নরসিংদী

রাজা নরসিংহের নরসিংদী

প্রকাশ : 17 সেপ্টেম্বর 2011, শনিবার, সময় : 08:53, পঠিত 3997 বার

নরসিংদী বাংলাদেশের একটি সুপ্রাচীন সমৃদ্ধ জেলা । এবং তাঁতবস্ত্রের জন্য বিখ্যাত জনপদ।  শিক্ষা, শিল্প, সংস্কৃতি, ইতিহাস, ঐতিহ্য, স্বাধিকার আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধে নরসিংদীর রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল অবদান। নরসিংদী জেলার আয়তন ১ হাজার ১৪০ দশমিক ৭৬ বর্গকিলোমিটার। উপজেলা আছে ৬টি। উপজেলাগুলো হলো নরসিংদী সদর, বেলাবো, মনোহরদী, পলাশ, রায়পুরা ও শিবপুর। প্রধান নদীগুলো হচ্ছে : মেঘনা, আড়িয়াল খাঁ, পুরাতন ব্রহ্মপুত্র, হাঁড়ীধোয়া, শীতলক্ষ্যা ও কলাগাছিয়া। নরসিংদীর উত্তরে কিশোরগঞ্জ, দক্ষিণে নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া, পূর্বে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কিশোরগঞ্জ এবং পশ্চিমে গাজীপুর জেলা। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে নরসিংদী ৩ নং সেক্টরের অধীনে ছিল।

নরসিংদী শহরের নামকরণের ইতিহাস
হাবসী শাসনামলের শেষ পর্যায়ে সোনারগাঁও অঞ্চলের উত্তর-পশ্চিম সীমান্তে শীতলক্ষ্যার তীরে হিন্দু জমিদার ধনপদ সিংহ রাজা খেতাব গ্রহণ করেন। রাজা ধনপদ সিংহের পুত্র নরসিংহী বাবার জমিদারির সীমা বৃদ্ধি করে প্রাচীন ব্রহ্মপুত্র নদের তীরে, নগর নরসিংহপুর নামে একটি ছোট্ট শহর প্রতিষ্ঠা করেন। নিজের আবাসিক স্থান তৈরি করেন। বর্তমানে পলাশ উপজেলার পারুলিয়া গ্রামটিই সেই শহর। ধারণা করা হয়, রাজা নরসিংহের নাম থেকেই নরসিংদী নামকরণ হয়েছে। নরসিংদীর সঙ্গে দী শব্দটির একটি ব্যাখ্যা আছে। আসলে প্রাচীনকালে শব্দটি ছিল ডিহি। সংস্কৃত ভাষায় ডিহি শব্দের অর্থ হলো ডাঙা। নরসিংদী একটি উঁচু অঞ্চল। সেই কারণেই স্বভাবতই এর নাম ছিল নরসিংহ ডিহি। পরবর্তীতে সাধারণের মুখে মুখে এর নাম হয়েছে নরসিংদী। বর্তমান সময়ে হ বিলুপ্ত হয়ে নাম হয়েছে নরসিংদী।

সারা বাংলাদেশের মতো নরসিংদীতে রয়েছে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি
১৯৭১-এ সেনাবাহিনী তাণ্ডব চালিয়েছে। হত্যা করেছে ছাত্র, শিক্ষক, মুক্তিযোদ্ধাসহ মুক্তিকামী নিরীহ মানুষ। এ জেলায় আছে অনেক বধ্যভূমি। তবে সেসব স্মৃতি এখন অনেকটাই ম্লান হয়ে গেছে। ঠিক তেমনই একটি স্মৃতি দেখতে হলে আপনাকে যেতে হবে নরসিংদী শহর থেকে ২ কিলোমিটার দক্ষিণে তারাবো সড়কের খাটেহারা সেতুতে।

এই সেতুতে যে কতজন মানুষ হত্যা করা হয়েছে তা আজ আর বলা সম্ভব নয়। তবে যুদ্ধ শেষে সেতুর আশপাশ থেকে উদ্ধার করা মাথার খুলি, কংকাল, জামাকাপড়, শাড়ি-চুড়ি-চুল দেখে এর সংখ্যা যে বেশ বড় রকমের তা নির্দ্বিধায় বলা যায়।

১৯৭১-এর ২৮ আগস্ট সকালে বর্বর পাকিস্তানি সেনারা নরসিংদী মহাবিদ্যালয়ে ঢুকে সরজকুমার নাথ, শিক্ষক রাধাগোবিন্দ সাহাসহ ২৭/২৮ জনকে ধরে নিয়ে আসে। হায়েনারা ওইদিন রাতের আঁধারে সবাইকে পাঁচদোনা সেতুর ওপর দাঁড় করে গুলি করে হত্যা করে। সেই স্মৃতি চিহ্ন নিয়ে পুরাতন ব্রহ্মপুত্র নদের ওপর এখনো দাঁড়িয়ে রয়েছে পাঁচদোনা সেতু।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের পাঁচদোনা মোড়ে রয়েছে অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ ভাস্কর্য। ২০০৭ সালে ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের অর্থায়নে জেলা প্রশাসনের পৃষ্ঠপোষকতায় এ ভাস্কর্যটি নির্মাণ করা হয়। শিল্পী কামরুজ্জামান স্বাধীন ও এহসানুল আহসান খান মিঠুর নকশায় অপ্রতিরোধ্য বাংলাদেশ ভাস্কর্যে ফুটে উঠেছে বাঙালির সংগ্রামের ইতিহাস।

পাঁচদোনা মোড়ের পাশেই রয়েছে পাঁচদোনা ইউনিয়ন ভূমি অফিস। আর সেখানে রয়েছে একটি মঠ। ইচ্ছে করলে ঘুরে-ফিরে দেখতে পারেন মঠটি।

১৮৩৫ সালে গিরিশচন্দ্র সেন এই পাঁচদোনায় জন্মগ্রহণ করেন। সাংবাদিকতা পেশার পাশাপাশি গুরু কেশবচন্দ্র সেনের উৎসাহে তিনি ইসলামী সাহিত্য সাধনা শুরু করেন এবং ১৮৮৬ সালে প্রথম পবিত্র কুরআনের বঙ্গানুবাদ সম্পন্ন করেন। বাংলা সাহিত্যে এটাই তার শ্রেষ্ঠ কীর্তি। ধর্ম সম্পর্কে জানার আগ্রহ, চারিত্রিক উদারতা এবং সত্যবাদিতার জন্য গিরিশচন্দ্র সব মানুষের শ্রদ্ধা অর্জন করেন। বলা চলে তিনি ছিলেন সর্বধর্ম সমন্বয়ের প্রতীক। তাই সকলে তাকে ভাই গিরিশচন্দ্র নামেই ডাকত। ১৯১০ সালে গিরিশচন্দ্র সেনের কর্মময় জীবনের অবসান হয়।


সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology