ইতালি

ভেনিস ভ্রমণ

প্রকাশ : 31 আগস্ট 2014, রবিবার, সময় : 07:14, পঠিত 2039 বার

সুরাইয়া ফারজানা     
জুরিখ থেকে মিলানগামী ট্রেনটা এ মুহূর্তে ধূসর পর্বতমালার ভেতর দিয়ে চলছে। সম্পূর্ণ ভিন্ন এক প্রাকৃতিক পরিবেশ চারপাশে। এখানে দর্শনীয় জিনিস একটাই- গ্রেইপ ভাইন। ঢালু পাহাড়ি জমিনে আঙুর ক্ষেতের জমাট বুনন।
মাঝে মাঝে কিছু অতি পুরনো বাড়িঘর, চার্চ- এসব চোখে পড়ছে। সবকিছুতেই যেন কিছুটা দারিদ্র্যের ছোঁয়া। হলদেটে পুরনো জরাজীর্ণ দালানকোঠা। উঠোনে খড়-বিচালির ছড়াছড়ি। ভাবছিলাম- এমন তো হওয়ার কথা নয়! উত্তর ইতালির এ অঞ্চলই তো অর্থনৈতিক সমৃদ্ধির সুযোগে এ যাবৎ দক্ষিণ ইতালির ওপর আধিপত্য চালিয়েছে!
এবার বেশকিছু সুদৃশ্য, অভিজাত ভিলা চোখে পড়ছে। ঝকঝকে নীল আকাশের নিচে নিরিবিলি ভিলাগুলোর সামনে শৌখিন চেয়ার পাতা, ছাউনিতে- ঢুলুঢুলু অবকাশ যাপনের হাতছানি।
রাজধানী মিলানের কাছাকাছি আসতেই কম্পার্টমেন্টে একজন নারী টিকেট চেকারের আগমন ঘটল। বেতস লতার মতো ছিপছিপে শরীর। আঙুর লতার মতো ঢেউ খেলানো নীলচে কালো চুল কোমর ছাড়িয়ে গেছে। কাছে এসে দাঁড়াতেই মোহভঙ্গ হলো। কিছুটা রুক্ষ চেহারায় বলিরেখাগুলো অত্যন্ত সুস্পষ্ট। চেহারার রুক্ষতা ঢাকতে খুব গাঢ় করে কাজল টানা হয়েছে দু চোখে।
আমরা এ মুহূর্তে উত্তর ইতালির আল্পসীয় ট্রেইল ধরে এগোচ্ছি।
ইতালি ইউরোপের ইতিহাস, ঐতিহ্য ও শিল্প-সংস্কৃতির এক অনন্য তীর্থভূমি। ইতালি শব্দটি ল্যাটিন ইতালিয়া থেকে এসেছে। প্রাচীনকালে এখানে একটি ছোট্ট জনপদ গড়ে ওঠে- যাকে সুসভ্য গ্রিকরা ইতালিয়া বলে ডাকত। গ্রিক দার্শনিক অ্যারিস্টোটলের বয়ানে ইতালিয়া কথাটি বেশ কবার পাওয়া যায়।
ইতালিয়া কথাটির গ্রিক অর্থ গোচারণ ভূমি। এক সময় এ অঞ্চলে কৃষিভিত্তিক জনগোষ্ঠী বসবাস করত। পরে খ্রিস্টপূর্ব অষ্টম শতকে এই অখ্যাত জনপদ প্রাচীন গ্রিক ও রোমান সংস্কৃতির সংমিশ্রণে এক কালজয়ী সভ্যতায় পরিণত হয়, যা ইতিহাসে রোমান সভ্যতা হিসেবে চিহ্নিত। এ সভ্যতার সুদূরপ্রসারী প্রভাব অন্যান্য পশ্চিমা সভ্যতা, রাজনীতি, দর্শন ইত্যাদিতে বিরাজমান।
ট্রেনটা মিলান সেন্ট্রাল রেলস্টেশনে এসে থামল। এখানে দু ঘণ্টা যাত্রাবিরতি; এরপর ভেনিসের পথে যাত্রা। স্টেশনে নেমেই আমরা হন্যে হয়ে খাবারের দোকান খুঁজতে লাগলাম। একটা বেশ বড় পিৎজার দোকান পেয়েও গেলাম। দোকানের সামনে প্যারিসের গ্যারে ডি লিওন স্টেশনের মতো অসংখ্য পায়রা ঝটপট ঘুরে বেড়াচ্ছে।
পিৎজার দোকানে ঢুকে খাবারযোগ্য পিৎজার তত্ত্বতালাশ করতে লাগলাম। দোকানের শোকেসে হরেক রকমের পিৎজার বিজ্ঞাপন। প্রত্যেকটি পিৎজার পাশে নাম, উপকরণের বর্ণনা। পিৎজাগুলোয় হ্যাম, স্যামন ছাড়াও বিভিন্ন সি ফুডের ফিলিং দেয়া। চিকেন কিংবা বিফ পিৎজা নেই।
অবশেষে ভেজিটেরিয়ান মার্গারিটা পিৎজাই বেছে নিলাম। দাম বেশ সস্তা- মাত্র দুই ইউরো। মজারেলা চিজ আর টমেটো পিউরির টপিং দেয়া সাধাসিধা পিৎজাটি বেশ সুস্বাদু।
আইটেম লিস্টে কাপ্পুচিনো কফির দাম দেখা যাচ্ছে মাত্র এক ইউরো! বেশ সস্তাই বলা যায়। তাড়াতাড়ি দুই কাপ অর্ডার দিলাম। কিন্তু কফি পেয়ে তো কিংকর্তব্যবিমূঢ়! কাপ তো দূরের কথা, অতিক্ষুদ্রাকায় একটা পাত্রে কয়েক ফোঁটা কফি। আশঙ্কা হলো, এরা বিদেশি বলে আমার সঙ্গে রসিকতা করছে না তো! দোকানের কর্মচারীর গাম্ভীর্যপূর্ণ চেহারা দেখে আশ্বস্ত হলাম- নাহ্! সে এরকম অনধিকার চর্চাটি করছে না।
কাপ্পুচিনোর এমন করুণ চেহারা দেখে পলাশ তো হেসে অস্থির। আমিও বোকার মতো হাসতে লাগলাম। এক চুমুকে শেষ করে মনে হলো- এটা অমৃতের বদলে গরল হলেও হতে পারে। কেমন তিতকুটে তামাক তামাক স্বাদ। এ-ই তাহলে ইতালিয়ান কাপ্পুচিনো!
পলাশ মুচকি হেসে বলল- যাও, এবার গিয়ে বলো ক্রিম কফি চাই।
উঠে গিয়ে কাউন্টারের কর্মচারীকে আকার-ইঙ্গিতে বুঝিয়ে দিলাম- ক্রি-ম কফি চাই। এবার যথার্থ ক্রিম কফি পেলাম, তবে জ্যামিতিক হারে দাম বেড়ে গেছে অলরেডি।
ভেনিসগামী ট্রেন আসতে এখনো ঘণ্টাতক সময় বাকি। পলাশ মনে করিয়ে দিল, এই মিলান শহরটি দু-দুটি ফুটবল টিমের জন্য বিখ্যাত। এসি মিলান ও ইন্টার মিলান। আজ আমরা ফুটবলের শহর মিলানের ক্ষণিকের অতিথি। লাগেজের কারণে স্টেশনের বাইরে গিয়ে শহরটা একটু চক্কর মেরে দেখতে পারছি না। কেমন উশখুশ করছি! যাত্রাবিরতির অবশিষ্ট সময়টুকু কাটানোর জন্য শেষ পর্যন্ত প্রসাধনীর দোকানেই ঢুকলাম।

আড্রিয়াটিকের রানী ভেনেসিয়া
ভেনিসের মূলত দুটি অংশ- মূল ভূখ- ও দ্বীপগুচ্ছ। পর্যটকরা যে ভেনিস দেখতে যায় তা মূলত দ্বীপগুচ্ছ। ওখানকার স্টেশনের নাম সান্তা লুসিয়া। আমরা ভেনিসের মূল ভূখ- মেস্ত্রেতে নামলাম। এখানকার হোটেলেই আমাদের বিশ্রাম ও রাতযাপনের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
একেই বোধহয় স্টোন থ্রো ডিসট্যান্স বলে। ত্রিস্তার হোটেলটি একদম স্টেশনলাগোয়া। খাটো চুলের গুরুগম্ভীর রিসেপশনিস্ট রুমের চাবি দেয়ার আগে একটা ফর্ম ধরিয়ে দিল। পর্যটকদের জন্য প্রযোজ্য বিশেষ সিটি ট্যাক্স কেটে নিল। এই প্রথম আমরা এ ধরনের ট্যাক্স দিলাম।
আবলুস কাঠের সিঁড়ি বেয়ে দোতলায় আমাদের জন্য নির্ধারিত কক্ষটিতে ঢুকলাম। বিশালাকায় রুমটায় ভারী ভারী জানালা। ঘরের আসবাব ও সাজসজ্জায় ভেনিসিও ঐতিহ্যের প্রকাশ। সাদা মলমলের পর্দা সরিয়ে জানালা খোলার চেষ্টা করলাম। জানালায় ভারী হুড়কো আর আড়াআড়িভাবে কাঠের ডাসা বসানো। কে জানে হয়তো চুরি ঠেকাতে এ নিরাপত্তা ব্যবস্থা! তাই আপাতত জানালা খোলার চেষ্টা বাদ দিলাম।
ডাবল বেডের পাশাপাশি একটা সিঙ্গেল বেড পাতা। ফ্যামিলিসহ থাকার ব্যবস্থা। বিছানার চাদর, সুজনি, এমনকি পর্দা পর্যন্ত সাদা। নিকষকালো আবলুস কাঠের ভারী ফার্নিচারের সঙ্গে মানিয়েছে বেশ। কাঠের মধ্যে পেতলের সূক্ষ্ম কারুকাজ করা বিশেষ কেতার সাইড টেবিলটি এই অন্দরসজ্জার বিশেষ আকর্ষণ।
রুমের প্রবেশমুখে হলরুমের মতো অতিকায় প্যাসেজটিও অত্যন্ত আকর্ষণীয়ভাবে সাজানো। এক কোনায় ভারী কাঠের টেবিল পাতা। টেবিলের ওপর ফুলদানিতে কিছু সাদা লিলিফুল রাখা। প্যাসেজের মাঝখান বরাবর বড় কার্পেট। ওপরে একটা বড় ঝাড়বাতি ঝুলছে। ছাদে আড়াআড়িভাবে লম্বা কালো কাঠের কড়িবর্গা।
ত্রিস্তারে দু দ- বিশ্রাম শেষে সান্তা লুসিয়ার পথে পা বাড়ালাম।
ভরদুপুরে মেস্ত্রে স্টেশনটা খাঁ-খাঁ করছে। প্রচ- শীতের কারণে পর্যটকের আনাগোনা কম। টিকেট কাউন্টার থেকে টিকেট কেটে চটজলদি ভেনিস যাবার ট্রেনে উঠে পড়লাম।
ট্রেন ছাড়লে আস্তে আস্তে শহর ছাড়িয়ে দুপাশে জলাভূমি দেখা গেল। পানি থইথই করছে। মাঝে মাঝে দূরে বিন্দু বিন্দু গ্রামের মতো চোখে পড়ছে। প্রাচীনকালের লাল ইটের সব দালানকোঠা। সিমেন্টের প্লাস্টার খসে পড়া, ক্ষয়ে পড়া দালানগুলো যেন দাঁত বের করে আছে। দৃশ্য হিসেবে খুব মনোরম কিছু নয়।
আমাদের দেশেও গ্রামেগঞ্জে এরকম পুরনো দালানকোঠার সন্ধান মেলে। তবে অপরাহ্ণের আলোয় এগুলো কেমন মায়াবী আর রহস্যময় মনে হচ্ছে। নাক টেনে টেনে যেন পুরাতনের গন্ধ পাচ্ছি। জায়গাটিকে আর ইউরোপের কোনো নগর বলে মনেই হচ্ছে না!

প্রায় আধঘণ্টা পর ভেনিসের সান্তা লুসিয়া রেলস্টেশনে পৌঁছলাম। মূলত এই ট্রেনলাইন দিয়ে ভেনিসের চারপাশের লেগুন বা জলাভূমিকে মেইনল্যান্ডের সংযোগ স্থাপন করা হয়েছে।
আমরা স্টেশনে নেমে ভেনিস ট্যুরিজম কাউন্টারটি খুঁজে বের করলাম। লম্বা টিংটিংয়ে পর্যটন কর্মকর্তাটি হাত নেড়ে নেড়ে জানালো- যেহেতু এখন ট্যুরিস্ট সিজন নয়, তাই হেঁটে অথবা ওয়াটার বাসে করে পুরো ভেনিস শহরকে দেখতে হবে। ভেনিসের বিখ্যাত গন্ডোলা বা বিশেষ বোটে চড়ে বেড়ানোর ব্যবস্থা আপাতত বন্ধ রয়েছে।
ভেনিসে এসে গন্ডোলায় চড়া হবে না- ব্যাপারটা যেন অনেকটা প্যারিসে এসে আইফেল টাওয়ার না দেখে বাড়ি ফেরার মতো। কী আর করা, অফ-সিজন বলে কথা!
আমরা স্টেশনের গেট দিয়ে আড্রিয়াটিক সাগরের পূর্বতীরে ইউরোপের সবচেয়ে ঐতিহ্যময় স্থান ভেনিস নগরে প্রবেশ করলাম। ভেনিসকে ইতালিয়ানরা ভিনিজিয়া বলে ডাকে। সুপ্রাচীন স্থাপত্য ও শিল্পকলার জন্য একে কুইন অব আড্রিয়াটিকও বলা হয়। আধুনিক প্রযুক্তির বিধ্বংসী ছোঁয়া থেকে বাঁচাতে ইউনেস্কো একে ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ সাইট হিসেবে ঘোষণা করেছে।
প্রথম দর্শনেই ইতিহাস ও ঐতিহ্যের জীবন্ত মিউজিয়াম বলে খ্যাত ভেনিস দেখে অভিভূত হয়ে গেলাম।
সামনেই টলটলে সবুজ রঙের পানিতে টইটম্বুর গ্রান্ড ক্যানাল। এই খাল ঘিরে রয়েছে মনোরম সব প্রাসাদ, সেতু আর সরু সরু কিছু খাল। মূল খালের সঙ্গে সংযুক্ত এসব ছোট ছোট খাল সর্পিল গতিতে এঁকেবেঁকে এই প্রাচীন নগরের ভেতরে প্রবেশ করেছে। পো এবং পিয়াভ এই দুই নদীর মোহনায় অবস্থিত ভেনিস আর্কিপেল্যাগো ১১৭টি দ্বীপের ১৭৭টি খাল আর ৪০৯ খানা সেতুতে আবদ্ধ।
আমরা খালের পাশ দিয়ে হাঁটতে লাগলাম। কিছুদূর এগিয়ে মূলখালের ওপর সেতুটিতে গিয়ে উঠলাম। সেতুর পশ্চিম দিকে নতুন আর পুব দিকে পুরনো ভেনিস। এই পুরনো ভেনিস বিস্তৃত হয়ে আড্রিয়াটিক সাগরের কাছে পো এবং পিয়াভ নদীর মোহনায় মিশেছে।
খালের ওপর বড় বড় কাঠের খাম্বা মাথা তুলে দাঁড়িয়ে আছে। জলে তার ঈষৎ বাঁকা ছায়া পড়েছে। আমরা খালের ওপাশে কিছু গন্ডোলা দেখতে পেলাম। এগুলো প্রদর্শনের জন্য রাখা। লাল আর গাঢ় নীল মখমলের শিট, পার্সি কার্পেট মোড়ানো নৌকাগুলো ভেনিসবাসীর শৌখিনতার সাক্ষ্য দেয়। ছোট ছোট কিছু নৌকা আছে যেগুলোর নাম স্যান্ডোলা। ভেনিসবাসীর উৎসব পার্বণের নিত্যসঙ্গী এসব গন্ডোলা ও স্যান্ডোলা। বিয়ে, শেষকৃত্যসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এগুলোর ব্যবহার হয়।
দু পাশের প্রাসাদোপম গোথিক ও নানা স্থাপত্যরীতির দালানকোঠাগুলো যেন কোনো শিল্পীর আঁকা চিত্রপট। খালের পাশের এই বাড়িগুলোর মূল আকর্ষণ এর ঝুলবারান্দা বা ছোট্ট বেলকনি। ভেনিসবাসীর রোমান্টিক জীবনযাত্রার এক চিরাচরিত অনুষঙ্গ।
ভেনিসের এই বাড়িগুলো কাঠের পাইল বা স্তম্ভের ওপর নির্মিত। শতাব্দীর পর শতাব্দী ডুবে থাকার পর এসব পাইল এখনো অক্ষত আছে এক বিশেষ গুণের জন্য। অ্যাডলার গাছের এই কা-গুলো বায়ুনিরোধী। এসব পাইল পানিতে ডুবে অক্সিজেনবিহীন পরিবেশে ক্ষয়ে যায় না, যেটা পানির ওপর হয়। ভেনিসবাসীরা সুদূর স্লোভেনিয়া থেকে পাইলের জন্য এসব কাঠ এনেছে। কাঠ মজবুত করার জন্য রুশ দেশের লার্চ গাছের নির্যাস থেকে তৈরি তার্পিন তেল মাখা হয়েছে।
একটা চমৎকার বাড়ি দেখলাম। শ্বেতপাথর দিয়ে তৈরি বাড়িটি গ্রিক স্থাপত্যকলা অনুসরণে তৈরি করা হয়েছে। কিন্তু এর মাথায় আসমানিরঙা গম্বুজটি মুসলিম স্থাপত্যরীতির প্রকাশ।
আশপাশে প্রচুর বাংলাদেশি শ্রমিক দেখা যাচ্ছে। একজনের সঙ্গে কথা হলো। মোসলেম মিয়া, ফুটপাতের পাশে ভ্যানে স্যুভেনিরসহ রকমারি মামুলি জিনিস বিক্রি করছে। থাকে পাদোভায়। ট্রেনে পাদোভা-ভেনিস ডেইলি প্যাসেঞ্জারি করে। জানালো ভেনিস ব্যয়বহুল হওয়ায় ওর মতো বেশিরভাগ বাংলাদেশি শ্রমিক পাদোভা ও মেস্ত্রেতে থাকে। মোসলেম মিয়ার ভ্যান থেকে নীল পুঁতি আর মেরুনরঙা পাখির পালকের একটা কার্নিভাল মাস্ক কিনলাম।
লাঞ্চের জন্য খাবার কিনতে পাশের গলিতে ঢুকলাম। শহরের ভেতরে অজস্র সরু গলি। গলিগুলো পুরনো ঢাকার মতো গমগমে। ফুটপাতের খানিকটা অংশ নিগ্রোদের দখলে। তারা কিছু সাধারণ মানের লেডিস ব্যাগ বিক্রি করছে। অসংখ্য দোকানপাট। খাবার দোকানের জমজমাট ব্যবসা। একটা ঘুপচির মতো দোকানে ঢুকলাম। দোকানের বাইরে রকমারি পিৎজার ছবি। ঘুপচির মতো মনে হলেও দোকানটির পেছনের দিকটা বেশ লম্বা। সেখানে ভোজনরসিক ট্যুরিস্টরা গিজগিজ করছে।
সেলসের চায়নিজ মেয়েটা আমার সামনে পিৎজার একটা দীর্ঘ লিস্ট ধরিয়ে দিল। চোখ বুলাতে গিয়ে দেখি হ্যাম আর স্যামনের ভিড়ে স্পিনাচ দেয়া এক পদের পিৎজা রয়েছে। ওটাই কিনলাম। সঙ্গে চিকেন বার্গারের মতো ইতালিয়ান একটা খাবার। খাবারের মোড়কগুলো ব্যাগে পুরে ওয়াটার বাসের টিকেট কাউন্টারের দিকে এগিয়ে গেলাম।
টিকেট কেটে ওয়াটার বাসে চেপে সেন্ট লুসিয়া থেকে ভেনিসের শেষ প্রান্ত সেন্ট এলেনার উদ্দেশে রওনা হলাম। বাইরে পর্যটক খুব একটা দেখা না গেলেও ভেতরে বেশ ঠাসাঠাসি অবস্থা। একপাশে বসে পুরনো দালানকোঠা দেখতে লাগলাম। অন্যপাশে তাকিয়ে মনে হলো ওদিকটায় আরো ভালো কিছু দেখার আছে। আস্তে করে উঠে এসে অন্যপাশের দৃশ্য দেখতে লাগলাম। কিছুক্ষণ পর মনে হলো- নাহ! ওদিকটাই বোধ হয় ভালো ছিল।
আমার এই চঞ্চলতা লক্ষ্য করে পলাশ বলল- চলো, সামনের ডেকে দাঁড়াই। দু পাশই ভালো করে দেখা যাবে। আমি সঙ্গে সঙ্গে উঠে দাঁড়িয়ে, ওর হাতে একটা ক্যামেরা দিয়ে নিজে আরেকটি ক্যামেরা নিয়ে বললাম, এবার দুজনে দুদিকের দৃশ্য ভিডিও করব।
প্রাচীন রোমানরা আড্রিয়াটিকের পূর্ব তীরের ভেনিসকে জেলেদের দ্বীপ হিসেবে আবিষ্কার করে। এর অধিবাসীরা ছিল মূলত আশপাশের রাজ্য থেকে আসা উদ্বাস্তু। জার্মান ও হান উপজাতিদের আক্রমণের হাত থেকে রেহাই পেতে তারা এ অঞ্চলে আশ্রয় নেয়। রোমানরা ভেনিসকে কনস্ট্যান্টিনোপলসের সঙ্গে সমুদ্রপথে সংযোগ স্থাপন করে।
ইস্টার্ন রোমান সাম্যাজ্য বা কনস্ট্যান্টিনোপলসের অধীনে ভাইসরয়ের মাধ্যমে তখন ভেনিস শাসিত হতো। পরবর্তীকালে স্বায়ত্তশাসন দিয়ে এই রাজ্যটির নাম রাখা হয় রিপাবলিক অব ভিনিজিয়া। একজন ডজ বা ডিউক ছিল এই প্রজাতন্ত্রের প্রধান। বারো শতকের আগে ভেনিস বহুবার আড্রিয়াটিকের অপর পাড়ের বলকান অঞ্চলের ক্রোয়েশিয়ার ডালমেশিয়ান জলদস্যুদের আক্রমণের শিকার হয়।
অবস্থানগত কারণে ভেনিস পশ্চিম ইউরোপের প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্রে পরিণত হয়। তুর্কি ও নরম্যানদের আকস্মিক আক্রমণের সময় ভেনিস কনস্ট্যান্টিনোপলসকে সহায়তা করত। সেই সুবাদে ভেনিসের সঙ্গে ইস্টার্ন রোমান সা্রাজ্যের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ভেনিস গোল্ডেন বুল বিশেষ বাণিজ্য সুবিধা পায়। এছাড়া সাইপ্রাস ও ক্রিট দ্বীপে লবণ বাণিজ্য এবং নিকটপ্রাচ্যের দেশগুলোতে মসলা ও শস্য বাণিজ্যের কারণে সমৃদ্ধিশালী ভেনিস রাজকীয় শক্তিতে পরিণত হয়।
এই ভেনিস থেকেই বারো শতকের বণিক ও পর্যটক মার্কোপোলো স্থল ও সমুদ্রপথে মধ্য এশিয়া হয়ে সুদূর চীনদেশে গিয়েছিলেন বাণিজ্য প্রসারের জন্য। ভেনিসের বিশিষ্ট বণিক ও পরিব্রাজক মার্কোপোলো তার ভ্রমণ কাহিনীর মাধ্যমে ইউরোপিয়ানদের সর্বপ্রথম চীন ও মধ্য এশিয়ার সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেন।
যা হোক, মার্কোপোলোর সময় অর্থাৎ তেরো শতকের গোড়ায় ভেনিস বিশ্বের সবচেয়ে সমৃদ্ধিশালী নগরে পরিণত হয়। এ সময় ভেনিসের ৩,৬০০ নাবিক আর ৩,৩০০ জাহাজ ভূমধ্যসাগরে বাণিজ্যের ক্ষেত্রে একাধিপত্য বজায় রাখে। ভেনিসের প্রভাবশালী পরিবারগুলো বড় বড় প্রাসাদ নির্মাণ করে। শিল্পী ও সাহিত্যিকদের পৃষ্ঠপোষকতা করে তারা আজকের এই দৃষ্টিনন্দন ভেনিস গড়ে তোলেন।
তবে পরবর্তীকালে ক্রিস্টোফার কলম্বাসের আমেরিকা আবিষ্কার ও পর্তুগিজ নাবিক ভাস্কো দা গামা ভারতবর্ষে যাবার নতুন পথ আবিষ্কার করলে ভেনিস তার সমুদ্রপথের একচেটিয়া অবস্থান হারায়। এছাড়া তৎকালীন ফরাসি, ইংরেজ ও ওলন্দাজরা বিশ্বব্যাপী ঔপনিবেশিক দৌরাত্ম্যে মেতে উঠলে ভেনিস ধীরে ধীরে বিশ্ববাণিজ্যে পরিত্যক্ত হয়।

আমাদের বহনকারী ওয়াটার বাসটি গ্রান্ড ক্যানেলের সবুজ পানি কেটে কেটে এগিয়ে যাচ্ছে। চারপাশে সাত-আটশ বছরের পুরনো নগরী। আধুনিকতার ছোঁয়া থেকে একে সযতে আগলে রাখা হয়েছে। ঐতিহ্যকে এতটুকু হারিয়ে যেতে দেয়া হয়নি।
খাল ঘেঁষে এই দৃষ্টিনন্দন বাড়িগুলোর কোনোটি ফাইভ স্টার হোটেল, কোনোটি মিউজিয়াম, এমনকি কোনোটি পত্রিকা অফিস। পানির ওপর এসব বাড়ির বেলকনি দেখে লোভ হয়। ইচ্ছে করে ওখানে গিয়ে দাঁড়াই।
দু-একটা বাড়ি পরপর সরু গলি। কিছু গলি এত সরু যে দুজন মানুষও পাশাপাশি চলতে পারবে না। আবার কোনো কোনো জায়গার গলির বদলে সরু সরু খাল শহরের ভেতর চলে গেছে। পাশাপাশি বিল্ডিংয়ের মাঝে সেতুবন্ধন করেছে ছোট্ট একটি ঝুলন্ত প্যাসেজ।
খালের ওপর দু-একটা সিগাল উড়ে বেড়াচ্ছে। বোঝাই যাচ্ছে আড্রিয়াটিক সাগরটি কাছেপিঠে।
খুব পুরনো কিছু বাড়ি আছে। দালানের বেশিরভাগ প্লাস্টার উঠে গেছে। দেখতে অনেকটা ঘোড়ার আস্তাবলের মতো। বাড়ির বারান্দাসংলগ্ন খাল। খালের পানি আর আশপাশের বসতি প্রায় একই সমতলে। জোয়ার-ভাটা বা অন্য কোনো কারণে এখানকার জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় কি না, জানা নেই।
চারপাশে মুগ্ধ হয়ে তাকাই। যেন ইতিহাসের পাতা থেকে উঠে আসা এক প্রাচীন নগরী। বড় অদ্ভুত লাগে!
এই ভেনিসের প্রেক্ষাপটে শেক্সপিয়র রচনা করেছেন মার্চেন্ট অব ভেনিস, ওথেলোর মতো অমর নাটক। এছাড়া বর্তমান হলিউডের বিখ্যাত কিছু ছবি, যেমন জেমস বন্ড সিরিয়ালের- ফ্রম রাশিয়া উইথ লাভ, ক্যাসিনো রয়াল, মুনর‌্যাকার; ইন্ডিয়ানা জোনস, হালের টম্ব রাইডারের মতো জনপ্রিয় চলচ্চিত্রের পটভূমি এই ভেনিস।
আর ভেনিস ফিল্ম ফেস্টিভাল তো পৃথিবীর সবচেয়ে পুরনো ফেস্টিভাল। সেই ১৯৩২ সাল থেকে আজ অবধি প্রতি বছরের আগস্টের শেষে অথবা সেপ্টেম্বরের শুরুতে এই উৎসব চলে। ভেনিসের লিড দ্বীপে অনুষ্ঠিত এই উৎসবে চলচ্চিত্রে বিশেষ ভূমিকা বা অবদানের জন্য গোল্ডেন লায়ন পুরস্কার দেয়া হয়।
ভেনিসের আরেকটি অনন্য উৎসব হলো ভেনিস কার্নিভাল।
একটু আগে সান্তা লুসিয়া ট্রেন স্টেশনের ট্যুরিজম অফিসের পাশের কিউরিও শপে এই কার্নিভালের মুখোশ দেখে এসেছি, বাংলাদেশি হকারের কাছ থেকে কিনেওছি। ভেনিসবাসীরা নানা রঙের ও ঢঙের এসব মুখোশ পরে এ উৎসব আয়োজনকে অত্যন্ত বর্ণাঢ্য করে তোলে। বলার অপেক্ষা রাখে না, এসব পরে ভেনিসের সেনোরিটারা আরো আকর্ষণীয়া হয়ে ওঠে। কার্নিভাল উৎসবে মুখোশের আড়ালে যুবক যুবতীরা যূথবদ্ধ হয়। কথিত আছে স্থানীয় অপেরা হলে মুখোশ পরা ভেনিসীয় দম্পতি বা জুটি পরনারী বা পরপুরুষের সঙ্গে উদ্দাম অভিসারে মেতে ওঠে।
প্রতিবছর জানুয়ারির ২৬ থেকে ফেব্রুয়ারির ১২ তারিখ পর্যন্ত চলে ভেনিস কার্নিভাল। দু সপ্তাহব্যাপী এই উৎসবে মোমের আলোয় বোট প্যারেড, কনসার্ট, স্ট্রিট শো, ভ্যালেন্টাইন অনুষ্ঠান পালিত হয়।
তবে আজকের এই ভেনিস কার্নিভালের উৎপত্তির মূলে কিন্তু রয়েছে ধর্মীয় আচার। এক সময় লেন্ট অর্থাৎ যিশুখ্রিস্টের উপবাস উপলক্ষে খ্রিস্টানরা অ্যাস ওয়েনেসডে থেকে ইস্টার ইভের আগ পর্যন্ত- মোট চল্লিশ দিন উপবাস করত। এ সময় ধর্মপ্রাণ খ্রিস্টানদের মাংস, চিনি, চর্বিজাতীয় খাবার ও পানীয় থেকে বিরত থাকতে হতো। কার্নিভাল কথাটি ল্যাটিন কার্নি ও ভ্যাল থেকে এসেছে- যার অর্থ ফেয়ারওয়েল টু মিট। অর্থাৎ মাংস গ্রহণ থেকে বিরত থাকা। এই দীর্ঘ সংযমের আগে ভেনিসবাসীরা কার্নিভালের আনন্দ আয়োজন করে।
বারো শতকের মাঝামাঝিতে বীর দেশপ্রেমিক একুলিয়ার বিজয় উৎসব উপলক্ষে ভেনিসে প্রথম কার্নিভাল শুরু হয়। আঠার শতকে এই জনপ্রিয় উৎসবটি লুপ্ত হয়েছিল। অস্ট্রিয়ার কাছে ভেনিসের পরাজয়ের পর মুখোশ পরে কার্নিভাল উৎসবটি মুখ থুবড়ে পড়ে। পরবর্তীকালে ইতালির শাসক মুসোলিনি কার্নিভাল নিষিদ্ধ করেন। তবে ১৯৭৯ সালে স্থানীয় কারুশিল্পীদের বিশেষ উদ্যোগে ভেনিসবাসীরা বিস্মৃতপ্রায় মাস্ক পরে কার্নিভাল উদ্্যাপনের ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনেন।
আমাদের ওয়াটার বাসটি পো এবং পিয়াভ নদীর মোহনায় এসে পড়ল। চারদিকে রাশি রাশি পানি। যেন কোনো কূলকিনারা নেই। দূরে বিন্দু বিন্দু নগর, গির্জার চূড়া দেখা যাচ্ছে। মনে হচ্ছে নগরটি পানিতে গলা পর্যন্ত ডুবে গেছে। কাছে গিয়ে দেখা গেল মোহনায় এ বিচ্ছিন্ন দ্বীপগুলো সব ফাইভ স্টার, সেভেন স্টার হোটেল। বিশ্বের মিলিয়নিয়ার বিলিয়নিয়ার পর্যটকদের আকর্ষণ করতে কতই না মনোহারি এসব আয়োজন- না দেখলে বিশ্বাস করা যাবে না।
কাছের আড্রিয়াটিকের হিমঠা-া বাতাসে দিশেহারা হয়ে পড়লাম। ডেক ছেড়ে ওয়াটার বাসের ভেতরে গিয়ে ওভারকোট গায়ে চাপিয়ে, হ্যান্ডগ্লাভস পরে জুত হয়ে বসলাম। তবু শীতের কামড় থেকে রেহাই নেই। সামনের সেন্ট এলেনায় আমাদের স্টিমারটি থামবে। কিন্তু জায়গাটির প্রতি আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি। প্রচ- ঠাণ্ডায় এতটাই কাবু যে, ইচ্ছে করছে এখনই মেস্ত্রেতে হোটেল ত্রিস্তারের ভারী জানালা আঁটা রুমটিতে ফেরত যাই।
সেন্ট এলেনায় নেমে প্রায় দৌড়ে ওয়াটার বাস টার্মিনালটি পার হয়ে নগরের ভেতর ঢুকলাম। হন্যে হয়ে কফিহাউস খুঁজতে লাগলাম। ক্ষিদেটাও বেশ চাড়া দিয়ে উঠেছে। রাস্তার পাশে পাতা বেঞ্চিতে লাঞ্চ করতে বসে গেলাম।
সান্তা লুসিয়া থেকে কিনে আনা খাবারের মোড়কটা বের করলাম। তুলতুলে সুস্বাদু পনির আর স্পিনাচ ঠাসা পিৎজাটি মুখে দিয়ে অভিভূত হয়ে গেলাম। সাধেই কি বলে ইতালিয়ান কুইজিন বিশ্বসেরা!
রোমান, বাইজেন্টাইন, ইহুদি কুইজিনের অপূর্ব মেলবন্ধন ঘটিয়েছেন ইতালিয়ান শেফরা। উপকরণের তেমন ঘনঘটা নেই। আলু, টমাটো, ভুট্টা, ক্যাপসিকাম, চিজ, অলিভ কিংবা অলিভওয়েল- এরকম মাত্র চার থেকে আটটি উপকরণ দিয়ে এদের শেফরা যে কারিশমা দেখাচ্ছেন- তা এক কথায় অসাধারণ।
কাছেই এক কফিহাউসে ঢুঁ মারলাম। কাচ ঢাকা কফিহাউস থেকে পো আর পিয়াভ নদীর মোহনা এবং জেটির অনেকখানি দেখা যায়। এয়ারকন্ডিশন্ড রুমের মৃদু উষ্ণতায় ক্রিম কফি খেলাম আয়েশ করে।
কফি খেয়ে ভেনিসের শেষ প্রান্তের জায়গাটি দেখতে বেরুলাম। দূর থেকে যে নগর খুব প্রাচীন দেখায়, কাছাকাছি যেতে দেখি সেটা বেশ আধুনিক আর ছিমছাম। এ দিকটায় প্রচুর শপিং সেন্টার। কিছু কিছু দোকানে সেল লেখা ঝুলছে। প্রচ- ঠাণ্ডার কারণে এই এলাকা ঘুরে-ফিরে দেখার আগ্রহ হারালাম।
টার্মিনালে আসার পথে একটা ছোট্ট চার্চের পাশে কারিতাসের অফিস দেখলাম। দেশে থাকতে একবার অফিসিয়াল ট্যুরে টেকেরহাট যাওয়া হয়েছিল। সেখানে মধুমতী বিলের ধারে কারিতাসের বড় একটা অফিস দেখেছিলাম। আশপাশের দু-একটি চার্চে বেড়ানোর সুযোগ হলেও, ক্যাথলিক চার্চভিত্তিক কারিতাসের জনকল্যাণমূলক কর্মকা- দেখার সুযোগ হয়নি। আজ ভেনিসের সেন্ট এলেনা দ্বীপে কারিতাসের অফিস দেখে কেন জানি কিছুটা নৈকট্য অনুভব করলাম।
টার্মিনালটিতে পৌঁছে দেখি পরবর্তী ওয়াটার বাস আসতে ১৫ মিনিট বাকি। টার্মিনালের সামনের খোলা অংশটুকু দিয়ে হু হু করে আসা ঠাণ্ডা বাতাসে হাত-পা ঠকঠক করে কাঁপছে। ওয়াটার বাস এসে গেলে দ্রুত এর ভেতর গিয়ে বসলাম। ওয়াটার বাস সান্তা লুসিয়ার পথে রওনা হলো।
সন্ধ্যে হয়ে এসেছে। ওয়াটার বাসের ভেতর যাত্রীরা সবাই বেশ ক্লান্ত, পরিশ্রান্ত। কেউ টুঁ শব্দটি পর্যন্ত করছে না।
মোহনায় কূলকিনারাবিহীন হয়ে কিছুক্ষণ রইলাম। এক সময় মোহময় ভেনিসের পুরনো সব দালানকোঠার দেখা মিলল।

ওয়াটার বাস থেকে নেমে আবারো অনেক বাংলাদেশি হকার চোখে পড়ল। হাতে সেই মামুলি জিনিসপত্র- ব্যাগ, ছাতা। চোখে চোখ পড়লে এগুলো কেনার জন্য পীড়াপীড়ি করছে। আমরা তো এখানে ছাতা-ব্যাগ কিনতে আসিনি! তাছাড়া কাকে ফেলে কার জিনিসটা কিনব? তাই তাদের বিমুখ করতেই হলো। শুধু এক বাংলাদেশি ফেরিওয়ালার কাছ থেকে গন্ডোলার কয়েকটি স্যুভেনির কিনে স্টেশনের দিকে চললাম।
আমরা রেলস্টেশনে এসে পৌঁছতেই ঝুপ করে রাত নামল। আলো আঁধারিতে ঢেকে গেল ভেনিস নামের প্রাচীন নগরটি। 


সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology