বান্দরবন

নাফাখুম

প্রকাশ : 15 সেপ্টেম্বর 2011, বৃহস্পতিবার, সময় : 20:47, পঠিত 5081 বার

জায়েদুল আহসান
বন্ধুদের কাছে বর্ণনা শুনে নাফাখুম যাওয়া ঠিক করে ফেললাম। সঙ্গী আরও দুই বন্ধু। ২৯ এপ্রিল রাতে ঢাকা থেকে রওনা দিয়ে পরদিন সকালে পৌঁছে গেলাম বান্দরবান। সেখান থেকে  দুর্গম উপজেলা থানচি। এই পথটাকে বাংলাদেশে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের সেরা পথ বলে অনেকে।  বর্ষাকালে উঁচু-নিচু পাহাড় বেয়ে চলার সময় কখনও কখনও মেঘ এসে ঢেকে দেবে আপনাকে, ভিজিয়ে দেবে শরীর। কাছে-দূরে শুধু সবুজ আর সবুজ। পেরিয়ে যাই চিম্বুক, নীলগিরি। পাহাড়ের খাদে দূর থেকে আমাদের সঙ্গী হয় সাঙ্গু নদী। কখনও কখনও গাড়ি থামিয়ে পথের পাশের ছোট্ট পাহাড়ি বাজারে নেমে চা পান, চারদিকের ছবি তোলা। একসময় চলে এল থানচি। তবে গাড়ি থামল সাঙ্গুর এক পারে, অন্য পারে থানচি বাজার।
দুপুর হয়ে গেছে, খেতে হবে। তারও আগে ঠিক করতে হবে একজন গাইড আর নাফাখুমের পথে রেমাক্রি বাজার পর্যন্ত যাওয়ার নৌকা। বিজিবি চেকপোস্টে দিতে হবে নাম-ঠিকানা। তাই সবার আগে গাইড ঠিক করলাম, এরপর রেমাক্রি পর্যন্ত যাওয়া-আসার নৌকা ভাড়া। গাইড ঠিক করল একটা ইঞ্জিনচালিত নৌকা। থানচি বাজারে বিজিবি চেকপোস্টে নাম লিখিয়ে দুপুরে আহার পর্ব সেরেই রওনা দিলাম রেমাক্রি বাজার যাওয়ার জন্য।
অদ্ভুত সুন্দর সাঙ্গুর এই পথ। মাঝে মধ্যে দুইপাশে উঁচু পাহাড়, সরু গলির মতো বয়ে চলেছে নদী। আবার কখনও বেশ সমতল এলাকায় বড় বড় পাথর চেষ্টা করছে নদীর গতি রোধ করার। এসব পাথর ঠেলেই এগোচ্ছি আমরা। কোথাও কোথাও নদীর পাড়ে, পাহাড়ের গায়ে আদিবাসীদের ছোট ছোট ঘর, নদীতে কাজ করছে আদিবাসীরা। কখনও নদীতে নেমে বিশাল পাথরের চাঁইয়ে দাঁড়িয়ে দেখার চেষ্টা করছি চারদিক। মাঝখানে তিন্দু বাজার পার হয়ে সন্ধ্যা নাগাদ চলে এলাম রেমাক্রি বাজার। এখানেই নৌকাপথ শেষ। এরপর পদব্রজে পাহাড়ের ঊর্ধ্বমুখী চলার পালা।
নাফাখুম বেড়াতে যাওয়া পর্যটকরা সাধারণত রেমাক্রি বাজারেই রাত কাটায়। কিন্তু আমাদের মনে রং ধরেছে। পূর্ণ জোছনার রাত, বিশাল চাঁদের
সোনালি আলোয় চিকমিক করছে বনের গাছপালা। ঠিক করলাম চাঁদের আলোয় শুরু করব ট্রেকিং। চাঁদের আলোয় পাহাড়ে চড়া সে এক অসাধারণ দৃশ্য! বর্ণনায় নয়, বাস্তবে গিয়ে এর অভিজ্ঞতা নিতে হয়। ঘণ্টা দেড়েক চড়াই-উত্রাই পেরিয়ে পৌঁছলাম হেডম্যানপাড়ায়। এখানে রাত কাটাব আমাদের নৌকার মাঝির শ্বশুরবাড়িতে। তবে পেয়িং গেস্ট, থাকা-খাওয়ার জন্য মাথাপিছু দিতে হবে একশ টাকা। হেডম্যানপাড়ার পাশেই শান্ত ঠাণ্ডা পানির এক ঝিরি, রাতের বেলায়ই ওখানে গা ভিজিয়ে শীতল হয়ে নিলাম।
রাতে খেয়েদেয়ে উঠলাম খুব ভোরে, আজানের একটু পরপরই। চারপাশটা ঘুরে ফিরে দেখে সকালের নাশতা সেরে আবার নাফাখুমের পথে ট্রেকিং শুরু। ঘণ্টাখানেকের মধ্যে পৌঁছে গেলাম সেই কাঙ্ক্ষিত নাফাখুম জলপ্রপাতে। যেন চওড়া নদীর ধারা হঠাত্ করেই পা পিছলে পড়ে গেছে পাহাড়ের নিচে। সেখানে তৈরি করেছে অপরূপ সুন্দর ছোট একটা লেক। বর্ষায় নাফাখুমের পানির ধারা থাকে অনেক বেশি, দূর থেকে শোনা যায় এর গর্জন। তবে এসময়টায় সাঙ্গু নদীও হয়ে ওঠে খরস্রোতা, চলার জন্য অনেকটাই বিপজ্জনক। কিন্তু সৌন্দর্য পিয়াসীদের কাছে সেটি আরেক আকর্ষণ। অবশ্য বর্ষায় ঢল নামলে থানচি থেকে রেমাক্রি যাওয়ার অনুমতি দিতে চায় না বিজিবি।
যাই হোক, আমরা নাফাখুমে ঘণ্টাখানেক কাটিয়ে আবার রওনা দিলাম ফিরতি পথে। হেডম্যানপাড়ায় আমাদের মাঝির শ্বশুরবাড়িতে রাখা ব্যাগ নিয়ে চলে এলাম রেমাক্রি বাজার। অবশ্য সেখান থেকে থানচি নয়, নিজেদের ভাড়া করা নৌকা নিয়ে গেলাম বড়মোদক নামের আরেক জায়গায়। সে কাহিনী না হয় আরেক দিন হবে।
যাওয়ার উপায় : ঢাকা থেকে বান্দরবান বাস ভাড়া ৩৫০ টাকা। বান্দরবান থেকে থানচি যাত্রীবাহী গাড়িতে ভাড়া নেবে ২০০ টাকা, আর চান্দের গাড়ি রিজার্ভ করলে ভাড়া পড়বে ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা। থানচি থেকে রেমাক্রি বাজার যাওয়া-আসার জন্য দুই দিনের নৌকা ভাড়া প্রায় ৫ হাজার টাকা। থানচি থেকে দুই দিনের জন্য খাওয়াসহ গাইডকে দিতে হবে ১ হাজার টাকা। তবে আরও কমে রেমাক্রি বাজার থেকে গাইড নেওয়াই ভালো। রেমাক্রি বাজারে ১০০ টাকার মধ্যে থাকার ব্যবস্থা করে নিতে পারবেন।


সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology