বরিশাল

পাঁচ শতাব্দীর প্রাচীন মনসা মন্দির

প্রকাশ : 23 অক্টোবর 2014, বৃহস্পতিবার, সময় : 07:57, পঠিত 3721 বার

নৃপেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
মধ্যযুগের বাংলা সাহিত্যে একজন অমর কবি বিজয়গুপ্ত । তার বিরচিত পদ্মপুরান বা মনসা মঙ্গল কাব্যগ্রন্থটি উপমহাদেশের বাংলা ভাষাভাষী মানুষের কাছে গত পাঁচশো বছর ধরে বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে । পদ্মপুরানের ‘বেহুল লক্ষ্মীন্দর’ এর কাহিনী জানে না এমন লোক খুঁজে পাওয়া যাবে না । সমগ্র বাংলাদেশ, পশ্চিমবঙ্গ ও আসামে “বেহুলাগীতি” সাধারন মানুষের কাঝে অতি জনপ্রিয় । দক্ষিন বাংলায় এই গান ‘রয়ানী হিসেবে পরিচিত । সাতটি পালায় চামর দুলিয়ে মহিলারাই এই গান পরিবেশন করে থাকেন। পদ্মপুরান বা মনসামঙ্গল গ্রন্থাকারে প্রকাশের পূর্বে কবি বিজয়গুপ্তের এই মঙ্গল কাব্যটি পালাকারে চারশো বছর টিকিয়ে রেখেছিলো মহিলা গায়েনেরা । কবি বিজয়গুপ্তু জম্মগ্রহন করেছিলেন আজ থেকে পাঁচশো বছর আগে । পঞ্চদশ শতকে । তার জম্মস্থান বরিশাল জেলার আগৈলঝাড়া উপজেলাধীন ফূলশ্রী গ্রামে কবি “পদ্মপুরানে” তার বিশদ বিবরন রয়েছে । পদ্ম পুরানের স্বপ্নাধ্যায়ে তিনি পয়ারে উল্লেখ করেছেন ঋতুশূন্য বেদ- শশী পরিমিত শক- সুলতান হোসেন শাহ নৃপতি তিলক । সংগ্রামে অর্জন রাজা প্রভাতের রবি-নিজ বাহুবলে শাসিল পৃথিবী। পশ্চিমে ঘাগোর নদী পূর্বে ঘন্টেশ্বর মধ্যে ফলশ্রী গ্রাম পঞ্চিতনগর । স্থানগনে যেই জম্মে সেই গনময় হেন ফুলশ্রী গ্রামে বসতি বিজয়। হ্যাঁ, এই ফূলশ্রী গ্রামেই কবি বিজয়গুপ্তের বসতি ছিলো ফুলশ্রী ঠিকই আছে, কিন্তু কবির কোন বংসধর বা কোন উওরাধিকার বেঁচে নেই । স্থানীয় লোকজন কবি সম্পর্কে তেমন কিছুজানে না । এই গ্রামের পূর্বমাথায় গৈলা বাজারের উত্তর পাশেই রয়েছে মনসা পজিার মনসা মন্দির । এই এলাকাটি  “মনসা ফলুশ্রী ” নামে পরিচিত। প্রাচিনদের ধারনা , এই মন্দিরটি কবি স্বয়ং প্রতিষ্টা করেছিলেন । মন্দিরের পশ্চিম পাশেই বিশাল দীঘি । এই দীঘি থেকেই  মনসার ঘট উপরে উঠেছিলো । পুজার সময় এই ঘাটের চারপাশে উপাচার রাখা হয় । মন্দিরের দক্ষিন পাশে রয়েছে আটচালা টিনের ঘর ও নাম না জানা একটি বৃক্ষ । এই বৃক্ষটি শীতে শুকিয়ে যায় , বর্ষায় ফুলে ওঠে ।

মন্দিরের পুরোহিত সুরেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী বলেছেন, এটার বয়স পাঁচশো বছর । মন্দিটির গায়ে রয়েছে প্রস্তর লিপি । তাতে লেখা আছে মন্দির পুনঃনির্মান ১৩২৩ বঙ্গাব্দ ও ১৩৯২ বঙ্গাব্দ । মন্দিরের ভেতরে সাপের মুকুট পরিহিত বাসকী ভগ্নি মনসাদেবী । তার আসনটি সর্পদ্বারা বেষ্ঠিত । গ্রামবাংলার সাধারন মানুষের কাছে চাঁদ সওদাগর তথা বেহুলা-লক্ষ্মীন্দরের কাহিনী অতি পরিচিত । চাঁদ সওদাগর মনসাকে পূজো না দেযায় বাসর ঘরে তার ছেলে লক্ষ্মীন্দরের কাল নাগ দংশন করে । এক সময় চাঁদ সওদাগর মনসাকে পূজো দেয় । মনসা দেবী ও তার সাতপুত্র পুত্রবধুদের বর দেয়। একদিন লক্ষীন্দর পিতার আসনে আসীন হন। এভাবেই পদ্মপুরান বা মনসামঙ্গল কাব্যের সমাপ্তি এবং মনসা দেবীর মর্তো পূজা আদায়ের প্রচলন শুরু । কবি বিজয়গুপ্তের জম্মস্থানের পশ্চিম সীমান্তে পয়সার হাটের নিকট “চান্দো” এ নামে একটি গ্রাম রয়েছে । অনেকের ধারনা , এটি চান্দ সওদাগরের নামে নামকরন হয়েছিলো। স্বপ্নাধ্যায়ে উল্লেখিত ঘাগোর নদীটি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় মাত্র ১২/১৩ কিলোমিটার দূরে বর্তমান ঘন্টেশ্বর বরিশালের বাবুগঞ্জ উপজেলায় অবস্থিত । পাঁচশো বছর পূর্বে এসব এলাকা নদীবিধৌত ছিলো । প্রতি বছর শ্রাবনের শেষদিন সংক্রান্তির সময়ে এখানে মনসা পূজো হয়। সেই মন্দিরে ছুটে আসেন হাজার হাজার লোক । “রয়ানী ” গানের আসর বসে আটচালায় । কোলকাতা থেকেও পুজারীরা আসেন। এ মন্দিটির মতো এরকম অনেক মনসা মন্দির রয়েছে দেশের বিভিন্ন স্থানে। কোটালীপাড়ার গচাপাড়ার মনসা মন্দিরটি ও বেশ বড় । একই দিনে এখানে পূজো হয় । কবি বিজয়গুপ্তের স্মৃতিধন্য বিশাল পুকুরটিকে অনেকেই পবিএ মনে করেন । কবি বিজয়গুপ্ত তার পদ্মপুরান বা মনসা মঙ্গল রচনা শুরু করেন ১৪৮৪অথবা ১৪৮৫ খ্রিষ্টাব্দে । এটি প্রথম ছাপা হয় বরিশালে ১৮৯৬ খ্রিষ্টাব্দে । চারশো বছর মুখে মুখে প্রচলিত ছিল ।

নৃপেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
রাজৈর-মাদারীপুর
ফোন-০১৭১৬৭১৫৫৬০


সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology