শ্রীলঙ্কা

রাবণ না হন, তবু ঘুরে আসুন শ্রীলংকা

প্রকাশ : 30 এপ্রিল 2011, শনিবার, সময় : 09:52, পঠিত 4562 বার

সাদিকুল নিয়োগী পন্নী
রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক অস্থির হলেও শান্ত সুুনিবিড় আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে সম্পূর্ণ বিপরীত একটি দেশের নাম শ্রীলংকা। এক জাদুর দেশ। শ্রীলংকাকে বলা হয় ল্যান্ড অব সেরেন্ডিপিটি। এই দক্ষিণ এশিয়ার অবস্থিত হওয়ায় আমাদের পক্ষে শ্রীলংকায় যাওয়া খুব বেশি দুশ্চিন্তার না। ব্যক্তিগত উদ্যোগেও চলে যেতে পারেন সনাতন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের এই দেশে। ঘুরে বেড়ানোর জন্য উলেখযোগ্য স্থান শ্রীলংকায় অনেক।
কলম্বো : শ্রীলংকায় সনাতন ঐতিহ্য আর আধুনিকতার মিশেল পেতে চাইলে কলম্বো ঘুরে দেখার কোনও বিকল্প নেই। এখানে যেমন আছে ঐতিহ্যগত নিস্তব্ধতা, তেমনি আধুনিক উজ্জ্বলতাও। এখানে দেখার মতো রয়েছে কলম্বোর অন্যতম বুদ্ধমন্দির কেলানিয়া রাজা মহাবিহার। জানুয়ারি মাসে প্রতিবছর এখানে ধর্মীয় অনুষ্ঠান পেরাহেরা অনুষ্ঠিত হয়।
গল ফেস গ্রিন বিচও কলম্বোর অন্যতম উলেখযোগ্য সৌন্দর্যের একটি। যেখানে সুনীল সমুদ্র আর সমুদ্রের ঢেউ ছাড়াও রয়েছে বিভিন্ন ওয়াটার স্পোর্টসের ব্যবস্থা।
এখন যদিও কমার্শিয়াল সেন্টারে পরিণত হয়ে গেছে এলাকাটা তার পর্তুগিজ এবং ডাচ পিরিয়ডের ফোর্টের আবেদন একটুকু কমেনি। এই এলাকার অসংখ্য দর্শনীয় স্থান একটু কষ্ট করে হেঁটেই দেখে নেওয়া সম্ভব।
কলম্বো থেকে ১২ কিমি. দূরে অবস্থিত বিচের নাম মাউন্ট লাভিনিয়া। ১৮০৫ সালে তৈরি গভর্নর হাউস এখানে অবস্থিত। যা এখন মাউন্ট লাভিনিয়া হোটেলে পরিণত হয়েছে।
এলিফেন্ট শো এর জন্য বিখ্যাত এক চিড়িয়াখানার নাম, দেহিওয়ালা জু। ১১ একর জায়গাজুড়ে অবস্থিত এই চিড়িয়াখানায় দুর্লভ প্রজাতির পশুপাখি রয়েছে।

অনুরাধাপুর : শ্রীলংকার অন্যতম প্রাচীন শহরের নাম অনুরাধাপুর। কলম্বো থেকে ২০৬ কিমি. দূরে অবস্থিত এই এলাকাটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা করেছে ইউনেস্কো। এখানে দেখতে পাবেন ১৩ মিটার উঁচু গ্রানাইট পাথরের তৈরি বুদ্ধের স্ট্যাচু আওকনা বুদ্ধ। রাজা দাথুসেনের শাসনকালে নির্মিত হয়েছে এটি।
পাবেন তৃতীয় শতাব্দীতে নির্মিত ইসরুমিনিয়া মন্দির। এই মন্দির বিখ্যাত রক কার্ভিংসের জন্য। এখানেও মিস করা যাবে না রাজা দুতুগামানুর ছেলে সালিয়া এবং তার প্রেমিকার কাহিনী থেকে অনুপ্রাণিত খোদাইচিত্র লাভারস নামের কার্ভিং। অসাধারণ খোদাই চিত্র এটি। অনুরাধাপুরের আরও বিশেষ আকর্ষণ হচ্ছে এর মনাস্ট্রি এবং স্তূপগুলো। অভয়গিরি এখানকার সবচেয়ে বড় মনাস্ট্রি কমপেক্স। এছাড়াও এখানে দেখার আছে মিহিনতালের মন্দির, জেথাওয়ানের মনাস্ট্রি, ওয়ানভেনির সেয়া।

ক্যান্ডি : ক্যান্ডিকে শ্রীলংকার সাংস্কৃতিক রাজধানী বলা হয়। কলম্বো থেকে ১১৫ কিমি. দূরে অবস্থিত এই শহর। দ্য টেম্পল অব টুথ, দ্য ওল্ড ওয়েল প্যালেস কম্পাউন্ড, লংকাতিলকা মন্দির, এম্বেকা মন্দির ক্যান্ডির উলেখযোগ্য ঘুরে বেড়ানোর স্থান।

থাকার জায়গা
স্বল্পদামের হোটেল থেকে শুরু করে বিশাল বাজেটের হোটেল সবই পাবেন শ্রীলংকায়। কলম্বোয় গাল ফেস হোটেল, পাম ভিলেজ হোটেল বা তাজ হোটেলে থাকতে পারবেন। এছাড়া হোম স্টেও করা যায় স্থানীয় লোকদের বাড়ি।
কেনাকাটা
শ্রীলংকায় কেনাকাটা করতে পারেন পেটাহতে। এছাড়া ক্র্যাফটের জন্য লকশলা নামের এম্পেরিয়ামে যেতে পারেন। সেখানে দাম তুলনামূলক বেশি হলেও তার মান উন্নত। এছাড়াও শ্রীলংকায় প্রচুর শপিংমল ও মার্কেট রয়েছে।
খাওয়া-দাওয়া
খাবার হিসেবে খেতে পাারেন শ্রীলংকার ঐতিহ্যবাহী খাবার ভাত ও কারি। রয়েছে মাংসের রান্না করা ভাত যা পরিচিত বুরিয়ানি নামে। খেতে পারেন কোরানো নারকেল, অন্যান্য মশলা আর চিংড়ি সহযোগে রান্না করা মালুঙ্গ, এবং পেঁয়াজ এবং মল ডিভিয়ান মাছের সহযোগে রান্না করা সিনি সাম্বল।
যাতায়াত
বাংলাদেশ থেকে বছরের যে কোনও সময়েই যেতে পারবেন শ্রীলংকায়। তবে ঢাকা থেকে সরাসরি কোনও বিমান শ্রীলংকাতে যায় না। ট্রাভেল এজেন্সির সহযোগিতা নিয়ে আপনি শ্রীলংকা ঘুরে আসতে পারেন। এছাড়াও ভিসা ও অন্যান্য তথ্যের জন্য গুলশান অবস্থিত বাংলাদেশে শ্রীলংকার এ্যাম্বাসিতে যোগাযোগ করতে পারেন।


সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology