রাঙ্গামাটি

পাহাড়ের পথে পথে

প্রকাশ : 26 আগস্ট 2014, মঙ্গলবার, সময় : 11:57, পঠিত 2774 বার

অহিদ উল্লাহ পাটোয়ারী
কুমিল্লা থেকে শ্যামলী পরিবহনের বাসে করে ছুটে চলা রাঙ্গামাটি। পাহড়ি উচু-নিচু রাস্তায় বাসের দুলনি ঘুরে বেড়াই বাংলাদেশ এর বন্ধুদের ঘুমাতে দেয়নি। ভোর ৫টায় বাস থেকে নামলাম রাঙ্গামাটি শহরে। শহরের হোটেল তাজমহলে গিয়ে উঠলাম। তাতঃপর রুমে। চোখে-মুখে রাজ্যের ক্লান্তি, ঘুম ছাড়া কথা নেই। ঘন্টাখানেক পরে উঠে গেলাম সবাই। নাসতা শেরেই রিজাব বাজার ঘাট থেকে টালার যুগে ছুটলাম বাংলাছড়া। সকাল ৯টার সময় থামল শুভলং। শুভলং ঝরনায় ঝাপাঝাপি করছিলাম আধাঘন্টার মতো। ঝরনা থেকে উঠে দেখি স্থানিয় পুলিন বিহারী চাকমার সঙ্গে গল্প করছেন খোকন। পুলিনদা ঘুরে বেড়াই বাংলাদেশ এর পুরোনো বন্ধু। আবার টলার ছুটলো বাংলা ছড়ার দিকে। ঘন্টা দেড়েকের মাথায় বাংলা ছড়ার কাছাকাছি পৌছে গেলাম। এক ঘন্টা পাহাড় চড়াই উৎরাই পেরিয়ে বাংলাছাড়া। রোদটা একটু বাড়ছে। শুরো হলো পাহাড়ী পথে হাটা। হাটতে হাটতে চাঁন্দি গরম হয়ে উঠতে থাকলো। অবশ্য ইব্রাহীম আর জাহাঙ্গীর যেন বাড়ির মতো হাঠছে। সবাই এসে দাড়ালাম পাহাড়ের চূড়ায়। স্যালাইনের পানিতে চুমুক দিতে দিতে চারদিকটা একবার দেখে নিলাম। সাদা মেঘের ভেলাগুলো সবুজ পাড়াকে ছুয়ে যাচ্ছে ঘুরে বেড়াই বাংলাদেশ এর বন্ধুরা দেখে পেলেছি বলে বুঝি লজ্জাও পাচ্ছে। পাহাড় থেকে নেমে আসতেই চোখ গিয়ে পড়ল একটি ছোট্ট দোকানের দিকে। দোকানে গিয়ে সবাই মিলে চা-নাস্তা সেরে আবার চড়াই উৎরাই পৌছে গেলাম বাংলাছড়া। ছাড়া বেশ প্রসন্ত পাহাড়ের গা ঘেষে বড় বড় গাছ দাড়িয়ে আছে। ছড়ার টলটলে পানি দেখে ঘুরে বেড়াই বাংলাদেশ এর বন্ধুরা লোভ সামলাতে পারলাম না। সবাই ভিজল ঘন্টাখানেক ভেজাভেজি করে ঝরনার কথা মনে হালো মংমারমার। যেখান থেকে ছড়াটি শুরু হয়েছে সেখানে নিশ্চয়ই একটি ঝরনা আছে। তাই আবার হাঁটা। অনেক্ষন হাটার পরেও ঝরনার দেখা নেই। এখানকার লোকজন বললেন, ঝরনাটি আরো গহিনে। তারাও ঝরনার ঠিকানা সঠিক বলতে পরছে না। তাই ফিরতি পথ ধরতে হলো। ওখান থেকে রাঙ্গামাটি শহরের আসতে রাত প্রায় ৮টা। রাতের খাবার খেয়েই রুমে। রুমেগিয়ে সবাই শুয়ে পড়লাম। ঘুমের দেশে গিয়ে আমি দেখি। শুরুতে ভালো লাগা প্রিয় সেই মানুষটি এসে বসলো ঝরনার কাছাকাছি তখন ঘুম ভেঙ্গে গেল, ভাবলাম প্রিয়তমা তো এতদিনে বৃদ্ধা হয়ে গেছে। সকালে নাসতা খেয়ে বের হলাম রাঙ্গামাটি শহরের আশ-পাশের জায়গাগুলো ঘুরতে। যাদুঘর, রাজবন বিহার, রাজবাড়ী ও পর্যটন কমপ্লেক্স (ঝুলন্ত ব্রীজ) দেখতে দেখতে দুপুর হয়ে গেলো। দুপুরের খাবার খেয়ে সোজা রুমে  ঘন্টাখানেক বিশ্রাম নিয়ে হোটেলের রুম ছেড়ে দিয়ে বেরিয়ে পড়লাম খাগড়াছড়ির উদ্দেশে। রাঙ্গামাটি থেকে খাগড়াছড়ি ৬৩ কিলোমিটার রাস্তা। কত আকাঁ বাঁকা পাহাড়ি পথ। বাস একটু একটু করে ব্যাক ঘুরে ঘুরে পাহাড়ে উঠছে। ডানে বামে উচু উচু পাহাড় আর পাহাড়। সেই পাহাড়ে কোলঘেষে কোথাও কোথাও ছোট ছোট বাড়িঘর। এ দৃশ্যগুলো দু'চোখ জুড়িয়ে দেখলাম। সন্ধ্যায় পৌঁছলাম খাগড়াছড়ি। শহরের শাপলা চত্বরের পাশে শিল্পি হোটেলে গিয়ে উঠি। রুমে গিয়ে প্রেশ হয়ে একটু বিশ্রাম নিয়ে বের হলাম। রাতের খাবার খেয়ে রুমে এসে ঘন্টাখানেক টিভি দেখে ঘুমালাম। সকালে নাসতা সেরে বের হলাম পর্যটন কমপ্লেক্স (আলুটিলার) উদ্দেশে। আলুটিলায় যাওয়ার পথে সবুজ পাড়াড়ের মাঝখানে ঘুরে বেড়াই বাংলাদেশ এর বন্ধুদের শুরু হল ছবি তোলা। আলুটিলায় প্রায় ৩২০০ ফুট উচু পাহাড়ের চূড়ায় খুঁজে পেলাম রাহস্যময় গুহা। গুহাটি অতিক্রম করার সময় সবাই ছিলাম পচন্ড শিহরিত। হোটেলে ফেরাত পথে রিছাং ঝরনা, ঝুলন্ত ব্রীজ, হাইকিং পাহাড় ও দেবতার পুকুর দেখলাম। দ্বিতীয় দিন সবাই দিঘিনালা উপজেলার একটি ফলের বাগান ও আদিবাসী পল্লী ঘুরে দেখলাম। সবুজ পাহাড়ের মাঝখানদিয়ে হেঁটে যাচ্ছিলাম তখন ঘুড়ে বেড়াই বাংলাদেশ এর বন্ধুদের মনে হচ্ছিল একেকটি পাহাড়ের মালিক। আশ-পাশের সহজ-সরল মানুষের অবাক দৃষ্টি যেন তাই বলছিল। ওই দিন রাতে কুমিল্লার উদ্দেশে রাওনা হয়ে পরদিন ভোরবেলায় কুমিল্লায় পৌছলাম। যোগাযোগ ঃ ঢাকার সায়েদাবাদ, কলাবাগান, কমলাপুর, ইসপাহানী বিল্ডিং এর পাশ থেকে বিভিন্ন পরিবহনের বাস রাঙ্গামাটি ও খাড়গাছড়ি যায়।  খরচ পড়বে জন প্রতি ৮হাজার টাকা মাত্র।

মোঃ অহিদ উল্লাহ পাটোয়ারী
প্রতিষ্ঠাতা ঃ ঘুরে বেড়াই বাংলাদেশ
কুমিল্লা।
মোবাইল ঃ ০১৭২৬৬০৭৫৯০



সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology