ঢাকা

যাবেন নাকি লালবাগ কেল্লায়?

প্রকাশ : 24 আগস্ট 2010, মঙ্গলবার, সময় : 04:43, পঠিত 14453 বার

তপু রায়হান
মোগল আমলে বাংলায় নির্মিত ঐতিহাসিক স্থাপনার মধ্যে ঢাকার বুড়িগঙ্গার তীরে অবস্থিত লালবাগ কেল্লাটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি পুরাকীর্তি। সতেরো শতকে বাংলায় মোগল শাসকদের শাসন মনোভাব, স্থাপত্য বিকাশের ঐতিহাসিক ক্ষেত্র এই লালবাগ কেল্লা।
ইতিহাসের পাতায় লালবাগ কেল্লার রূপকার হিসেবে শায়েস্তা খানের নাম পাওয়া গেলেও শায়েস্তা খান মূলত এই স্থাপনা নির্মাণকার্য শুরু করেননি। এটির নির্মাণের স্বপ্ন এবং সূচনা ঘটেছিল মোগল সম্রাট আওরঙ্গজেবের তৃতীয় পুত্র মুহাম্মদ আযম শাহের হাত ধরে। আযম শাহ ১৬৭৮-৭৯ সাল পর্যন্ত মাত্র এক বছর বাংলার সুবাদার ছিলেন। এই সময়টাতে তিনি বুড়িগঙ্গার তীরবর্তী স্থানে তার পিতার নামানুসারে একটি স্থাপনা নির্মাণের কাজে হাত দেন। যার প্রথম নাম আওরঙ্গবাদ কিল্লা হলে পরবর্তীকালে লালবাগ কেল্লা নামে পরিণত হয়ে যায়। সুবাদার আযম শাহ লালবাগ কেল্লা নির্মাণ শুরু করলেও দিল্লি থেকে জরুরি তলব আসায় ঢাকায় তিনি আর অবস্থান করতে পারেননি। সুতরাং থমকে যায় লালবাগ কেল্লার নির্মাণ কার্যটিও। তার অবর্তমানে ঢাকায় প্রেরিত নতুন সুবাদার শায়েস্তাখানকে তিনি আওরঙ্গবাদ কিল্লাটির অসম্পূর্ণ কার্য সম্পূর্ণ করার অনুরোধ করেন। শায়েস্তাখান আপন জামাতার এই নির্দেশনাকে বাস্তবায়ন করতে পারেননি তার বিশেষ পারিবারিক কারণে। এর পেছনে কয়েক ধরনের রটনা আছে। অনেকের মতে, এই আওরঙ্গবাদ কিল্লা বা লালবাগ কেল্লা নির্মাণের সময় শায়েস্তাখান তার কন্যা ইরান দুখতকে হারান। যিনি ছিলেন কেল্লা নির্মাণের প্রথম রূপকার আযম শাহের স্ত্রী। এ কারণেই শায়েস্তা খানের মনে বিশ্বাস জে কেল্লাটি একটি অপয়া স্থাপনা। সুতরাং তিনি অসম্পূর্ণ দুর্গটি নির্মাণে আর বেশিদূর অগ্রসর হননি। দুর্গ নির্মাণে শায়েস্তা খানের নিদারুণ অনাগ্রহ পর্যবেক্ষিত হলেও আপন কন্যা ইরান দুখতের মাজারকে তিনি দর্শনীয় স্থাপনা বানিয়ে তোলেন। মাজারটি নির্মাণের লক্ষ্যে শায়েস্তা খান ভারতের বিভিন্ন এলাকা থেকে সাদা মার্বেল, ব্যাসল্ট, বেলে পাথরসহ আরও অসংখ্য গুরুত্বপূর্ণ নির্মাণ উপকরণ এনেছিলেন। আর এগুলোর সমন্বয়করণেই তৈরি হয়েছিল লালবাগ কেল্লার অন্যতম দর্শনীয় পরী বিবি বা ইরান দুখতের মাজারটি। এই মাজার ছাড়াও লালবাগ কেল্লার অভ্যন্তরে রয়েছে গোসলখানা, একটি মসজিদ, পুকুর আর বাগান। পুরো বাংলার শাসনক্ষমতা মোগল সম্রাটের অধীনস্থ থাকলেও সম্রাট আওরঙ্গজেব শায়েস্তা খানের মেয়ের স্মৃতিস্বরূপ লালবাগ কেল্লাটিকে শায়েস্তাখানকে দান করে দেন। শায়েস্তাখানের পরবর্তী বংশধরেরা কেল্লাটিকে সরকারের কাছে লিজ দিয়ে বার্ষিক ৬০ টাকা করে পেতেন। পুরানা পল্টন থেকে ১৮৫৩ সালে সেনানিবাস পরিবর্তন করে এই লালবাগ কেল্লায় নিয়ে আসা হয়। ১৮৫৭ সালের সিপাহি বিপ্লবের ক্ষেত্রেও এই কেল্লাটির বিশেষ ভূমিকা রয়েছে। বর্তমানে কেল্লাটিকে একটি সংরক্ষিত পুরাকীর্তি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। এর সংরক্ষণ এবং রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব বাংলাদেশ সরকারের প্রততত্ত্ব বিভাগের এখতিয়ারে আছে। লালবাগ কেল্লায় যেতে হলে, গুলিস্তান গোলাপশাহর মাজার থেকে টেম্পুযোগে মাত্র ৬ টাকায় যাওয়া যাবে লালবাগ কেল্লায়। ইসলামবাগ ও কিল্লার মোড়গামী দুধরনের টেম্পো দিয়ে দিন রাত সব সময় যাওয়া যায় লালবাগ কেল্লায়। এছাড়াও নিউমার্কেট কিংবা গুলিস্তান এলাকা থেকে সরাসরি রিক্সায় যাওয়া যায় লালবাগ কেল্লায়। ভাড়া পড়বে ৩০-৪০ টাকা। আর বাংলাদেশ জাতীয় জাদুঘরের সামনে (শাহবাগ) থেকে ১০ টাকা ভাড়ায় বিশেষ বাস সার্ভিস রয়েছে লালবাগ কেল্লা পরিদর্শনে আগ্রহীদের জন্য। এছাড়াও যারা কম টাকায় কেল্লা পরিদর্শন করতে চান তারা সদরঘাট ভায়া গুলিস্তান গোলাপ শাহর মাজার হয়ে যেতে পারেন। ভাড়া লাগবে মাত্র ৫ টাকা। গুলিস্তান থেকে ভাড়া লাগবে মাত্র ২ টাকা। তারপর ঢাকেশ্বরী মন্দির থেকে ৫ মিনিট পায়ে হেঁটে অথবা ১০ টাকা রিকশা ভাড়ায় যাওয়া যাবে লালবাগ কেল্লায়।


সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology