বরিশাল

গৌরনদীর জমিদার বাড়িটি হতে পারে একটি পর্যটন কেন্দ্র

প্রকাশ : 13 অক্টোবর 2014, সোমবার, সময় : 08:13, পঠিত 2238 বার

নৃপেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
বরিশাল জেলার গৌরনদী উপজেলার  আশোকাঠী  গ্রামে ও জমিদার মোহন লাল সাহার স্মৃতিবিজড়িত ঐতিহ্যবাহী জমিদার বাড়ীটি রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে ধ্বংস  হয়ে যাচ্ছে । জীর্ণশীর্ণ অবস্থায় দাঁড়িয়ে আছে একশত ষাট বছরের পুরনো সিংহমূর্তি খচিত দূর্গা মন্দির ও ভবন । ব্যবহারের অযোগ্য হয়ে পড়ার পড়েও ঝুঁকি নিয়ে বসবাস করেছে জমিদার বাড়ির উওরসূরীরা । বাড়ির প্রবেশদ্বাওে প্রাচীণতম সিংহমুর্তি খচিত সুবৃহৎ দূর্গা মন্দিরটিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আগত পর্যবেক্ষক ও ভক্তরা পূজা-অর্চনা করছেন । এতদাঞ্চলের মধ্যে এ দূর্গা মন্দিরটি সর্ববৃহৎ হওয়ায় প্রতিবছরই মহা ধূম ধামের সাথে এ মন্দিরে দূর্গাপূজা হয়ে আসছে । জমিদার বাড়ির উওরসূরীদের সাথে আলাপকালে জানা গেছে,গৌরনদী উপজেলার সদও থেকে প্রায় ১ হাজার ফুট দুরত্বে আড়িয়াল খাঁ নদীর প্রশাখা গৌরনদী মীরের হাট নদীর তীরে প্রায় দুই বছর পূর্বে জমিদার মোহন লাল সাহা এ বাড়ীটি নির্মান করে বসবাস শুরু করেন । বাড়ির সামনেই রয়েছে সান বাঁধানো সুবিশাল  একটি দীঘি । জমিদার থাকতেন প্রসন্ন ভবনে বর্তমানে প্রাচীণতম ক্ষনিষু ভবন ও মন্দিরটি থাকলেও তাতে নেই  কোন জৌলুস  । বাড়ির দেয়ালের পোষ্টার খসে খসে পড়ে যাচ্ছে । কোথাও কোথাও আগাছার সৃষ্টি হয়ে প্রাচীনতম  ভবনের সাক্ষী হিসেবেই  দাঁড়িয়ে রয়েছে । বাড়ির সামনেই রয়েছে সিংহমূর্তিখচিত প্রাচীনতম  একটি  মন্দির । স্থানীয়রা জানান, তৎকালীন সময়ে উপমহাদেশের মধ্যে সর্ববৃহৎ মন্দির  হিসেবে এ মন্দিরটিতে ভক্ত দর্শনার্থীরা পূজা অর্চনা করতে ভিড় করতেন । ৩০ গজ দৈর্ঘ্য ২০গজপ্রস্থ মন্দিরটিতে রয়েছে ৪৫ টি স্তম্ভ ১৮৫০ সালের দিকে জমিদার প্রসন্ন কুমার সাহা মন্দিরটি করেছেন বাড়ির লোকজন জানান । জমিদার প্রসন্ন কুমার সাহা ছিলেন জমিদার মোহন লাল সাহার পিতা । কারুকার্জ খচিত ঐতিহাসিক এ মন্দিরের  ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে । খসে পড়ছে ভবনের দেয়ালের আস্তও । বৃষ্টি হলেই পানি পড়ে । জমিদার বাড়ির উওরসূরী সুনীল সাহা , বাদল সাহা, উজ্জল সাহা ,সমীর সাহা ও রাজা রাম সাহা জানান , ১৯৭১ সালে পাক -হানাদার  ও তাদের স্থানীয় সহযোগী  রাজাকাররা এ বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক লুট পাট কওে । আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় পাইক -পেয়াদাদের ঘরবাড়ি । গুড়িয়ে দেয় দূর্গা মন্দিরের ছাদের ওপরের চারপাশের সিংহমুর্তিগুলো । জমিদার মোহনলাল সাহার পুত্র স্বর্গীয় মানিক লাল সাহার স্ত্রী ও স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্রের শিল্পী অরুনা সাহা বলেন, তিনি কিশোর বয়সে এ বাড়ীতে বউ হয়ে এসেছিলেন । তৎকালীন  সময়ে তার শ্বশুর মোহন লাল  সাহা প্রভাব প্রতিপওি সবই ছিল । ছিলো অসংখ্য পাইক -পেয়াদা । তাকে গায়ের ওজনের সমান স্বর্ণালংকারে জড়িয়ে পালকিতে করে  নিয়ে আসা হয়েছিল  । অযত্ন ও অবহেলায় সে পালকিটি আজো কালের সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে ।এলাকা  বাসী জানান, এক সময় এবাড়িতে এ অঞ্চলের মানুষের  বিনোদনের জন্য যাত্রা,জারি, সারি, ও পালাগানের আয়োজন করা হতো  । হাজার হাজার মানুষের  পদচারনায় মুখরিত ছিল  এ বাড়িটি । আজ তার কিছুই নেই । জমিদার মোহন লাল সাহার বিভিন্ন জন কল্যাণমূলক কাজের মধ্যে অন্যতম সাক্ষী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে, বাড়ির পার্শ্ববর্তী অশোকাঠি নামক স্থানে নির্মিত পালরদী মাধ্যমিক বিদ্যালয় । ১৯৩৫ সালে এ বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠা করা হয় । বর্তমানে এ বিদ্যাপীঠটি বরিশাল শিক্ষা বোর্ডের মধ্যে একটি অন্যতম শিক্ষা প্রতিষ্ঠান । বাড়িতে বসবাসকারী জমিদারের উওরসূরীরা অভিযোগ করেন প্রভাবশালী একটি মহল জমিদার বাড়িটি দখল করে আত্নসাতের জন্য যড়যন্ত্র শুরু করেছে । তারা সরকারী উদ্যোগে ইতিহাস ঐতিহ্য সমৃদ্ধ এ জমিদার বাড়িটি রক্ষনাবেক্ষণ করাও  দাবী জানিয়েছেন । পালরদী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিমাংশু দাস বলেন রক্ষনা বেক্ষন করা হলে ভ্রমন পিপাসুদের কাছে জমিদার বাড়িটি হতে পারে একটি পর্যটন কেন্দ্র ।

নৃপেন্দ্রনাথ চক্রবতী
গ্রাম +পোঃ-খালিয়া ৭৯১১, রাজৈর , মাদারীপুর
মোবাইল : ০১৭১৬-৭১৫৫৬০
 


সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology