শরীয়তপুর

শরীয়তপুরের ধানুকার মনসা মন্দির

প্রকাশ : 13 অক্টোবর 2014, সোমবার, সময় : 07:50, পঠিত 1769 বার

নৃপেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
সংস্কার আর সংরণের অভাবে হারিয়ে যাচ্ছে শরীয়তপুরের ধানুকার মনসাবাড়ি । এ বাড়ির বেশির ভাগ সম্পদই বেহাত হয়ে গেছে । শুধু দালানগুলো এলাকার প্রভাবশালীদের হাত থেকে এখনো রক্ষা করে রেখেছেন বাড়ির শেষ পুরুষ  শ্যামাচরন চক্রবর্তী । শরীয়তপুর জেলার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের পেছন দিকটাই ধানুকা গ্রাম । দক্ষিন দিকে প্রায়  এক কিলোমিটার পথ হাঁটলেই চোখে পড়ে মনসা বাড়ি । কথিত আছে, বাড়ির এক কিশোরের অভ্যাস ছিল প্রত্যুষ বাগানে গিয়ে ফুল কুড়ানো। একদিন প্রত্যষেু  ফুল কুড়াতে গিয়ে সে দেখতে পায় বাগানে মস্তবড় এক সাপ  । ভয় পেয়ে সে ঘরে ফিরে আসে । পরদিন আবার যথা রীতি ওই কিশোর ফুল কুড়াতে যায় বাগানে । সেদিনও মুখোমুখি হয় সেই সাপের । সাপটি কিশোরের পিছু পিছু বাড়ির আঙিনায় প্রবেশ করে তাকে ঘিরে নৃত্য করতে শুরু । বাড়ির লোকজন প্রত্যক্ষ  করে সে দৃশ্য। রাতে তাদের সামনে স্বপ্নে আর্বিভূত হয় মনসা দেবী । দেবী তাদের মনসা পূজা করার নির্দেশ দেন । এর পরই বাড়িতে প্রতিষ্ঠিত হয় মনসা মন্দিও । আর সেই থেকেই ময়ূও ভট্রের বাড়ি রূপান্তর হয় মনসা বাড়িতে । মূল রাস্তা থেকে বাড়িটির প্রবেশ মুখে একটি বড় পুকুর রয়েছে । পুকুরে পশ্চিম পাড় থেকে শুরু রয়েছে মূল বাড়ির সীমানা । মন্দির বাড়ির পশ্চিম সীমানার মাঝামাঝি পূর্বদিকে মূখ করে দাঁড়িয়ে আছে বাংলো প্যাটার্নের দোচালা ছাদবিশিষ্ট ইমারত । এটাই একসময় মনসা মন্দির হিসাবে ব্যবহার হতো । উওরের প্রান্তসীমায় দক্ষিন দিকে মুখ করে অপেক্ষাকৃত বড় একটি ইমারত রয়েছে । এটি দোচালা ছাদবিশিষ্ট । এটি দূর্গা মন্দিও হিসেবে চিহ্নিত । দুর্গা মন্দিরের দিকে মুখ করে একটু ভিন্ন ডিজাইনের একটি ভবন রয়েছে । ভবনটি দ্বিতল ছিল । দ্বিতল ভবনের দ্বিতীয় তালাটি বর্তমানে ধ্বংসপ্রাপ্ত । এর ওপরে ওঠার জন্য ইটের তৈরি সিঁড়ির কিছূ অংশ এখনো টিকে আছে । এ ভবনটিই ছিল নহবতখানা । মন্দিরের  বাড়ির সাজানো চত্বরের ধার ঘেঁষে একটু পশ্চিম দিকে রয়েছে কালীমন্দির । কালীমন্দিরটি ও দোতালা । মন্দির বড়ির দক্ষিনে নহবতখানার পেছন থেকে পর্ব পশ্চিমে প্রলম্বিত ধ্বংস প্রায় একটি বিশাল ভবন রয়েছে । বহু কক্ষবিশিষ্ট এ ভবনটি ছিল দোতালা । বর্তমানে দক্ষিন-পশ্চিমের একাংশে দোতালার কাঠামোটি টিকে আছে । মনসাবাড়ির এ ভবনটিকেই শিক্ষায়তন বা টোল হিসেবে ব্যবহার করা হতো । বর্তমানে এ বাড়ির সীমানায় সর্বমোট পাঁচটি ইমারত রয়েছে । এর কোনো কোনোটি বিধ্বস্ত আবার কোনোটি দাঁড়িয়ে আছে সদম্ভে । স্থানীয় জনশ্রতি ও বাড়ির শেষ বংশধদের কাছ থেকে জানা যায়, ভবনগুলোর একটি কালীমন্দির, একটি দূর্গা মন্দির , একটি মনসা মন্দির , একটি নহবতখানা , একটি আবাসিক গৃহ বা শিক্ষায়তন (টোল) হিসেবে ব্যবহার করা হতো । ইমারতগুলো নির্মান সম্পর্কে কোনো সুস্পষ্ট ধরনা পাওয়া না গেলে ও এর নির্মানশৈলী ও নির্মান উপকরন দেখে প্রতীয়মান হয় , এগুলো মোগল আমলের নিদর্শন । ময়ূর ভট্ট আর মনসাবাড়ির শ্যামাচরন চক্রবর্তী তিনি মাষ্টার, একজন পন্ডিত ওখ্যাতনামা হস্তরেখাবিদ । তিনি জানান , প্রায় ৭ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠিত মনসাবাড়ির সম্পদগুলোর এখন আর তার দখলে নেই । বেশির ভাগই বেহাত হয়ে গেছে । মাঝে মধ্যে কিছু প্রভাবশালী লোক চাপ সৃষ্টি করত এ প্রাচীন (দ্বিতল) ভবনগুলোকে ভেংে ফেলার জণ্য । হাজার চাপের মধ্যে আজও তিনি তা টিকিয়ে রেখেছেন । তনু মাষ্টারের মা মহামায়া, বয়স ৯০ বছর । তার মতে , ব্রিটিশদের শেষ সময় পর্যন্ত এ বাড়ির সাংস্কৃতিক পরিমন্ডলটা খুবই রমরমা ছিল । ৬৫- এর সাম্প্রাদায়িক দাঙ্গা ও ৭১এর মুক্তি সংগ্রামের সময় মূল্যবান পুরনো মূর্তিসহ অনেক সম্পদ লুট হয়ে গেছে।

নৃপেন্দ্রনাথ চক্রবতী
গ্রাম +পোঃ-খালিয়া ৭৯১১, রাজৈর , মাদারীপুর
মোবাইল : ০১৭১৬-৭১৫৫৬০


সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology