ভারত

জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি

প্রকাশ : 14 অক্টোবর 2014, মঙ্গলবার, সময় : 08:39, পঠিত 3199 বার

নৃপেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
বাঙালি তথা সাহিত্যপ্রেমী মানুষের কাছে জোড়াসাঁকোর ঠাকুরবাড়ি একটি তীর্থস্থানের মতো । কলকাতার ৬নং দ্বারকানাথ সড়কের এ গলিটির নাম ছিল মেছো কলোনি । কালের বিবর্তনে এটি এখন বিখ্যাত জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়ি নামে পরিচিত । এ বাড়িতেই ১৮৬১ সালের ৭ মে এবং বাংলা ১২৬৮সালের ২৫ বৈশাখ জম্ম হয়েছিল বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের । মূল ফটক দিয়ে ভেতরে ঢোকার রাস্তার ঠিক বাম দিকে রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় । রবীন্দ্রভারতীর সামনে দাঁড়িয়ে আছে একটি বড় চালতা গাছ । তার ছায়ায় আশ্রিত কামিনীসহ নাম না জানা অনেক ফুলের সমারোহ । সবুজ গাছের ঝোপের আড়ালে ঠায় দাঁড়িয়ে আছে লাল দালান । এ বাড়িতে সংসার পতেছিলেন রবীন্দ্রনাথ । ডানপাশে বাগান পেরিয়ে সারি সারি ঘর । এখানে রবীন্দে ্রভারতীর ক্লাস বসে । প্রিন্স দ্বারকানাথের বিলাসবহুল বাড়ির গেটের দুই পাশে দাঁড়িয়ে আছে দুটি মুর্তি । এক পাশে রবীন্দ্রনাথের, অন্য পাশে প্রিন্স মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথের । সিঁড়ি বেয়ে উপরে ওঠতে কানে ভেসে আসবে ক্ষীন শব্দের রবীন্দ্রসংগীত । এ বাড়িতে ঢোকার পর কেবলই মনে হতে থাকে এ বাড়ির মাটিতে একসময় রবীন্দ্রনাথ হেঁটেছেন-খেলেছেন । ডান পাশের লাল বাড়িটির দোতালার চৌকাঠ পেরিয়ে ঢুকতেই রবীন্দ্রনাথের বসার ঘর । একটি টি-টেবিল ঘিরে তিনটি আরাম কেদারা বিছানো রয়েছে। এ ঘর ছেড়ে বেরিয়ে এলে বিরাট এক ঘর । এখানেই আলমারি দিয়ে পার্টিশন করে তিনটি ঘর করা হয়েছিল । মৃনালিনী দেবীর শেষ শয্যা এখানেই পাতা হয়েছিল । এ ঘরটির পেছনের সাদামাটা কক্ষটির উওর পাশজুড়ে খোলা জানালা । পশ্চিমে একটি বেলজিয়াম, আয়নার ড্রেসিং টেবিল । একটি সেলফে একনো সাজানো আছে রূপার বাক্স। রবীন্দ্রনাথ রূপার গ্লাস এবং কয়েকটি বিলেতি শো-পিচ । যা রবীন্দ্রনাথ বিলেথ থেকে আসার সময় সঙ্গে এনেছিলেন । রুমটির একটি দেয়াল মৃনালিনীর একটি বড় ছবি বাঁধানো । তার নিচে মৃনালিনীর নিজের হাতে রবীন্দ্রনাকে লেখা একটি পএ রয়েছে । অন্য দেয়ালে রয়েছে কবির নিজ হাতে লেখা বিয়ের নিমন্ত্রন পএ । সামনে বড় বারান্দা। এ বারান্দাতেই মৃনালিনী দেবী ভাসুরপো বলেন্দ্রনাথের কাছে সাহিত্য পড়া শুনতেন । সিড়িঁ দিয়ে নেমে একটু ঘুরে অপর পাশ দিয়ে অন্য সিঁড়ি বেয়ে যেতে হয় অন্য দালাণে । এখানে প্রথম ঘরটিতে রয়েছে কবির ব্যবহৃত পোশাক । একটি বড় আয়না । বারান্দা ঘুরে অন্য ঘওে গেলে স্তব্ধ হয়ে যেতে হয় । এখানেই কবি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন । দেয়ালে টাঙানো রয়েছে কয়েকটি ছবি । যা তার রোগশয্যায় চিহৃমাএ । এর পেছনের ঘরটিতে পর্দা টেনে কবির শেষ অপারেশন করানো হয়েছিল । আরও সামনের ঘরটি কবির লেখার ঘর । প্রতিটি ঘরে রয়েছে ঠাকুরবাড়ির ব্যবহৃর সে সময়কার অনেক স্মৃতি । কলকাতা মিউনিসিপ্যালিটির দেওয়া একটি বিরাটাকার ব্রাভিয়া টেলিভিশন রাখা আছে । এখানে দেখানো হয় ঠাকুর পরিবারের ঐতিহ্য ও কয়েক পুরুষের তোলা ছবি । এছাড়া একটি ঘরের দেয়ালজুড়ে বড় বড় ছবি বাধাঁনো রয়েছে । এখানে পর্যায়ক্রমে প্রিন্স দ্বাকানাথ থেকে রবীন্দ্রনাথের নানা বয়সের ছবি রয়েছে । সামনের বারান্দায় একটি টেবিলে কাচে ঘেরা রয়েছে একটি ট্টেন ।
শান্তিনিকেতন থেকে শেষ যে ট্টেন জোড়াসাঁকো এসেছিলেন । সে ট্টেনটির একটি রেল্লিকা তৈরী করে ইন্ডিয়ান রেলওয়ে জোড়াসাঁকো ঠাকুরবাড়িত উপহার দিয়েছেন। ছোট্র সিড়ি ডিঙিয়ে যেতে হয় অন্য বাড়িতে । সেখানে হিজি অবস্থা । কোন কোন ঘওে চাকর বাকর থাকতেন । কোন কোন ঘরে গল্পের মজলিস বসত । কোথাও রয়েছে বুদ্ধেদেবের মুর্তি । তিব্বত েেথকে কবিকে দেওয়া বিভিণ উপহার-সামগ্রী । চায়নার বন্ধুদেও সঙ্গে তোলা কবির অনেক ছবি । কখনও লাঠিয়াল বেসে, কখনও হাতির পিঠে,বক্্রার রবীন্দ্রনাথ এবং শিকাগোর কবিদের সঙ্গে তোলা বিভিণ পোজের ছবি । সিড়ি বেয়ে তিন তলায়্ উঠলে চোখে পড়বে একটি কক্ষ এখানে প্রিন্স দ্বারকানাথের ছবি বাধানো আছে । এছাড়া আছে কিছু বই পত্র ও শাস্ত্রীয় বই । এ ঘরটিতে কবিমাতা সারদা দেবী তাসের আসর জমাতেন সখীদেও সঙ্গে । দেবেন্দ্রনাথের কক্ষে এখনো রয়েছে কুচ -কুেচ কালো একটি মজবুত খাট । পাশের সেলফে রাখা আছে জমিদারীর কিছু নথিপত্র ও প্রয়োজনীয় কাগজ পত্র । এছাড়া শাস্ত্রী বইও রাখা আছে । তিন তলা থেকে সোজা নেমে জুতা সংগ্রহ করে আবার যেতে হবে অভ্যর্থনা কক্ষে । এখানে কোন রকম সংরক্ষ নেই । সোজা পথ ধরে হাঁটতে থাকলে হাতের বাম দিকে চোখে পড়বে একটি গ্যারেজ । এখানে একটি গাড়ি রাখা আছে কালো রংয়ের । এটি মূলত রবীন্দ্রনাথের ব্যবহার করা গাড়ি ।

নৃপেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
গ্রাম+ পোঃ খালিয়া ৭৯১১, রাজৈর ,মাদারীপুর
০১৭১৬৭১৫৫৬০




সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology