নোয়াখালি

নিঝুম দ্বীপের পথে

প্রকাশ : 20 এপ্রিল 2011, বুধবার, সময় : 21:09, পঠিত 4674 বার

এস. এম মাহফুজুর রহমান
নিঝুম দ্বীপ (চর ওসমান)  বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চলে, নোয়াখালী জেলার দক্ষিণ অংশ বেয়ে বঙ্গোপসাগরের মোহনায় জেগে ওঠা দ্বীপের সমষ্টি। বল্লার চর, কামলার চর, চর ওসমান ও চর মুরি এই চারটি প্রধান দ্বীপ ও বেশ কয়েকটি ছোট চর সমন্বয়ে সর্বমোট প্রায় ১৪,০৫০ একর এলাকা নিয়ে গঠিত এই দ্বীপাঞ্চলটি ১৯৫০-এর শুরুর দিকে জেগে ওঠে। প্রথমে স্থানীয় জেলেরা দ্বীপটি আবিষ্কার করে। তারা এর নাম দেয় বালুয়ার চর, যা পরবর্তীতে বল্লার চর-এ রূপান্তরিত হয়। শীতকালে এখানে হাজার হাজার অতিথি পাখির সমাবেশ ঘটে। জেলেদের ধরা নানারকম মাছ শুকানোর জন্য এটি একটি আদর্শ স্থান হিসেবে ব্যবহত হতে থাকে। তাদের অনেকে এখানে অস্থায়ী খড়ের ঘরও নির্মাণ করে।
চরাঞ্চলটি খুব দ্রুতই নতুন ঘাসে ভরে যায়। আশেপাশের লোকালয় থেকে লোকেরা নদী বেয়ে এখানে গরু-মহিষ চরাতে আসা শুরু করে। পরবর্তীতে একসময় জরিপ দল এসে গোটা চরাঞ্চলের মাপ-জোঁক নথিবদ্ধ করে। অনেকের মতে এই দ্বীপাঞ্চলে প্রথম বসতি গড়া জনৈক ওসমানের নামে জরিপকারীরা এর নাম দেয় চর ওসমান।
চর ওসমানে প্রায় নিয়মিতই প্রচুর মানুষ গরু-মহিষ চরানোর জন্য আসা-যাওয়া করলেও ১৯৭০-এর আগে এখানে কোন স্থায়ী বসতি স্থাপিত হয় নি। মাঝেমাঝে মৌসুমি তথা অতি অস্থায়ী কিছু বসতি থাকলেও সমগ্র দ্বীপাঞ্চল বছরের অধিকাংশ সময়ই জনবিরল থাকত। একারণে এটি নিঝুম দ্বীপ নামেও পরিচিত হয়ে ওঠে। ১৯৭০-এর দশকের শুরুর দিকে নিঝুম দ্বীপ হাতিয়া নির্বাচনী এলাকার অন্তর্ভুক্ত হয়। এসময় নিকটবর্তী হাতিয়া, শাহবাজপুর, রামগতি প্রভৃতি এলাকা থেকে নদীভাঙনের কারণে গৃহহীন লোকজন নিঝুম দ্বীপে এসে বসবাস শুরু করে।
নিঝুম দ্বীপে ছয়টি বড় বাজার আছে। বাজারগুলিতে প্রধানত চাল-ডাল ও ঔষধের দোকান, মনোহারী সামগ্রীর দোকান ও কিছু খাবারের দোকান আছে। গোটা দ্বীপাঞ্চলে শুধু এই বাজারগুলিতেই জেনারেটর উৎপাদিত বিদ্যুতের ব্যবস্থা আছে।
বাংলাদেশ সরকারের বন বিভাগ নিঝুম দ্বীপে উপকূলীয় বনাঞ্চল গড়ে তুলেছে। এখানকার বন এলাকায় প্রায় পাঁচ হাজার চিত্রা হরিণ আছে। গাছগাছালির মধ্যে সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য গাছ কেওড়া, যা স্থানীয়ভাবে কেরফা নামে পরিচিত। এই গাছ দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং এর সম্প্রসারিত মূল ভূমিক্ষয় রোধ করে। এছাড়া এই গাছের কাঠ দিয়ে বাড়িঘরের খুঁটি, নৌকা, চাষাবাদের উপকরণ ইত্যাদি তৈরি হয়, জ্বালানি হিসেবেও এর ব্যবহার হয়। ২০০১ সালে বাংলাদেশ সরকার নিঝুম দ্বীপের বনাঞ্চলকে জাতীয় উদ্যান ঘোষণা করেছে।
২০০১ সালে নিঝুম দ্বীপের জনসংখ্যা ছিল ১০,৬৭০। অধিবাসীদের প্রধান পেশা কৃষিকাজ, মাছ ধরা ও পশুপালন। এই দ্বীপে প্রচুর শাকসবজির চাষ হয়। এখানে জীবনযাপন কঠিন ও খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। দ্বীপের অধিবাসীরা প্রাকৃতিক দুর্যোগ মাথায় নিয়েই বসবাস করে। তারপরও প্রতি বছরই মূল ভূখণ্ড থেকে অনেক লোক বসবাসের জন্য এখানে আসে।



যাতায়ত ব্যবস্থাঃ
ঢাকার সদরঘাট থেকে প্রতিদিন পানামা ও টিপু ৫ নামের লঞ্চ হাতিয়ার উদ্দেশে ছাড়ে সন্ধ্যা ৬টায়। ভাড়া ডেক ২০০ টাকা, সিঙ্গেল কেবিন ৭০০ টাকা, ডাবল কেবিন ১২০০ টাকা এবং ভিআইপি ১৬০০ টাকা। সময়মতো লঞ্চ ছাড়লে এবং আবহাওয়া ঠিক থাকলে ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়া লঞ্চটি পরদিন সকাল ১০টার মধ্যে হাতিয়া  লঞ্চঘাটে পৌছবে। পানামা লঞ্চের যোগাযোগ : ০১৭৪০৯৫১৭২০। এ ছাড়া বন্দরনগরী চট্টগ্রামের সদরঘাট থেকেও  সপ্তাহের একটি নির্দিষ্ট দিনে চট্টগ্রাম থেকে একটি জাহাজ হাতিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়।

কোথায় থাকবেনঃ
নিঝুম দ্বীপে পর্যটকদের থাকার জন্য অবকাশ পর্যটন নির্মাণ করেছে নিঝুম রিসোর্ট  এবং নামার বাজার মসজিদ কতৃপক্ষ নির্মাণ করেছে মসজিদ বোর্ডিং।
নিঝুম রিসোর্ট--
এই রিসোর্টে নয়টি ডাবল ও ট্রিপল বেডের রুম এবং ৩টি ডরমিটরি রয়েছে যেখানে মোট ২২টি বেড রয়েছে।  পুরো নিঝুম রিসোর্টে ৬০ জনেরও বেশি সংখ্যক মানুষ একসঙ্গে থাকার ব্যবস্থা রয়েছে।  নিঝুম রিসোর্ট কর্তৃপক্ষের নিজস্ব জেনারেটরের ব্যবস্থা রয়েছে সর্বক্ষণিক বিদ্যুতের জন্য।
এই রিসোর্টের রুমের ভাড়াঃ
-> দুই বেডের (১টি বাথ রুম) ডিলাক্স রুমের ভাড়া ১ হাজার টাকা।
-> ছয় বেডের ফ্যামিলি রুমের (একটি চার বেডের রুম ও অন্যটি দুই বেডের রুম এবং দুইটি বাথ রুম) ভাড়া ২ হাজার টাকা।  ১২ বেডের ডরমিটরির (তিনটি বাথ রুম) ভাড়া ২৪০০ টাকা এবং পাঁচ বেডের ডরমিটরির (দুইটি বাথ রুম) ভাড়া ১২০০ টাকা।  রুমে অতিরিক্ত কেউ থাকলে জনপ্রতি গুনতে হবে মাত্র একশ টাকা।

নিঝুম রিসোর্টে থাকার জন্য বুকিং করতেঃ
ঢাকায় যোগাযোগ করুন: অবকাশ পর্যটন লি., আলহাজ সামসুদ্দিন ম্যানসন (নবম তলা), ১৭ নিউ ইস্কাটন রোড, ঢাকা।  ফোন : ৮৩৫৮৪৮৫, ৯৩৪২৩৫১, ৯৩৫৯২৩০, ০১৫৫২৩৭২২৬৯।
নিঝুম রিসোর্টে যোগাযোগ করুন: মোঃ মনির হোসেন, ইনচার্জ, নিঝুম রিসোর্ট, হাতিয়া, নোয়াখালী। ফোনঃ ০১৭২৪-১৪৫৮৬৪।


সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology