কক্সবাজার

প্রবাল দ্বীপের পথে...

প্রকাশ : 24 আগস্ট 2011, বুধবার, সময় : 20:06, পঠিত 4238 বার

অনল চৌধুরী
ভ্রমণের ক্ষেত্রে বেশিরভাগ মানুষের পছন্দ সমুদ্র। এরপরের স্থান পাহাড় আর বনের। তবে সমুদ্রের মাঝে জেগে থাকা দ্বীপের সৌন্দর্যও অন্যান্য যে কোনও স্থানের চেয়ে কম নয়। আর আমাদের এই বাংলাদেশেই আছে বেশ কয়েকটি দ্বীপ, যেগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর এবং পরিচিত হচ্ছে সেন্টমার্টিন দ্বীপ।
দ্বীপটির প্রকৃত নাম হচ্ছে নারিকেল জিঞ্জিরা দ্বীপ। স্থানীয় অধিবাসীদের কাছেও দ্বীপটি এই নামেই পরিচিত। কিন্তু ১৮৮২ সালে মানচিত্র তৈরির সময় ইংরেজরা সেন্টমার্টিন নামটি ব্যবহার করে। ঔপনিবেশিক শাসনের চিহ্ন ধরে রাখার মানসিকতা থেকেই হয়তো স্বাধীন বাংলাদেশের মানচিত্র থেকে বইপত্র সর্বত্র সেন্টমার্টিন নামটাই ব্যবহার করা হচ্ছে।
টেকনাফ থেকে মাত্র ২৫ কিলোমিটার দূরে বঙ্গোপসাগরের বুকে এই দ্বীপটির অবস্থান। দেশী নৌকা থেকে শুরু করে আধুনিক জাহাজ সব কিছুই চলাচল করে দ্বীপ অভিমুখে। জলযানে করে টেকনাফ থেকে দ্বীপের পথে যাত্রার সময় চারপাশের অপরূপ দৃশ্য যে কাউকে মুগ্ধ করবে। গভীর সমুদ্রের নীল জলরাশি, আকাশে উড়তে থাকা সাদা গাংচিল আর দূরে মিয়ানমারের পাহাড় শ্রেণী সবকিছুই মনোমুগ্ধকর। দুঘণ্টার যাত্রা শেষে পৌঁছানো যাবে দ্বীপের বন্দরে। জিঞ্জিরা দ্বীপে এখন পর্যন্ত যন্ত্রচালিত যানবাহনের ব্যবহার শুরু হয়নি। পায়ে হেঁটেই পুরো দ্বীপটি ভ্রমণ করতে হয়। দ্বীপে নেই কোনও বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র। হোটেলগুলোতে রাতে জেনারেটরের সাহায্যে আলো জ্বালানো হয়।
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পানির রঙ নদীর পানির মতোই ঘোলা। কিন্তু জিঞ্জিরা দ্বীপে এসে দেখা মেলে গাঢ় নীল রঙের পানি। এর কারণ হচ্ছে সমুদ্রের পানির নিচে প্রবাল পাথরের অবস্থান। এ দ্বীপের সৈকতকে বাংলাদেশের সবচেয়ে সুন্দর সমুদ্র সৈকত বলে অভিহিত করা যায়।



জিঞ্জিরা দ্বীপের জনসংখ্যা প্রায় ১০ হাজার। ছাত্রছাত্রীদের অধিকাংশই পড়াশোনা করে স্থানীয় মাদ্রাসায়। অনেক শিশু ছোটকাল থেকেই বেছে নেয় ভ্রমণ সহায়তাকারীর (গাইড) পেশা। অনেকে আবার বিক্রি করে শামুক-ঝিনুক। অধিবাসীদের অধিকাংশই পেশায় জেলে। মাঝে মাঝে তাদের জালে মাছ ছাড়াও উঠে আসে হাতুড়ি মাথার হাঙ্গর। এ থেকে অনুমান করা যায়, জিঞ্জিরা দ্বীপের গভীর সমুদ্র হাঙ্গরের আবাসস্থল। তবে আতংকের কিছু নেই। হাঙ্গর কখনই সৈকতের আশপাশে এসে পড়ে না।
জিঞ্জিরা দ্বীপের আরেক আকর্ষণ ছেঁড়াদ্বীপ। মূল দ্বীপেরই অংশ এই ছেঁড়াদ্বীপ জোয়ারের সময় মূল দ্বীপ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। তখন সেখানে যেতে হয় যন্ত্রচালিত নৌকা অথবা স্পিড বোটে। ছেঁড়াদ্বীপ প্রবাল পাথরের পূর্ণ। সমুদ্রের পানিতে প্রবাল পাথরের ফাঁকে ফাঁকে আছে বিভিন্ন রঙ ও বর্ণের ছোট বড় অসংখ্য শামুক-ঝিনুক ও প্রবাল পাথর। কেওড়া বনবেষ্টিত ছেঁড়াদ্বীপে কোনও মানুষ বসবাস করে না।
বাংলাদেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন ভ্রমণ আপনার অভিজ্ঞতায় হয়ে থাকতে পারে চিরস্মরণীয়। তাই বর্ষাকাল শুরু হওয়ার আগেই বেরিয়ে পড়তে পারেন সেন্টমার্টিন ভ্রমণে। চলে যেতে পারেন নিজস্ব উদ্যোগে অথবা সাহায্য নিতে পারেন কোনও ভ্রমণ সহায়তাকারী প্রতিষ্ঠানের।




সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology