ভারত

দীঘা ডাকছে হাতছানি দিয়ে

প্রকাশ : 25 অক্টোবর 2014, শনিবার, সময় : 19:10, পঠিত 7596 বার

আবু আফজাল মোহাঃ সালেহ
অতি সম্প্রতি ‘হুদহুদ’ আঘাত হানার দিন(১২-১০-১৪) আমার সিডিউল ছিল পশ্চিমবঙ্গের পুর্ব মেদিনীপুর জেলার দীঘা সমুদ্রতটে কিছু সময় কাটানো।জরুরী বার্তায় নিষেধাজ্ঞা থাকায় যাত্রা একদিন পিছিয়ে দিলাম।দার্জিলিং যেমন পাহাড় পর্বত, চা-বাগান আর পাহাড়ি দৃশ্য তেমনি পশ্চিমবাংলার ঠিক বিপরীত প্রান্তে দীঘা হচ্ছে সমুদ্র সৈ্কত ও সমুদ্রতটের নৈসর্গিক দৃশ্য।

দীঘা হচ্ছে ভারতের অন্যতম স্বাস্থ্যকর ও সমুদ্রসৈ্কত।পশ্চিমবাংলার শ্রেষ্ঠতম সমুদ্র সৈকত। বড় বড় ঢেউ আর প্রচন্ড গর্জন মনকে করে দোলায়িত। আর সুর্যাস্তের অপুর্ব দৃশ্য! মনে থাকবে অনেকদিন।সমুদ্র সৈকত বরাবর ফুটপাত দিয়ে হেঁটে চলা ও সাগরের আছড়ে পড়া ঢেউ’র জলকণায় আপনাকে ভিজিয়ে দেবে।দারুণ রোমান্স সৃষ্টি হবে মনে!দীঘা’কে দু’টি ভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। একটি ‘ওল্ড’ দীঘা। এখানে সমুদ্রের বড় বড় ঢেউ ও গর্জন অনেক বেশি। এটাই আসল দীঘা। এখানে গোসলের অনুমতি দেওয়া হয় না। অপেক্ষাকৃ্ত শান্ত হচ্ছে ‘নিউ দীঘা’। এখানে মাঝে মধ্যে গোসলের অনুমতি দেওয়া হয়।সাগরজলে গোসল করে অন্যরকম অনুভূতি জাগবে আপনার।

সৈকত বরাবর সারি সারি আবাসিক হোটেল পরিবেশ নষ্ট করলেও এসব হোটেল থেকে সমুদ্রের অপুর্ব দৃশ্য উপভোগ করা যায়।হোটেলের পরিমান এতো বেশি যে ভরা মৌসুমেও আবাসিক সংকট দেখা দেওয়ার সম্ভাবনা একেবারে নেই বললেই চলে। দীঘা’র পাশেই মন্দারমণি সমুদ্র সৈকত। তার পাশেই তাজপুর, জুনপুট, উদয়পুর,শংকরপুর সৈকত।আরো আছে দীঘা-ওড়িশ্যা বর্ডার পেরিয়ে তালসারি সৈ্কত। এ সমুদ্র সৈ্কতগুলোর বৈশিষ্ট্য হলো এই যে, যে কোন এক সৈ্কতে অবস্থান করে(রাত যাপন) সবগুলো সৈকত উপভগ করা যায়।ভাড়া ট্যাক্সি পাওয়া যায় প্রচুর।

ওল্ড দীঘা’র মেরিন অ্যাকোয়ারিয়ামে জীবন্ত সাগর প্রাণী’র জগত।নিউ দীঘা’র সায়েন্স সেন্টারে সব শ্রেণি’র মানুষের বিজ্ঞান চর্চার উপকরন, তারামন্ডল। আছে অমরাবতী’র পার্ক ও তার পিছনের রাস্তায় নবনির্মিত টয় ট্রেনসহ ডিজনি পার্ক।‘অমরাবতী’র পার্কে বোটিং করা যায়।

নিউ দীঘা’র শেষ প্রান্তে উদয়পুর বিচের পাশেই বিরাট লজ ও ফুল বাগান দিয়ে সদ্য গড়ে উঠা পশ্চিমবঙ্গ রাজ্য পর্যটন দপ্তরের টেন্টে রাত্রি যাপনের সুবর্ণ সুযোগ।তাঁবু প্রতি ভাড়া ৮০০/-।তাছাড়া সমগ্র দীঘায় বিভিন্ন মান ও দামের আবাসিক হোটেল রয়েছে।দীঘা স্টেশনের ‘রিটায়ারিং’ রুমে টিকেট দেখানো সাপেক্ষে অল্প খরচে রাত যাপন করতে পারেন।

হাওড়া থেকে এক্সপ্রেস ট্রেনে ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘন্টা সময় লাগে।এছাড়া হাওড়া বা ধর্মতলা থেকে সড়কপথে বিভিন্ন সরকারী-বেসরকারী এসি/ভলবো/সাধারন বাস সার্বক্ষনিক চলাচল করছে। সড়কপথে কোলকাতা থেকে দীঘা পৌঁছাতে সময় লাগে ৪ থেকে সাড়ে ৪ ঘন্টা।

বিস্তীর্ন ঝাউবন, ইউক্যালিপটাস, আকাশমণি, ক্যাকটাস আর কাজুবাগানের আড়ালে উঁকি মারে সমুদ্র। মন্দারমনি আর তাজপুরের জলদা খালের মোহনা। দ’জায়গা থেকেই এই সুন্দর সঙ্গম দেখতে ভালো লাগে। নৌকায় চড়ে এপার-ওপার করা যায়।উপভোগ করা যায় লাল কাঁকড়াদের কর্মকান্ড।অতএব যাদের সময় আছে-চলুন না একটু দীঘা ও এর আশপাশের সমুদ্রটত থেকে!

আবু আফজাল মোহাঃ সালেহ
উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার, উপজেলা পরিষদ চত্ত্বর, জীবননগর,চুয়াডাঙ্গা।
গ্রামঃ- মদনা, ডাকঘরঃ- দর্শনা, উপজেলাঃ-দামুরহুদা, জেলাঃ- চুয়াডাঙ্গা।
মোবাইল নঃ- ০১৯১৫৯৪৮৬২৩, ই-মেইলঃ-abuafzalsaleh@gmail.com



সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology