নড়াইল

নড়াইলে কালিয়ার পিতলের রথ

প্রকাশ : 14 অক্টোবর 2014, মঙ্গলবার, সময় : 09:23, পঠিত 2061 বার

নৃপেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
নড়াইল জেলার কালিয়ার বিখ্যাত ৮০ মণ ওজনের পিতলের তৈরি রথ অব হেলায় ধ্বংসের মুখে । অযত্ন ও রক্ষনা বেক্ষণেরঅভাবে কালের গর্ভে হারিয়ে যাচ্ছেদেশের সর্ববৃহৎ এই পিতলের রথ । প্রতিদিন দেশ বিদেশ থেকে বহু মানুষ আসেন এই রথ দেখতে । পর্যটক ও  দর্শনার্থীরা  এই রথটি কে উপমহাদেশের  সবচেয়ে বড় রথ হিসেবে অ্যাখ্যা দিয়েছেন । উনবিংশ শতাব্দির গোড়ার দিকে কালিয়ার সেন পরিবার দৃস্টি নন্দন রথতৈরি করেন । তিনি ছিলেন ব্যারিটার । নিজ বাড়ীতে ব্রম্মময়ী আশ্রম ও দেবত্র বাটি নির্মানের উদ্যোগ গ্রহন করেন । ব্রম্মময়ী আশ্রম ও দেবত্র বাটিতে ব্যারিষ্টার ভামিনী রঞ্জন সেন  চারটি মন্দির নির্মান করেন ।  এগুলো হচ্ছে জগন্নাথ দেবেররথ, শিব মন্দির,  ব্রম্মময়ী মন্দিও ও নারায়ন মন্দির । পিতল দিয়ে ৮০ মন ওজনের নকশা ও কারুকার্য খচিত একটি  নযনাভিরাম রথ  তেরি কওে জগন্নাথ দেবের রথ মন্দিরে রাখা হয় ।সে সময় সেখানে বিশাল রথ যাত্রা ও মেলা অনুষ্ঠিত হতো । বিরাট উৎসবে টানা হতো রথ । এই রথ এক নজর দেখতে হাজার হাজার মানুষ  আসতেন কালিয়ার সেন বাড়িতে । চারদিকে এই রথের নাম ডাক ছড়িয়ে পড়ে । রথ যাত্রার সময় সেন পরিবারের সবাই কালিয়ায় এসে মিলিত হতেন  । চারটি চাকার ওপর একটি বেদী , এই বেদিও ওপর পুরো রথটি তৈরি করা হয়েছে দ্বিতল বিশিষ্ট  এ রথের প্রথমতলা চতুর্ভুজ আকৃতির । দ্বিতলাটি গম্বুজ আকৃতির । রথের অগ্রভাগে রয়েছে দুটি পিতলের ঘোড়া । ঘোড়া দুটির ঠিক পেচনে রয়েছে রথের সারী। রথের মূল আসনে জগন্নাথ দেব, বলরাম ও শুভদ্রার মুর্তি স্থাপন করা হয়েছে । রথের চতুর্ভূজ আকৃতির বাইরের অংশের কার্নিশ জ্যামিতিক  নকশার সারি দিয়ে অলকৃত । এই অংশের সুদৃশ্য ব্যালকনির মধ্যেই রয়েছে  হিন্দুদের প্রায় সব দেব- দেবী ও মুনি- ঋষিদের মুর্তি  । গম্বুজের ওপরে ছিল মনোরম চুড়া। ৮০মণ ওজনের এই ঐতিহ্যবাহী রথ থেকে সোনার চূড়া  ও অসংখ্য দেবদেবীর মুর্তি চুরি হয়ে গেছে । রথের সৌন্দর্যও নষ্ট হয়ে গেছে ।এখন আর এই রথের জৌলুস নেই । ৩০/৩৫ বছর আগে রথের চাকা নষ্ট হয়ে যায় । এর পর থেকে রথ টানা হয় না  । রথের বেশ কিছু অংশ মরিচা ধরে ক্ষয়ে নষ্ট হয়ে গেছে । তারপর ও এর অপুর্ব নির্মান শৈলী দেখতে এখনো মানুষ কালিয়ায় আসেন । আষাঢ় মাসে রথযাত্রা উপলক্ষে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী মেলাটি এখনে বসে  । মন্দিরে অনুষ্ঠিত হয় পূজা। ব্যারিস্টার ভামিনী রঞ্জন সেন নারী শিক্ষা বিস্তার ও কর্মসংস্থান সৃস্টির জন্য ব্রম্ম মযী আশ্রমে মহিলা সমিতি ও ব্রম্মময়ী পাঠশালা প্রতিষ্ঠা করেন। ১৯৪৭ সালে দেশ ভাগের পর সেন পরিবারের সবাই ভারত চলে যান । ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত ভারতের বিভিন্নস্থানে কর্মরত  সেন পরিবারের  সদস্যরা পূজার সময় নিয়মিত কালিয়ায় নিজ বাড়ীতে আসতেন । দুর্গা পূজা ও রথ যাত্রায় মাসব্যাপী চলত উৎসব । শিবমন্দির, ব্রম্মময়ীমন্দির ও নারায়ন মন্দিরের আশপাশ ঝোপ জঙ্গলে ভেসে গেছে । এসব মন্দির ও দিন দিন ধ্বংস হয়ে হচ্ছে । ভামিনী রঞ্জন সেনের বসতবাড়ীতে গড়ে উঠেছে  শহীদ আবদুল সালাম কলেজ । ওই কলেজের  বেশ কয়েক জন শিক্ষক ভামিনী রঞ্জন সেনের মূল বাস ভবন, মহিলা সমিতি, পাঠাগার ও ব্রম্মময়ী  পাঠশালার ভবনে বসবাস করছেন । পর্যটক ও দর্শনার্থীরা  এখানে এসে  জানতে পারবেন  বিখ্যাত রথ ও ব্যারিষ্টার ভামিনী রঞ্জন সেনের পরিবার সম্পর্কে । মন্দিরের পুরোহিত কালীপদ ভট্রাচার্য ৪২ বছর ধওে মন্দিরে পূজা করে আসছেন । আগলে রাখার চেষ্টা করছেন এই সম্পদগুলো। বিনিময়ে কোনো অর্থ তিনি পাচ্ছে না। চুড়ান্তা অবহেলায় ঝোপ-জঙ্গেও মধ্যে নষ্ট হচ্ছে এই পুরাকীর্তি গুলো । জরাজীর্ণ দশার মধ্য দিয়ে আর কত দিন এই  মনোরম স্থাপত্য শিল্প টিকেথাকতে পারবে  তা নিয়ে স্থানীয়দেও মধ্যে প্রশ্নদেখা দিয়েছে । তারা ব্যারিষ্টার ভামিনী রঞ্জন সেনের জমিদার বাড়ী , পিতলের রথ সহ সকল পুরার্কীতির রক্ষার দাবী জানিয়েছে ।

নৃপেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
কবি/মুক্ত ফিচারলেখক/ পুরাকীর্তি গবেষক
খালিয়া, রাজৈর, মাদারীপুর
মোবাইল : ০১৭১৬-৭১৫৫৬০


সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology