রাঙ্গামাটি

রাইক্ষ্যংয়ের উজান বেয়ে পানছড়ি

প্রকাশ : 30 নভেম্বর -0001, বুধবার, সময় : 00:00, পঠিত 3620 বার

কাপ্তাই থকে ফারুয়া
গত মাসের শেষ ছুটিটায় অনেকের মতো আমিও ঢাকা ছেড়েছিলাম ৩ দিনের জন্য, যাত্রা রাঙামাটি। এটাই আমার প্রথম রাঙামাটি যাওয়া। তবে সাধারণত সবাই রাঙামাটির যেদিকটায় বেড়াতে যায় আমরা বিটিইএফ-এর দলটা সেদিকে না গিয়ে একটু অন্যদিকে গেলাম। ঢাকা থেকে বাস ছিল রাত ১২টায়। স্থান আরামবাগ। সকালে সরাসরি পৌঁছলাম রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে। ওখানে নেমে নাস্তা শেষে একটা ইঞ্জিন নৌকা নিলাম। সাধারণত আমাদের অধিকাংশ ট্যুরে দলটা বড় হওয়ায় বেশ কষ্ট করে যেতে হতো। কিন্তু এবার নৌকা বড়, আর আমরা মাত্র ১৩ জন। বেশ আরামেই হাত-পা ছড়িয়ে আমাদের মূল যাত্রা শুরু করলাম। এই ট্যুরে আমার সঙ্গে ছিল আমার নতুন কেনা ক্যাননের ৭০-২০০এল লেন্স। জানি, এই পাহাড়ি ট্যুরে ল্যান্ডস্কেপ তুলবে সবাই। ভালোও লাগবে ল্যান্ডস্কেপ। কিন্তু আমি তুলে নিলাম আমার নতুন টেলি লেন্স, কারণ দুটো এক নতুন লেন্সটার পারফরমেন্স পরীক্ষা করা আর দুই অন্যরকম কিছু ছবি তোলা। আর তাছাড়া পোর্ট্রেট তুলতে আমার সবসময়ই ভালো লাগে। ভালো লাগে, মানুষ আর তাদের অনুভূতিগুলো তুলে নিয়ে আসতে। যাই হোক, আমি লেগে গেলাম আমার ক্যামেরা আর নতুন লেন্স নিয়ে।
রাতে আমরা পৌঁছলাম ফারুয়া বাজারে। ওখানে একটা হোটেলে খেয়ে নিয়ে নৌকাতেই ঘুম।
ফারুয়া থেকে পানছড়ি
সকাল থেকে আকাশ অন্ধকার করা মেঘ নিয়ে আমাদের দ্বিতীয় দিনের শুরু। আমাদের নৌকা তখন ফারুয়া বাজারের ঘাটে। আমরা কয়েকজন নামলাম সকালের বাজারটা একটু ঘুরে দেখতে। ওইদিন ছিল ফারুয়া বাজারের হাট। সকাল থেকেই তাই মানুষের বেশ আনাগোনা। নদীতে মাছ ধরাও চলছিল তখন। এসব দেখতে দেখতেই শুরু হয়ে গেল ঝুম বৃষ্টি। ক্যামেরাটা বাঁচানোর জন্যই দ্রুত ঢুকে পড়লাম একটা দোকানে। কিন্তু এভাবে কতক্ষণ?
বৃষ্টি কমার কোনও লক্ষণই দেখা গেল না। শেষে রেইনকোটে ক্যামেরার ব্যাগটা জড়িয়ে বৃষ্টিতে ভিজে কোনওভাবে ফিরলাম নৌকায়। কিন্তু আমাদের মাঝি তার নৌকা নিয়ে আর সামনের দিকে এগুতে রাজি না। মাঝির মতে, এখন সামনের দিকে পানি কম, নৌকার প্রপেলর নদীর নিচে লেগে ভেঙে যেতে পারে। সুতরাং আমরা ছোট নৌকার খোঁজ শুরু করলাম। কিন্তু এই বৃষ্টিতে কিছুই পাওয়া যাচ্ছিল না। তাই অপেক্ষা করে থাকতে হল বৃষ্টি থামার। সকালের নাস্তাটা সেরে নিলাম এর ফাঁকে ফারুয়া বাজারে। দুপুরের দিকে বৃষ্টি খানিকটা কমে এলে আমরা একটা ছোট নৌকা রাজি করাতে পারলাম। যখন ছোট নৌকার জন্য খোঁজাখুঁজি চলছে তার মধ্যেই আমরা ঘুরে এলাম ফারুয়া বাজারের ওপারের বৌদ্ধ মন্দির থেকে। বাজারটাও ঘুরলাম আরও খানিকটা।
এবার যেহেতু নৌকাও ছোট, তাই নিজেদের একেবারে প্রয়োজনীয় জিনিসগুলো ছাড়া বাকি সব জিনিসপত্র রেখে দিলাম বড় নৌকায়। কিন্তু সে ছোট নৌকায় উঠে বুঝলাম এ নৌকায় আমাদের সবার জায়গা হবে না। সুতরাং আবার আরেকটা নৌকা খোঁজা শুরু এবং অবশেষে মাঝ দুপুরে আমরা দুইটা ছোট নৌকাতে করে কিছু খাবার নিয়ে আরও সামনে এগিয়ে চললাম।
বিকালে আমরা পৌঁছলাম চ্যাংড়াছড়িতে। ওখানেই আমাদের রাত কাটানোর কথা। এদিকে গতকাল থেকে আমাদের কারওই ভালোভাবে গোসল হয়নি, পাহাড়ি ঢলে নদীর পানি ভীষণ ঘোলা। তবে আমরা কয়েকজন বৃষ্টিতে খানিকটা গোসল সেরে নিয়েছি। শুনলাম আরেকটু এগুলে সামনেই পানছড়িতে ঝরনা আছে একটা। আমরা চ্যাংড়াছড়ি ছেড়ে তাই আরও সামনে এগুলাম পানছড়ির দিকে। পানছড়ির ঝরনাটা পেলাম তবে তা আহামরি কিছু না, পাহাড় বেয়ে কলের পানির মতো পানি পড়ছে। আমরা সবাই ওই ঝরনাতেই আরাম করে গোসল করে নিলাম।



ঝরনার খোঁজ এবং ফিরে আসা
আগের দিন শুনেছিলাম কাছেই একটা ঝরনা আছে। হেঁটে গেলে ৩-৪ ঘণ্টা লাগতে পারে। তাই খুব ভোর বেলাতেই উঠলাম শেষদিন। আজ ফিরে যাব, তাই ফিরে যাওয়ার তাড়াটাও ছিল।
সকালে চা খেয়েই রওনা দিয়ে দিলাম ঝরনার পথে, কখনও পাহাড়, কখনও ঝিরি পথ ধরে। যেতে যেতে ছবি তোলা চলছিল বরাবরের মতোই।
খানিকটা গিয়ে প্রথমে একটা ঝরনা পেলাম, যেটা পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসছে। ঝরনাটা সুন্দর, কিন্তু ওটাতে আরাম করে ভেজার মতো ছিল না, তাই আরও সামনে এগুলাম। কিন্তু সামনে গিয়েও যেটা পেলাম সে ঝরনার পানি পাহাড়ের গা বেয়ে নেমে আসেনি, কিন্তু তাতে পানি খুবই কম। আমাদের গাইড জানালো আরও কয়েক ঘণ্টার পথ পাড়ি দিলে আমরা বড় একটা ঝরনার কাছে যেতে পারব। কিন্তু আমাদের ফেরার তাড়া থাকায় আর এগুনোর পরিকল্পনা বাদ দিলাম। ওখানের ঝিরিতেই নেমে গেলাম। ঝিরির জলে গা ডুবিয়ে  স্রোত টান অনুভব করতে করতে গোসলটা সেরে নিলাম ওখানে।
ফিরে এসে আমাদের তাড়াহুড়ো বেড়ে গেল অনেক। নিজেরাই নুডুলস রান্না করে খেয়ে রওনা দিয়ে দিলাম। এর মধ্যে আবার আকাশ কালো করে এলো বৃষ্টি। কেউ কেউ আরেক দফায় ভিজে নিল বৃষ্টিতে। অবশেষে বিদায় নিয়ে ফারুয়ার দিকে রওনা হলাম আমরা।
ফারুয়াতে আমাদের বড় নৌকাটা আমাদের জন্য অপেক্ষা করছিল। আমরা ফারুয়া বাজারে উঠে খেয়ে নিলাম। তারপর আবার রওনা কাপ্তাইয়ের পথে। গানের দল বিকালের আলোতে আবার গান শুরু করে দিল, গানের সঙ্গে সন্ধ্যা মিলিয়ে আসছে আর আমরা বকের ডানায় ভর করে বিদায় জানালাম পাহাড়গুলোকে। 


সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology