ভারত

টয় ট্রেনে শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং

প্রকাশ : 29 অক্টোবর 2014, বুধবার, সময় : 09:01, পঠিত 10709 বার

আবু আফজাল মোহাঃ সালেহ
মূলতঃ ইংরেজদের অবকাশকালীন স্থান হিসাবে দার্জিলিং বা হিমালয় পাহাড়ের এলাকা প্রতিষ্ঠত হয়।নিউজলপাইগুড়ি ষ্টেশন থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত ৮৮ কিমি ন্যারো গেজের রেললাইন DARJEELING HIMALAYAN RAILWAY সংক্ষেপে DHR । আর এ রুটের টয় ট্রেন আজ পর্যন্ত সুন্দরতম পাহাড়িয়া ট্রেন যাত্রা বলে আধুনিক এ যুগেও স্বীকৃত।বিখ্যাত সাহিত্যিক মার্ক টোয়েন ১৮৯৬ সালে  DHR র টয় ট্রেনে একদিন ভ্রমন করেছিলেন। এবং সেদিনটাকে তাঁর জীবনে কাটানো অন্যতম উপভোগ্য দিন বলে মন্তব্য করেন।১৯৯৯ সালের ডিসেম্বর মাসে টয় ট্রেনকে বিশ্ব ঐতিহ্য হিসাবে স্বীকৃ্তি প্রদান করে।

নিউজলপাইগুড়ি বা এনজেপি ষ্টেশন সংলগ্নে টয় ট্রেনের রেপ্লিকা আছে।বলে রাখা ভাল,পূর্বে  বাষ্পচালিত বা কয়লা চালিত ইঞ্জিন্দ্বারা শিলিগুড়ি থেকে দার্জিলিং পৌঁছাতে ৯-১০ ঘন্টা সময় লাগলেও বর্তমানে ডিজেল চালিত ইঞ্জিন দ্বারা টয় ট্রেনে ৬-৭ ঘন্টা সময় লাগে।আর ট্যাক্সিতে গেলে ( HILL CART ROAD ধরে) সময় লাগে ৩ থেকে ৪ ঘন্টা।
বড় বৈশিষ্ঠ্য হচ্ছে- HILL CART ROAD এর পাশাপাশি টয় ট্রেন রুট ও ছোট ছোট ষ্টেশন গুলো অবস্থিত। সুকনা,ঘুম বা দার্জিলিং ষ্টেশন সংলগ্ন মিউজিয়ামে ডিএইচআরর ঐতিহ্য বা ইতিহাস , তথ্যাদি সংরক্ষিত আছে।

সুকনা ষ্টেশন থেকে বুঝা যায় ক্রমান্নয়ে উচ্চতায় উঠছে ট্রেন।বড় রকমের বাঁক শুরু এ ষ্টেশন থেকে। রান্টং ষ্টেশন বা নিকটবর্তী এলাকা থেকে কুর্শিয়াং পাহাড়ের অপুর্ব সৌ্নদর্য উপভোগ করা যায়।এ রুটে ৭৪০৭ ফুট উচ্চতায় ঘুম ষ্টেশন অবস্থিত। যা এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ উচ্চতায় এবং সমগ্র পৃথিবীর মধ্যে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ উচ্চতায় অবস্থিত রেল ষ্টেশন। অন্যদিকে এনজিপি মাত্র ৩১৪ ফুট উপরে (সমতল ভূমি থেকে) অবস্থিত।১৮৮০/১৮৮১ সালের দিকে এ রুটের বেশিরভাগ ষ্টেশনগুলো প্রতিষ্ঠিত। এর মাঝে আছে কুর্শিয়াং ষ্টেশন। যেখান থেকে চা বাগানের অপুর্ব দৃশ্য উপভোগ করা যায়। ঘুম ষ্টেশনর আগে জোড় বাংলাতে সড়কপথ ও রেলপথ ক্রস করেছে। এখানকার বাতাসিয়ার বাগান থেকে কাঞ্চনজনঘা ও দার্জিলিং এর অপরুপ দৃশ্য দেখা যায়। সর্বশেষ ষ্টেশন হচ্ছে দার্জিলিং।এটি ৬৮১২ ফুট উচ্চতায়।১৯৩৪ সালের ভয়াবহ ভূমিকম্পে ১৮৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত দার্জিলিং ষ্টেশন ধংসপ্রাপ্ত হয় যা ১৯৪৪ সালে পুননির্মিত হয় যা আজ দাড়িয়ে আছে।

এ রুটের আঁকা বাঁকা পথ, বিপদজনক বাঁক (যা কোন কোন ক্ষেত্রে প্রায় ৬৯ ডিগ্রি পর্যন্ত) রোমাঞ্চকে আরো বাড়িয়ে দেয়।টাং,সোনাদা, ইত্যাদি বেশ কয়েকটি ছোট ছোট ষ্টেশন বা বাজার এ রুটে অবস্থিত। এখান থেকে পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর বৈচিত্রতা ও তাদের জীবনধারা লক্ষ্য করা যায়।অতএব এনজেপি থেকে দার্জিলিং পর্যন্ত টয় ট্রেনে ভ্রমন করলে একদিন খুব মজা করে কাটানো যায়।

কোলকাতার শিয়ালদহ স্টেশন থেকে নিউজলপাইগুড়ি ৫৮৬ কিমি। নিউজলপাইগুড়ি এনজেপি নামেই পরিচিত। এনজেপি থেকে ভাড়ায় বা শেয়ারে ট্যাক্সি করে তিন ঘন্টার পথ দার্জিলিং।ইচ্ছে করলে যে কেউ হিমালয়ন ট্রয় ট্রেন এ যেতে পারবেন। সময় লাগবে ৭-৮ ঘন্টা। শিয়ালদহ বা হাউড়া থেকে এনজেপি বা গোয়াহাটিগামী যে কোন ট্রেনে চেপে যাওয়া যায়।উত্তরবঙ্গ এক্সপ্রেস,কাঞ্চনজঙ্ঘা এক্সপ্রেস,পদাতিক, বা সর্বাধিক পরিচিত দার্জিলিং মেল এ নিউজলপাইগুড়ি তারপর দার্জিলিং! রিজার্ভেশন টিকেট করতে হলে আগেই বুকিং দিতে হবে।এনজেপি, শিলিগুড়ি বা দার্জেলিং এ থাকার জন্য বিভিন্ন মানের আবাসিক হোটেল রয়েছে।তবে আগে থেকেই বুকিং দিলে ভাল হয়।দার্জিলিং এ প্রচন্ড শীত।তাই শীতের পোষাক নিতে ভুলবেন না।

আবু আফজাল মোহাঃ সালেহ
উপজেলা পল্লী উন্নয়ন অফিসার, উপজেলা পরিষদ চত্ত্বর, জীবননগর,চুয়াডাঙ্গা।
গ্রামঃ- মদনা, ডাকঘরঃ- দর্শনা, উপজেলাঃ-দামুরহুদা, জেলাঃ- চুয়াডাঙ্গা।
মোবাইল নঃ- ০১৯১৫৯৪৮৬২৩
ই-মেইলঃ-abuafzalsaleh@gmail.com


সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology