খুলনা

সুন্দরবনের বাঁকে বাঁকে

প্রকাশ : 20 অক্টোবর 2010, বুধবার, সময় : 11:33, পঠিত 3360 বার

পিন্টু রহমান
ছাদে এসে দাঁড়াতেই শরতের বৃষ্টিমাখা বাতাস শরীরের উপর লুটোপুটি খায়। দুহাত প্রসারিত করে তখন আকাশের পানে তাকায়। আঃ কি মজা! রূপসা, শিবসার বুক চিরে আমাদের লঞ্চটি র্ঘ র্ঘ আওয়াজ তুলে এগিয়ে চলেছে। দুপাশজুড়ে অবারিত সুন্দরবন।
অবশ্য তখন পর্যন্ত গন্তব্য অনিশ্চিত। কারণ আমার ভ্রমণটাই এমন। ঈদের এক চিলতে অবসরে নিজেকে সময়ের হাতে সঁপে দেই। নিজের দেশটাকে একটু ঘুরে-ফিরে দেখতে হবে এই যা। ট্রেন থেকে খুলনা রেল স্টেশনে নামার পর মনে হল, দূরে কোথাও হারিয়ে যায়।
লম্বা ভ্রমণ শেষে যেখানটাই নামলাম, সেটা কাশিয়াবাদ ফরেস্ট রেঞ্জ। সুন্দরবনের মাঝখানে জেগে ওটা বিচ্ছিন্ন একটি দ্বীপ-কয়রা। খুলনা জেলার প্রত্যন্ত উপজেলা, যার অধিকাংশ জনগণই জেলে, মাওয়াল, বাওয়াল কিংবা কাঠুরিয়া। সুন্দরবনই তাদের জীবন ও জীবিকার একমাত্র উৎস।
কি চমৎকার সব দৃশ্য! ভোরের আলো ফোটার আগেই নারী-পুরুষ নির্বিশেষে জলে নেমে পড়ে। বর্গাকৃতি এক ধরনের বিশেষ জাল দিয়ে গলদার রেণু সংগ্রহ করে। সুন্দরবনের এই অংশটি নাকি খুবই ভয়ংকর। প্রায়ই নদী সাঁতরিয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করে রয়েল বেঙ্গল টাইগার। কিংবা জঙ্গলের ধার ঘেঁষে আয়েশী ভঙ্গিতে বিচরণ করে।
শরীরের মধ্যে ভয়ার্ত উত্তেজনা। ভাটির সময় চারদিক থেকে জল গুটিয়ে আসে। নদীর রূপ তখন অন্যরকম। বাঘ মামা হতাশ করলেও পাজি বানরগুলো আমাকে নিরাশ করেনি। দলবেঁধে পিচ্ছিল কাদার ওপর নেমে আসে। মানুষের হর্ষধ্বনী শুনে একে অন্যের গার উপর গড়াগড়ি খায়। এরই এক ফাঁকে দেখা মিলল চিত্রল হরিণের। গাছপালার ফাঁক গলে কৌতূহলী দৃষ্টি।
অরণ্যের অভ্যন্তরে অন্য আরেক জগত। অচেনা। না গেলে কিছুতেই অনুভব করা যাবে না। কীটপতঙ্গের নিরবচ্ছিন্ন চিৎকারে  থমথমে পরিবেশ। শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থা। গাছের ডালে ডালে মৌচাক। বাঁধভাঙা গোলপাতা। জালের মতো ছড়ানো-ছিঁটানো অসংখ্য খাল। কোথাও কোথাও দুপাশের গাছপালা এমনভাবে ঝুঁকে পড়েছে যে, সূর্যের আলো পর্যন্ত ঢাকা পড়েছে। তার নিচ দিয়ে যাওয়ার সময় ভয়ে গা ছমছম করে।


সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology