ভারত

দার্জিলিং

প্রকাশ : 15 সেপ্টেম্বর 2011, বৃহস্পতিবার, সময় : 10:33, পঠিত 8265 বার

মনির হোসেন
ব্রিটিশ-ভারতের রাজধানী যখন কলকাতায় তখন সাহেবরা গরমকালটা কাটিয়ে দিতে খুঁজে বের করেছিলেন হিমালয়ের কোলে পাহাড়-কন্যা দার্জিলিং। এরপর থেকে পুরনো দিনের গল্প-উপন্যাস আর সিনেমায় জমিদার আর ধনী বাঙালি বাবুদের হাওয়া বদলের প্রধান গন্তব্য এই দার্জিলিং। তাই ছোটবেলা থেকে প্রায় সব বাঙালির মনেই দার্জিলিং নিয়ে তৈরি হয় এক তীব্র আকর্মনির হোসেন:
ব্রিটিশ-ভারতের রাজধানী যখন কলকাতায় তখন সাহেবরা গরমকালটা কাটিয়ে দিতে খুঁজে বের করেছিলেন হিমালয়ের কোলে পাহাড়-কন্যা দার্জিলিং। এরপর থেকে পুরনো দিনের গল্প-উপন্যাস আর সিনেমায় জমিদার আর ধনী বাঙালি বাবুদের হাওয়া বদলের প্রধান গন্তব্য এই দার্জিলিং। তাই ছোটবেলা থেকে প্রায় সব বাঙালির মনেই দার্জিলিং নিয়ে তৈরি হয় এক তীব্র আকর্ষণ।
বাঙালির আকর্ষণ পর্বটা মিটিয়ে ফেলতেই ঠিক করলাম দার্জিলিং যাব। কারণ আছে আরও একটা-ভারতের সেরা শৈলশহরগুলোর একটি দার্জিলিং বেড়াতে খুব বেশি খরচ হয় না, সময়ও লাগে কম।
তো শ্যামলী পরিবহনের ঢাকা-শিলিগুড়ি টিকেট কেটে জানুয়ারির এক শীতের রাতে বাসে উঠে পড়লাম। সকালে বুড়িমারি স্থলবন্দরে নামিয়ে দিল বাস। ওপারে ভারতের চেংড়াবান্ধা। ইমিগ্রেশনের আনুষ্ঠানিকতা সেরে শ্যামলীর ব্যবস্থাপনাতেই আরেক বাস ছাড়ল, গন্তব্য শিলিগুড়ি। দুপুর একটার দিকে পৌঁছে গেলাম গন্তব্যে। রেস্তোরাঁয় খাওয়া-দাওয়ার পর উঠে পড়ি যাত্রীবাহী এক টাটা সুমো জিপে। শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং যাওয়ার পথ দু-তিনটি, তবে সরাসরি দার্জিলিং গেলে জিপগুলো তেনজিং নোরগে সড়ক দিয়েই যায়।
দার্জিলিংয়ের পথে রওনা দিতে দিতে প্রায় আড়াইটা বেজে গেল। কিছুদূর সমতল পথ পার হয়েই শুরু হল পাহাড়ি পথ। এ এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা! পাহাড়ের খাঁজ কেটে তৈরি রাস্তা, মনে হয় কোনোমতে দুটি গাড়ি চলে। এক পাশে বিশাল উঁচু পাহাড়, অন্য পাশে কয়েক হাজার ফুট খাদ। মনে হয় কয়েক গজ পর পরই বিপজ্জনক বাঁক। ভয়ে আমার আত্মারাম খাঁচাছাড়া, তবে নিয়মিত যাত্রীরা সব নির্বিকার। পথে দু-তিনবার পাহাড়ের একটু চওড়া ঢালে গাড়ি থামল, নেমে চারদিক তাকিয়ে প্রকৃতির সৌন্দর্য দেখে ভরে গেল প্রাণ।
মাঝখানে আরেক দর্শনীয় শহর কার্সিয়ং পেরিয়ে ঠিক সন্ধ্যার সময় এসে নামলাম দার্জিলিং বাসস্ট্যান্ডে, উঠলাম কাছেরই এক হোটেলে। আমি হাতে সময় কম নিয়ে এসেছি, তাই হোটেল ম্যানেজারকে বলে পরদিনের জন্য ভ্রমণ প্যাকেজ ঠিক করে ফেললাম। সেভেন পয়েন্ট প্যাকেজ-অর্থাত্ খুব ভোরে টাটা সুমো জিপ এসে নিয়ে যাবে টাইগার হিল, রকস গার্ডেন, গঙ্গামায়া পার্ক, জাপানি মন্দির, বাতাসি লুপ, হ্যাপি ভ্যালি টি গার্ডেন, আর অন্যটার নাম এখন আর মনে করতে পারছি না।
খুব ভোরে প্রায় সাড়ে ৮ হাজার ফুট উঁচুতে টাইগার হিল থেকে কাঞ্চনজঙ্ঘা পাহাড় চূড়ায় সূর্যোদয়ের সে এক অসাধারণ দৃশ্য। টাইগার হিল থেকে একে একে অন্যসব পয়েন্ট বেড়ানো শেষে দুুপুরের খানিক পর হোটেলে ফিরে এলাম। বিকেলটা হেঁটে বেড়ালাম মলে, শপিং সেরে নিলাম।
পরদিন সকালে হেঁটেই চলে গেলাম হিমালয়ান মাউন্টেনিয়ারিং ইনস্টিটিউট আর পদ্মজা নাইডু চিড়িয়াখানা দেখতে। পূর্বপরিকল্পনা মাফিক দুপুরের খাবার খেয়ে আবার শিলিগুড়ি রওনা দেব। ইচ্ছে ছিল এদিন সকালে টয় ট্রেনে চড়ে শিলিগুড়ি ফেরার, কিন্তু কোনো এক কারণে তখন টয় ট্রেন বন্ধ থাকায় তা আর হয়ে ওঠেনি।
সন্ধ্যা নাগাদ শিলিগুড়ি পৌঁছে হোটেলে উঠে ব্যাগ রেখেই বেরিয়ে পড়লাম শহর দেখতে। বড়, তবে সাধারণ এক শহর। পরদিন সকালেও কিছুক্ষণ ঘুরে আবার বাসে চেপে চেংড়াবান্ধা-বুড়িমারি হয়ে ফিরে এলাম ঢাকা।

মনে রাখা ভালো
ভারতীয় ভিসার আবেদনপত্র পূরণের সময় স্থলবন্দরের নাম উল্লেখ করে দেবেন। শিলিগুড়ি থেকে টাটা সুমো জিপে দার্জিলিংয়ের ভাড়া নেবে ১০০ রুপির মতো। দার্জিলিংয়ে হোটেল ঠিক করে দেওয়ার জন্য জিপ স্ট্যান্ডে দালাল গিজগিজ করবে, তাদের এড়িয়ে নিজে নিজে হোটেল ঠিক করুন। নয়তো রুম ভাড়ায় একশ থেকে দেড়শ রুপি গচ্চা দিতে হবে। এক হাজার থেকে দেড় হাজার রুপি রেঞ্জে মোটামুটি ভালো হোটেল পাবেন, তবে হোটেল ঠিক করার আগে গরম পানি আর রুম হিটারের ব্যবস্থাটি জেনে নিতে ভুল করবেন না যেন!


সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology