রাঙ্গামাটি

রাঙামাটির পথে পথে

প্রকাশ : 20 অক্টোবর 2010, বুধবার, সময় : 05:24, পঠিত 4305 বার

বেনু ভূষণ দাশ
প্রোগ্রামটি ছিল ডব্লিউএইওর। আমি এক্সিকিউটিভ মনোনীত হলাম। আমার দায়িত্ব দুটি টিমকে সুপারভাইজড করা। বিকাল ৪টা ৫০ মিনিটে বিমানবন্দর স্টেশন থেকে ননস্টপ সুবর্ণ এক্সপ্রেসে চেপে বসলাম। চট্টগ্রামের উদ্দেশে। রাত কাটিয়ে ভোরে বিআরটিসি কাউন্টারে উপস্থিত হলাম। টিকিট নিয়ে বাসে চড়ে বসলাম রাঙামাটির উদ্দেশে। এক ঘণ্টার মধ্যে চোখে পড়ল রাউজানের সুলতানপুর। আমার জন্য সুলতানপুর গ্রামটি অন্যরকম গুরুত্ব বহন করে। থাক সে প্রসঙ্গ। সেটা না হয় অন্য একদিন বলা যাবে। সকাল ৯টায় রাঙামাটির মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিসৌধ সংলগ্ন পুরাতন বাস স্টেশনে পৌঁছলাম। সেখান থেতে টেক্সিতে সোজা মোটেল পর্যটন। ভোরের রাঙামাটির উজ্জ্বল সূর্যালোকে নৈসর্গিক রূপ দেখে আমার ভাষা রহিত হল। মনের অজান্তেই মুখ থেকে বেরিয়ে এলো এক্সিলেন্ট।
রাঙামাটি মোটেল ও ঝুলন্ত সেতু :  রাঙামাটি শহরের শেষপ্রান্তে হ্রদের ওপর গড়ে উঠেছে পর্যটন কেন্দ্র। পর্যটন মোটেল পেরুলেই ঝুলন্ত সেতু। ঝুলন্ত সেতুতে দাঁড়ালেই চোখে পড়ে দৃশ্যমান লেকের অবারিত জলরাশি ও দূরের উঁচু-নিচু পাহাড়ের আকাশছোঁয়া বৃক্ষরাজি। পর্যটন কর্পোরেশন ১৯৭৮ সালে মূল মোটেলটি নির্মাণ করে। ৮৬ সালে মোটেলের আধুনিক অডিটোরিয়াম ও ঝুলন্ত সেতু নির্মাণ করেন। ঝুলন্ত  সেতুটি ৩৩৫ ফুট দীর্ঘ, ৮ ফুট প্রশস্ত এবং উভয় পাশে টানা তার দ্বারা বেষ্টিত। সেতুটির কারণেই  মোটেলের গুরুত্ব ও আকর্ষণ অনেকগুণ বেড়ে গেছে। দিনবদলের সঙ্গে সঙ্গে সেতুটি সিম্বল অব রাঙামাটি হিসেবে রূপ নিয়েছে। এখানে আরও রয়েছে কটেজ, পার্ক, পিকনিট স্পট, স্পিড বোট ও সাম্পান টাইপের নৌযান।
রাজবন বিহার : পর্যটকদের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় তীর্থস্থান রাঙামাটির ঐতিহ্যবাহী রাজবন বিহার। চাকমারা অবশ্য বিহার বা মন্দিরকে কিয়াং বলে থাকে। এটি মূলত আমাদের  দেশের একটি প্রধানতম বৌদ্ধবিহার হিসেবে পরিচিত। রাজা ব্যারিস্টার দেবাশীষ রায়ের রাজবাড়ির পাশেই এর অবস্থান। ১৯৭৬ সালে রাজবন বিহার প্রতিষ্ঠার পর থেকেই সর্বজন শ্রদ্ধেয় শ্রীমৎ সাধনানন্দ মহাস্থাবির (বনভান্তে) অধ্যক্ষরূপে বিরাজিত। ৩৩.৫ একর  বিস্তৃত বিহার এলাকায় ৪টি মন্দির, ভিক্ষুদের ভাবনা কেন্দ্র, বেইনঘর, তাবতিংশ স্বর্গ, বিশ্রামাগার ও হাসপাতাল রয়েছে। প্রতিবছর বিহারে কঠিন চিবরদান অনুষ্ঠানে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম ঘটে যা দেশের আর কোন বৌদ্ধধর্মীয় অনুষ্ঠানে বিরল।
শুভলং জলপ্রপাত : রাঙামাটির শুভলং জলপ্রপাত সৃষ্টিকর্তার অপূর্ব সৃষ্টি। পাহাড়ি ঝরনার শীতল জলধারা শুধু মনুষ্যকুলকে কেন পাখি কুলকেও দুর্বিনীত আকর্ষণে আকর্ষিত করে। শুভলং ঝরনার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য অপূর্ব নৈসর্গিক সৃষ্টি। শুভলং ঝরনা ৩০০ ফুট উঁচু থেকে  বর্ষাকালে জল ধারার অবিরাম পতনে সৃষ্ট ধ্বনিসমেত। শুভলং ঝরনা রাঙামাটির বরকল উপজেলায় অবস্থিত। কালিট্যাং তুগ এই অঞ্চলের সর্বোচ্চ পর্বতশৃঙ্গ। যার উচ্চতা প্রায় ১৮৭০ ফুট। এই শৃঙ্গের পাদমূলে বরকল উপজেলা কমপ্লেক্স অবস্থিত। এই পর্বতশৃঙ্গ হতে রাঙামাটি জেলা সদর এবং ভারতের মিজোরাম রাজ্যটি দৃষ্টিগোচর হয়। শুভলং ঝরনা ভিজিট করতে হলে রাঙামাটি সদরের তবলতৃড়ি বাজার থেকে নৌযানে ২ ঘণ্টায় সরাসরি শুভলং যেতে পারেন।




সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology