রাঙ্গামাটি

নয়নাভিরাম হ্রদ আর প্রকৃতির রূপসীকন্যা রাঙ্গামাটি

প্রকাশ : 27 জুন 2012, বুধবার, সময় : 20:15, পঠিত 3825 বার

শ্যামল দেব বর্মা
ঢাকা সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল থেকে রাতের শ্যামলী পরিবহন বাসে চড়ে রাঙ্গামাটির অভিমুখে যাত্রা করলাম। বাসের ভেতরে চলন্ত অবস্থায় জানালার পাশ দিয়ে শীতের ঠাণ্ডা বাতাস প্রবেশ করছে। ঠাণ্ডা থেকে রক্ষা পেতে শরীরে চাদর মুড়িয়ে নিলাম। ঢাকা থেকে রাঙ্গামাটি ৩৩৮ কি.মি. দূরে। মাঝে মধ্যে দুই চোখে ঘুম চলে আসে। তখন মনকে বুঝালাম যদি ঘুমিয়ে পড়ি তাহলে রাতের দৃশ্য হয়তো আর দেখতে পারব না। বাসের হর্ন মনে হচ্ছিল ঘুমের বিপরীতে। বাস কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে কিছুক্ষণ বিরতি দেয়ার পর আবার ছাড়ে রাঙ্গামাটির উদ্দেশে। চট্টগ্রামের পরে পাহাড়ের কাছে বাস থেকে রাস্তার ডানে-বামে রাঙ্গামাটি জেলার প্রবেশমুখে গেট দেখতে পেলাম। গেট দেখে আরও আগ্রহ বাড়ল রাঙ্গামাটি উপভোগ করার। গেট থেকে শুরু হল আঁকা-বাঁকা পাহাড়ি রাস্তা। রাতে জ্যোৎার আলোয় সারা পাহাড়ের অরণ্য আলোকিত হয়ে ওঠে। ইচ্ছে হল গাড়ি থেকে নেমে বন-পাহাড়কে মনভরে দেখার। রাতের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য সত্যিই অভাবনীয়। যেতে যেতে পাহাড়ের প্রকৃতির গর্ভে হ্রদের জল দেখে লোভ আর সামলাতে পারিনি। আমাদের বাস রিজার্ভ বাজারে গিয়ে থামল, তখন ভোর রাত। রিজার্ভ বাজারে অসংখ্য হোটেল রয়েছে। আমি একটিতে উঠে পড়লাম। ভোরে উঠে হাঁটতে হাঁটতে রিজার্ভ বাজারমুখে শহীদ মিনারের পাশে দাঁড়িয়ে, পূর্ব দিকে তাকিয়ে হ্রদের জল আর বন পাহাড়ের নয়নাভিরাম প্রকৃতির রূপবৈচিত্র্য ও পাহাড়ে সূর্যের আবির্ভাব হওয়ার দৃশ্যটা আমাকে মুগ্ধ করল। শহীদ মিনারের পাশ থেকে সকালে হাঁটতে হাঁটতে ডিসি বাংলো উদ্যানে কিছুক্ষণ বসে হ্রদ ও পাহাড়ের দৃশ্য উপভোগ করি। দৃষ্টিনন্দন পাহাড় অরণ্য আর হ্রদের দৃশ্যগুলো দেখে প্রাণ জুড়িয়ে যায়। ডিসি বাংলো উদ্যানে প্রবেশের বাম পাশে একটি বিশাল আকৃতির চাপালিশ গাছ দেখে আশ্চর্য হলাম। এত বড় চাপালিশ গাছ কয়েকটি বন ঘুরেও চোখে পড়েনি। গাছের গায়ে বয়স ৩০০ বছর লেখা রয়েছে।
ডিসি বাংলো উদ্যান থেকে রিজার্ভ বাজারে ফিরে এসে সকালে নাস্তা করে রাঙ্গামাটির কয়েকজন আদিবাসী বন্ধুদের সঙ্গে পর্যটনে অটোরিকশা নিয়ে গেলাম। রাঙ্গামাটির হ্রদটি দক্ষিণ এশিয়ার বৃহত্তম হ্রদ। এর আয়তন ৭২৫ বর্গকি.মি.। ১৯৬০ সালে কাপ্তাই এ বিদ্যুৎ উৎপন্ন কেন্দ্র হিসেবে এ হ্রদটি নির্মাণ করা হয়েছে।
ঝুলন্ত সেতু বাস্তবে দেখা খুবই ভাগ্যের ব্যাপার। ঝুলন্ত সেতুর পাশে কিছুক্ষণ থেকে আমরা ইঞ্জিন বোট ভাড়া করে জলপথে রওয়ানা হলাম শুভলং জলপ্রপাতের উদ্দেশ্যে। স্বচ্ছ টলটলে পানির দৃশ্য আর রোদের আলোয় পানি ঝিকিমিকি করছে। পাহাড়ি আঁকাবাঁকা মনোরম পানির মধ্য দিয়ে শুভলং জলপ্রপাতে পৌঁছলাম। শীতের শুষ্কতায় জলপ্রপাত শুষ্ক ও রুক্ষ। তবে শুভলং জলপ্রপাতের দৃশ্যগুলো মন ভুলানোর মতো। শুভলং জলপ্রপাত থেকে ফিরে এলাম রাঙ্গামাটি শহরে। সন্ধ্যায় বনরূপা, তবলছড়ি ও রিজার্ভ বাজারে বেড়াতে নামলাম। সেখানে স্থানীয় আদিবাসীদের তাঁতে বোনা কাপড় নিজেদের জন্য কিনে নিলাম। রাঙ্গামটি শহর দেখতে খুবই সুন্দর । শহরের চারপাশে হ্রদের পানি আর পানি। তবে রাঙ্গামাটি শহরে কোন রিকশা নেই, আছে রিকশার বিকল্প সিএনজি। অল্প কিছুক্ষণ রাস্তার পাশে দাঁড়ালে সিএনজি পাবেন। পরের দিন সকালে
নাস্তা ছেড়ে রাঙ্গামাটির রোমাঞ্চকর প্রিয় ও শৌখিন ফটোগ্রাফার রাজীব ত্রিপুরার সঙ্গে কাপ্তাইয়ের পাহাড়ি আঁকাবাঁকা পথে তার মোটরমাইকেলে চড়ে আমি ও রাজিব ত্রিপুরা বেড়াতে নামলাম। রাস্তার চারপাশে হ্রদের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য ও আদিবাসীদের জুম চাষের দৃশ্য উপভোগ করার মতো। কাপ্তাই বাজারের কাছাকাছি গিয়ে আমরা ফিরে এলাম রাঙ্গামাটি শহরে।
হ্রদের জল আর পাহাড় অরণ্যেও অপার সৌন্দর্যের কোল ঘেঁষে রয়েছে প্রকৃতির রূপসী কন্যা রাঙ্গামটির রূপবৈচিত্র্য। নয়নাভিরাম সৌন্দর্য উপভোগ করে রাতের বাসে ফিরে এলাম ঢাকায়। যারা এ অপরূপ সৌন্দর্যের লীলাখেলা দেখতে চান বা উপভোগ করতে চান বা স্মৃতির পাতায় এই অপরূপ দৃশ্য বাঁধিয়ে রাখতে চান তারা দেরি না করে ঘুরে আসুন রাঙ্গামাটি।
কিভাবে যাবেন : ঢাকা সায়েদাবাদ থেকে রাঙ্গামাটি অভিমুখে অনেকগুলো গাড়ী যায়। চট্টগ্রাম বিআরটিসি বাস ও অক্সিজেন মোড় থেকে বাসে রাঙ্গামাটি যেতে পারেন। ঢাকা থেকে রাঙ্গামাটির ভাড়া ৫৫০ টাকা। চট্টগ্রাম থেকে রাঙ্গামাটি বাস ভাড়া ১০০ টাকা। থাকা-খাওয়ার জন্য অসংখ্য হোটেল ও রেস্টুরেন্ট রয়েছে। যে কোন একটিতে থাকতে পারেন খাবারও খেয়ে নিতে পারেন।


সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology