নোয়াখালি

নিঝুম দ্বীপের হাতছানি

প্রকাশ : 06 অক্টোবর 2011, বৃহস্পতিবার, সময় : 22:08, পঠিত 3454 বার

জোবায়ের রিংকু
হরতাল মানেই হচ্ছে ঢিলেঢালা অফিস। সিইও স্যার আসবে না এই উত্তেজনায় অনেকটা সময় পার করি ফেসবুক আর ব্লগ নিয়ে। এগুলো দেখতে দেখতে আমার চোখ দুটি ক্লান্ত হয়ে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্যতার অভাব অনুভব করে। হাতছানি দেয় নৈসর্গিক সৌন্দর্যতা। খেয়ালের ছলে বলে ফেললাম চল কোথাও থেকে ঘুরে আসি। যে কথা সেই কাজ, খুঁজতে লাগলাম কোথায় যাওয়া যায়। চোখ বন্ধ করে দেখে নিলাম কোথায় যাওয়া হয়নি। হ্যাঁ, নিঝুম দ্বীপ। যেহেতু হরতাল তাই সঙ্গে সঙ্গে ফোন দিলাম কমলাপুর রেলস্টেশন তথ্য কেন্দ্রে। জানতে চাইলাম নোয়াখালীর ট্রেন কখন ছাড়ে? ওপাশ থেকে জানানো হল ৮টা ১০ মিনিটে। ঘড়ি দেখলাম ৫টা ৩০ মিনিট, হাতে এখনও প্রচুর কাজ। ব্যাগ গোছানো, অফিসের টুকটাক কাজ সেরে আমরা পুরো মার্চেন্টডাইজিং ডিপার্টমেন্ট অফিস থেকে বেরিয়ে পড়লাম কোন ধরনের নোটিশ ছাড়াই। নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকার ট্রেনের সময়সূচি দেখে আমাদের মাথায় হাত। সময় আছে মাত্র এক ঘণ্টা। এর মধ্যে সব সারতে হবে। সময় স্বল্পতার কারণে আমার ব্যাগেজ আনতে বললাম ছোট ভাই জাবেদকে। তাড়াহুড়ার কাজ কখনও ভালো হয় না, কিন্তু জীবনের সব ভ্রমণ এভাবে হুট করেই হয়। আমি ও পান্থ চাষাঢ়া রেলস্টেশনে অপেক্ষা করছি, কিন্তু অন্যরা তখনও এসে পৌঁছায়নি, সেই সঙ্গে আমার তল্পিতল্পাও। কথা বলতে বলতে হঠাৎ মনে হল, ক্যামেরা আনা হয়েছে কিন্তু ব্যাটারি নাই। ট্রেন আসতে এখনো ২৫ মিনিট। দ্রুত মনোয়ারকে ফোনে জানালাম, ব্যাটারি নিয়ে আসতে। যথারীতি ট্রেন এলেও আমাদের সবাই হাজির হতে পারেনি। এদিকে আমার ব্যাগেজও পৌঁছেনি। সবাইকে ফোনে জানিয়ে দেয়া হল, দ্রুত এসে যে যার বগিতে পারে উঠে যেতে। হর্ন বাজিয়ে ট্রেন ছাড়ল, অমনি ছোট ভাই ব্যাগ নিয়ে প্লাটফর্মে। দ্রুত দৌড়ে পৌঁছে দিল ব্যাগ। ফোন করে নিশ্চিত হলাম সবাই উঠেছে। স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেললাম। অস্বস্তিটা শুরু হল কমলাপুর গিয়ে। নোয়াখালীর কাউন্টার কোথায় জিজ্ঞেস করলে একজন বলে ১০ নম্বর কাউন্টারে যান, ওখান থেকে বলে ১৩ নম্বরে দেখেন। মহাসংকট। হাতে মাত্র দশ মিনিট। অবশেষে পাওয়া গেল কাক্সিক্ষত কাউন্টার। পান্থ কাউন্টারে জিজ্ঞেস করল, ভাই, নোয়াখালীর ফার্স্ট ক্লাস টিকিট কত? ওপাশ থেকে জানানো হল, ভাই কোনও ফার্স্ট ক্লাস, সেকেন্ড ক্লাস নেই, সবই এক ভাড়া ৬০ টাকা। মাথায় যেন বাজ পড়ল। টিকিট নিয়ে ছুটলাম ট্রেনের দিকে। মোটামুটি ছোটখাটো যুদ্ধ শেষে সিট পাওয়া গেল, তাও আবার একেক জন একেক সিটে। অনেকে আবার হরতালের মধ্যে দাঁড়িয়েই রওনা হলেন। বগিতে মুরগি থেকে শুরু করে আগুন জ্বালানো লাকড়িও উঠল আমাদের সঙ্গে। শুরু হল বিভীষিকাময় ট্রেনজার্নি। ৫ মিনিট চলে তো পরবর্তী স্টেশনে ১০ মিনিট থেমে থাকে। এর মধ্যে বারবার ক্রসিং। এর মধ্যে আবার  ট্রেন নষ্ট হওয়া। দ্রুতগামী ট্রেন যেটা নাকি সিলেট ও চিটাগাং যাবে, তাদের দ্রুত যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেয়ার জন্য আমাদের লোকাল ট্রেন থেমে রইল ঘণ্টা দুয়েক। সব মিলিয়ে আমরা সবাই হাঁফিয়ে উঠেছি। সন্ধ্যা ৮টা ১০ মিনিটে ছাড়া ট্রেন নোয়াখালী গিয়ে পৌঁছল পরদিন দুপুর ১২টায়। হেঁটে এলেও হয়তো এর আগে আসা যেত। সারারাত ট্রেনে গান, হৈচৈ আর স্টেশনে নেমে চা খেয়ে পার করলাম। বগির কিছু লোক আমাদের ওপর মহাবিরক্ত, আবার কেউ কেউ আমাদের ছেলেমানুষিটাকে উপভোগ করেছে। পাশের সিটে বসে থাকা একজন মহিলা জিজ্ঞেস করল তোমরা কোথায় যাচ্ছ? বললাম নিঝুম দ্বীপ। যেতে যেতে তার সঙ্গে অনেক কথা হল পান্থর। মহিলাকে দুষ্টুমি করে বলতে লাগল, তারা নোয়াখালী বিয়ে করবে। সুন্দরী মেয়ে আছে কি-না? মহিলা এক এক করে সবাইকে আপাদমস্তক দেখতে লাগলেন। হঠাৎ জসিমের দিকে চোখ দুটো থামিয়ে বলল উনাকে তো তিন ছেলেমেয়ের বাবা মনে হচ্ছে। আমরা সবাই হাসিতে ফেটে পড়লাম। আশপাশের সবাই আমাদের সঙ্গে যোগ দিল। জসিম ডাতর হয়ে আছে। যা-ই হোক মেজাজ খারাপের মাত্রাকে নামিয়ে আমরা নেমে পড়লাম নোয়াখালীতে। পেটে তখন চলছে ইঁদুর দৌড়। কিন্তু ঘড়ির কাঁটা ঠিক বারোটায়। দেরি হবে এই ভেবে আমি সিদ্ধান্ত নিলাম চেয়ারম্যানঘাট হাতিয়া গিয়ে আমরা নাশতা করব। একটা সিএনজি ভাড়া করে ছুটলাম চেয়ারম্যানঘাটের দিকে। গানে গানে মেতে রইলাম সবাই। পথিমধ্যে নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় দেখে নেমে পড়লাম। পান্থর ক্যামেরায় ক্লিক ক্লিক আওয়াজ, বিশ্ববিদ্যালয়কে স্মৃতি করে রাখল আমাদের সঙ্গে। কিছুক্ষণ ঘুরে আমরা আবার রওনা হলাম ঘাটের দিকে। আমাদের গাড়ি চলছে গন্তব্যে। সময়ের কাঁটা এগিয়ে চলছে তার গতিতে। একটা সময় এসে আমরা পৌঁছলাম চেয়ারম্যানঘাট, হাতিয়ায়। ঝটপট ভাড়া চুকিয়ে, খোঁজ নিলাম সি-ট্রাক কোথা থেকে ছাড়ে। যখন শুনলাম সি-ট্রাক ছেড়ে চলে গেছে সকালের দিকে, তখন আমরা হতাশায় ডুবতে লাগলাম মেঘনার জলে। এখানে এসেও একই বিপত্তি। একজন বলে ভাই ট্রলারে যাওয়া নিরাপদ নয়, অন্যরা বলে সমস্যা নেই। যাই হোক আমাদের নিঝুম দ্বীপ দেখার সুযোগ যত ক্ষীণ হতে লাগল ততই ক্ষিদের প্রতাপ বাড়তে লাগল। চেয়ারম্যানঘাটে গাউছিয়া হোটেল অ্যান্ড রেস্টুরেন্টে ঢুকে পড়লাম। জিজ্ঞেস করার সময় না দিয়ে বললাম, ভাই তাড়াতাড়ি খাবার দাও। কিছুক্ষণ পর হোটেলের একজন ভাত নিয়ে এল। ভাত দেখেই ক্ষিদে শেষ। বড় বড় ভাতের দানা, সেই সঙ্গে নদীর মাছের ঝোল। দেখে মনে হচ্ছে, শুধু মরিচগুঁড়া কিংবা লাল রঙ দিয়ে রান্না করা হয়েছে। কোন রকম খাওয়া শেষ করে বিল মিটিয়ে ঘাটের দিকে এগোব, এমন সময় দেখি রাস্তার পাশে ছোট্ট একটা চায়ের দোকান। পাম্প চুলায় শাঁ শাঁ করে আগুন জ্বলছে। গলগলিয়ে ধোঁয়া বেরোচ্ছে কেটলির নল দিয়ে। এমন দৃশ্য দেখলেই তো চা খাওয়ার তৃষ্ণাটা আরও বেড়ে যায়। আমি, জসিম, পান্থ, মনোয়ার বসে গেলাম ঝটপট। এক গ্লাস গরম চা খেয়ে চাঙা হয়ে নিলাম আবার। দেখে যাওয়ার কথা মাথায় থাকলেও আমরা চেয়ারম্যানঘাট পৌঁছতে পৌঁছতে জোয়ারের সময় শেষ। দিনে একবার ছেড়ে যাওয়া সি-ট্রাক না পেয়ে বাধ্য হয়েই উঠতে হল মাছধরা ট্রলারে। কিছুক্ষণ যাওয়ার পর প্রচণ্ড ঢেউ। আমি দুমড়েমুচড়ে গেলাম, অন্যরা সবাই আনন্দে আহারা ঢেউয়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে। ঘণ্টা দুয়েক যাওয়ার পর শেষ হল নদীপথ। অনেক প্রতিকূলতার নদী পেরিয়ে এপার এসে মনে করেছিলাম হয়তো অদূরেই নিঝুম দ্বীপ। ক্ষাণিক পরে সে আশায় গুড়েবালি। ওপারে গিয়ে জানা গেল, মোটরসাইকেলে ২ ঘণ্টা যাওয়ার পর একটা ছোট্ট নদী, সেটা পেরিয়ে আবার মোটরসাইকেলযোগে নিঝুম দ্বীপ। সময় তখন বিকাল ৪টা। হিসাব কষে দেখলাম, যেতে যেতেই সন্ধ্যা। কেউ কেউ বাধ সাধল না যাওয়ার পক্ষে। এতটুকু আসতেই অতিমাত্রায় ক্লান্ত আমরা, তারপর আবার অফিসের দুশ্চিন্তা। স্যারকে না বলে অফিস ফাঁকি দিয়ে এসেছি। এখনও যে পথ বাকি তাতে আজ নিঝুম দ্বীপে পৌঁছলেও সেখানে রাত কাটাতে হবে। তাহলে অফিস ফাঁকি বেড়ে গেল আরও দুদিন। সব মিলে শরীর ঠাণ্ডা হয়ে এল। একদিকে অনেকটা পথ পেরিয়ে চলে এসেছি, সেই সঙ্গে টাকার শ্রাদ্ধ, অন্যদিকে চাকরি। দ্বন্দ্বে পড়ে গেলাম। এক সময় সব দুশ্চিন্তাকে নদীতে ফেলে ছুটলাম নিঝুম দ্বীপের দিকে। শুরু হল ভয়াবহ মোটরসাইকেল যাত্রা। রাস্তা খারাপ থাকায় এ যাত্রা আরও বিভীষিকাময় হয়ে উঠল। তারপরও মনে এক অনাবিল আনন্দ। নিঝুম দ্বীপ যাচ্ছি, এ কথা মনে হতে যেন ক্লান্ত শরীর আবার জেগে উঠে নতুন কোন প্রকৃতির সৌন্দর্য আবিষ্কারের ইচ্ছায়। কল্পনায় তখন নিঝুম দ্বীপের বিভিন্ন সৌন্দর্য আঁকতে লাগলাম। আমাদের মোটরসাইকেল ছুটছে...। অতঃপর শেষ হল আমাদের মোটরসাইকেল জার্নি। এখানে নেমে তো আমরা হতবাক, আবার নদী পেরুতে হবে। কালক্ষেপণ না করে দ্রুত উঠে পড়লাম ট্রলারে। কেউ কেউ আগ বাড়িয়ে জিজ্ঞেস করল, ভাই কোথা থেকে আসছেন? নিঝুম দ্বীপ যাবেন নাকি?  এ প্রশ্ন এতো বেশি ছিল যে উত্তর দিতে দিতে ক্লান্ত আমরা ওপারে পৌঁছলাম। ওপার নেমে মনে করেছিলাম একটু হেঁটেই হয়তো নিঝুম দ্বীপ। কিন্তু সেখানেও এ ভ্রমণ অভিজ্ঞতায় যুক্ত হল আরও কিছু তিক্ততা। শুরু হল দ্বিতীয় দফায় মোটরসাইকেল জার্নি। ছুটতে লাগলাম অজানা এক দ্বীপের উদ্দেশে, সেখানে হয়তো অপেক্ষা করে আছে আমাদের জন্য অনেক বিস্ময়। সেই বিস্ময়ের খোঁজে ছুটছি...। আধা ঘণ্টা যাওয়ার পর আমরা আবিষ্কার করলাম অনেক কাক্সিক্ষত নিঝুম দ্বীপ। নিঝুম দ্বীপের বুক চিড়ে চলে যাওয়া রাস্তা দিয়ে আমরা ছুটছি মোটরসাইকেল নিয়ে, আর প্রাণ ভরে দেখছি এ দ্বীপের অপরূপ সৌন্দর্য। সে সৌন্দর্যতার হাতছানি সবকিছুকে ছাপিয়ে আমাদের এখানে নিয়ে এসেছে। এবার থেমে গেলাম একটা স্থানে। সবাই নেমে পড়লাম মোটরসাইকেল থেকে। একজন গাইড জোগাড় করে ফেললাম। গাইডের নাম রহমত। যিনি আমাদের নিয়ে ছুটছেন গহিন অরণ্যে। রাস্তার পাশে ছোট্ট একটা নালা পেরিয়ে আমরা হাঁটতে শুরু করলাম গহিন জঙ্গলে। গাইড রহমত আমাদের সতর্ক করলেন, প্রজাপতি থেকে নির্গত লালা, অনেক ক্ষতিকর। যা-ই হোক রহমতের দেয়া ভয় আমাদের কাবু করতে পারল না। আমরা ছুটলাম দুর্বার গতিতে। একটা সময় পর আমাদের সম্বিৎ ফিরল, আমরা অনেকটা ভেতরে চলে এসেছি। ফিরে যাওয়ার পথও হারাতে বসেছি। তাতেও কারও কোন মাথাব্যথা নেই সবাই প্রকৃতির সৌন্দর্য, ম্যানগ্রোভ আর কেওড়া ফলের আস্বাদ নিতে ব্যস্ত। অন্যদিকে জসিমের ক্যামেরা অবিরাম নিঝুম দ্বীপের সৌন্দর্য কুড়াতে ব্যস্ত। এরই মধ্যে সবাই ফিরে যাবার জন্য তৈরি, বাধ সাধলাম আমি। নিজের চোখে হরিণ না দেখে ফিরছি না। হরিণের খোঁজে ছুটলাম বন থেকে বনান্তরে। দেখলাম বিষাক্ত সাপ, পোকা, মাকড় আর কিছু অপরিচিত প্রাণীর আনাগোনা। সবকিছু ছাপিয়ে আমরা ছুটছি হরিণের সন্ধানে। আর একটু ভেতরে যেতেই মানোয়ার আমাদের চলার গতি থামিয়ে দিয়ে বলল, সবাই চুপ। হরিণ পায়ের আওয়াজ পেলেই ছুটে যায়। সবাই চুপ করে খুব কাছ থেকে অপলক দেখে নিলাম একপাল হরিণ। পান্থর ক্যামেরার ক্লিক ক্লিক শব্দে বন্দি হতে লাগল নিঝুম দ্বীপের অপার সৌন্দর্য আর হরিণের পাল। দিনের আলো ফুরালেও আমাদের নিঝুম দ্বীপ দেখার আগ্রহ আর মুগ্ধতা বরং বেড়েই চলছে, তারপরও আমাদের ফিরতে হবে। আমরা চরম উত্তেজনায় ঠিক কত ভেতরে চলে এসেছি সেটা বুঝতে পারলাম ফেরার পথে। আমরা ফিরতে শুরু করলাম এক অনিশ্চিত ব্যাকুলতা নিয়ে। হয়তো রাতেই কোন মাছধরা ট্রলারে ওপার গিয়ে রাতের গাড়িতে ঢাকা পৌঁছে পরদিন সকালে অফিসে উপস্থিত হব। আমরা ছুটছি প্রচণ্ড বেগে...। অনেকটা সময় পেরিয়ে রাত ৮টায় আমরা ওছখালী পৌঁছলাম। ছুটে গেলাম ঘাটে বেঁধে রাখা মাছধরা ট্রলারগুলোর দিকে। অনেক অনুরোধ সত্ত্বেও তারা যেতে রাজি হল না নদী প্রচণ্ড উত্তাল থাকায়। তার উপর ডাকাতির ভয়। মাথায় যেন বজ্রের আঘাত হানল। কাল সকালে অফিসে উপস্থিত না হলে কেলেংকারি হবে। জসিম, পান্থ, মনোয়ার আমাকে অনুরোধ করতে লাগল সিইও স্যারকে এই অনাকাক্সিক্ষত বিপদের কথা জানাতে। আমি অনেকটা আমতা আমতা করতে করতে ফোন দিলাম। সব ঘটনা বলার পর স্যার জানালেন, সাবধান আপনারা ওইখানেই থেকে যান। কাল যখন সি-ট্রাক ছাড়বে তখন পার হবেন। ব্যাস, হয়ে গেল ছুটি। সবাই খুশিতে আহারা। আমাদের উচ্ছ্বাসে আশপাশের সবাই হাঁ করে তাকিয়ে রইল। যাই হোক, থাকার ব্যবস্থা করতে হবে জলদি। খুঁজতে শুরু করলাম। পেয়ে গেলাম কিন্তু হোটেল নয় বোর্ডিং। মানোয়ারকে পাঠালাম দেখে আসতে। সে এসে জানাল কোন রকমে সম্ভব। যা-হোক হোটেলের মালিকের সঙ্গে কথা চুকিয়ে উঠে পড়লাম হোটেলে। আশ্চর্যের বিষয় হচ্ছে, সেই সকালে ভাত খেয়েছি, সারাদিন এটা-সেটাও চলেছে, কিন্তু বিকাল গড়িয়ে রাত হলেও ক্ষিধে লাগছে না ওই মোটা ভাতের অবদানে। রাত তখন ১২টা। বোর্ডিংয়ে গিয়ে তো অবস্থা খারাপ। উৎকট গন্ধে দম বন্ধ হওয়ার উপক্রম। যাই হোক জসিম যেহেতু একটু ফ্যাশনসচেতন তাই ওর নিয়ে আসা বডি স্প্রে চালিয়ে দিলাম সবার ছোট ছোট পাতা চৌকির আশপাশে। এবার বড় রুমাল বিছিয়ে শুয়ে পড়লাম। কেউ কেউ বলল, কয়েল জ্বালিয়ে শুয়ে পড়ি, মশারির প্রয়োজন নেই। অথচ মাঝরাতে উঠে দেখি মশার উপদ্রবে সবাই-ই মশারি টানিয়ে নাক ডেকে ঘুমাচ্ছে। সকালে ঘুম ভেঙ্গে দেখি লঙ্কাকাণ্ড। জসিম নিচে নেমে টয়লেট খুঁজে না পেয়ে একজনকে জিজ্ঞেস করলে সে উত্তর দিল ভাই আমাদের এই বোর্ডিংয়ে টয়লেট নেই। আমরা সবাই নির্বাক চেয়ে রইলাম এই খবরে। অতঃপর...একটা ব্যবস্থা করলাম। রেডি হয়ে নিচে এসে নাশতা সেরে উঠে পড়লাম মাছধরা ট্রলারে। আমরা ১৫০০ টাকায় একটা ট্রলার ভাড়া করে ছুটলাম চেয়ারম্যানঘাটের দিকে। নদীর অপার সৌন্দর্য, আছড়ে পড়া ঢেউ, জেলেদের মাছ ধরা, পতাকা টানিয়ে সামনের এদিক-ওদিক ছোটাছুটি, দূর থেকে মনপুরা দ্বীপ সব মিলিয়ে এক অপার সৌন্দর্যে ডুবে রইলাম ঘণ্টা দুয়েক নদীপথে। হঠাৎ সম্বিৎ ফিরল পান্থর ক্যামেরার ক্লিক ক্লিক শব্দে... ও যেন ব্যস্ত এ সব সৌন্দর্যকে স্মৃতি ধরে রাখতে।


সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology