দিনাজপুর

দিনাজপুরের ভাটিনা গ্রাম পশু-পাখীদের এক অভয়ারন্য

প্রকাশ : 17 জুলাই 2011, রবিবার, সময় : 13:10, পঠিত 4353 বার

রিয়াজুল ইসলাম, দিনাজপুর থেকে
ছোট্র একটি গ্রাম। গ্রামের মানুষেরাও পশু-পাখীদের প্রেমিক। এখানে কেউ কোন পাখি শিকার করেও না এবং করতে কাওকে দেয়না। গাছ-গাছরা বেশী। এরকম গ্রামবাংলায় কেউ এসে বেরিয়ে গেলে কখনও ভুলতে পারবেনা।
ভাটিনা গ্রামের প্রবেশ পথের পার্শ্বে একটি পুকুরের পাড়ে বাঁশঝাড়ের মাথায় কয়েকশ বক, পান-কৌড়ি, শালিকের কলকাকলী। এ সময় পাখীর মধ্যে কোনটি উড়ছে, কোনটি ডাকছে। বিকেলে পার্শ্ববর্তী পুকুরগুলোতেও বেশ কিছু পাখিকে মাছ শিকার করতে ব্যস্ত থাকতে দেখা যাবে। এ সমস্ত পাখী উড়ে অন্য কোথাও যায় না। উড়ে ঘুরে ফিরেও আবার ঐ বাঁশঝাড় গুলোতে ফিরে আসছে। বর্তমান সময়ে শহরতো দুরের কথা অধিকাংশ গ্রামে গিয়েও এ ধরণের দৃশ্য দেখতে পাওয়া সম্ভব নয়। অথচ দিনাজপুরের সদরের ভাটিনা গ্রামে এর ব্যতিক্রম।
সেখানে কেউ কোন বক বা পানকৌড়িকে ধাওয়া করে না বা ধাওয়া করতে পারে না। ধাওয়া করলে বাধা দেয় স্থানীয় সাধারণ মানুষই। এভাবেই পাখীর অনুকূল পরিবেশ তৈরী হওয়ায় উত্তর শেখপুরা ইউনিয়ন সব সময় কয়েক হাজার পাখীর আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে এখানে প্রায় ২৫/৩০ হাজার বর্ষালী পাখী আস্তানা গড়ে। তখন মুখরিত হতে থাকে পাখীর কলকাকলীতে। অনবরত শোনা যায় ডাহুকের ডাক। আর এই অবস্থা কিভাবে সম্ভব হলো তা খুজে দেখতে গেলে সবার আগে বেরিয়ে আসবে আবুল হাসেমের নামটি।
ইচ্ছা থাকলে যে কোন মানুষই যে কোন অবস্থান থেকে সমাজে ছোট পরিসর থেকে বড় পরিসরে উপেতিদের, সমাজের জন্য অবদান রাখতে পারে। তার একটি বাস্তব প্রমান দিনাজপুরের শেখপুরা ইউনিয়নের উত্তর ভাটিনা গ্রামের বাসিন্দা আবুল হাসেম। আবুল হাসেম একজন সংগঠক, সমাজসেবী, পরিবেশবাদী। এর উপরে তার বড় পরিচয় তিনি একজন মুক্তিযোদ্ধা।
তিনি পরিবেশ উন্নয়নে পাখীদের রা, শিয়াল, বিড়াল, গুইসাপ, বেজী প্রভৃতি প্রাণীদের সংরণে এলাকার লোকজনকে অনুপ্রানিত করার চেষ্টা করেন। তাদের বোঝান। যে কারণে এখন উত্তর শেখপুরা এ সমস্ত প্রাণী ও বর্ষালী পাখীদের একটি নিরাপদ আবাসস্থলে পরিণত হয়েছে। এখানে কেউ পাখী শিকার করে না। যারা বাইরে থেকে পাখী শিকার করতে আসতে চায় স্থানীয় জনগণ তা বাধা দেয় এবং তাদের বোঝায় যে, পরিবেশে এবং আমাদের স্বার্থেই পাখীদের রা করা প্রয়োজন।
মুক্তিযোদ্ধা আবুল হাসেম এর পৃষ্টপোষকতায় উত্তর ভাটিনায় মহারাজগঞ্জ হাইস্কুল, উত্তর ভাটিনা আলিম মাদ্রাসা, আলোর ভুবন নামে যুব সংগঠন (দরিদ্র সেবাদানকারী সংগঠন) এবং দিনাজপুর লোকসঙ্গীত দল গড়ে উঠে।
দিনাজপুর জেলার গ্রাম অঞ্চলের লোকগীতির গায়কদের গ্রামাঞ্চল থেকে সংগ্রহ করে তৈরী এই সংগঠনটি। তাদের পরিবেশিত লোকগীতি, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে এই সঙ্গীত দলের কর্মকান্বড প্রকাশ করছে। প্রতি বছর ১লা বৈশাখে দিনাজপুরের বৈশাখী মেলায় এই সংগঠনের গায়ক, বয়াতি, শিল্পীরা সঙ্গীত পরিবেশন করে।
তার উদ্যোগে উত্তর শেখপুরায় প্রায় ৫হাজার গাছ রোপন করা হয়েছে। এর মধ্যে বটগাছের সংখ্যা ১শটি। উত্তর শেখপুরার উত্তর ভাটিনায় প্রতি বছর বিজয় দিবসে একটি মেলার আয়োজন করেন তিনি। ৩/৪ দিন এই মেলা চলে।
মুক্তিযোদ্ধা হাসেম জানান, ১৯৭১ সালে ৯ই ডিসেম্বরে দিনাজপুর জেলার চিরিরবন্দরে পাকিস্তানী বাহিনীর সাথে সংঘর্ষ চলাকালে তাদের সঙ্গী একজন যুদ্ধরত মুক্তিযোদ্ধা প্রতিপরে পাল্টা আক্রমণে মারা যান। তখন তিনি এই মর্মে মনস্থির করেন যে, যদি দেশ স্বাধীন হয় তবে তিনি দেশের জন্য সেবামুলক কাজ করবেন। তারই ফলশ্রতিতে বিগত এক দশক যাবৎ তিনি তার এলাকায় পরিবেশ উন্নয়নের জন্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
 তিনি বলেন, স্ব-উদ্যোগে একশতটি বটগাছ লাগিয়েছেন। বটগাছ লাগানোর মূল উদ্দেশ্য এরকম যে, বটগাছ বড় হলে তার ফল পাখীরা খাবে। যা এলাকার পরিবেশ উন্নয়নে আরো ভূমিকা রাখবে। তিনি তার জীবনের বাকী সময়গুলো এলাকার পরিবেশ রা ও উন্নয়নের জন্যই পুরোপুরি ব্যয় করবেন।

মোঃ রিয়াজুল ইসলাম
দিনাজপুর, তাং-১৫-৭-১১ ইং।
মোবাইল--০১৭১৬৬৫১৩৭৯


সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology