খাগড়াছড়ি

রি-সিং ঝরনার পথে পথে

প্রকাশ : 26 আগস্ট 2014, মঙ্গলবার, সময় : 12:05, পঠিত 2038 বার

অহিদ উল্লাহ পাটোয়ারী
ইয়ুথ দে ছুট ভ্রমন সংঘের একদল সুখি ছেলে ঘুরে বেড়ায় বাংলাদেশের প্রতন্ত অঞ্চলে। পাহাড় নদী, সাগর কিংবা গহীন অরন্যে সুযোগ পেলেই ছুটে যায় প্রকৃতির কোলে, তেমনি এক সূবর্ণ সুযোগে ঘর হতে বের হয়েছিলাম নীল আকাশের নিচে সবুজ পাহাড় দিয়ে সাজানো খাগড়াছড়ির উদ্দেশ্যে। বন্ধু ফারুকের মাধ্যমে আগে থেকেই হোটেলের রুম বুকিং করা ছিল। তাই কোন ঝামেলা ছাড়াই সোজা রুমে। অতঃপর সিএনজিতে চেপে অপরুপ সৌন্দর্য্যরে রি-সিং ঝরনার পাড়ে। সিএনজি তার ধারনার ক্ষমতার চেয়ে অতিরিক্ত একজন নিয়ে সর্বোচ্চ গতিতে ভো ভো শব্দ তুলে পাহাড়ি পথে ছুটে চলেছে। দুপাশে নজরকাড়া প্রকৃতি, মাঝে পিছ ঢালা উচু নিচু পথ। কখনও কখনও মনে হয় আরেকটু সামনেই এগোলোই হয়তো নীল আকাশের ছোয়া পাব। তবে আকাশের ছোয়া না পেলেও আলুটিলার মোড়ে মেঘের ভেলার সাথে পরিচিত হওয়া যাবে। সে এক অপার্থিব অনুভূতি, অজানা শিহরন! শেষ বসন্তে পাহাড়ের নৈসর্গিক দৃশ্য দেখতে দেখতে এক সময় পৌঁছে গেলাম রি-সিং ঝরনার কাছাকাছি। সিএনজি আর যাবে না। শুরু হবে এখন পাহাড়ি পথে পথে হাটা। কখনও উচু আবার কখন ও নিচু। এভাবেই চড়াই-উতরাই পেরিয়ে পৌঁছতে হবে জলধারার কাছে। কুমিল্লায় যদি বিচারক বলতেন, তোমরা এভাবে রাজপথে হাটো, তা না হলে একদিনের সশ্রম কারাদন্ড। তার পরেও হয়তো আমরা দ্বিতীয়টি বেঁচে নিতাম। কিন্তু প্রকৃতির ছোয়া পেয়ে সেদিন কোন কষ্টেই কঠিন মনে হয়নি। প্রায় একঘন্টা চড়াই-উতরাই পেরিয়ে হাজির দৃষ্টিনন্দন ঝরনার সামনে। বিপুল জলরাশি অভিরাম ধারায় গড়িয়ে পড়েছে নিয়মিত ছন্দে হৈ-হুল্লোড় করে রি-সিং ঝরনার জলে নিজেদের সম্পূর্ণ করলাম। প্রচন্ড গতিতে প্রায় ষাটফুট উপর থেকে পানি পড়ছে। দেশের অন্যান্য ঝর্ণার চাইতে এ ঝর্ণার বৈশিষ্ট্য সম্পূর্ণ ভিন্ন। পর্যটকেরা অত্যন্ত নিরাপদে এর জলে নিজেকে মন ভরে ভেজাতে পারে। কেউ কেউ শৈশ্ববের স্মৃতি মনে স্লিপও খেতে পারে। আমরা ঘন্টার পর ঘন্টা ভিজছি। ভেজার স্বাদ যেন মেটছেই না। সাথে অসংখ্যবার স্লিপ। শেষে দেখি আন্ডার গার্মেন্টস ছিড়ে গেছে। তাই বলছি এ ব্যাপারে একটু সতর্ক থাকুন। দীর্ঘ সময় ভেজার পর এবার ইয়ুথ দে ছুট-এর স্বভাব সুলভ আচরন ঝরনার পানির উৎসবের দিকে পা বাড়ানো। উৎসবের মুখে এসে গেলাম, তবে সে পথ ঝুকিপূর্ণ, কিন্তু আমাদের কাছে মহা আনন্দের পানির উৎসবের মুখে সাতারও কাটা যাবে। বেশ সুন্দর একটি পুকুরের মতো খোশ মেজাজে সাতার কাটলাম। এ জনমে অনেকগুলো ঝরনায় দেহ মন ভিজিয়েছি, তারমধ্যে সবচেয়ে আনন্দময় এবং নিরাপদ হিসেবে নির্বাচিত হয়েছে প্রকৃতির এই অপরুপ সৃষ্টি রি-সিং ঝরনা। আকাশ ছোয়া পাহাড়ি বৃক্ষের ছায়া ঘন জঙ্গলের বুনো গন্ধ, অচেনা পাখির মিষ্টি সুর ভ্রমন পিপাসুদের মন ছুয়ে যায়। সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ যদি একটু নজর দেয় তাহলে আমাদের প্রকৃতি কন্যা রি-সিং ঝরনা ভ্রমনকারীদের জন্য হয়ে উঠবে এক অনবদ্য বিনোদন মঞ্চ। ভ্যাপসা গরমে রি-সিং ঝরনায় শরীর ভেজাতে গিয়েছিলাম আমি, ইব্রাহীম, জাহাঙ্গীর, আলাউদ্দিন, শাখাওয়াত ও দুলাল সহ আরো কয়েকজন ভ্রমনপিপাসু। ঢাকা থেকে এস,আলম, শান্তি, শ্যামলীসহ বিভিন্ন পরিবহনের বাস খাগড়াছড়ি যায়। থাকা খাওয়ার মতো ভালো মানের বেশ কয়েকটি হোটেল-মোটেল ও রেষ্টুরেন্ট রয়েছে শহরে। নিরাপদ ভ্রমনের জন্য অপরিচিত কারও সঙ্গে হুট করে ঘনিষ্ঠ হতে যাবেন না। খরচ পড়বে জনপ্রতি তিনদিনের জন্য সর্বোচ্চ তিনহাজার টাকা।

মোঃ অহিদ উল্লাহ পাটোয়ারী
সভাপতি- ইয়ুথ দে ছুট ভ্রমন সংঘ
নাঙ্গলকোট, কুমিল্লা
মোবাইল- ০১৭২৬-৬০৭৫৯০


সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology