ভারত

মংপং

প্রকাশ : 15 সেপ্টেম্বর 2011, বৃহস্পতিবার, সময় : 10:31, পঠিত 3579 বার

অর্ণব সান্যাল
প্রকৃতি নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের লেখকদের লেখায় প্রায় অবধারিতভাবেই আসে ডুয়ার্সের নাম। বিস্তীর্ণ চা বাগান, পাহাড়, বন, নদী আর আদিবাসীদের জীবন বৈচিত্র্যের আধার এই ডুয়ার্স। শহুরে কোলাহল থেকে দূরে নির্জন প্রকৃতির মাঝে নিজেকে ডুবিয়ে দেওয়ার এই ডুয়ার্সে প্রবেশের মুখেই প্রমত্তা তিস্তা নদীর কোলে অনিন্দ্য সুন্দর মংপং। উজানে সিকিম থেকে শুরু হয়ে প্রায় ২০০ কিলোমিটার পথ দুই পাশে পাথুরে পাহাড়ের শৃঙ্খলাবদ্ধ থাকার পর এখানে এসে হঠাত্ করেই মুক্ত হয়ে গেছে তিস্তা। অনেক প্রশস্ত আর স্রোতস্বিনী হয়ে নেমে গেছে আরও বহুদূর, প্রবেশ করেছে বাংলাদেশে।
আকাশছোঁয়া উঁচু উুঁচু শালগাছের বিশাল বন। একপাশে তিস্তা, অন্যপাশে মহানন্দা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। বনের ভেতর মঝেমধ্যে দুয়েকটি দোকান, ফরেস্ট কটেজ আর ঘরবাড়ি। এ নিয়েই ছোট্ট জায়গা মংপং। কিন্তু সৌন্দর্যের কোনো কমতি নেই। এদিক থেকে প্রকৃতি দুহাত ভরে দিয়েছে মংপংকে। সকালে ঘুম থেকে উঠেই জানালায় দূর দিগন্তের দিকে তাকালে চোখে পড়বে পূর্ব হিমালয়ের পাহাড় সারি। তিস্তার পাড়ে বসে শোনা যাবে নদীর কলকল গান। জানা-অজানা পাখির ডাক আর কিচিরমিচিরে উতলা করে দেবে মন। আর সন্ধ্যায়? চাঁদের রুপালি আলো তিস্তার পানিতে তৈরি করে চিকমিক ঢেউ, শুরু হয় সাদাকালোর অপরূপ খেলা। রাত যত গভীর হয় ততই মানুষের তৈরি শব্দ মিলিয়ে যায়, নির্জন শালবনে শুরু হয় ঝিঁঝি পোকার সঙ্গে মিতালি। বনজুড়ে লাখো জোনাকি পোকা শুরু করে আলোকনৃত্য। সব মিলিয়ে চারপাশে তৈরি হয় এক স্বপ্নিল জগত্!
মংপং থেকে পা বাড়ালেই মহানন্দা বন্যপ্রাণী অভয়ারণ্য। সেখানে দেখা মিলবে বুনো হাতি, বাইসন, হরিণসহ নানারকম প্রাণী। ভাগ্য ভালো হলে গণ্ডার-বাঘেরও দেখা মিলতে পারে।
শুধু মংপংয়ে রাত কাটানোই সারা জীবন মনে রাখার মতো সুখস্মৃতির অভিজ্ঞতা। তবে চাইলে ডুয়ার্সে প্রবেশ করে দেখে আসতে পারেন চালশা, মুরতি, বিন্দু, ঝালোং, হলংয়ের মতো জায়গা। কিংবা সহজেই চলে যেতে পারেন কালিম্পং, লাভা,  লোলেগাঁওসহ আশপাশের আরও সব দর্শনীয় জায়গায়।
কীভাবে যাবেন : বাংলাদেশ থেকে মংপং যাওয়া বেশ সোজা। ঢাকা থেকে বাসে চেপে লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্থলবন্দর পার হয়ে চলে যান পশ্চিমবঙ্গের শিলিগুড়ি। সেখান থেকে ডুয়ার্সগামী গাড়িতে মাত্র আধ ঘণ্টার পথ মংপং। শ্যামলী পরিবহন ঢাকা থেকে শিলিগুড়ি পর্যন্ত সরাসরি বাস সার্ভিস পরিচালনা করে। অবশ্য সীমান্তে তাদের বাস বদল করতে হয়।
মংপংয়ে রাত না কাটানো মানে নিজেকেই ফাঁকি দেওয়া। সেখানে থাকার জন্য আছে বনের ভেতর তিস্তার পাড়ে পশ্চিমবঙ্গ বন উন্নয়ন সংস্থার কটেজ। ভাড়া পড়বে এক হাজার থেকে এক হাজার  দুইশ রুপি। তবে আগেই বুকিং দিয়ে যেতে হবে। এ জন্য ঢাকা থেকে সরাসরি ফোন করতে পারেন-০০৯১-০৩৩-২২৩৭০০৬০/৬১, ০০৯১-০৩৫৫২-২৪৫৬৪৫, ০০৯১৯৪৩৪৮০৯০৭৪ নম্বরে। আরও জানতে ভিজিট করতে পারেন পশ্চিমবঙ্গ বন উন্নয়ন সংস্থার ওয়েবসাইট www.wbfdc.com-এ।


সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology