নোয়াখালি

হরিণের খোঁজে নিঝুম দ্বীপ

প্রকাশ : 24 মে 2015, রবিবার, সময় : 07:58, পঠিত 2302 বার

মোঃ অহিদ উল্লাহ পাটোয়ারী
নিঝুম দ্বীপ নামটা শুনলেই মনটা কেমন যেন ছটপট করতে থাকে। অনেক প্রতিকূলতা অপেক্ষা করে ঘুরে বেড়াই বাংলাদেশ দলের বন্ধুরা রওনা দিই সেই না দেখা গন্তব্যের উদ্দেশ্যে। বাস ঢেঙ্গিয়ে ট্রলারে ঢেউ আর ডাকাতের ভয় জয় করে নদী পেরিয়ে। এবড়ো থেবড়ো রাস্তা অতিক্রম করে শেষ পর্যন্ত ঘুরে বেড়াই বাংলাদেশ দল সত্যিই নিঝুম দ্বীপে। নোয়াখালীর হাতিয়া উপজেলার দক্ষিণ পশ্চিমে বঙ্গপসাগরের বুক চিরে জেগে ওঠা ছোট্ট একটি ভূ-খন্ড, যা আমাদের সবার কাছে নিঝুম দ্বীপ নামেই পরিচিতি। দ্বীপটির প্রাচীন নাম চর ওসমান। ওসমান নামের এক ব্যাক্তি মহিষের দল নিয়ে সর্ব প্রথম এই দ্বীপে বসবাস শুরু করেন। দ্বীপটি সম্পূর্ণ নিরব হওয়ায় এর নাম করন করা হয় নিঝুম দ্বীপ। নিঝুম দ্বীপের বুক চিড়ে চলা মাওয়া রাস্তা দিয়ে আমরা হাটতে খাকি। আর প্রাণ ভরে দেখছি এ দ্বীপের আপরুপ সৌন্দর্য। সে সৌন্দর্যতার হাতছানি সবকিছুকে ছাপিয়ে ঘুরে বেড়াই বাংলাদেশ দলকে এখানে নিয়ে এসেছে। রাতে থাকার জন্য হোটেল শাহিনে গিয়ে উঠি। এ দ্বীপে নেই কোন বিদ্যুৎ। রাতে জ্বলে সোলার বাতি। সত্যি সব যেন নিঝুম। হরিন ভর্তি দ্বীপ, কুমিল্লা থেকে এমনটা শুনে গেলেও হরিন দেখার জন্য অনেক ধৈর্য্যর পরিক্ষা দিতে হয়েছে। হরিন দেখার উপযুক্ত সময় হলো সূর্যান্ত বা সূর্যাদয়ের সময়। এসময়ে শত শত হরিণ বন থেকে বের হয়ে আসে পানি খাওয়ার জন্য। তবে তাদের দেখা পেতে হলে অপেক্ষা করতে হবে নিঃশব্দে। হরিণ দেখার জন্য আমরা বের হয়ে গেলাম দিনের আলো ফোটার আগেই। গাইড হিসেবে পেয়ে গেলাম স্থানীয় আট-দশ বছরের ছেলে রাসেলকে। রাসেল ঘুরে বেড়াই বাংলাদেশ দলকে নিয়ে চললেন গহিণ অরণ্যে। নামার বাজারের পাশে ছোট্ট একটা খাল পেরিয়ে হাঁটতে খাকি গহিণ জঙ্গলে। পথেই একটা আজব শব্দ কানে এলো, রাসেল বললো, এটাই হরিণের ডাক। এত সুন্দর প্রাণীর আওয়াজ এমন। আমরা ছুটেছিলাম দুর্বার গতিতে। কিছুক্ষণ পর ইব্রাহীম বলে উঠল, আমরাতো অনেকটা ভেতরে চলে এসেছি। ফিরে যাওয়ার পথটাও হারাতে বসছি, তাতে কারো কোন মাথা ব্যাথা নেই। সবাই প্রকৃতির সৌন্দর্য, ম্যানগ্রোভ আর কেওড়া ফলের আস্বাদ নিতে ব্যস্ত। এরই মধ্যে সবাই ফিরে যাওয়ার জন্য তৈরী, বায়না ধরল জাহাঙ্গীর। নিজের চোখে হরিন না দেখে ফিরছি না। আবার হাটতে থাকি হরিনের খোঁজে। আর একটু ভেতরে যেতেই রাসেল ঘুরে বেড়াই বাংলাদেশ দলের চলার গতি থামিয়ে দিয়ে বলল, সবাই চুপ। হরিণ পায়ের আওয়াজ পেলেই পালিয়ে যায়। প্রায় ৩০ মিনিট অপেক্ষা করার পর দেখা মিলল সেই হরিণের শত শত হরিণ দল বেঁধে চলছে, তবে মানুষের অস্তিত্ব টের পেলেই নাই হয়ে যাচ্ছে।



কিভাবে যাবেন ঃ ঢাকার মহাখালী, কমলাপুর ও সায়েদাবাদ থেকে এশিয়া লাইন, এশিয়া ক্লাসিক, একুশে এক্সপ্রেস ও হিমাচল এক্সপ্রেসের বাস যায় নোয়াখালীর সোনাপুর। ভাড়া ৩৫০-৪৫০ ঢাকা। সেখান থেকে সিএনজিতে চেয়ারম্যান ঘাট। ভাড়া ১০০ ঢাকা। এরপর ট্রলারে চড়ে যেতে হবে নলচিরা ঘাট। ভাড়া ১৫০ টাকা। সেখান থেকে আবার বাসে জাহাজমারা বাজার। ভাড়া ৭০টাকা। জাহাজমারা বাজার থেকে মোটর সাইকেলে মুকতারা ঘাট। ভাড়া ৭০টাকা। মুকতারা ঘাট থেকে ইঞ্জিন নৌকায় নিঝুম দ্বীপ ঘাট। ভাড়া ১০টাকা। সেখান থেকে আবার মোটরসাইকেলে যেতে হবে নামার বাজার (নিঝুম দ্বীপ)। ভাড়া ৬০ টাকা।

লেখক: মোঃ অহিদ উল্লাহ পাটোয়ারী
প্রতিষ্ঠাতা: ঘুরে বেড়াই বাংলাদেশ
মোবাইল- ০১৭২৬৬০৭৫৯০


সর্বশেষ


সর্বাধিক পঠিত

Music | Ringtone | Book | Slider | Newspaper | Dictionary | Typing | Free Font | Converter | BTCL | Live Tv | Flash Clock Copyright@2010-2014 turiseguide24.com. all right reserved.
Developed by i2soft Technology