসে একটি রহস্যময় জন্তুর সন্ধান পায় যদিও পরে জানতে পারে সেটি ছিল একটি সিংহ। তখন সে দ্বীপটির নাম রাখে সিঙ্গাপুর। সংস্কৃতে যার অর্থ, Lion City। মারলায়নের মাছের লেজের অংশটা জেলে-পল্লী হিসেবে সিঙ্গাপুর শহরের পত্তনের সময়কে বোঝায়। মারলায়ন একটি কাল্পনিক প্রাণী, যার মাথাটা সিংহের এবং শরীরটা মাছের আকৃতি। Mer অর্থ সমুদ্র এবং Lion অর্থ সিংহ। এই মূল মারলায়নের পেছনেই রয়েছে দুই মিটার উঁচু ক্ষুদে আরেক মারলায়ন। বোধহয় কাছ থেকে ছবি তোলার জন্যই ছোটটির ব্যবস্থা। আমরাও ছোট মারলায়নের গায়ে হাত রেখেই তুলে নিলাম আমাদের ছবি।
মারলায়ন পার্ক থেকে ফেরার সময় ঐতিহ্যবাহী র‌্যাফেল্স হোটেল, ফুলারটন হোটেল, পার্লামেন্ট হাউস, সেন্ট এন্ড্রুজ ক্যাথিড্রাল, ওয়ার মেমোরিয়াল পার্ক ঘুরে আমরা আবার চলে এলাম গোল্ডেন মাইল কমপ্লেক্সে, কুয়ালালামপুরের বাস ধরার জন্য। চারদিকে বড়দিনের সজ্জা, সবার মুখে শুভেচ্ছা বিনিময়- Merry Christmas। বিকাল ৩টা ৩০ মিনিটে বাস রওনা হল মালয়েশিয়ার উদ্দেশে। দোতলা এসি বাস। টিকিট মাত্র ৫৩ সিঙ্গাপুর ডলার। কুয়ালালামপুরের পথে যেতে চোখে পড়ল পাহাড়, সারি সারি পাম বাগান। পথে ইমিগ্রেশনে পাসপোর্ট আর ব্যাগেজ চেকিংয়ের জন্য বাস থেকে নামতে হয়েছিল। ৫ ঘণ্টার ভ্রমণ। বাসে একটু ঘুমিয়ে নিলাম। কুয়ালালামপুর শহরে প্রবেশের সময় বিভিন্ন জায়গা থেকে চোখে পড়ছিল রুপালি আলোয় ঝলমলে প্যাট্রোনাস টাওয়ার্স আর অপরূপ কুয়ালালামপুরের রাতের আলো ঝলমলে এক অত্যাধুনিক দৃশ্যকল্প। সন্ধ্যা ৮টা ৩০ মিনিটে বাস থেকে নেমেই ট্যাক্সিতে করে আমরা সোজা চলে যাই আমাদের বুকিং করা হোটেলে। কোনমতে ফ্রেস হয়েই আবার বেরিয়ে পড়ি।
আমাদের হোটেল থেকে প্যাট্রোনাস টাওয়ার্স খুব একটা দূরে নয়। প্যাট্রোনাস যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে। ক্লান্তি ভুলে ট্যাক্সি চেপে রওনা দিলাম প্যাট্রোনাসের উদ্দেশে। তাইপে ১০১ তৈরি হওয়ার আগে ২০০৪ সাল পর্যন্ত এটিই ছিল বিশ্বের সর্বোচ্চ ভবন। যাই হোক এখনও এটি পৃথিবীর সর্বোচ্চ টুইন টাওয়ার্স বা জমজ ভবন। আর্জেন্টাইন আমেরিকান স্থপতি সিজার পেল্লি এটি ডিজাইন করেন এবং ১৯৯৮ সালে এর নির্মাণ কাজ শেষ হয়। ৮৮ তলার এ বিল্ডিংটি আধুনিক স্থাপনার এক অনন্য দৃষ্টান্ত। মূলত কংক্রিটে তৈরি ভবনটির বহিরাবরণ স্টিল আর গ্লাসের তৈরি যেখানে ইসলামিক চিত্রকলার বিভিন্ন মোটিফের ব্যবহার মালয়েশিয়ার ইসলামী স্থাপত্যের প্রতিফলন ঘটিয়েছে। ভেতরে ঢোকার সময় সুদৃশ্য প্যাট্রোনাস লোগো, সেটি একটি  Kinetic Sculpture. মূল লবি পার হয়ে আমরা পৌঁছলাম সুরিয়া কেএলসিসিতে, যেটি একটি বিশ্বমানের শপিংমল, এখানকার অ্যাট্রিয়ামে বড়দিনের সুউচ্চ (ছয়তলা উঁচু তো হবেই) ক্রিসমাস-ট্রি যেন প্যাট্রোনাসের আদলে তৈরি। এখান থেকে বের হয়ে আবার কাছ থেকে দেখলাম রাতের প্যাট্রোনাসকে। চোখে পড়ল স্কাইব্রিজ। ভবনটির ৪১ এবং ৪২তম ফ্লোর দুটি এ দ্বিতল ব্রিজ দিয়ে সংযুক্ত, যা কিনা বিশ্বের সর্বোচ্চ ব্রিজ। ব্রিজটি মাটি থেকে ১৭০ মিটার উঁচু এবং ৫৮ মিটার লম্বা, ওজন ৭৫০ টন। এখানে আসার সময় ট্যাক্সি চালকের কাছে জানতে পারলাম ব্রিজে উঠতে গেলে খুব সকালেই পাস সংগ্রহ করতে হবে। কারণ তা প্রতিদিন মাত্র ১৭০০ জনকে ব্রিজের নিচের ফ্লোরে ওঠার অনুমতি দেয়। প্যাট্রোনাস টাওয়ার্স থেকে বেরিয়ে ছুটলাম কেএল টাওয়ারের উদ্দেশ্যে। বড়দিন উপলক্ষে এখানে আয়োজন করা হয়েছে লাইভ কনসার্টের। সাজানো হয়েছে উইন্টার পার্ক। সেখানে তৈরি করা হয়েছে বরফের পৃথিবী। হরিণে টানা েজ আর সান্তাক্লজ যেন প্রকৃতই আমাদের পৌঁছে দেয় বরফের রাজ্যে। দ্রুতগামী লিফ্টে করে পৌঁছলাম কেএল টাওয়ারের পর্যবেক্ষণ ফ্লোরে। এখান থেকে বাইনোকুলার দিয়ে পুরো কুয়ালালামপুর শহর দেখা যায়। এখান থেকে বাইরের দুনিয়াকে দেখলে মনে হয় যেন পাখির দৃষ্টিতে দেখা হচ্ছে। তখন বড়দিন শেষ হচ্ছে প্রায়। বড়দিনটি আমাদের জন্য সত্যিই একটি বড় আনন্দের দিন হয়ে রইল মনের মণিকোঠায়।
ভ্রমণের পরবর্তী কয়েকটা দিন আমরা মালয়েশিয়াতেই কাটাই। কাভার করি বিভিন্ন পর্যটন স্থান, যার মধ্যে রয়েছে গেন্টিং হাইল্যান্ড, যেখানে পাহাড় আর আকাশ যেন মিতালি করেছে। ক্যাবল কারে চড়ে পাহাড়ে ওঠা, মেঘের রাজ্যে হারিয়ে যাওয়া, যেন এক বিস্ময়কর অনুভূতি। পাহাড়ি বনবনানী এখানে যেন ক্ষণে ক্ষণে কুয়াশার চাদরে মুখ ঢাকছে। তারপর পেনাংয়ের সমুদ্রে ান, যেখানে বাঁধনহারা প্রাণের উচ্ছ্বাস খুঁজে পেলাম আমরা। সুপরিকল্পিত প্রশাসনিক শহর পুত্রাজায়ার নৌবিহারও ছিল বেশ রোমাঞ্চকর। আর কুয়ালালামপুরের বিভিন্ন দর্শনীয় স্থান তো ছিলই ভ্রমণের তালিকায়। মেট্রো আর মনোরেলের সমন্বয়ে পুরো কুয়ালালামপুর শহরটাকে অত্যাধুনিক ও দ্রুত যোগাযোগ ব্যবস্থার আওতায় আনা হয়েছে। তখন বারবার মনে পড়ছিল আমাদের প্রাণের শহর ঢাকার ট্রাফিক বিপর্যয়ের কথা।
ডিসেম্বরের ৩০ তারিখে আবার ফের সিঙ্গাপুরের উদ্দেশে যাত্রা। হোটেল থেকে চেক আউট শেষে আবারও গেলাম প্যাট্রোনাস টাওয়ার্সের বেইজমেন্টের গিফট শপে। উদ্দেশ্য কিছু স্যুভেনির সংগ্রহ আর সেই সঙ্গে প্যাট্রোনাসকে বিদায় জানানো। পুদু রায়া বাস স্টেশন থেকে মাত্র ৬৫ রিঙ্গিতে সিঙ্গাপুরের বাসে চড়লাম। দুপুর ১২টায় বাস ছাড়ল। বাসের ভেতরেই লাঞ্চ। বিকাল ৫টায় সিঙ্গাপুর পৌঁছলাম। সিঙ্গাপুরে হোটেল বুকিং নেয়া ছিল না। বাসস্ট্যান্ডে নেমে ডলার ভাঙাতে গিয়ে পরিচয় হল এক ভারতীয় বাঙালির সঙ্গে। উনি জানালেন, বাংলাদেশীদের জন্য কম খরচে থাকার সবচেয়ে ভালো জায়গা হল মোস্তফা সেন্টারের আশপাশে কোন হোটেলে ওঠা। ট্যাক্সি চেপে মোস্তফা সেন্টারে আসতেই সিঙ্গাপুরে যেন এক টুকরো বাংলাদেশ খুঁজে পেলাম। অনেক ইন্ডিয়ান হোটেল-রেস্টুরেন্ট। এমনকি সাইনবোর্ডগুলোও বাংলাতে। যাহোক, এখানে মোটামুটি সস্তা এক হোটেল ভাড়া করলাম মাত্র ৭৫ সিঙ্গাপুর ডলারে। একটা কথা বলে নিই, বাংলাদেশ থেকে রওনা দেয়ার সময় ভয় পেয়েছিলাম, পিক সিজন, হোটেল-মোটেল পাব কিনা। তাই ঢাকা থেকে কুয়ালালামপুরে হোটেল বুকিং করি একটু বেশি খরচেই। কিন্তু ভয়টা মিছে। এসব পর্যটন নগরীতে পর্যাপ্ত হোটেল বা থাকার ব্যবস্থা। আপনি আপনার পছন্দমতো যে কোনও রেঞ্জের হোটেলে উঠতে পারেন এখানে এসেই। ইন্টারনেট ঘেঁটে হোটেলের অবস্থান, ভাড়া প্রভৃতি সম্পর্কে আগেভাগেই জেনে নিতে পারেন। যাহোক হোটেলে চেঞ্জ করে ডিনার করতে নিচে নামলাম। হাঁটতে হাঁটতে চলে এলাম লিটল ইন্ডিয়াতে। এখানে ফুটপাতে একটা রেস্টুরেন্টে ডিনার করলাম ইন্ডিয়ান আইটেমে। পরের দিন বছরের শেষ দিন।
৩১ তারিখ সারাদিনের অপার অপেক্ষা থার্টিফার্স্ট সেলিব্রেশন দেখার জন্য। সারাদিনে সিঙ্গাপুর শহরের এপাশ থেকে ওপাশ ঘুরে বেড়ালাম। বুগিস ভিলেজ, ন্যাশনাল মিউজিয়াম, ফোর্ট ক্যানিং পার্ক ঘুরে দুপুরে এলাম সেন্ট্রালে। নদীর পাড়ে অত্যাধুনিক এক শপিং প্যারাডাইস। ক্লার্ক কোয়ারিতে হুটার্স তাঁবুতে লাঞ্চ সেরে নিলাম। এখানে বোটে চড়ে নদীতে বেড়ানো যায়। বিকালে গেলাম চায়না টাউনে। সারাদিন ঘুরে বেড়ানোর পর হোটেলে এসে একটু বিশ্রাম নিয়ে সন্ধ্যায় আবার বেরিয়ে পড়লাম। লক্ষ্য ইস্তানা পার্কের অর্চার্ড রোড। অর্চার্ড রোডের চোখ ধাঁধানো আলোকসজ্জা আর বিপুলসংখ্যক পর্যটকের সমাগম এক উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করেছিল। রাত ১১টায় অর্চার্ড  থেকে গঞ্জ-তে র‌্যাফেল্স প্যালেসে পৌঁছলাম। উদ্দেশ্য মেরিনা বে কাউন্ট ডাউনে অংশ নেয়া। লাখো লোকের সমাগম, বর্ণিল আলোকসজ্জা, লাইভ কনসার্ট, হাজারো মানুষের হর্ষধ্বনি, হ্যাপি নিউ ইয়ার স্লোগান এসবের মধ্য দিয়ে আমরা হেঁটে মেরিনা বের দিকে অগ্রসর হতে থাকলাম। এখানে পুরো জায়গাটায় যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আইন-শৃংখলা বাহিনীর সদস্যরা সবাইকে সুশৃংখলভাবে থার্টিফার্স্ট প্রোগ্রাম দেখার জন্য সহযোগিতা করছে। আমরা ভিড় ঠেলে একেবারে মারলায়নের পায়ের কাছে চলে আসি। মেরিনা বের পানিতে হাজার হাজার শুভেচ্ছা বেলুন ভাসমান।
সবার অপেক্ষা নতুন বছরের জন্য। সবাই ক্যামেরা কিংবা মোবাইল ক্যামেরা তাক করে দাঁড়িয়ে। হাজারো মানুষের সম্মিলিত কণ্ঠে শুরু হল কাউন্ট ডাউন...। সঙ্গে সঙ্গে আকাশে লাখো আতশবাজি আর মেরিনা বের স্বচ্ছ জলরাশিতে তার প্রতিফলন। যেন এক বাঁধনহারা উচ্ছ্বাসে আকাশ-বাতাস-সমুদ্র একাকার। সুন্দর। কি বলব! এক কথায় বিস্ময়কর। এই মুহূর্তগুলো সব আপনজন বা প্রিয় মানুষদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে নিতে ইচ্ছে করছিল তখন। পুরো আধঘণ্টা ধরে আতশবাজির চোখ ধাঁধানো ডিসপ্লে। মেরিনা বে যেন আশা ও আলোর এক দৃশ্যমান আধার। প্রতিবছর সিঙ্গাপুরের মেরিনা বেতে এ কাউন্ট ডাউন উদ্যাপিত হয় যেন প্রথার মতো। নতুন বছরের জন্য আশা, স্বপ্ন ও শুভকামনার লক্ষ্যেই এ উদযাপনের আয়োজন। শুভ কামনা নতুন বছর যেন নতুন সম্ভাবনা ও  উজ্জ্বলতর আগামী নিয়ে আসবে। ফেরার পথে ভয় হচ্ছিল এত মানুষ কতক্ষণে তাদের গন্তব্যে ফিরবে। আমরা এমআরটির দিকে অগ্রসর হলাম। হাজারও মানুষের ঢল। মজার বিষয় মাত্র পাঁচ কি ছয় মিনিটের মধ্যে আমরা পেয়ে গেলাম আমাদের ট্রেন। যাতায়াত ব্যবস্থার এ চরম উৎকর্ষ আবারও ঢাকার বিপর্যস্ত ট্রাফিক ব্যবস্থা 

আপনার পছন্দের আরও কিছু লেখা


সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology