বান্দরবন

অকৃত্রিম সৌন্দর্যের বান্দরবানে

প্রকাশ : 11 ডিসেম্বর 2011, রবিবার, সময় : 03:43, পঠিত 3907 বার

সাবরিনা খান ছন্দা
আমাদের পাগলাটে একটা গ্রুপের অভ্যাস হল, একজন বলবে চল ঘুরতে যাই, অমনি বাকিদেরও মনে হবে, তাই তো অনেকদিন ঘুরতে যাই না। চল যাই, চল যাই...। এ রকম করতে গিয়ে বছরে চার-পাঁচটা ট্যুর হয়ে যায়। এবারও তাই হল। প্রথমে প্ল্যান ছিল গতবার বান্দরবানে বগালেক পর্যন্ত গিয়েছিলাম। এবার ওখানে এক রাত থেকে কেওকারাডং চলে যাব। কিন্তু বাদ সাধল ফেসবুক আর ফ্লিকারের কিছু ছবি। নাফাকুম বান্দরবানের একটি দুর্গম জলপ্রপাত। ব্যাস হয়ে গেল। সমুদ্র, ঝরনা, পাহাড়, নদী তো কম দেখিনি, এবার তাহলে জলপ্রপাত দেখা যাক।
যাত্রা শুরু হল ঈদের এক দিন পর। মানে ৯ তারিখ সকালে রওনা দিয়ে রাতে পৌঁছলাম বান্দরবান শহরে। রাতে ওখানে থেকে পরদিন একটা গাড়ি ভাড়া নিয়ে নীলগিরি পার করে থানচি। ওখানেই দুপুরে খেয়ে নিলাম। থানচি থেকে গাইড ভাড়া করে এরপর ট্রলারে যাত্রা শুরু। সাঙ্গু নদী দিয়ে এর আগে রুমা বাজারে গিয়েছি। কিন্তু এমন পাথুরে চেহারা দেখিনি। চারপাশে ছোট-বড় হাজার হাজার পাথর। কোনটা সোজা কোনটা বাঁকা, কোনটা ভয়ংকর, কিন্তু সবই সুন্দর। দেখলাম বিশাল রাজাপাথর। ওখানে অনেকে পূজা করে। দেখলাম কলসীপাথর। নকশা করা। তীব্র স্রোতে নৌকা নিয়ে রীতিমতো যুদ্ধ করল আমাদের ট্রলার মাঝিরা। বিকালনাগাদ পৌঁছলাম রেমাক্রি। ছোট্ট একটি গ্রাম, যেখানে শুধু আদিবাসীরাই থাকে। আছে মারমা, মুরং, বমরা। আমাদের জায়গা হল একটি মারমা পরিবারে। মাচায় বাঁধা ঘর। ওরাই রান্না করে খাওয়াল। অসাধারণ সেই রান্না। পরদিন নাফাকুমের পথ ধরলাম। প্রথমে মজা লাগলেও ক্রমশ রাস্তা কঠিন থেকে কঠিনতর হতে লাগল। পাহাড়ের খাড়া ঢালে এক ফাঁলি খাঁজে পা রেখে, কখনও খাদের পাশে গাছে ঝুলে ঝুলে, ছোট ছোট পানির ধারায় পিচ্ছিল পথ পাশেই খাড়া পাথুরে খাদ, নিচে নদী, গভীর জঙ্গলে পথ, বালুর রাজ্য, সাঙ্গু নদীর প্রবল স্রোতে হেঁটে এপার-ওপার করা... বলে শেষ করা যাবে না। প্রায় চার ঘণ্টা হেঁটে যখন নাফাকুম দেখলাম এ এক অসাধারণ অভিজ্ঞতা। প্রকৃতি নিজ হাতে ঢেলে দিয়েছে এখানে। চারপাশে সবুজ পাহাড়। মাঝখানে প্রবল বেগে ছুটে চলেছে সাঙ্গু নদী। পাথুরে জলপ্রপাতে পাগলাটে পানি উন্মাদের মতো ছুটে চলেছে। আমরা অনেকক্ষণ ধরে নাফাকুমের পানিতে হুটোপুটি করলাম। এরপর গাইডের তাড়ায় উঠলাম। সন্ধ্যা মেলানোর আগে ফিরে যেতে হবে রেমাক্রিতে। আবার সেই দুর্গম পথ। ফিরে এসে দেখি আমাদের খাওয়া তৈরি। খেয়ে-দেয়ে ঘুম। এরপর আবার থানচি হয়ে বান্দরবান, তারপর ঢাকা। কিন্তু মনে রয়ে গেল নাফাকুমের গর্জন, সাঙ্গুর উন্মাদনা, আমাদের গাইড দুলাল মামা আর সাউ দাদার দুষ্টামি, বনফল সাউসার স্বাদ, জোছনার আলোতে নদীতে ডুব... আরও কত কি! ওহ! মারমা ভাষায় মাকে কী বলে জানেন? মই। ছোট ভাইকে বলে নিষে। বোনকে বলে নিগরি। বন্ধুকে বলে খামবয়।


সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology