মাদারীপুর

গণেশ পাগলের কুম্ভ মেলা

প্রকাশ : 28 অক্টোবর 2014, মঙ্গলবার, সময় : 10:20, পঠিত 3951 বার

নৃপেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
প্রায় ৯কিঃমিঃ জায়গা জুড়ে পুরো একটি এলাকার বাড়ি ঘর , মাঠ- ঘাট , ক্ষেত খামার সহ কোন জায়গাই খালি থাকে না মানুষের পদচারনায়। সমাগমহয় আনুমানিক ৫থেকে ১০ লাখ মানুষের । এ যেন এক মহাযঞ্জ । মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার কদমবাড়ী ইউনিয়ণের কদমবাড়ি গ্রামের এ আয়োজন করা হয় । এ গ্রামের গনেশ পাগলের মন্দির প্রাঙ্গনে প্রতি বছরের জ্যৈষ্ঠ মাসের ১৩ তারিখেএ মেলা অনুষ্ঠিত হয় ।  মেলা চলে সকাল থেকে ভোর রাত পর্যন্ত । সকাল থেকে দলে দলে বাদ্যযন্ত্র বাজিয়ে নাচ -গান করতে করতে মানুষ আসতে থাকে । এক এক একটি দলে একই ধরনের পোশাক পরে আসা ভক্তদের হাতে থানে জয়ডংকা,বিভিন্ন রঙিন কাপড়ের নিশান । এসব ভক্ত বিভিন্ন ধরনের বাদ্যযন্তের তালে তালে জয় হরিবোল ধ্বনিতে মুখরিত করে তোলে পুরো এলাকা । মাদারীপুর ও গোপালগঞ্জের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক ছাড়াও বৃহওর ফরিদপুরসহ দক্ষিনাঞ্চলের অনেক জেলা থেকে দলে দলে মানুষ আসে । এছাড়াও দেশের বিভিন্ন স্থান এবং ভারতের পশ্চিমবঙ্গ থেকে ও বহু লোকের সমাগম ঘটে । মেলায় হিন্দু ধর্মাবলম্বীরা আসে পুন্য আর্জনের জন্য । এক একটি দলের আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা সবার হাতেই লাঠির ওপর লাল নিশান টপ্রচন্ানানো । ঢাকঢোল, কাসার তৈরি ঘন্টি, বাজাতে বাজাতে নাচতে নাচতে আসে তারা । প্রায় প্রতিটি দলই এমন বড় বড় ঢোল নিয়ে আসে , যা দুই বা চারজনকে কাঁধে বহন করে বাজাতে হয় । প্রথমে গনেশ পাগলের মন্দিরের সামনে নাচতে থাকে তারা । এ সময় মন্দির প্রাঙ্গনে রাখা থাকে ধানের আঁটি যেগুলো নাচের তালে তালে মাড়াই হয়ে যায় । এ সময় প্রতিটি দলের লোকজনই মিষ্টি বাতাসা ছুড়ে মারতে থাকে । এরপর একে একে ঢোকে মূল মেলা প্রাঙ্গনে ।



যেখানে কি নেই  অগনিত স্টল । মাঠের পর মাঠ লাখ লাখ মানুষ বসে আছে । এভাবে তারা সারা রাত বসে থাকে । কোথাও চলে পুতুলনাচ , কোথাও সারি সারি খাবারের দোকান, কোথাও সারি সারি কাঠের আসবাবপএ , সারি সারি চুড়ি-ফিতাসহ বাচ্চাদের খেলনার দোকান,আবার কোথাও সারি সারি দল বেঁধে নাচ-গান চলছে । কোথাও বা চলছে সাধু- সন্ন্যাসীদের গাঁজার অসর  উলেখ্য, এ মেলায় ভারতে পশ্চিম বঙ্গ থেকে কয়েক হাজার নেংটা সাধু আসে , যারা শুধু কৌপিন পরা থাকে । মেলায়  শিশু থেকে শুরু করে বৃদ্ধদের  যে মিলনমেলা  দেখা যায় তা আর  কোথাও দেখা যায় বলে মনে হয় না এত ভিড়ের মধ্যে ।কেবার হারালে আর রক্ষা নেই সন্ধ্যায় হারালে মাইকিং  করে খুজে পেতেও মধ্যরাত পার হয়ে  যাবে । মেলায়র প্রায় ১০টি স্থানে মাইকিংয়ের ব্যবস্থা আছে হারিয়ে  যাওয়া মানুষের খুঁজে পেতে । প্রচন্ড গরমে পানির পিপাসা থেকে বাঁচাতে অনেক স্থানে সেচ্ছা সেবকরাগাস- বালতি নিয়ে দাঁড়িয়ে থাকে  । তিনটি স্থানে  শতাধিক তরুন তরুনী রয়েছে শুধু পানি পান করনোর দায়িত্বে  দুটি স্থানে রয়েছে  প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যাবস্থা জন্য । মেলায় ঘুরতে আসার পর অসুস্থ হয়ে পড়াদের সেখানে চিকিৎসা চলে । সেখানে বিনা মূল্যে তাৎক্ষনিক ভাবে অসুস্থ হয়ে পড়া মানুষের জন্য অনেক ধরনের ওষুধ রয়েছে ।সন্ধ্যা থেকে শেষ রাত পর্যন্ত দ্রুত বেগে ঘুরলেও চার ভাগের এক ভাগ মেলা দেখা যাবে না । এবারের মেলায় প্রায় ৫হাজারেরও বেশি ছোট বড় দোকান পসরা সাজিয়ে বসেছিল । অন্য   সাধারন মেলার মতো এ মেলার একাংশে  নাগ দোলা ,সাকার্স ,পুতুল নাচ,সহ বিভিণ আয়োজনের সঙ্গে কিছু বির্তকিত আয়োজনেওএসে পড়ে। এছাড়াও বড় বড়  আকৃতির বৈচিত্র্যমময়  শৈল্পিক  আসর বসিয়ে সাধু-সন্ন্যাসীদের গাজাঁ ( সিদ্ধি ) সেবনের বিষয়টিও  অনেকের কাছে সমালোচনার বিয়ষ । এবারেরর আয়োজন কমিটির সংশ্লিষ্টদেও সঙ্গে কথা বলে জানা যায়,  সত্য যুগে দেবতা ও অসুরদের সমুদ্র মন্থন  যে অমৃত সুধা উঠেছিল তা দেবতারা চারটি কুম্ভুপত্রে ভারতের হরিদ্রার প্রোয়াক উজ্জয়িনী নাসিকা নামক চারটি স্থানরেখে ছিল  প্রতি ১২ বছর পরপর অমৃত যোগে একেক স্থানে কুম্ভ মেলা অনুষ্ঠিত হতো । প্রায়১৩১বছর আগে কদমবাড়িতে ১৩জন সাধু ও ১৩ সের চাল ১৩ টাকা নিয়ে ১৩ জ্যৈষ্ঠ এ মেলার আয়োজন  করা হতো । সেই অনুযায়ীই এখানে প্রতি বছর কুম্ভ মেলার আয়োজন করা হয় । মহা সাধক গনেশ পাগল সেবাশ্রম সংঘে উপ মহাদেশের অন্যতম এবং দেশের বৃহৎ কুম্ভ মেলা । সপ্তাহের প্রতি মঙ্গলবার বসে গনেশ পাগলের মেলা এ মেলায় কর্মসূচীর মধ্যে থাকে শ্রীমদ্ভগবদ গীতা পাঠ, আলোচনাসভা ১৩ টি সন্দিও গেটে দেব-দেবীর পূজা,গনেশ পাগলের পূজা, কালী পূজা , আরতি, প্রার্থনা, প্রতিমা ও মন্দির দর্শন , ভজন সংগীত, পদাবলী কীর্ত, বাউল সংগীত,যঞ্জানুষ্ঠান,প্রসাদ বিতরন, পবিত্রস্নান ও নর নারায়ন সেবা । এখানে রয়েছে গোবিন্দ মন্দির, নন্দনকানন ,তুলসীধাম,নিকুঞ্জ-নিধুবন,রাধাকুন্ডু-শ্যাম কুন্ডু, দূর্গামন্দিও,শীতলা মন্দিও,শ্মশানকালী-শিব মন্দির, মনসা মন্দির. বীরহনুমান মন্দির,গুরু আগার মঠ মন্দির ,লক্ষ্মীনারায়ণমন্দির, রাম সীতা মন্দির ,রাধাকৃষ মন্দিও,প্রভু গৌর নিতাই মন্দির , স্বর্গধাম (শ্মশান ) ইত্যাদি দর্শনীয় মন্দির ।

নৃপেন্দ্র্রনাথ চক্রবর্তী
গ্রাম +ডাক ঃ-খালিয়া, মাদারীপুর
০১৭১৬-৭১৫৫৬০


সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology