ভারত

জলদাপাড়া ওয়াইল্ড লাইফ স্যাংচুয়ারি

প্রকাশ : 16 অক্টোবর 2011, রবিবার, সময় : 10:27, পঠিত 4535 বার

ঢাকা থেকে পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি। সেখান থেকে গাড়িতে ১৪০ কি.মি. পথ পাড়ি দিলেই আলিপুরদুয়ার হয়ে পৌঁছে যাবেন মাদারিহাট। মাদারিহাট হল জলদাপাড়া স্যাংচুয়ারিতে ঢোকার এন্ট্রি পয়েন্ট। থাকার জন্য আছে ‘ট্যুরিস্ট লজ’। ঘুরে এসে লিখেছেন অর্ণব সান্যাল
অসংখ্য গাছগাছালি, বহু বছর ধরে বয়ে যাওয়া নদী, খাল-বিল, নদীর বালুময় তীর ও বড় বড় ঘাসের দিগন্ত বিস্তৃত মাঠ-এই নিয়ে হল ‘জলদাপাড়া ওয়াইল্ড লাইফ স্যাংচুয়ারি’। এই স্যাংচুয়ারির আয়তন প্রায় ২১৬ বর্গকি.মি.। ভারতের এক শিংবিশিষ্ট গণ্ডারের প্রজাতি সংরক্ষণের জন্য ১৯৪১ সালে এই স্যাংচুয়ারিটি গড়ে তোলা হলেও এখন এটি গণ্ডারসহ অসংখ্য প্রজাতির বন্য প্রাণীর এক অভয়ারণ্য। পশ্চিমবঙ্গের জলপাইগুড়ি জেলার সাব-ডিভিশন আলিপুরদুয়ারে এর অবস্থান। স্যাংচুয়ারির ভেতর দিয়ে বয়ে গেছে তোরশা নদী। এই তোরশা নদী ছাড়াও স্যাংচুয়ারির পূর্ব-পশ্চিম দিকে বয়ে গেছে মালাঙ্গি নদী। জলদাপাড়া স্যাংচুয়ারির চারপাশের সীমানা হল ঘন বন। আর স্যাংচুয়ারির ভেতরে রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির বন্য প্রাণীর এক বৈচিত্র্যময় সম্ভার!
জলদাপাড়া স্যাংচুয়ারি এক শিংবিশিষ্ট গণ্ডারের জন্য বিখ্যাত হলেও, এখানে আরও আছে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, লেপার্ড, শজারু, বন্য হাতি, নানা প্রজাতির হরিণ, বন্য শূকর, বাইসন প্রভৃতি। তাছাড়া দেখতে পাবেন হর্নবিল, ঈগল, শিকরা, হাড়গিলা ও ৮ প্রজাতির বন্য ঘুঘুসহ আরও নানা প্রজাতির পাখি। বন্য মোরগ বা মুরগির দেখা পাবেন হরহামেশা। সরীসৃপ জাতীয় প্রাণীর মধ্যে দেখতে পাবেন বিভিন্ন ধরনের গিরগিটি, পাইথন সাপ, গোখরা সাপ প্রভৃতি। তবে মজার ব্যাপার হল, এ সবকিছুই আপনাকে দেখতে হবে হাতির পিঠে চড়ে! কেননা, স্যাংচুয়ারির ভেতরে চলাচলের একমাত্র বাহনই হল হাতি!!
জলদাপাড়া ওয়াইল্ড লাইফ স্যাংচুয়ারির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হল ‘টোটো গ্রাম’। স্যাংচুয়ারির উত্তর দিকের এই গ্রামেই টোটো উপজাতির বাস। এই উপজাতির লোকেরা কথিত সভ্য সমাজ থেকে বিছিন্ন। টোটো গ্রামের লোকসংখ্যা প্রায় ৯৫০। এই গ্রামে গেলে উপলব্ধি করতে পারবেন আদিম মানব সমাজের রূপরেখা। এখানে আছে একটি প্রাচীন দুর্গের ধ্বংসাবশেষ ও ‘বানিয়া লেক’। দুর্গটি স্থানীয়ভাবে ‘নলা রাজার ঘর’ নামে পরিচিত। প্রচলিত বিশ্বাস এই যে, পুরাণের প্রবল পরাক্রমশালী ‘নলা রাজা’ এই দুর্গেই বাস করতেন। তাছাড়া, স্যাংচুয়ারির আশপাশেই রয়েছে অসংখ্য চা বাগান। ইচ্ছে হলে দেখে আসতে পারেন চা-পাতা প্রক্রিয়াজাতকরণের কৌশলাদি। তবে এক্ষেত্রে চা বাগান কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আগে থেকে যোগাযোগ করে যাওয়া ভালো।

কীভাবে যাবেন
বাংলাদেশ থেকে ‘জলদাপাড়া ওয়াইল্ড লাইফ স্যাংচুয়ারি’ যাওয়া বেশ সোজা। ঢাকা থেকে বাসে চেপে লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর পার হয়ে চলে যান পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি। সেখান থেকে গাড়িতে ১৪০ কি.মি. পথ পাড়ি দিলেই আলিপুরদুয়ার হয়ে পৌঁছে যাবেন মাদারিহাট। মাদারিহাট হল স্যাংচুয়ারিতে ঢোকার এন্টি পয়েন্ট। থাকার জন্য আছে ‘জলদাপাড়া ট্যুরিস্ট লজ’। ঢাকা থেকে শ্যামলী পরিবহনের সরাসরি টিকেট পাবেন শিলিগুড়ি পর্যন্ত।
মাত্র চার-পাঁচ দিনের ছুটিতেও দিব্যি ঘুরে আসতে পারেন জলদাপাড়া স্যাংচুয়ারি। দুটি দিন সেখানে কাটিয়ে তৃতীয় দিন ভোরে রওনা দিলে বিকেলেই পৌঁছে যাবেন বুড়িমারী, সন্ধ্যায় বাসে চেপে পরদিন ঢাকা।


সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology