খাগড়াছড়ি

শান্তিপুর অরণ্যকুটিরে

প্রকাশ : 06 জুন 2011, সোমবার, সময় : 21:04, পঠিত 3220 বার

আদনান বাবু
অনেকদিন ধরেই ভাগ্নে পারভেজ বলছিল পানছড়ি বেড়িয়ে আসতে। এর মধ্যে খাগড়াছড়ির স্থানীয় একটি সংগঠনের আয়োজনে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের সময়সূচিও চূড়ান্ত হল। পানছড়ি বেড়ানো এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা দুটি কাজই একসঙ্গে করার সুযোগ মিলে গেল। অনুষ্ঠানের সূচি অনুযায়ী নির্ধারিত দিনে বন্ধু মোদাব্বিরসহ রওনা হলাম।
কুমিল্লার পর ফেনী শহর পার হয়ে কিছু দূর সামনে গিয়ে হাতের বাঁয়ে বারইয়ার হাট দিয়ে ঢুকে ১৫-২০ মিনিট পার হতেই পাহাড়ি আঁকাবাঁকা রাস্তা শুরু হল, যা কিনা বান্দরবান কিংবা রাঙ্গামাটির পাহাড়ি সৌন্দর্যকেও হার মানায়। এরপর গাড়ি যতই ভেতরে প্রবেশ করছে ততই পাহাড়ি প্রকৃতির অপরূপ সৌন্দর্য আমাদের বিমোহিত করল। গাড়িতে আঁকাবাঁকা, উঁচু-নিচু রাস্তা বেয়ে পাহাড়ি সৌন্দর্য দেখতে দেখতে পৌঁছে গেলাম খাগড়াছড়ি শহরে। সেখানে আগে থেকেই সাংস্কৃতিক সংগঠনের ঠিক করে রাখা রেস্টহাউসে দুপুরের খাবার সেরে ঘণ্টাখানেক বিশ্রাম নিয়ে রওনা হলাম খাগড়াছড়ি কলেজ মাঠে আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে। দুই ঘণ্টার মধ্যে অনুষ্ঠান শেষ করে রওনা হলাম পানছড়ির উদ্দেশে। যাওয়ার পথে চোখে পড়ল রাস্তার দুপাশে শস্য ক্ষেতের সবুজ সমারোহ। সারি সারি নারকেল, কলা গাছের বাগান দেখে খাওয়ার লোভ সামলানো কঠিন হয়ে গেল। ৩৫ মিনিটের মধ্যে পৌঁছে গেলাম পানছড়ির শান্তিপুর অরণ্যকুটিরে। এখানে রয়েছে এক কোটি বিশ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত গৌতম বুদ্ধের মূর্তি, যার উচ্চতা ৫০ ফুট। মিয়ানমার থেকে নিয়ে আসা পূঁঞা নামক এক কারিগর দিয়ে এটি নির্মিত হয় ২০০৪ সালে। ৫০ ফুট দীর্ঘ গৌতম বুদ্ধের মূর্তিটি ছাড়াও এখানে রয়েছে আরও ছোট ছোট কিছু মূর্তি এবং অরণ্যজুড়ে রয়েছে বিভিন্ন ঔষধি গাছ। শান্তিপুর অরণ্যকুটিরে সারাবছরই বৌদ্ধ-হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা উপাসনার জন্য হাজির হয়ে থাকেন। এছাড়া প্রতিবছর বৃষ্টি মৌসুমের পর
এখানে বসে ৭ দিনব্যাপী শান্তিপুর অরণ্যমেলা। যে মেলায় দূর-দুরান্ত থেকে পাহাড়ি আদিবাসীরা তাদের নিজস্ব রকমারি পণ্যের পসরা নিয়ে হাজির হন এবং এ মেলা উপলক্ষে এখানে আগমন ঘটে হাজার হাজার লোকের, যা কিনা স্থানীয়দের কাছে একটি বিরাট উৎসবের বিষয় হিসেবেও বিবেচিত হয়।
অরণ্যকুটির এলাকা ঘুরতে ঘুরতে ফিরে যাওয়ার সময়ের কথাও ভুলে যাওয়ার উপক্রম হল। কিন্তু পশ্চিমে সূর্যের হেলেপড়া এবং ভাগ্নে পারভেজের তাগিদের কারণে পানছড়ির শান্তিপুর অরণ্যকুটির পেছনে ফেলে রওনা হতে হল ২৫ কিমি. দূরে রেখে আসা শহর খাগড়াছড়ির দিকে।
ফেরার পথে আগামীদিনের ভ্রমণ সূচিও নির্ধারিত হয়ে গেল। যার মধ্যে থাকল খাগড়াছড়ি শহরের আলুটিলা পাহাড়ের ১০০ ফুট নিচের ৪০ ফুট দৈর্ঘ্য গুহায় প্রবেশ, ১৩০ ফুট নিচে রিসাং ঝরনায় বেড়ানো এবং শহর থেকে ১২ কিমি. দূরে নুনছড়িতে পাহাড়ের ওপর অবস্থিত দেবতার পুকুর দেখতে যাওয়ার আশা রইল।


সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology