শ্রীলঙ্কা

প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে সম্পূর্ন বিপরীত দেশের নাম শ্রীলঙ্কা

প্রকাশ : 21 এপ্রিল 2011, বৃহস্পতিবার, সময় : 09:55, পঠিত 4877 বার

একদিকে বিস্তীর্ণ সাগরের হাতছানি আর অন্যদিকে অকৃত্রিম বনের মাঝে ছড়িয়ে থাকা সবুজের সমারোহ যাদের মুগ্ধ করে তাদের জন্য এই দেশের মাঝেই বেড়ানোর চমত্কার একটি স্থান হতে পারে হরিণঘাটা। বরিশাল বিভাগের দক্ষিণ প্রান্তে বরগুনা জেলায় অবস্থিত এই হরিণঘাটায় এসে একদিকে যেমন উপভোগ করা যায় সাগরের মাঝে সূর্যোদয় ও সূর্যাস্তের মোহনীয় দৃশ্য, তেমনি দেখা মেলে নানা প্রজাতির গাছের সমারোহে গড়ে ওঠা সবুজ নিসর্গ আর হরেক রকম বণ্যপ্রাণীরও। বরগুনা জেলার আমতলী উপজেলা সদর তালতলী থেকে প্রায় আট কিলোমিটার দূরে হরিণঘাটা বাজারের পাশ থেকেই এই বনের শুরু। স্থানীয়দের কাছে দীর্ঘদিন ধরে হরিণঘাটার এই বন ফাতরার বন নামে পরিচিত হলেও ২০১০ সালে বনবিভাগের আমতলী রেঞ্জের টেংরাগিরি (সখিনা) বিটের এ জায়গাটিকে বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য হিসেবে ঘোষণা করে এর নাম দেওয়া হয় 'টেংরাগিরি বণ্যপ্রাণী অভয়ারণ্য।রাজনৈতিক বিবেচনায় অনেক অস্থির হলেও শান্ত সুুনিবিড় আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্যে সম্পূর্ন বিপরীত দেশের নাম শ্রীলঙ্কা। এক জাদুর দেশ। শ্রীলঙ্কাকে বলা হয় ল্যাণ্ড অফ সেরেন্ডিপিটি। এই দক্ষিণ এশিয়ার  অবস্থিত হওয়ায় আমাদেও পক্ষে শ্রীলঙ্কায় যাওয়া খুব বেশি ব্যায়সাপেক্ষ আর ঝামেলার না। দেশে প্রচুর ট্যুরিজম কোম্পানী দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর মতো শ্রীলঙ্কায় যাওয়ার ব্যাবস্থা করে থাকে। ব্যাক্তিগত উদ্যোগেও চলে যেতে পারেন সনাতন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যেও এই দেশে।

ঘুরে বেড়াবার বেড়ানোর জন্য উল্লেখ যোগ্য স্থান-

কলোম্বো: শ্র্রীলঙ্কায় সনাতন ঐতিহ্য আর  আধুনিকতার মিশেল পেতে চাইলে  কলম্বো ঘুওে দেখার কোনো বিকল্প নেই। এখানে যেমন আছে ঐতিহ্যগত নিস্তদ্ধতা তেমনি আধুনিক উজ্জ্বলতাও। এখানে দেখার মতো রয়েছে, কলম্বোর অন্যতম বুদ্ধমন্দির কেলানিয়া রাজা মহাভিহার। বছরের এই মাসে অর্থাৎ জানুয়ারি মাসেই প্রতিবছর এখানে ধার্মিক অনুষ্ঠান পেরাহেরা অনুষ্ঠিত হয়।
গল ফেস গ্রিন বীচও কলম্বোর অন্যতম উল্লেখযোগ্য সৌন্দর্যের একটি। যেখানে সুনীল সমুদ্র আর সমুদ্রের ঢেউ ছাড়াও রয়েছে বিভিন্ ওয়াটার স্পোর্টসের ব্যবস্থা।
এখন যদিও কর্মশিয়াল সেন্টাওে পরিনত হয়ে গেছে এলাকাটা তাও পর্তুগীজ এবং ডাচ পিরিয়ডের ফোর্টের আবেদন একটুকু কমেনি। এই এলাকার অসংখ্য দর্শনীয় স্থান একটু কষ্ট কওে পায়ে হেটেই দেখে নেয়া সম্ভব।
কলম্বো থেকে ১২ কিমি দূরে অবস্থিত বীচের নাম মাউন্ট লাভিনিয়া। ১৮০৫ সালে তৈরি গর্ভনর হাউজ এখানে অবস্থিত। যা এখন মাউন্ট লাভিনিয়া হোটেলে পরিনত হয়েছে।
এলিফেন্ট শো এর জন্য বিখ্যাত এক চিড়িয়াখানার নাম দেহিওয়ালা জু। ১১ একর জায়গা জুড়ে অবস্থিত এই চিড়িয়াখানায় দূর্লভ প্রজাতির পশুপাখি রয়েছে।

অনুরাধাপুর: শ্র্রীলঙ্কার অন্যতম প্রাচীন শহরের নাম অনুরাধাপুর। কলম্বো থেকে ২০৬ কিমি দূরে অবস্থিত এই এলাকাটি ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা করেছে ইউনেস্কো। এখানে দেখতে পাবেন ১৩ মিটার উচু গস্খানাইট পাথরের তৈরি বুদ্ধেও ষ্ট্যাচু- আওকনা বুদ্ধ। রাজা দাথুসেনের শাসনকালে নির্মিত হয়েছে এটি।
পাবেন তুতীয় শতাব্দিতে নির্মিত ইসরুমিনিয়া মন্দির। এই মন্দিও বিখ্যাত রক কার্ভিংসের জন্য। এখানে কোনোভাবেই মিস করা যাবেনা রাজা দুতুগামানুর ছেলে সালিয়া এবং তার প্রেমিকার কাহিনিী থেকে অনুপ্রাণিত খোদাইচিত্র লাভারস নামের কার্ভিং। অসাধারণ খোদাই চিত্র এটি। অনুরাধাপুরের আরো বিশেষ আকর্ষণ হচ্ছে এর মনাষ্ট্রি এবং স্তুপগুলো। অভয়গিরি এখানকার সবচেয় বড় মনাষ্ট্রি কমপ্লেক্স।  এছাড়াও এখানে দেখার আছে, মিহিনতালের মন্দির, জেথাওয়ানের মনাষ্ট্রি, ওয়ানভেনির সেয়া।

ক্যান্ডি: ক্যান্ডিকে শ্রীলঙ্কার সাংস্কৃতিক রাজধানি বলা হয়। কলম্বো থেকে ১১৫ কিমি দুওে অবস্থিত এই শহর। দ্যা টেম্পল অফ টুথ,  দ্যা ওল্ড ওয়েল প্যালেস কম্পাউন্ড, লঙ্কাতিলকা মন্দির, এম্বেকা মন্দিও ক্যান্ডির উল্লেখযোগ্য ঘুরে বেড়াবার স্থান।



থাকার জায়গা-
সল্পদামের হোটেল থেকে শুরু করে বিশাল বাজেটের হোটেল সবই পাবেন শ্রীলঙ্কায়। কল্বোয় গাল ফেস হোটেল, পাম ভিলেজ হোটেল বা তাজ হোটেলে থাকতে পারবেন। এছাড়া হোম স্টেও করা যায় স্থানীয় লোকদের বাড়ী।

কেনাকাটা
শ্রীলঙ্কায় কেনাকাটা করতে পারেন পেটাহ-তে। এছাড়া ক্র্যাফটের জন্য লকশলা নামের  এম্পেরিয়ামে যেতে পারেন। সেকানে দাম তুলনামূলক বেশি হলেও তার মান উন্নত। এগুলো ছাড়াও শ্র্রীলঙ্কায় প্রচুর শপিং মল ও মার্কেট রয়েছে।

খাওয়াদাওয়া
খাবার হিসেবে খেতে পাারেন শ্রীলঙ্কার ঐতিহ্যবাহী খাবার ভাত ও কারি। রয়েছে মাংশে রান্না করা ভাত যা পরিচিত বুরিয়ানি নামে। খেতে পারেন কোড়ানো নাড়কেল, অন্যান্য মশলা আর চিংড়ি সহযোগে রান্না করা মালুঙ্গ, এবং পেয়াজ এবং মল ডিভিয়ান মাছের সহযোগে রান্না করা সিনি সাম্বল।

বাংলাদেশ থেকে বছরের যে কোনো সময়েই যেতে পারবেন শ্রীলঙ্কায়।  এ বনের পূর্ব দিকে রয়েছে কুয়াকাটা, পশ্চিমে সুন্দরবন, উত্তর পাশে রাখাইনদের বেশ কিছু বসতি এবং দক্ষিণে বঙ্গোপসাগর। প্রাকৃতিকভাবে সৃষ্ট এ বন নানান গাছপালায় সমৃদ্ধ। কেওড়া, গরাণ, গেওয়া, ওড়া প্রভৃতি শ্বাসমূলীয় গাছ বনের প্রধান বৃক্ষ। এ ছাড়া বনে দেখা মেলে চিত্রা হরিণ, বানর, বন বিড়াল, বন্যশুকরসহ নানান বন্যপ্রাণীর। এ ছাড়া নানা প্রজাতির পাখি আর গুঁইসাপসহ একাধিক প্রজাতির সাপেরও আবাসস্থল এই বন। তবে হরিণঘাটায় অবস্থিত এই বনের সবেচেয়ে আকর্ষণীয় দিকগুলোর একটি হলো বনের ভেতর সর্পিলাকারে ছড়িয়ে থাকা একাধিক খাল। জোয়ারের সময় যখন খালগুলো পানিতে পরিপূর্ণ থাকে তখন ছোট ছোট নৌকায় করে উপভোগ করা যায় বনের মধ্যকার সবুজের সমারোহ। এ ছাড়া এই বনাঞ্চলের ঠিক পাশেই থাকা লালদিয়ার চর নামে পরিচিত সমুদ্র সৈকতও পর্যটকদের ভীষণভাবে আকৃষ্ট করে। হরিণঘাটার বনের ঠিক শেষ প্রান্তে বঙ্গোপসাগর ও বিষখালী নদীর মোহনায় জেগে ওঠা এই সৈকতে মানুষের উপস্থিতি অনেক কম বলে এখানে নানা প্রজাতির পাখির নির্বিঘ্ন বিচরণ চোখে পড়ে। এ ছাড়া সৈকতে ঘুরে বেড়ানো লাল কাঁকড়ার দলও প্রায়শই তৈরি করে দেখার মতো এক দৃশ্য। হরিণঘাটার বন বা লালদিয়ার চরে আসতে হলে দেশের যেকোনো প্রান্ত থেকে সড়ক বা নদীপথে প্রথমে বরগুনা আসতে হবে। তারপর সেখান থেকে বাস, টেম্পু বা নৌকায় করে তালতলী হয়ে যাওয়া যাবে হরিণঘাটায়।

আপনার পছন্দের আরও কিছু লেখা


সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology