ঢাকা

বুড়িগঙ্গা তীরের আহসান মঞ্জিল

প্রকাশ : 23 সেপ্টেম্বর 2010, বৃহস্পতিবার, সময় : 07:45, পঠিত 4646 বার

তপু রায়হান
৪শ বছর পেরিয়ে গেছে মহানগরী ঢাকার। ৪শ বছরের এই নগরীকে ঐতিহ্যের জালে আবদ্ধ করে রেখেছে বেশকিছু স্থাপত্যকীর্তি। তার একটি আহসান মঞ্জিল। আহসান মঞ্জিলের ইতিহাস জানা যায়, জমিদার শেখ ইনায়েত উল্লাহ অষ্টাদশ শতাব্দীর মাঝামাঝি এখানে (বর্তমান আহসান মঞ্জিল) প্রমো দভবন নামে একটি রঙ্গমহল তৈরি করেন। ইনায়েত উল্লাহর মৃত্যুর পর তার পুত্র শেখ মতিউল্লাহ রঙ্গমহলকে ফরাসি বণিকদের কাছে বিক্রি করে দেন। ফরাসিরা এই প্রমোদ ভবনটি বর্তমান আহসান মঞ্জিল) তাদের বাণিজ্য কুঠির হিসেবে ব্যবহার করে। ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে খাজা আলিমুল্লাহ ফরাসিদের কাছ থেকে ভবনটি ক্রয় করেন এবং বসবাস শুরু করেন। ১৮৭২ খ্রিস্টাব্দে নওয়াব আবদুল গণি পুরো ভবনটিকে পুনঃনির্মাণ করেন এবং তার পুত্র খাজা আহসান উল্লাহর নামানুসারে এই প্রমোদ ভবনটির নাম করেন আহসান মঞ্জিল।
শতাব্দীতে ঢাকায় নির্মিত অন্যান্য ইমারতের মধ্যে আহসান মঞ্জিল একটি উল্লেখযোগ্য ও অনবদ্য শৈল্পিক স্থাপত্য নিদর্শন। দক্ষিণে বুড়িগঙ্গার দিকে প্রাকৃতিক দৃশ্যশোভিত প্রাসাদের মনোরম অঙ্গন বিস্তৃত। সমগ্র আহসান মঞ্জিল ২টি অংশে বিভক্ত। পূর্ব পাশের গম্বুজযুক্ত অংশকে বলা হয় প্রাসাদ ভবন এবং পশ্চিমাংশের আবাসিক প্রকোষ্ঠাদি নিয়ে গঠিত ভবনকে বলা হয় অন্দর মহল। প্রাসাদ ভবনটি আবার ২টি সুষম অংশে বিভক্ত। মাঝখানে অষ্টকোণ গম্বুজটি উত্তোলিত।
আহসান মঞ্জিল জাদুঘরে মোট গ্যালারির সংখ্যা ২৬টি। মূল ভবনের সংস্কার কাজ চলার কারণে দর্শনীয় বস্তুগুলোকে পাশের ভবনে স্থানান্তর করা হয়েছে। স্থান সংকুলানের অভাবে এ ভবনে মোট ১১টি গ্যালারি করা হয়েছে।
প্রথম গ্যালারিতে আপনি দেখতে পাবেন আহসান মঞ্জিলের ইতিহাস লেখা বোর্ড, আহসান মঞ্জিলের মডেল, আহসান মঞ্জিলের তৈল চিত্র, ফানুস, ঝাড়বাতি।
দ্বিতীয় গ্যালারিতে আপনি দেখতে পাবেন নওয়াব সলিমুল্লাহ, লর্ড মিন্টো, লর্ড কার্জন, আগা খানের প্রতিকৃতি। শাহবাগ বাগানবাড়ির ছবি। নওয়াবদের ব্যবহত ল্যাম্প, কেরোসিন বাতি, অষ্টকোণ টেবিল, হুক্কার খোল, কোলকের ঢাকনা, ফুলদানি, পিকদানি, খামদানি, পানদানি, আফতারাব, সুরাই কৌটা, গোলাব পাশ, আতরদানি ফলপাত্র, সাবানদানি, চিনিপাত্র, চা পাত্র, দুধদান জগ, কেটলি এবং নিখিল ভারত মুসলীম লীগের প্রতিষ্ঠাতা নেতৃবৃন্দের ছবি।
তৃতীয় গ্যালারিতে আছে চীনা মাটির ফুলদানি ও স্ট্যান্ড ক্রিস্টাল চেয়ার, ক্রিস্টাল চেয়ার, অলংকৃত চেয়ার, হুক্কা, বিলিয়ার্ড বক্স, বিলিয়ার্ড বল, হাতির দাদের বিভিন্ন সামগ্রিক হাত পাখা, পিঠ চুলকানি, কাঁচি, চাকু, চামচ ও অলংকৃত সামগ্রী।
চতুর্থ গ্যালারিতে আপনি দেখতে পাবেন নওয়াব আবদুল গণি, আহসান উল্লাহ, সলিমুল্লাহ, খাজা নাজিমুদ্দিন, খাজা হাফিজুল্লাহ, নওয়াব হাবিবুল্লাহর প্রতিকৃতি। আরও দেখতে পাবেন ডায়েরি, জমি পত্তন দেয়ার দলিল, ডায়েরি (উর্দুতে লেখা) নওয়াবদের বংশের তালিকা।
পঞ্চম গ্যালারিতে স্থান করে আছে নওয়াব সলিমুল্লার জীবনের উল্লেখযোগ্য ঘটনা। চিঠি, জুয়েলারি অ্যালবাম, ফটো অ্যালবাম, আলোকচিত্র, তরবারি, গুপ্তি বেয়নেট, লেটার স্ট্যান্ড, সিল রাখার পাত্র। ডেক্স ক্যালেন্ডার স্ট্যান্ড, নওয়াব সলিমুল্লার ব্যবহত টুপি। তরবারি, সলিমুল্লার প্রতিকৃতি।
গ্যালারি নম্বার ৬ পুরোটাই একটা অতিথি কক্ষ। চেয়ার, টেবিল, শোপিস, ওয়াল পেপার, সোফা, ডাইনিং টেবিল, আলনা, প্রতিকৃতি, চেয়ার ইত্যাদিতে ভরপুর এই কক্ষ।
৭ নম্বার গ্যালারিতে আছে বিভিন্ন ধরনের মুদ্রা, ব্যাজ, মেডেল, হোল্ডার, কোর্টপিন ও মেডেল, কোর্টপিন, রাবার স্ট্যাম্প, কাঠ ও রাবার স্মারক ব্যাজ। এ গ্যালারিতে আরও আছে একে ফজলুল হক, হাকিব হাবিবুর রহমান, স্যার আশরাফ আলী, সৈয়দ শামসুল হুদা, স্যার আবদুর রহমান, স্যার যুবেন্দনাথ ব্যানার্জী, মাওলানা মোঃ আলী, সৈয়দ আমীর আলী, রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, নওয়াব মোহসীনুল মুলক, মাওলানা আকরাম খাঁ, স্যার সৈয়দ আহম্মদ খানের প্রতিকৃতি।
আরও আছে- অলংকৃত চেয়ার কাঠ, হুক্কা, নল, নইচা, কলকে।
গ্যালারি ৮ এ নওয়াব আবদুল গণির প্রিয় হাতি ফিরোজ জং-এর মাথার কঙ্কাল গজদন্তসহ সাজিয়ে রাখা হয়েছে।
৯ এ দেখতে পাবেন, ফিল্টার ট্যাংকসহ পানির কল ঘরের দৃশ্য। পানির ট্যাপ, জগ, পানির গ্লাস, কেরোসিন বাতি, গার্ডবাতি, হারিকেন সার্চ বাতি, হারিকেন-চুল্লি, বেগুন বাতির প্রসাদ, কেরোসিন চালিত পাখা, ব্যাটারি বৈদ্যুতিক মিটার, বৈদ্যুতিক কেটলি, ইশরাত মঞ্জিলের ছবি। কেরোসিন চুল্লি, বৈদ্যুতিক হিটার, টেবিল ল্যাম্প, মোমবাতি, ফানুস, লোহার চুল্লি, পানির ট্যাপ, অলংকৃত বালতি, মগ।
আরও দেখতে পাবেন বিভিন্ন তৈলচিত্র নওয়াব আবদুল গণির অনুদানে ১৮৭৪ খ্রি. ঢাকার প্রথম পানীয় জলের কল উদ্বোধনের তৈলচিত্র। আরও আছে পানির ড্রাম।
গ্যালারি ১০-এ আছে স্টেট বেড রুম। যার মধ্যে আছে খাট, ডেসিং টেবিল, ঘরি, বড় আয়না, কাচের ল্যাম্প, জামাকাপড় রাখার স্ট্যান্ড।
১১ তে ভবনের নিচ তলায় একটি পাঠাগার আছে আপনি ইচ্ছা করলে আহসান মঞ্জিল সম্পর্কে এ পাঠাগারে গিয়ে জানতে পারবেন।
ঢাকার দক্ষিণাংশের বুড়িগঙ্গা নদীর তীরে এই সুরম্য মঞ্জিল অবস্থিত।
সেখানে যেতে হলে আপনি দেশের যে প্রান্ত থেকেই আহসান মঞ্জিল দেখতে আসবেন আপনাকে প্রথম সদরঘাট (পুরান ঢাকাই যেতে হবে। সেখান থেকে হেঁটে অথবা রিকশায় করে আপনি চলে যেতে পারবেন আহসান মঞ্জিল। আহসান মঞ্জিল জাদুঘর খোলা থাকে শীতকালে শনি-বুধবার ৯.৩০ থেকে ৪.৪০ পর্যন্ত।
শুক্রবার- বিকেল ৩.৩০ থেকে ৭.৩০ পর্যন্ত এবং বৃহস্পতিবার সাপ্তাহিক ছুটির দিন। 


সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology