ঢাকা

প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের হাট

প্রকাশ : 11 ডিসেম্বর 2011, রবিবার, সময় : 23:26, পঠিত 4559 বার

আলমগীর রাসেল
প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের আধার জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়। সৌন্দর্যের সবটুকু যেন নিজেই ধারন করে রেখেছে বাংলাদেশের একমাত্র এই আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়টি। প্রাকৃতিক সৌন্দর্র্যে ভরপুর বিশ্ববিদ্যালয়টির পুরো ক্যাম্পাস প্রথম দেখাতেই যে কাউকে মুগ্ধ করে দিবে এবং প্রকৃতিকে খুব কাছে থেকে দেখার স্বাদ মিটিয়ে দিবে, বিশুদ্ধ বাতাস শীতল করে দিবে হৃদয়। এখানকার ছাত্রছাত্রীরা তো বটেই এছাড়াও সাধারণ মানুষের জন্য এ এক প্রাকৃতিক আশ্চর্য। বিশ্ববিদ্যালয়ের পুরো ক্যাম্পাসটাকেই প্রকৃতি এক নিবিড় আলিঙ্গনে জড়িয়ে রেখেছে, যা যে কোন মানুষের দু:খ কষ্ট অবসাদ নিমেষেই ভুলিয়ে দেয়ার জন্য যথেষ্ট। ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের পাশে অবস্থিত ক্যাম্পাসটিতে প্রবেশের মূল ফটক বলতে ডেইরী গেট কে প্রাধান্য দেয়া  হয়ে থাকে। এ ছাড়াও প্রবেশের জন্য আরো কয়েকটি গেট আছে। ডেইরী গেট দিয়ে ঢুকতেই জাহাঙ্গীরনগর আশ্চর্যের শুরু। বিশাল এক খেলার মাঠ। যদিও মাঠ ব্যাপারটি সাধারণ, কিন্তু জাহাঙ্গীরনগরের এই মাঠটি চারদিকে ছায়াসুশীতল মায়াবী গাছ গাছালির বেষ্টনি এবং সবুজের চাদর বিছিয়ে দিয়ে অপরূপ করে রেখেছে নিজেকে। এটিই ক্যাম্পাসটির সেন্ট্রাল মাঠ। এখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব খেলধুলার পাশাপাশি আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ইভেন্টগুলো অনুষ্টিত হয়ে থাকে। এছাড়াও বিশ্ববিদ্যালয়ের বড় বড় আয়োজনগুলো এই মাঠেই হয়ে থাকে। রাস্তায় সারিবাঁধা গাছগুলো দেখে হাটতে হাটতেই মেহের চত্বরে এসে দাড়াই, এখানে এক সময় আড্ডার মেলা বসতো। মূলত ক্যাম্পাসের ছাত্রছাত্রীদের আড্ডার মূল স্থান ছিল এটি, যা বর্তমানে টারজান পয়েন্টে নির্বাসিত। টারজান পয়েন্ট টি কে কখন আবিষ্কার করেছে জানা না গেলে ও এ পয়েন্টটি ক্যাম্পাসটির একটি গুরুত্বপূর্ন জায়গা, কারন এখানে টারজান না থাকলেও ছাত্রছাত্রীদের অবস্থান চোখে পড়ার মত। এখানকার আড্ডাগুলোর ধরাবাধা কোন নিয়ম নেই। সকাল থেকে শুরু করে রাত পর্যন্ত চলে বিরতিহীনভাবে, মস্তিষ্কের উর্বর চিন্তাগুলো বিনিময় হয় বন্ধুদের সাথে। এ সময় চায়ের দোকানগুলো ব্যস্ত সময় কাটায় । চা পান চলে আড্ডার ফাঁকে ফাঁকে, বলে রাখা ভাল জাহাঙ্গীরনগরের ক্যাম্পাস জুড়েই টুকরো টুকরো আড্ডা চোখে পড়ে। এর মধ্যে টারজান পয়েন্টের অবস্থান সবার উপরে। সেন্ট্রাল মাঠের পাশেই মুক্তমঞ্চের অবস্থান। এই মুক্তমঞ্চে সারাবছরই কোন না কোন উৎসব চলতে থাকে। একাধারে মাসব্যাপী নাট্য উৎসব চলে, যাত্রা, বাউল সঙ্গীত, পালা গানের আয়োজন হয়। অনেকটা গ্রীক নাট্যমঞ্চগুলোর স্থাপত্যকলার আদলে গড়া জাহাঙ্গীরনগরের মুক্তমঞ্চটির সাথে দেশের প্রয়াত নাট্যব্যক্তিত্ব শ্রদ্বেয় সেলিম আল দীনের স্মৃতি জড়িত। জাহাঙ্গীরনগরকে সাংস্কৃতিক তীর্থভূমি বললে ও ভুল হবে না। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক সংগঠনগুলো সারাবছরই বিভিন্ন কর্মসূচীর মাধ্যমে রঙ্গীন উৎসবে মেতে থাকে, কখনো বৈশাখ, কখনো শরৎ আবার কখনো বর্ষা। একটি বলয়ের মধ্যে আবর্তিত হতে থাকে তাদের সাংস্কৃতিক যজ্ঞ। লোকজ উৎসবগুলো এখানে প্রাণ পায় নতুন উদ্যমে। মুক্তমঞ্চের পাশেই জাহাঙ্গীরনগর টি এস সি, প্রধান ক্যাফেটরিয়া, জহির রায়হান অডিটোরিয়াম। ক্যাফেটরিয়ার বাইরে শান্ত পরিবেশ বসার পরিপাটি যায়গা রয়েছে, এখানে বসে কফি পান করার মজাই আলাদা। অডিটোরিয়ামের পাশেই ছোটখাট বৃন্দাবনের অবস্থান, জায়গাটির সুনসান নিরবতায় হাটতে ভালই লাগে। ডেইরী গেট থেকে কবীর স্মরনীর দিকে যাওয়া রাস্তাটির পাশেই মাথা উচু করে দাড়িয়ে থাকা অমর একুশে ভাস্কর্য যা পেছনের স্মৃতি মনে করিয়ে দেয় আরেকবার। যে কারো এখানে কিছুক্ষন দাড়িয়ে থাকতে ইচ্ছে করবে, তাকিয়ে থাকতে ইচ্ছে করবে এর বিশাল আকৃতিতে। স্থাপনাগুলো গুলো এক একটি তার নিজস্ব স্বকীয়তার জানান দেয়। দেশের সর্বোচ্চ শহীদ মিনারটি এই ক্যাম্পাসে অবস্থিত। প্রায় ৭১ ফিট উচ্চতার শহীদ মিনারটি স্থাপত্যকলার এক শৈল্পিক নির্দশন। লাল ইটের ভিতে তিনটি পিলারের উপর স্থাপিত সুউচ্চ শহীদ মিনারটি রোদেলা দুপুরের কাঁচা রোদে লাল আভায় চকচক করে উঠে। উৎসবের আরো একটি জায়গার নাম মহুয়া চত্বর। নতুন কলা ভবনের পাশে মহুয়া চত্বরকে ঘিরে নানা উৎসব আয়োজনে মুখর হয়ে থাকে, বিশেষ করে প্রয়াত শ্রদ্বেয় সেলীম আল দীনের জন্ম বার্ষিকীতে এখানে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়ে থাকে, বর্ণিল এই আয়োজনে এক প্রাণে মিশে যায় ক্যাম্পাসের সকলে। এর একটু দূরেই কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির অবস্থান যার ঠিক সামনে দাড়িয়ে আছে ভাস্কর্য সংসপ্তক। ক্যাম্পাসের দর্শনীয় স্থানগুলোর মধ্যে এটিও একটি, যদিও নির্দিষ্ট করে বলার উপায় নেই ক্যাম্পাসটির এই জায়গা অপেক্ষা ওই জায়গা সুন্দর, কারণ এখানে প্রকৃতি নিজেই নিজেকে দেখায় তার নিজের মতো করে এবং প্রত্যেকটি জায়গা তার নিজ গুনে অনন্য। লাইব্রেরি সংলগ্ন গাছগাছালিতে পূর্ন জায়গাগুলো গ্রাম বাংলার কথাও মনে করিয়ে দেয়। বিচ্ছিন্নভাবে পুরো ক্যাম্পাস জুড়েই লেক, মাঠ, গাছগাছালিতে পরিপূর্ন। ছোট বড় সব মিলিয়ে লেক আছে প্রায় দশটার মত। ছাত্রছাত্রীদের উৎসবের পাশাপাশি লেকগুলোতে ও মেলা বসে, পাখিদের মেলা। সেই মেলায় অংশ নেয় পদ্ম, নানা লতা জাতীয় জলজ উদ্ভিদ। মেলাটি পূর্ণতায় রূপ নেয় শীতকালে, যেখানে দেশীয় পাখিদের সাথে অংশ নেয় সাত সমুদ্র তের নদী পার হয়ে আসা অতিথি পাখি। তখন গোটা জাহাঙ্গীরনগরই উৎসব মুখর পরিবেশ বিরাজ করে।
পাখপাখালির কলকাকলিতে পরিবেশে ভিন্নমাত্রা ধারন করেছে, ক্যাম্পাস জুড়েই রয়েছে জানা অজানা বাহারি রকমের পাখির সমাহার, কিচিরমিচির শব্দ কানে আসতেই মন নেচে উঠে। পাখি প্রেমীরা এখানে এসে তৃপ্তির ঢেকুর তুলতে পারেন, সাথে একটি ভালো রেজুলেশনের ক্যামেরা থাকলে তো কথাই নেই, প্রতি ক্লিকেই উঠে আসতে পারে অসাধারন সব ছবি। ট্রান্সপোর্ট; ক্যাম্পাসের আরেকটি আড্ডাস্থল। এখানে অনেক সুপারি গাছ আছে যার সাথে হেলান দিয়ে এখানেও আড্ডা হয় ঘন্টার পর ঘন্টা, গল্প হয়, নিজস্ব গল্প, বানানো গল্প, গলা ছেড়ে গান হয়, ভনিতা হয়, মান অভিমান হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব বাস গুলো ট্রান্সপোর্টে বিশ্রাম নেয়। ট্রান্সপোর্টের পাশেই কার্লভাটের মত একটি ছোট্ট ব্রিজ যাকে এখানকার ছাত্রছাত্রীরা আদর করে গোল্ডেন ব্রীজ বলে ডাকে, এরকম ব্রিজের সংখ্যা ও অগনিত, সুযোগ পেলেই যার উপরে অনেকে বসে পড়ে, আড্ডা জমায়। ব্রিজের পাশে পদ্ম ফোটা লেক, এখানে বসলে দুর থেকে প্রীতলতা হলের স্থাপত্যশৈলীর মাঝে নিজেকে কিছুক্ষন হারিয়ে ফেলতে ইচ্ছে করবে যে কারো। চোখ জুড়িয়ে আসবে, হাতছানি দিয়ে ডাকবে হলের চূড়াটি। যা ভাষায় প্রকাশের সীমাও ছাড়িয়ে যায়। সত্যিই অতুলনীয়। লাল ইটের দালানগুলো ক্যাম্পাসের শোভা বাড়িয়ে দিয়েছে শতগুন। ক্যাম্পাসের বেশিরভাগ ভবন ই লাল ইটের তৈরী, সাথে অপরূপ স্থাপত্যশৈলী। প্রান্তিক ক্যাম্পাসটিতে প্রবেশের দ্বিতীয় গুরূত্বপূর্ন ফটক, এখানে ও আড্ডা হয় । প্রন্তিক থেকে একটু ভিতর দিকে হেটে আসলেই চৌরঙ্গী, চৌরঙ্গীতে অনেককে বসে থাকতে দেখা যায়, এখানে বসে ও অনেকে গল্প করে যা পৌছায় একেবারে পুরাতন কলা ভবনের কাছে গিয়ে। এই ক্যাম্পাসে এসে এক রাঙ্গামাটির সন্ধান পেলাম, যদিও প্রথমে রাঙ্গামাটির কথা শুনে কিছুটা হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম, এখানে আবার রাঙ্গামাটি আসলো কিভাবে। কিছুক্ষন পরে বুঝতে পারলাম  এই রাঙ্গামাটি পাহাড়ী কোন জনপদ নয়, ক্যাম্পাসের পাশেই একটি গ্রামের নাম। এর নামকরনের পিছনে মূলত কাজ করেছে এর লাল মাটি গঠিত ভূমির আস্তরন থেকে। রাঙ্গামাটি গ্রামটিকে দেখতে বেশ ভালই লাগে। এখানে এসে আমার সুইজারল্যান্ড দেখার ও ভাগ্য হয়েছে। নিজেকে ভাগ্যবানই মনে হয়। প্লেন বাদ দিয়ে ঢাকা থেকে বাসে করে সুইজারল্যান্ড চলে আসলাম তাও মাত্র দেড়-দুই ঘন্টায়। রেজিষ্ট্রার ভবনের ঠিক পিছনেই যার অবস্থান। লেকের পানিতে পদ্ম, বাহারী পদের ফুল গাছ এবং বড় বড় গাছগাছালিতে ভরপুর জায়গাটি কোলাহলমুক্ত, আমি দেখে অবাক হই, আসলেই জায়গাটি এত সুন্দর যে এটাকে সুইজারল্যান্ড হিসেবে স্বীকৃতি দিতে আমার এক মূহুর্ত সময় লাগে না। এক বাক্যে স্বীকার করি জায়গাটির নাম সুইজারল্যান্ড দিয়ে ছাত্রছাত্রীরা ভুল করেনি বরং তাদের শিল্প মনের পরিচয় দিয়েছে। সুইজারল্যান্ডের মত এরকম অসংখ্য জায়গা আছে জাহাঙ্গীরনগরের পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে। বঙ্গবন্ধু হলের পিছনে দিগন্তজোড়া কাশফুলের মাঠ আছে, সাদা শুভ্র ফুলের মাঠ, যা কল্পনার জগতকে জাগ্রত করে, এখানে আসলে ছবি তুলতে ইচ্ছে করবে, কাশ ফুলের নরম ছোয়া পেতে ইচ্ছে করবে। হলটির আশেপাশে কিছু ছোট ছোট টিলা আছে এগুলো আকারে অনেক বড় না হলেও খুজে নেয়া যায় পাহাড়ি ফ্লেবার, আরোহন করা যায় নিচ থেকে একেবারে চূরায়, মাটির গন্ধে বুদ হই। বটতলা ক্যাম্পাসের একটি উল্লেখযোগ্য যায়গা। পেট যদি কাউকে বলে আমার ক্ষুধা লেগেছে তবে সবাই ছুটে যায় বটতলার উদ্দেশ্যে। বটতলায় খাবারের পসরা সাজিয়ে বসে থাকে ছোট ছোট খুপরি ঘরের খাবারের দোকানগুলো। খুব কম টাকায় এখানে খাবার খাওয়া যায়। তিন বেলা পেট পুরে ভাত খেলে ও টাকা লাগে খুব কম, বাহারি রকমের ভর্তা সহ খাবারের সব আইটেম পাওয়া যায় । যেটা আমার কাছে অবিশ্বাস্য লাগে। কেউ এখানে না আসলে বুঝতেই পারবেন না যে খাবারের দাম কত কম হতে পারে। এই চড়ামূল্যের বাজারেও খাবারের মূল্য খুবই সীমিত। দোকানীরা সর্বদা এখানে গমনকারীদের সেবায় প্রস্তুত থাকে। দোকানীদের সাথে ছাত্রছাত্রীদের সম্পর্ক একেবারে আপন মানুষের মত। হলগুলোতে খাবারের ব্যবস্থা থাকলেও এক অদ্ভুত মায়ায় এই খাবারের খুপরি ঘর গুলোতে সবাই এসে ভিড় জমায়। খাবারের স্বাদ ও অতুলনীয়। এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়ের অনেক শিক্ষকরা ও এখানে এসে তাদের প্রত্যাহিক খাবারদাবার পর্ব সেড়ে নেয়, এটা নিয়মিত ব্যাপার, ছাত্রশিক্ষক মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় তারপরও সম্মানের জায়গা থেকে সবাই সবার অবস্থানে সজাগ থাকে। এ এক অন্যরকম আনন্দ। দোকানগুলো সকাল থেকে মধ্যে রাত পর্যন্ত খোলা থাকে। হলগুলোতে যে কেন্টিন আছে সেখানে ও চলে আজব আজব আইটেমের খাবার, এই যেমন কেউ চানাচুরের সাথে ডিম ভেজে খায় আবার কেউ কেউ বনরুটি, ছোলা, কন্ডেস মিল্কের সাথে মিক্্র করে খায়, প্রত্যেকেই নিজের খেয়ালখুশী মত খাবারের রেসিপি তৈরী করে, নিজেরা খায় অন্যকে খাওয়ায়। খাবারের তালে তালে চলে কথোপকথন। আবার কেউ রফিক জব্বার হলের পিছনের গেরুয়া বাজারে চলে যায় দই চিড়া খেতে। ছোট এই বাজারটি দই চিড়ার জন্য ক্যাম্পাসের ছাত্রছাত্রীদের কাছে বিখ্যাত। এর স্বাদ ভুলবার নয়। একবার কেউ খেলে বারবার খেতে ইচ্ছে করবে, খাবারের রুচি না থাকলে ও রুচি বাড়িয়ে দিবে। ভেজাল মুক্ত দই, হোটেলের কর্মচারিরা নিজেরা তৈরী করে বলে এর স্বাদ হয়তো এ জন্য একটু বেশিই হয়ে থাকে। মওলানা ভাসানী হলের সামনের শান বাধানো পুকুরটি অপলক দৃষ্টিতে চেয়ে দেখি। বিভিন্ন ফুল গাছে ঘেরা পুকুর ঘাটে বসে গিটার হতে লাকী আকন্দের সুর  তোলে কেউ কেউ, আমারও বসতে ইচ্ছে করে সুরের তালে তাল মেলাতে ইচ্ছে করে। ক্যাম্পাসে একটি মিনি বোটানিক্যাল গার্ডেনও আছে অবশ্য সেখানে প্রবেশাধিকার সংরক্ষিত, বিশ্ববিদ্যালয়টির উদ্ভিদবিদ্যা বিভাগের গবেষনাঘার হিসেবে এটি ব্যবহৃত হয়, মীর মোশারফ হোসেন হলের পিছন থেকে এ দিকটায় তাকালে মনে হয় সুন্দরবনের কোন গভীর অরন্য দেখছি, এর পাশে যে লেকটি সে ও যেন সৌন্দর্যের পসরা সাজিয়ে বসে আছে , সাদা বকগুলো গভীর মনযোগে মাছ শিকারে ব্যস্ত, মানুষের শব্দ পেলেই উড়াল দেয় আকাশে, বিচরন করে ক্যাম্পাসের এক লেক থেকে অন্য লেক। আকাশটাকে ও এখানে কেমন যেন অন্যরকম মনে হয় সবকিছু যেন খুব সহজ ভাবে মানিয়ে নিয়েছে নিজের সাথে, আমি মুগ্ধতার শেষ সীমায় পৌছাই। প্রজাপতি আকৃতির মীর মোশারফ হোসেন হল আরো একটি সুন্দর স্থাপনা। অনেকটা প্রজাপতির আকৃতিতে এটি নির্মান করা হয়েছে। যদি ও ভিউটা উপর থেকে দৃশ্যমান তারপরও নিচ থেকে কিছুটা বোঝা যায়। প্রথম ভ্রমনে এর ভিতরে প্রবেশ করলে যে কেউ নির্ঘাত পথ হাড়িয়ে ফেলবে গোলক ধাধায়, সঠিক পথে বের হয়ে আসতে বেশ কষ্ট হবে। যা অবিশ্বস্য মনে হলেও বাস্তবতার নিরিখে একশো পারসেন্ট সত্য, ছাত্ররা এটার সাথে মানিয়ে নিলেও প্রথম প্রথম সবারই এই সমস্যা হয়েছে, তাই এটি আমার কাছে এক আশ্চর্যজনক স্থান, বিষয়টা খুব মজার, যা চোখে না দেখলে উপলব্দি করা কঠিন। এই ক্যাম্পাসের আরো একটি আশ্চর্যজনক বিষয় হল ক্যাম্পাসের সব ছাত্রছাত্রী যেন একটি ফ্যামেলীর মত বসবাস করে। এ মাথা থেকে ও মাথা সবাই সবার পরিচিত, আপন। সবাই সবাইকে চেনে। যেটা দেশের অন্যান্য পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিশ্ববিদ্যালয়টিকে আলাদা যায়গায় স্থান দেয়, ভ্রাতুত্বের যায়গাটুকু স্পস্ট করে। প্রায় সাতশো একরের উপর অবস্থিত ক্যাম্পাসটি পুরোটাই নিজেকে ধারন করে রেখেছে অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য দিয়ে। যেখানে গেলে নিজেকে হারিয়ে ফেলতে ইচ্ছে করবে গাইতে ইচ্ছে করবে, একেবারে থেকে যেতে ইচ্ছে করবে চিরদিনের জন্য। 


সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology