ভারত

কলকাতার ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামে

প্রকাশ : 15 আগস্ট 2011, সোমবার, সময় : 10:35, পঠিত 3425 বার

শামীম রহমান রিজভী
কোনো বড় শহরে গেলে একটা জাদুঘরের খোঁজ করতে পারেন। জাদুঘর আপনাকে সেই দেশ বা শহরের অতীতে নিয়ে যাবে। পৃথিবীর প্রায় সব দেশেই এমন অসংখ্য জাদুঘর রয়েছে; যা শুধু দেশীয়ভাবেই নয়, বিশ্ববিখ্যাত। এটি হতে পারে মিউজিয়ামের আকারের দিক থেকে কিংবা তার বৈচিত্র্যময় সংগ্রহের জন্য। যেমন লন্ডনের ব্রিটিশ মিউজিয়াম, দিল্লি ন্যাশনাল মিউজিয়াম, ব্রিটিশ মেট্রোপলিটন মিউজিয়াম, রোমের ভ্যাটিক্যান মিউজিয়াম, প্যারিসের লুভর মিউজিয়াম বিশ্ববিখ্যাত।
আমাদের উপমহাদেশেও বিশ্বমানের জাদুঘরের উদাহরণ হিসেবে কলকাতার ইন্ডিয়ান মিউজিয়ামের কথা বলা যেতে পারে। প্রথমদিকে এশিয়াটিক মিউজিয়াম হিসেবে পরিচিত উপমহাদেশের বিখ্যাত এই জাদুঘরটি এশিয়াটিক সোসাইটি ১৮১৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি প্রতিষ্ঠা করে। পরবর্তীকালে এর নাম রাখা হয় ইম্পেরিয়াল মিউজিয়াম। যা সে সময় উপমহাদেশের সর্ববৃহত্ জাদুঘরে পরিণত হয়। বহুমুখী এই প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে নানাবিধ সুশৃঙ্খল কার্যক্রম। যার ফলে ভারতের রাষ্ট্রীয় কাঠামোতে একে একটি গুরুত্বপূর্ণ জাতীয় প্রতিষ্ঠান হিসেবে গণ্য করা হয়। স্থপতি ডব্লিউএল গ্র্যানভিল ১৮৬৭ সালে এখানকার ভিক্টোরিয়ান সৌধটির ভিত্তি স্থাপন করেন, যার নির্মাণ কাজ সম্পন্ন হয় ১৮৭৫ সালে। চৌরঙ্গী রোডের ওপর সবুজ ময়দানের পাশে বর্তমান প্রাসাদে স্থাপিত জাদুঘরটি ১৮৭৮ সালে জনসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। বর্তমানে জাদুঘরটির প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের গ্যালারিগুলোর সংগ্রহে রয়েছে প্রাক ও আদি ঐতিহাসিক, মৌর্য, শুঙ্গ, সাতবাহন, গান্ধার, কুষাণ, গুপ্ত, পাল-সেন, চন্ডেল, হোয়সলা ও চোল যুগীয় শিল্পের পাশাপাশি অন্যান্য বহুযুগের প্রাচীন নিদর্শন। পৃথিবীর সবচেয়ে প্রাচীন সভ্যতাগুলো সম্পর্কে বলতে গেলে মিসরীয় সভ্যতার কথা এমনিতেই চলে আসবে। তবে মমির রহস্যঘেরা ইতিহাস ছাড়া মিসরীয় সভ্যতা যেন অনেকটাই উজ্জ্বলতা হারায়। তাই মিসরীয় সভ্যতাকে তুলে ধরতে জাদুঘরটিতে একটি বিশেষ গ্যালারি রয়েছে। যেখানে প্রদর্শন করা হয় প্রধান আকর্ষণ মমিসহ মিসরীয় সভ্যতার বেশ কিছু প্রাচীন নিদর্শন। এছাড়া সংস্কৃত, প্রাকৃত, ফার্সি, উর্দু ও আরবি ভাষার শিলালিপি, পাণ্ডুলিপি ও সিলমোহর উল্লেখযোগ্য। ভারতীয় প্রাচীন, মধ্যযুগীয় ও আধুনিককালের মুদ্রাগুলো কয়েকটি গ্যালারিতে প্রদর্শিত হয়। শিল্পকলার শাখাটিতে ভারতীয় চিত্রকলা, বস্ত্রশিল্প ও অলঙ্করণ সামগ্রীর পাশাপাশি নেপাল, তিব্বত, চীন, জাপান, থাইল্যান্ড, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, শ্রীলঙ্কা ও ইরানের শিল্প সামগ্রীও প্রদর্শিত রয়েছে। জাদুঘরটির নৃবিজ্ঞান শাখায় প্রত্ন-নৃতত্ত্ব ও সাংস্কৃতিক নৃতত্ত্বের বিভাগ এবং এর সঙ্গে রয়েছে বিভিন্ন বাদ্যযন্ত্রের সজ্জিত একটি গ্যালারি। জুওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া, জিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া, বোটানিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া কর্তৃক পরিচালিত বিজ্ঞান শাখার অনেক গ্যালারি রয়েছে। প্রাণিবিদ্যার গ্যালারিগুলোতে কীটপতঙ্গ, মাছ, উভচর প্রাণী, সরীসৃপ, পাখি এবং স্তন্যপায়ী প্রাণী প্রদর্শিত হচ্ছে। অর্থকরী উদ্ভিদ শাখায় ভেষজ গাছগাছড়া, উদ্ভিজ্জ তন্তু, রঞ্জক উদ্ভিদ, আঠা ও রেসিন, দারু, তেল ও তেল বীজের সংগ্রহ রয়েছে। সিওয়ালিক জীবাশ্ম, ভূপৃষ্ঠ ও উল্কাপিণ্ড, প্রস্তর ও খনিজ, অমেরুদণ্ডী ও মেরুদণ্ডী প্রাণীর জীবাশ্ম-এই পাঁচ ভাগে বিভক্ত ভূতত্ত্ব বিভাগের সংগ্রহ। আটটি সমন্বয়কারী কার্যকরী কমিটি-শিক্ষা, উপস্থাপন, প্রকাশনা, সংরক্ষণ, ফটোগ্রাফি, মেডিক্যাল, মডেলিং ও গ্রন্থাগার নিয়ে জাদুঘরটি পরিচালিত। এসব কমিটি জাদুঘর ও পরিদর্শকদের ক্রমবর্ধমান চাহিদার ভিত্তিতে ভিডিও ও মুদ্রিত তথ্য প্রকাশ, প্রতিমূর্তি তৈরি, জাদুঘরের জিনিসপত্রের পরিচর্যা, গণসংযোগ বৃদ্ধি এবং শিক্ষা কার্যক্রমের দিকে সামগ্রিকভাবে লক্ষ রাখে। এছাড়া জাদুঘরে অভ্যন্তরীণ বক্তৃতা, সেমিনার, প্রদর্শনী এবং অন্যান্য সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি জাদুঘর কর্তৃপক্ষ আন্তর্জাতিক, আন্তঃদেশীয়, ভ্রাম্যমাণ প্রদর্শনীর মতো বহির্মুখী কার্যক্রম আয়োজন করে থাকে। কালের সাক্ষী ঐতিহাসিক এই জাদুঘরটির বয়স প্রায় দুশ বছরের কাছাকাছি। শুরুর দিকে ছোট পরিসরে প্রতিষ্ঠিত হলেও ক্রমে এর পরিসর এবং সুনাম দুটিই বাড়তে থাকে। বর্তমানে উপমহাদেশে তো বটেই, সারা বিশ্বেও জাদুঘরটি প্রথম সারির মধ্যে পড়ে। আর শুধু নিজস্বই নয়, প্রায় দুশ বছরের ইতিহাস নিয়ে এখনও দর্শনার্থীদের প্রদর্শন করে পৃথিবীর ইতিহাসের অনেক কিছুই।


সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology