আরব আমিরাত

দুবাইয়ের পথে-প্রান্তরে

প্রকাশ : 26 আগস্ট 2014, মঙ্গলবার, সময় : 13:30, পঠিত 1474 বার

লুুৎফুর রহমান
২২ ফেব্রয়ারি সকাল ৮ টা। দুবাই ইন্টারন্যাশনাল এয়াপোর্টের টার্মিনাল ২ এর ভেতরে দাঁড়িয়ে আছি। ফ্যালফ্যালিয়ে ২ জোড়া চোখ দিয়ে খোঁজতেছি এই বুঝি আসলো হাবিব ভাই। অনেকক্ষণ হয়ে গেলো অনেকেই বেরিয়ে যাচ্ছে হাবিব ভাই আসছেনা দেখে আমি আর মশকুর বসে পড়লাম চেয়ারে। চিরাচরিত নিয়মে আড্ডায় মেতে ওঠলাম। মশকুর আমাকে আঙ্গুল দেখিয়ে বল্লো-দেখ্ উনি নাকি। আরে মশকুর যদিও আগে দেখে নাই কিন্তু তার ধারণা এক্কেবারে ঠিক। আমি পিছন থেকে গিয়ে হাবিব ভাইকে জড়িয়ে ধরলাম। উনি চমকে ওঠলেন। বুকের সাথে বুক আর চোখের ভাষায় লাগছিলো আমরা দুবাই না যেন আছি সিলেটেই। হাবিব ভাই মৌলভীবাজারের বড়লেখার বাসিন্দা। আমি আর মশকুর সিলেটের বিয়ানীবাজারের। আমরা রাতকে দিন আর দিনকে রাত করেছি দেশে থাকতে। আড্ডা মেরেছি নাটক থেকে কবিতা হয়ে এক্কেবারে দেশ নিয়ে। সময়ের ধারাবাহিকতায় হাবিব ভাই আর আজ মাসিক মুকুলের সাথে নেই। আমেরিকার বুকে স্বপ্ন ফেরি করেন। আর আমরা দুবাইতে করি। সেইসাথে মুকুলকেও করে ফেলেছি দুবাই-ঢাকা প্রকাশনা।

এয়ারপোর্ট থেকে বেরিয়ে গাড়িতে ওঠলাম। আবুল ভাইয়ের গাড়ি চলতেছে দুবাইয়ের জুমাইরাহ এর দিকে। এক পলকে আমরা জমিয়ে তুল্লাম দেশের সেই হারানো দিন আর মন ভুলানো মানুষদের। পরে হাবিব ভাইকে বিশ্রাম নিতে পাঠিয়ে দিলাম আর আমি ও মশকুর নেমে গেলাম দুবাইয়ের অলিতে-গলিতে। দুবাইয়ের ঐতিহ্য দেখলাম ঘুরে-ফেরে। পড় বিকেলে আমরা হামলা করলাম হাবিব ভাইয়ের কাছে। দেখা পেলাম আরেক হারানো লোক মারুফ এর। মারুফ ও হাবিব ভাইদের পাতাকুঁড়ি শিশু-কিশোর থিয়েটার এর কর্মী ছিল। কাল বিলম্ব না করেই বেরিয়ে পড়লাম চক্করে। ঢুকে গেলাম জুমেরাহ বীচ পার্কে। চোখে পড়লো ভ্রমণ পিপাসুদের উপচে পড়া ভীড়। ইউরোপীয়ানরা এই বীচে বেশি থাকে। ঢুকতেই তা আরো পরিষ্কার হয়ে গেলো। আমরা উল্লাস করে ছবি তোলা শুরু করলাম। সবুজ ঘাস পেয়ে মরুর বুকে যেন এখখণ্ড বাংলাদেশ পেলাম। দৌড়াদৌড়ি শুরু করলাম। আমার পাগলামিতে মশকুর বড়ই চিন্তিত। দুবাইয়ের আইন যেন কোথাও জরিমানা করে নাকি আবার। এখানে একদম অর্ন্তবাস পরে থাকা কোনো ব্যপার না। কিন্তু অবাক হয়ে তাকালে জরিমানা হয়ে যায়। আর এমন অনেক জরিমানার মুখামুখি বেশি পড়তে পাকিস্তানি পাঠানদের। আমরা এই মনোমুগ্ধকর আবার বিপদজনক এলাকা পের হয়ে ছুটলাম বিশ্বের সার্বেচ্চ দালান বুর্জ আল খলিফার দিকে। চলে গেলাম ইলেক্ট্রিক ট্রেন স্টেশনে। কার্ড রিচার্জ করেই ছুটলাম ট্রেনের পিছু। মাটির নীচ দিয়ে ট্রেন ছুটতে শুরু করলো বুর্জ আল খলিফার দিকে। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসতেই আমরা নেমে পড়লাম ট্রেন থেকে। স্বপ্নদালান দেখেই চমকে গেলাম। ছবি তোলা শুরু করলাম। ছবি তুল্লাম আরব ভাস্কর্যের সামনে। দুবাই ট্রেড সেন্টার এর কাছে। রোড ক্রস করেই ছুটে গেলাম দুবাই মল এর ভেতরে। হৌ-উল্লাস করে কৃত্রিম ঝরণাধারা দেখলাম।  দাঁড়িয়ে থাকলাম ওয়াটার মিউজিক এর জন্য। শুরু হলো মিউজিক। নানাভাষী, নানাদেশী মানুষের প্রাণের উল্লাসে মুখরিত হতে লাগলো ১৬৫ তলা বিশিষ্ট বুর্জ আল খলিফার চারপাশ। ভিডিওচিত্র ধারণ করলাম। পানি এসে যখন মুখ ছুঁয়ে যাচ্ছিলো তখন সুখের ভেলায় ভাসছিলাম আমরা। আর আনন্দপ্রেমী মানুষের সাথে আমরাও চিৎকার দিয়ে উঠলাম।

বিশ্বের এই দালান আর আনন্দকে পিছে ফেলে এবার নেমে গেলাম পথে-প্রান্তরে। অনেক ক্ষণ এদিক-ওদিক আর নানা বিচিত্র অভিজ্ঞতা নিয়ে হাবিব আর মারুফদের ছেড়ে দিয়ে আমি আর মশকুর ছুটলাম দেরা দুবাই এর উদ্দেশ্যে। সাগরপড়ে বসে দুজন গল্প জমালাম। যেমন গল্প করি সচরাচর।গাড়ি ছুটছেই। একে একে সবাইকে ছাড়তে হলো। হাবিবরা গেলো জুমরাহতে। মশকুর তার বাসায়। আর আমি আমার বাসায় ছুটলাম। একদিনে দুবাইর বুকে মরুর ফুল ফুটেছিলো যেন আমাদের হাসিতে-প্রাণে প্রাণে ভালোবাসিতে। আর হাবিব ভাই দুবাই থেকে চলে গেলো বাংলাদেশে।
লেখক: সম্পাদক, মাসিক মুকুল, দুবাই।
mukul.editor@gmail.com


সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology