মাদারীপুর

শহীদ কবির পাক : টেকেরহাট

প্রকাশ : 28 অক্টোবর 2014, মঙ্গলবার, সময় : 10:35, পঠিত 1746 বার

নৃপেন্দ্রনাথ চক্রবর্তী
১৯৭১সালে মুক্তিযুদ্ধের অপারেশন জ্যাকপটের নায়ক সুইসাইড স্কোয়াড বাহিনীর জুনিয়ার ইনস্ট্রাক্টর শহীদ খবিরউজ্জামান কবির বীরবিক্রমের স্মৃতি ধরে রাখতে শহীদ কবির পার্ক  নির্মান করা হবে এ উপলক্ষে গত ৭ ফেব্রুয়ারী টেকেরহাট শহীদ কবির মাঠে শহীদ কবির পার্কের শুভ উদ্ধোবন করেন মাননীয় নৌ ও পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান । মাদারীপুর জেলা প্রসাশনের আর্থিক সাহায্যে এ পার্ক নির্মান করা হবে। মাদারীপুর জেলার কয়েকজন মুক্তিযোদ্ধার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রাজবাড়ী জেলার পাংশা উপজেলার বাহাদুরপুর গ্রামের মরহুম আবদুল জব্বার মৃধার ছেলে খবিরউজ্জামান ১৯৬৯ সালে এসএসসি পাস করে কলেজে ভর্তি হন । পারিবারিক পরিবেশের কারনে যুক্ত হয়ে পড়েন ছাএ রাজনীতিতে। ৭১-এ পাকহানাদার বাহিনী বাঙালিদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়লে কোনো দ্বিধা না করে তার চাচা মোসলেমউদ্দিন মৃধাএমপির হাত ধরে কবির মুক্তিযুদ্ধে যোগদেন । চলে যান ভরতে। ১৯৭১-এ সেপ্টেম্বর মাসে পশ্চিম পাকিস্তান থেকে ৯ হাজার ৯১০ টন সমরাস্ত্র ও প্রচুর রসদ নিয়ে উপমহাদেশের বৃহওম নৌজাহাজ এমভি হরজুম  এসে নোঙর করে চট্টগ্রাম বন্দরে । মুহূতের মধ্যেই সংবাদ পৌঁছে যায় মুক্তিযোদ্ধা সদর দফতরে । ১৫ সেপ্টেম্বর দুই সঙ্গীসহ সুইসাইড স্কোয়াড বাহিনীর জুনিয়ার ইনস্ট্রাক্টর খবিরউজ্জামান কবিরকে পাঠানো হয় চট্টগ্রাম বন্দরে অপারেশন জ্যাকপটের দায়িত্ব দিয়ে । খবিরউজ্জামান দু সঙ্গী নিয়ে শক্তিশালী মাইনসহ নেমে যায় চট্টগ্রাম সমুদ্রে । কয়েকশ পাকবাহিনীর চোঁখ ফাঁকি দিয়ে ডুবসাঁতারে পৌঁছে যান জাহাজ হরমুজের তলদেশে । সেখানে মাইন বসিয়ে দ্রুত ফিরে আসেন নিরাপদ স্থানে । সামান্য সমায়ের ব্যবধানে প্রচন্ড শব্দে বিস্ফোরিত হয় । এ সময় হরমুজ তলিয়ে যায় গভীর সমুদ্্ের । সেইসঙ্গে ডুবে যায় পাকিস্তান থেকে বয়ে আনা বিপুল পরিমান অস্ত্রশস্ত্র, গোলাবারুদসহ কয়েকশ পাকসেনা  এ সংবাদ সে সময় স্বাধীন বাংলা বেতার কেন্দ্র, আকাশবানী, বিবিসি, চীন, জাপান, রাশিয়ার মিডিয়াগুলোতে ফলাও করে প্রচার করা হয় । এ দুর্লভ সাফল্যের জন্য খবিরউজ্জামানকে বীরবিক্রম উপাধিতে ভূষিত করা হয় ওইসব অভিযানের পর খবিরউজ্জামানকে পাঠানো হয় গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর ওফরিদপুর জেলার এিমোহনায় অবস্থিত টেকেরহাটে । যুদ্ধকালীন রাজৈর থানা কমান্ডার আ. কাইয়ুম মীর জানান , পাকহানাদার বাহিনী টেকেরহাট থেকেই ওই তিনটি জেলার নৌ-অপারেশন চালিয়ে নিরীহ মানুষের ওপর অত্যাচার নির্যাতন করতো । ১৯৭১ এর১২অক্টোবর রাতে সহযোগী সামাদ ও হাফিজকে নিয়ে টেকেরহাট কুমার নদীর গভীর পানিতে প্রবল স্রোতের মুখে নেমে যান খবিরউজ্জামান কবির । ঘাটে তখন পাকবাহিনীর বেশ কটি গানবোট ও লঞ্চ নৌঙর করা ছিল । সেখানে মোতায়েন ছিল পাক-সেনাবাহিনীর কয়েকশ সৈন্য । লক্ষ্যবস্তর কাছাকাছি যেতেই প্রবল স্রোতের মুখে হাফিজের মাইন বিস্ফোরিত হয় । পাকবাহিনীর বেপরোয়া গুলিবর্ষন করতে থাকে নদীর পানিতে । হাফিজ ও সামাদ নিরাপদ স্থানে সরে যান । কিন্তু পাকবাহিনীর অবিরাম গুলিবর্ষনে ক্ষত-বিক্ষত হয়ে যায় কবিরের দেহ । ওই সময় হানাদার বাহিনীর গানবোট ও লঞ্চ ধ্বংস করার জন্য পর্যবেক্ষনের দায়িত্বে ছিলেন ডা. সিদ্দিক । নদীতে নামানোর দায়িত্বে ছিলেন সরোয়ার হোসেন মোল্যা সেকেন্দার আলী শেখ,সাজাহান খান । তাদের নদী থেকে উঠানোর দায়িত্বে ছিলেন আ. কাইয়ুম মীর, সেকেন্দার আলী হাওলাদার, সহিদুল ইসলাম । রাজৈর উপজেলা যুদ্ধকালীন সহকারী থানা ও বর্তমান উপজেলা মুক্তিয়োদ্ধা কমান্ডার সেকেন্দার আলী শেখ জানান, এ ঘটনার ৪ দিন পর টেকেরহাট থেকে দুই কিলোমিটার ভাটিতে মুকসুদপুর উপজেলার সিন্দিয়াঘাটের গয়লাকান্দি খালের সাধুর বটতলায় কবিরের মরাদেহ ভেসে ওঠে । কবিরের দেহে তখন সাতাঁরুর পোশাক পরা ছিল । পেটে বাঁধা ছিল মাইন । সে সময় পাকবাহিনী তার লশের দিকে কড়া নজর রেখেছিল । এ কারনে কেউ তার লাশ দাফন করতে এগিয়ে আসেনি । প্রানে বেঁচে যাওয়া হাফিজের বাড়ি রাজৈর উজেলার বদরপাশা গ্রামে । তিনি বর্তমানে রাজৈর ডিগ্রি কলেজে হেড ক্লার্কের চাকরি করেন । আর সামাদের বাড়ি শরীয়তপুর জেলার ধুয়াসর গ্রামে । স্বাধীনতার পর শহীদ খবিরউজ্জামানের কবির স্মরনে টেকেরহাটের বিশাল ডোবা ভরাট করে ওই স্থানের নামকরন করা হয় শহীদ কবির মাঠ । টেকেরহাট  বন্দরের । কেননা শহীদ কবির মাঠটি বৃহওর ফরিদপুর জেলার অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ময়দান । এ মাঠটি ঔপেনিবেশিক আমল থেকে খেলা ধূলা , রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠাদিও প্রানকেন্দ্র বলে পরিচিত এক কালে এখানে বৃহওর ফরিদপুরের জেলার অন্যতম খেলার মাঠ হিসাবে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ক্রীড়ামোদী খেলোয়ার বৃন্দ এমাঠের খেলাধূলায় অংশ নেয়াকে নিজের ক্যারিয়ারে গৌরব মনে করত । এ মাঠে বৃটিশ আন্দোলন, ভাষা আন্দোলন,ঊনওেরের গণঅভ্যুন্থানওমহান স্বাধীনতা আন্দোলনের রাজনৈতিক জনসভা অুষ্ঠিত হয়  সর্বকালের জাতীয় নেতৃবৃন্দ এ মাঠে জ্বালা ময়ী বক্তৃতা করে আন্দোলনের কর্মসূচী মফস্বলের ঘরে ঘরে ছড়িয়ে দিয়েছেন। এ মাঠে  জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান , বিপ্লবী জননেতা ফনিভূষন মজুমদার, শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান, মুক্তিযুদ্ধের সর্বাধিনায়ক এম জি ওসমানী ,মজলুম জননেতা আঃ হামিদ খান ভাষানীড. কামাল হোসেন,কে.এম ওবাদুর রহমান , জোহরা তাজ উদ্দিন, সাবেক প্রেসিডেন্ট হোসেইন মুহাম্মদ এরশাদ ,(রাষ্টপতিহিসেবে তার সর্বশেষ জন সভা করেন এখানে ) তওবার ডাকের মহাননেতা মওলানা মোঃহাফেজী হুজুর, চর মোনাইপরি সৈয়দ ফজলুল করিম, শায়খুলহাদীস মওলানা আাজিজুল হক , জননেত্রী শেখ হাসিনা, দেশ নেত্রী খালেদা জিয়াসহ জাতীয় নেতৃবৃন্দ  এ মাঠে জন সভা করায় মাঠটি জাতির ইতিহাসে স্মারক হয়ে আছে  । শহীদ কবির মাঠ টি পুর্নরায় ভরাট করে  নির্মান করা হবে শহীদ কবির পার্ক ।

Nripen1980@gmail.com


সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology