থাইল্যাণ্ড

জেমস বন্ড দ্বীপ ফুকেট

প্রকাশ : 15 সেপ্টেম্বর 2011, বৃহস্পতিবার, সময় : 10:05, পঠিত 4764 বার

বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয় অ্যাকশন-থ্রিলার জেমস বন্ড সিরিজের একটি ছবিদ্য ম্যান উইথ দ্য গোল্ডেন গান। ১৯৭৪ সালে ছবিটি মুক্তি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিশ্ব মানচিত্রে পরিচিত হয়ে উঠল একটি দ্বীপের নাম ফুকেট। আন্দামান সাগরের তীরে থাইল্যান্ডের এ দ্বীপেরই এক সৈকতে দ্য ম্যান উইথ দ্য গোল্ডেন গান ছবিটির শুটিং হয়েছিল। তাই জায়গাটির নাম হয়ে যায় জেমস বন্ড দ্বীপ। আবার স্থানীয়রা ফুকেটকে বলেন আন্দামানের মুক্তো।
ইসমত আরা:
রাজধানী ব্যাঙ্ককের সাড়ে ৮০০ কিলোমিটার দক্ষিণে থাইল্যান্ডের সবচেয়ে বড় এ দ্বীপটিই একটি প্রদেশ। অবশ্য মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে এর একটি সেতু সংযোগও আছে। একসময় ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য প্রসিদ্ধ হলেও এখন এই প্রদেশের প্রধান আয় পর্যটন।
চমত্কার ও বিচিত্র সব সাগরসৈকত, পাহাড়ি জঙ্গল, বৈচিত্র্যময় জীবনযাত্রার মানুষ ফুকেটের বড় আকর্ষণ। চাইলেই জেলেদের পল্লীতে কাটিয়ে দিতে পারেন একটি দিন। লালচে বালুর সাগরসৈকতে যেমন করে নিতে পারেন সূর্যস্নান, তেমনি সাগর থেকে খাড়া উঠে আসা পাথুরে মাটির পাহাড়ে চড়ার চেষ্টায় কাটিয়ে দিতে পারেন সময়। কিংবা সাগরতলে ডুব দিয়ে রঙিন মাছের জগতে হারিয়ে যেতে পারেন। হাতির পিঠে চড়ে বন্যপ্রাণীর অভয়ারণ্যে কাটাতে পারেন একটি দিন, পারেন পাহাড়ি জঙ্গলের ঝরনায় অবগাহন করে শরীর জুড়িয়ে নিতে। প্রকৃতির দেওয়া এসব অনুষঙ্গ তো আছেই, আরও যোগ হয়েছে মানুষের তৈরি সাগরতলার অ্যাকুরিয়াম, চিড়িয়াখানা কিংবা উদ্দাম রাতের বিনোদন। যারা ধর্ম-কর্মে বেশি মনোযোগী, তারা ঘুরে আসতে পারেন বৌদ্ধমন্দির।
ফুকেটের সবচেয়ে বড় সাগরসৈকত পাতং। একে ঘিরে গড়ে উঠেছে পাতং শহর। অক্টোবর থেকে এপ্রিল পর্যন্ত বিদেশি পর্যটকে গমগম করে এই এলাকা। বিলাসবহুল হোটেল, ট্যুরিস্ট রিসোর্ট, নাইটক্লাব, ক্যাবারে, শপিং মলের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী বাজার-সব কিছুই আছে এখানে। সন্ধ্যা হলেই নাচ-গানে জমজমাট হয়ে ওঠে বাংলা রোডের নাইটক্লাব আর ক্যাবারে, কোনো কোনোটিতে আবার চলে লেডিবয় বা হিজড়াদের নাচ। এমনি একটি সায়মন ক্যাবারে, যেখানে শুধু হিজড়াদের নাচই আয়োজন করা হয়। অবশ্য প্রথম দেখাতে বোঝার কোনো উপায়ই নেই যে এরা হিজড়া। পাতং সাগরসৈকতেও হিজড়াদের দেখা মেলে, বিদেশি মাতাল বয়স্ক পর্যটকদের পটানোই যাদের প্রধান কাজ।
জেমস বন্ড দ্বীপটি কিন্তু ঠিক ফুকেটে নয়, ফুকেট থেকে নৌপথে প্রায় দেড় ঘণ্টার দূরত্বে ফাং নাগা নামের ছোট্ট ভিন্ন একটা দ্বীপ। আর এই দ্বীপে যাওয়ার পথেই পড়বে জেলেদের গ্রাম, যেখানে পাবেন সমুদ্র থেকে ধরে আনা তাজা মাছের খাবার। গ্রামটি মুসলমানপ্রধান হলেও বিদেশি পর্যটকদের আকৃষ্ট করার সবরকম ব্যবস্থাই আছে। এ দিক দিয়ে বেশ উদার তারা। এখানে কিছুক্ষণ কাটিয়ে চলে যাবেন জেমস বন্ড দ্বীপে। এই দ্বীপে বড্ড ভিড়, কারণ সব বিদেশিই এখানে একবার ঢুঁ মারতে আসেন।
এছাড়াও অপেক্ষাকৃত নিরিবিলি আরও বেশ কয়েকটি সৈকত আছে। এদের মধ্যে বিখ্যাত কয়েকটি মাই খাও, নাই ইয়াং, নাই থন, বাং থাও, পানসিয়া, সুরিন, কামালা, নাখালে, নায়েম সিং, কালিম, কারন নোই, কাতা ইয়াই, কাতা নোই, রাওয়াই, ইয়া নোই।
ফুকেটের আশপাশে ছোট দ্বীপগুলোর মধ্যে আছে কোরাল দ্বীপ, কোহ রাচা, কোহ নাকা, কো রাং, কোহ ইয়াও, কোহ সামুই। ফুকেট থেকে ছোট ছোট নৌযান ভাড়া করে সহজেই বেড়িয়ে আসা যায় এসব দ্বীপ।
ফুকেটের অল্প একটু দূরে দিনে দিনে বেড়ানোর জন্য আছে খাও সোক বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। এর ভেতরে আছে স্বচ্ছ পানির চমত্কার পাহাড়ি নদী, নৌকা নিয়ে বেড়াতে পারেন সেখানেও।     
ঢাকা থেকে ব্যাঙ্কক যেতে বিমান ভাড়া পড়বে প্রায় ২০ হাজার টাকা। সেখান থেকে ফুকেটের বিমান ভাড়া যাওয়া-আসা ৭ হাজার টাকার মতো। ফুকেটে থাকা-খাওয়ার খরচ খুব বেশি নয়, অনেকটা বাংলাদেশের মতোই। দুই হাজার টাকায় ভদ্র মানের হোটেল রুম পাওয়া যায়, এক হাজার থেকে ১২শ টাকায় হয়ে যায় তিন বেলার খাবার। দল বেঁধে বেড়াতে গেলে এই খরচ অনেক কমে আসবে। বর্তমানে এক ডলারে পাওয়া যায় থাই মুদ্রা প্রায় ৩০ বাথ।
অবশ্য ঢাকায় কয়েকটি ট্যুর অপারেটর ফুকেট ভ্রমণের ব্যবস্থা করে, সব মিলিয়ে ৪ রাত ৫ দিনের জন্য খরচ পড়ে কমবেশি ৫০ হাজার টাকা।
এমনই কয়েকটি ট্যুর অপারেটরের নাম ও ফোন নম্বর : ডিস্কভারি বাংলাদেশ, ফোন-০১৯২৪৭১৪০৪০; হ্যাভেন টাচ ট্যুরিজম, ফোন-০১৭১১৭৮৯৮৩৭; প্রাইম ট্যুরিজম নেটওয়ার্ক, ফোন-০১৭১১৮১০৬৩১; ঢাকা হলিডেজ, ফোন-০১৭১২১২৫৩৭৯, ০১৬৭৬০৯৭৯৯২, ০১১৯৯৪৩২২৮০।


সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology