নেত্রকোনা

বড়াইলের প্রান্তরে

প্রকাশ : 06 অক্টোবর 2011, বৃহস্পতিবার, সময় : 10:10, পঠিত 2528 বার

মো. জাভেদ হাকিম
সরকারি ছুটি সামনে রেখে ভাবনা ছিল-মুঠো ফোনের রিং টোন বন্ধ করে, ঘরের দরজা লক করে সারাদিন ঘুমাব। কিন্তু কিসের ভাবনা আর হয় কি? ভ্রমণপিপাসু মন তা আর হতে দেয় না। ছুটির দিনক্ষণ যতই ঘনিয়ে আসে, ক্লান্ত দেহ-মন ততই চাঙ্গা হতে থাকে। উড়ন্ত মন উসখুস করতে থাকে দেশের কোন প্রান্তে ঠুঁ মারা যায়। স্বল্প সময়ে অল্প দূরত্বের অপরূপ প্রাকৃতিক নিদর্শন কি দেখা যায়? হঠাৎ মনে পড়ল প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের রানী নেত্রকোনার কথা। আমার এক আীয় থাকে। যেমনি মনে পড়া, তেমনি ফোন করা। এবং যাবার পরিকল্পনা। অনেকদিন দেখা হয়না।
১ মে খুব ভোরে ড্রাইভারকে বললাম রেডি হও। ঘুম কাতুরে ড্রাইভারের মাথায় যেন আকাশ ভেঙে পড়ল। ভেবেছিল আজ সে নাক ডেকে ঘুমাবে, তা আর হল না। ছুটছি নেত্রকোনার পথে। ময়মনসিংহ পার হওয়ার পর পথের দুপাশে সবুজের প্রান্তর, কালো ধোঁয়ামুক্ত নীল আকাশ, বাতাসে ধানের ছড়ার ঢেউ  খেলানো মন-মাতানো দৃশ্য দেখতে দেখতে পৌঁছে গেলাম সকাল ১০-৩০ মিনিটের মধ্যে নেত্রকোনার চকপাড়া উপশহরে। বাড়িতে ঢুকতেই স্বাদের বউয়ার ঘ্রাণ।
ইতিমধ্যে সম্পর্কে ফুপাত বোন ৯ম শ্রেণীতে পড়য়া বিফা অফার করল ভাইজান যাইবাইন আমরার বড়াইল (যাবেন আমাদের বড়াইল)। আমিও সাত-পাঁচ না ভেবে বললাম যাইবাম (যাব)। দুষ্টু বিফা খুব সুন্দর করে কথা বলতে পারে। আঞ্চলিকতার টানে কথা বলে আমার সঙ্গে জোক করেছে। জিজ্ঞাসা করলাম কি আছে সেখানে? গিয়েই দেখ না!
বড়াইল যাত্রা
নেত্রকোনা শহরের উদীয়মান শিশু নৃত্যুশিল্পী বিফার সঙ্গে যাচ্ছি গাবড়াগাতি থানার অন্তর্গত কংস নদীর তীর বড়াইল। শহরের খুব কাছাকাছি তাই ড্রাইভারকে বিশ্রামের সুযোগ দিয়ে হুড ছেঁড়া রিকশায় চড়ে যাচ্ছি, মাথার উপর সূর্য। তবুও আনন্দ, কিছু একটা দেখব। ছোট্ট একটা বাজারে এসে রিকশা থামল। মরুভূমির মতো তপ্ত বালু মাড়িয়ে নবনির্মিত ব্রিজের ওপর গিয়ে দাঁড়ালাম। পশ্চিম দিকে তাকাতেই দেখি পাহাড়ের কাঁধে আকাশ যেন হেলান দিয়েছে ওই। পাহাড়ি কংস নদী, স্বচ্ছ টলটলে পানি। দুতীরে শসা ক্ষেতের ছড়াছড়ি। ক্ষেত থেকে তাজা শসা তুলে খাওয়ার স্বাদ মনে থাকবে বহুদিন। এখনও ভারি যানবাহন চলাচল শুরু না হওয়ায় নিশ্চিন্ত মনে ব্রিজের একপ্রান্ত থেকে আরেক প্রান্ত হেঁটে বেড়ানো যায়। বড়াইলের অপরূপ নিসর্গময় প্রাকৃতিক পরিবেশ পর্যটন শিল্পে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার দাবি রাখে। বিশেষ করে কংস নদীকে মনে হয়েছে কোন বিখ্যাত চিত্রকরের স্বযতে আঁকা দরদী ছবি। বড়াইলকে পেছনে ফেলে এগিয়ে যাচ্ছি এবার মেদনি গ্রামে।
মেদনি গ্রাম
বিফাদের গ্রামের বাড়ি এখানে। সুন্দর, পরিপাটি গ্রামের মেঠো পথ। ছনের ও মাটির ঘর দেখে মনে হয়েছে আবহমান বাংলার চিরায়িত রূপ সম্ভবত এই গ্রামের বাসিন্দারাই ধারণ করে আছে। খালের পাশে বিলুপ্ত প্রজাতির কালিম পাশির পদচারণা, দূর থেকে মনে হয় ময়ূরী তার পেখম মেলে ধরবে। কচি ডাবের পানি আর কাঁচা আমের ভর্তা আহা... আহা... আহা... আহা। পুরো গ্রামটি দেখে মনে হয়েছে কাঁচা আমের বৃষ্টি ঝরছে। ধন্যবাদ বিফা। কৌতুক করে বললাম, পরীক্ষা শেষে ঢাকামে ঘুমনে আনা। ফ্যান্টাসি কিংডম ঘুরানে, লেকে যাওঙ্গা। বলার সময় ভেবেছিলাম কথার মাথামণ্ডু কিছুই বুঝবে না। ভুল ভাঙল আমার, তথ্যপ্রযুক্তির যুগে এখন সবাই এগিয়ে।
আরও যা দেখবেন
নেত্রকোনা জেলায় চারদিনের সময় নিয়ে ভ্রমণে গেলে দেখতে পাবেন দুর্গাপুরের বিজয়পুর গ্রামে চিনামাটির পাহাড়, কমলা রানীর দিঘি, গাড়, হাজং আদিবাসীদের বসতভিটা, মহনগঞ্জের বিশাল বিশাল হাওর, সঙ্গে তাজা মাছের স্বাদ, ইতিহাস খ্যাত মহুয়ার গ্রাম মনদ। শহরের বড় বাজারে অবস্থিত হযরত সূফী আঃ জব্বার (রহ.) প্রতিষ্ঠিত ঐতিহাসিক জামে মসজিদ। শতবর্ষী বটবৃক্ষের পাশে খেলাফত স্টোরে বস্তে সূফী সাহেবের শাহজাদা মৌলভী আবদুর রকিব সাহেব দীনি দাওয়াত দেন। প্রাচীন বিশালাকার দিঘি। দিঘির জলে আপন ছবি দেখে সাঁতার কাটতে ইচ্ছে করবে। আরও রয়েছে মণি সিংহের স্মৃতিসৌধ, রানী কং, বিরিশিরি কালচারাল একাডেমি।
যাতায়াত
ঢাকা মহাখালী থেকে নেত্রকোনার বাস সকাল হতে রাত্র পর্যন্ত ছেড়ে যায়। শহরে থাকার মতো বেশ কয়েকটি হোটেল রয়েছে।


সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology